আজঃ মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

শেরপুরে নৌকা ডুবে দুই ছাত্রের মৃত্যু

প্রকাশিত:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ | পত্রিকায় প্রকাশিত
মো. নাজমুল হোসাইন, শেরপুর

Image

শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলাতে নৌকা ডুবে দুই ছাত্রের মৃত্যু। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার দুপুরে উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের কান্দুলী গ্রামে।

নিহতরা হচ্ছেন, কান্দুলী গ্রামের ছোরহাব আলীর ছেলে মোশারফ হোসেন মিল্টন (২১) সে রংপুর মেডিক্যালের ছাত্র ছিল। অপরজন ওই গ্রামের সাদা মিয়ার ছেলে আমানুল্লাহ আমান (২৩) তিনানী ডিগ্রী কলেজের ছাত্র।

ধানশাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জানান, শুক্রবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে ৭ বন্ধু মিলে কাল্দুলী নলাডুবি বিলে নৌকা ভ্রমণে যায়। একপর্যায়ে বিলের মাঝখানে নৌকাটি ডুবে গেলে পানিতে ডুবে ওই দুই ছাত্রের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঝিনাইগাতী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইস্কান্দার হাবিবুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

নিউজ ট্যাগ: শেরপুর

আরও খবর



কক্সবাজারে পাহাড় ধস, নারী-শিশুসহ চারজনের মৃত্যু

প্রকাশিত:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
মোহাম্মদ ফারুক, কক্সবাজার

Image

কক্সবাজারে শুরু হওয়া ভারি বর্ষণে ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে চারবার পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। পৃথক এ ঘটনাগুলোতে নারী-শিশুসহ চারজনের করুণ মৃত্যু হয়েছে। এদের মাঝে দুজন বৃহস্পতিবার সকালে, একজন দুপুরে এবং অপরজন রাতে পৃথক ঘটনায় মাটিচাপা পড়ে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আতাউল গনি ওসমানী।

সর্বশেষ পাহাড় ধসের ঘটনায় কক্সবাজার শহরের কলাতলী সৈকত পাড়া এলাকা থেকে এক স্কুল ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) রাতে ৮টা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টার উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে একজনের মরদেহ এবং বাকি তিনজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়।

নিহত শিক্ষার্থী মিম (১২) সৈকত পাড়ার মুহাম্মদ সেলিমের কন্যা। সে সৈকত বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার দোলন আচার্য বলেন, পাহাড় ধসের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। পাহাড়ের নিচে বিপদজনকভাবে তৈরি করা একটি ঘরের ছোট খুপরিতে মাটিচাপা পড়েন কয়েকজন। সেখানে তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। মিমকে বের করতে প্রায় তিন ঘণ্টা লেগে যায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের বরাতে পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এম এ মনজুর বলেন, পরমাণু শক্তি কমিশন অফিসের নিরাপত্তাকর্মী মোহাম্মদ সেলিমের মালিকানাধীন টিন সেট বাড়ির উপর রাত ৮টার দিকে একটি গাছসহ পাহাড় ধসে পড়ে। এসম সময় বাড়িতে সাত সদস্য অবস্থান করলেও সেলিমের স্ত্রী নূরজাহান, তাদের সন্তান লামিয়া হাবিবা, হুজাইফা, মাওয়া ও মিম মাটির নিচে চাপা পড়ে। তাৎক্ষণিক চেষ্টাও তিনজনকে জীবিত বের করা গেলেও মিমকে উদ্ধারে সময় বেশি লাগায় তার মৃত্যু হয়। প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয়রাও উদ্ধারে অংশ নেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরিপাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে গৃহবধূ লায়লা বেগম (৩৫) নিহত হন। তিনি স্থানীয় বজল আহমদের স্ত্রী। তাদের শিশু সন্তান মোহাম্মদ জুনায়েদকে (২) গুরুতর আহত অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতের মেয়ে ইয়াছমিন আক্তার বলেন, আমার মা ভাইকে নিয়ে দুপুরে ভাত খাচ্ছিলেন। এসময় হঠাৎ পাহাড় ধসে এসে রান্নাঘরে পড়ে। মা এবং ভাই মাটি চাপা পড়লে এলাকাবাসীর সহায়তায় তাদের ভেতর থেকে বের করা হয়। পরে আমার মা মারা গেলেও ভাইকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

একইদিন সকাল ৭টার দিকে পাহাড় ধসের পৃথক ঘটনায় আরো দুইজনের মৃত্যু হয়। শহরের ৬ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ পল্যানিয়া কাটা এলাকায় বসতঘরে পাহাড় ধসে স্থানীয় মোহাম্মদ করিমের