আজঃ মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০21
শিরোনাম

সেনা ব্যারাকের কাছে ডিনামাইট বিস্ফোরণে নিহত ২০

প্রকাশিত:সোমবার ০৮ মার্চ ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ০৮ মার্চ ২০২১ | ১৩৭জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

মধ্য আফ্রিকার দেশ ইকুয়াটোরিয়াল গিনিতে সেনা ব্যারাকের কাছে ভয়াবহ ডিনামাইট বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন নিহত এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। স্থানীয় সময় গতকাল রোববার দেশটির বাটা শহরের কাছে এ ঘটনা ঘটে। সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকা এ খবর জানিয়েছে।

দুর্ঘটনার পর দেশটির প্রেসিডেন্ট তেওডোরো ওবিয়াং নিগমা এমবাছোগো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বক্তৃতা করেন। তিনি হতাহতদের পরিবার-পরিজনের প্রতি সমবেদনা জানান। দেশটির প্রেসিডেন্ট বলেন, সেনা ব্যারাকের পাশে ডিনামাইটের সংরক্ষণাগারে অবহেলার কারণেই ভয়াবহ এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিস্ফোরণের সময় ধারণ করা অনেক ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায়, গোটা এলাকায় ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। ধ্বংসস্তুপে চাপাপড়া মানুষ বাঁচার জন্য আকুতি জানাচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে বিস্ফোরণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

একাধিক টুইট করে স্বাস্থ্যকর্মীদের বাটা রিজিওনাল হাসপাতালে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, আহতদের প্রচুর রক্ত প্রয়োজন। যাঁরা রক্ত দিতে আগ্রহী, তাঁরা যেন যোগাযোগ করেন। এ ছাড়া গুরুতর এবং খুব বেশি গুরুতর আহতদের চিকিৎসার জন্য তিনটি হাসপাতাল বরাদ্দ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্থানীয় বাসিন্দা টিওডোরো নিগমা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, তাঁরা হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান এবং কালো ধোঁয়া দেখতে পান। পরে আরও কয়েক দফায় বিস্ফোরণ হয়। ফলে গোটা এলাকায় ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।


আরও খবর



ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় আরও দুই মামলা

প্রকাশিত:বুধবার ৩১ মার্চ ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ৩১ মার্চ ২০২১ | ৮৯জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হেফাজত সমর্থকদের হামলা, ভাঙচুর ও আগুনের ঘটনায় আরও দুটি মামলা হয়েছে। এনিয়ে সাতটি মামলা করা হলো। এসব মামলায় অজ্ঞাত প্রায় ৮ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে আশুগঞ্জ থানায় সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর টোল প্লাজায় হামলার ঘটনায় একটি মামলা করেছে টোলা প্লাজা কর্তৃপক্ষ। এছাড়া পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করছে।  দুই মামলায় অজ্ঞাত প্রায় ১২শ' জনকে আসামি করা হয়েছে।

এছাড়া গত ৩ দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলা ও আগুনের ঘটনায় সদর মডেল থানায় আরও ৫টি মামলা করা হয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পিবিআই।


আরও খবর



মোদির সফরকে কেন্দ্র করে উস্কানি না দেওয়ার আহ্বান কাদেরের

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৩ মার্চ ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৩ মার্চ ২০২১ | ১০২জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা তৈরিতে কাউকে উসকানি না দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আজ মঙ্গলবার সকালে তার সরকারি বাসভবনে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান।

একটি গোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আমন্ত্রণ বাতিল করা বিষয়ে চক্রান্ত করছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করেই মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে প্রধান মিত্র দেশ ছিল ভারত। তাই বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ভারতের সরকার প্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। কোনো ব্যক্তি বিশেষকে নয়।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফর পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন বা অন্য কোনো বিষয়ের সাথে যোগসূত্র নেই, তিনি আমন্ত্রিত অতিথি।

সরকারকে পরাজিত করতে বিএনপি সংগঠিত হতে শুরু করেছে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হলে ভালো কিন্তু দেশে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পরিবর্তে অস্থিরতা তৈরি করার জন্য সহিংসতা উপাদান যুক্ত করা হয় তাহলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ জনগণকে সাথে নিয়ে যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবেলা করবে। বর্তমানে আওয়ামী লীগ অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী ও সুসংগঠিত।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি প্রথম প্রশাসনে রাজনীতিকরণ শুরু করে আর শেখ হাসিনা সরকার প্রশাসনকে রাজনীতি মুক্ত করে এবং মেধার সন্নিবেশ ঘটায়। বর্তমান প্রশাসন অনেক দক্ষ ও যোগ্যতাসম্পন্ন।

তিনি বলেন, রূপকল্প ২০২১,এসডিজি, রূপকল্প ২০৪১ তথা ডেল্টাপ্ল্যানসহ দীর্ঘমেয়াদি ভিশন বাস্তবায়নের জন্য সফলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান প্রশাসন।

সরকার বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নির্যাতনের জন্য আদালতকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করছে। উচ্চ ও নিম্ন আদালতে সরকারের কোনোরূপ হস্তক্ষেপ নেই। এজন্যই আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আদালত রায় দিয়েছে এবং অনেকে সাজা ভোগ করছে।

তিনি বলেন, সরকার বা আওয়ামী লীগ স্বাধীন বিচার ব্যবস্থায় বিশ্বাসী বলেই বিশ্বজিত, নুসরাত, আবরার ও বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে দলীয় কর্মীদের রক্ষা করতে যায়নি। আইনের প্রতি সম্মান আছে বলেই বিচারিক প্রক্রিয়াকে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত করতে চায় না, বরং বিএনপিই দ্বিচারিতার আশ্রয় নেয় আইন আদালতকে ঘিরে বলেও জানান তিনি।


আরও খবর



দৈনিক জনকণ্ঠের সম্পাদকের মৃত্যুতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর শোক

প্রকাশিত:সোমবার ২২ মার্চ ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ২২ মার্চ ২০২১ | ১৩৪জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আতিকউল্লাহ খান মাসুদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি।

মন্ত্রী আজ এক শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শোকবার্তায় মন্ত্রী আরো জানান, "আতিকউল্লাহ খান মাসুদ দীর্ঘ সময় সাহসিকতার সাথে সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করে গেছেন। তার মতো বরেণ্য সাংবাদিকের মৃত্যু এক অপূরণীয় ক্ষতি।"


আরও খবর



শেয়ার বাজারে একদিনে হাওয়া ১৫ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশিত:রবিবার ০৪ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ এপ্রিল ২০২১ | ৮৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

এক সপ্তাহের লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীরা। আতঙ্কে তারা শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়ে দিয়েছেন। যার ফলস্বরূপ দিনের লেনদেন শেষে বড় ধসের ঘটনা ঘটেছে দেশের শেয়ার বাজারে। এই ধসের মধ্যে পড়ে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের দাম একদিনেই ১৫ হাজার কোটি টাকা হাওয়া হয়ে গেছে।

রবিবার (৪ মার্চ) শেয়ার বাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার আগেই দেশজুড়ে এক সপ্তাহের লকডাউনের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। এতে লেনদেন শুরু হতেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ৮৫ পয়েন্ট পড়ে যায়।

শেয়ার বাজারে দেখা দেওয়া এই বড় দরপতনের মধ্যেই এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম জানান, লকডাউনের মধ্যেও শেয়ার বাজারে লেনদেন বন্ধ হবে না। ব্যাংকের লেনদেনের সময়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখে শেয়ার বাজারে লেনদেন চলবে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন আশ্বাসও বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক দূর করতে পারেনি। ফলে শুরুর বড় দরপতনের ধারা চলমান থাকে। এর মধ্যেই দুপরে লকডাউন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এই প্রজ্ঞাপন জারির পর শেয়ার বাজারে দরপতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা অস্বাভাবিক বিক্রির চাপ বাড়ালে অনেক কোম্পানির ক্রেতা সঙ্কট দেখা দেয়। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সূচকের ওপরে। ফলে দেখতে দেখতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক প্রায় দুশ পয়েন্ট নেই হয়ে যায়।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে দাম বেড়েছে মাত্র ৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার। বিপরীতে দাম কমেছে ২৫১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। আর ৬৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এতে লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা। যা আগের কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ছিল ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। অর্থাৎ একদিনেই ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ১৫ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা। মূলধন বাড়ার অর্থ হলো, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম সম্মিলিতভাবে ওই পরিমাণ বেড়েছে।

বড় অঙ্কের বাজার মূলধন কমার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক আগের দিনের তুলনায় ১৮১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮৮ পয়েন্টে নেমে গেছে। এর মাধ্যমে গত বছরের ৯ মার্চের পর সূচকটির সব থেকে বড় পতন হল।

প্রধান মূল্যসূচকের পাশাপাশি বড় পতন হয়েছে ডিএসইর অপর দুই সূচকের। এর মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ৮২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯০১ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসইর শরিয়াহ্ সূচক ৩৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৬৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিকে সূচকের বড় পতনের দিনে ডিএসইর লেনদেন হয়েছে ৫২১ কোটি ১৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৫১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এ হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৬৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

অপর শেয়ার বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৫৪২ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। লেনদেন অংশ নেওয়া ২১৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৮৪টির। আর ১৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

নিউজ ট্যাগ: শেয়ার বাজার

আরও খবর
সব সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী

শুক্রবার ১৬ এপ্রিল ২০২১




স্বাধীনতার মিথ্যা ঘোষকের ঠিকানাই থাকবে না : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:রবিবার ২১ মার্চ 20২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ মার্চ 20২১ | ১৪৭জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বাংলাদেশের স্বাধীনতার মিথ্যা ঘোষকের আর কোনো ঠিকানা আন্তর্জাতিকভাবেও থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর ইতিহাস থেকে তার নামটা মুছে ফেলার আপ্রাণ চেষ্টা হয়েছিল। স্বাধীনতার ঘোষক হিসাবে জিয়াকে দাঁড় করানো হয়েছিল। স্বাধীনতার নায়ক বানানো হয়েছিল। মিথ্যা ঘোষক হওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, আজকে আন্তর্জাতিকভাবেও সেই ঘোষকের আর কোনো ঠিকানা থাকবে না।

রবিবার (২১ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

১৫ আগস্ট জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের নির্মম বর্বরতার কথা বিভিন্ন প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। তিনি বলেন, এইভাবে তাকে হত্যা করা হবে, এটি বোধহয় তিনি কখনো কল্পনাও করতে পারেননি, বিশ্বাসও করতে পারেননি। তার কারণ ছিল বাংলাদেশের মানুষকে তিনি গভীরভাবে ভালবেসেছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর শৈশব স্মৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তার বড় মেয়ে শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, দুভার্গ্যরে বিষয় হল সেই দীর্ঘ সংগ্রামের পথ বেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আমাদের যে স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন, অথচ সেই স্বাধীন দেশেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। শুধু হত্যা করা না, হত্যার পর ইতিহাস থেকে তার নামটা মুছে ফেলার আপ্রাণ চেষ্টা। এখানে স্বাধীনতার ঘোষক দাঁড় করানো হলো। স্বাধীনতার নায়ক বানানো হল। স্বাধীনতার ইতিহাস পাল্টে দেওয়া হলো।

এই বাংলাদেশে এমন একটা সময় ছিল যে বঙ্গবন্ধুর নামটা পর্যন্ত নেওয়া যেত না। তার নামটা নেওয়া যেন নিষিদ্ধ ছিল। যে মহান মুক্তিযুদ্ধে লাখো শহীদ রক্ত দিয়েছে, কত মা-বোন ইজ্জত দিয়েছে, কত মানুষ আপনজন হারিয়েছে, গৃহহারা হয়েছে এই যে এতো বড় একটা বিশাল অবদান; সেই অবদানের মধ্য দিয়ে আমরা পেয়েছিলাম স্বাধীনতা। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে ৭৫র পর এমন একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, যে যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিল তারা নিজেরা যে বলবে, আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি; সেই কথাটা বলার মতো সাহস তাদের ছিল না। সে সাহসটাও হারিয়ে ফেলেছিল। কারণ তাহলেই নির্যাতনের শিকার হতে হতো।

শুধুমাত্র জাতির পিতাকে হত্যা করে অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে যারা ক্ষমতা দখল করেছিল, তাদের চাটুকারিতা যারা করতে পারত শুধু তারাই সবকিছইু বলতে পারত। তাদের জন্য যেন সবকিছু বলার একটা অধিকার ছিল।

কিন্তু সত্যকে সত্য বলা, সত্য ইতিহাস তুলে ধরা নিষিদ্ধ ছিল দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ, যে ভাষণ এদেশের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছিল। যে ভাষণের মধ্য দিয়ে অসহযোগ আন্দোলন করে, সেই অসহযোগ আন্দোলনকে সশস্ত্র বিপ্লবে রূপ দিয়েছিলেন। সেই ভাষণ নিষিদ্ধ ছিল।

আজকে জাতির পিতার জন্মদিন আমরা পালন করছি। আমি বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি আমার দল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী সংগঠনের সকল নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

এই কারণে আজকে আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করতে পেরেছিলাম বলে রাষ্ট্রীয়ভাবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়ও আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবার সুযোগ পেয়েছি। এই উদযাপন আমরা করে যাচ্ছি।

মুজিব চিরন্তন প্রতিপাদ্যে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে রাষ্ট্রীয়ভাবে ১০ দিনের কর্মসূচি কর্মসূচি পালন করার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

যা বিগত সময়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে গৃহীত কর্মসূচিগুলো বাতিল করে দিয়ে শুধুমাত্র ভার্চুয়ালি করা হয়েছিল সে কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তাই এখন ১৭ই মার্চ থেকে ২৬ মার্চ ১০ দিনব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাওয়ার কথা তুলে ধরে সেখানে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান-সরকারপ্রধানসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দের আগমন ও ভিডিওতে শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান করার কথা তুলে ধরেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকে অনুষ্ঠানগুলো করার সুযোগ পেয়েছি জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছিল বলেই। যেখানে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। আজকে আর সেই নাম মুছতে পারবে না। যেখানে মিথ্যা ঘোষক হওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল আজকে আন্তর্জাতিকভাবেও আপনারা দেখেন, সেই ঘোষকের আর কোনো ঠিকানা থাকবে না। তার কারণ-আজকে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ, তারাই কিন্তু আজ এটা নিজেরাই প্রচার করছেন এবং অনেক জায়গায় রেজ্যুলেশনও হচ্ছে যে, ২৬শে মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্ম এই মাটিতে হয়েছিল বলেই তার মতো একজন বলিষ্ট নেতৃত্ব আমরা পেয়েছিলাম। তিনি ছোট বেলা থেকেই খুব সংবেদনশীল ছিল, মানুষের প্রতি দরদী ছিলেন। তার তোন অহমিকা ছিল না। তিনি সাধারণ মানুষকে সাহায্য করতে পছন্দ করতেন। মানুষের পাশে থাকতেন। দরিদ্র্য ছেলে-মেয়েদেরকে পড়াশোনা থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে তিনি সহযোগিতা করতেন। দুর্ভিক্ষ পীড়িত অবস্থা যখন সৃষ্টি হল সেই মানুষের পাশে দাঁড়ালেন। নিজেদের গোলা খুলে দিয়ে ধান বিলিয়ে দেন গরিবের কাছে।

প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কারো কাছে কখনো মাথা নত করেননি। ভাষা আন্দোলন তিনি শুরু করেছিলেন সেই ১৯৪৮ সালের ১১ই মার্চ প্রথম কর্মসূচি ধর্মঘট পালন করা হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, মির্জা আজম, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খান, শিক্ষা সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান এবং দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির। এ ছাড়া সভায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যরাসহ ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গণভবন প্রান্তে সভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ।


আরও খবর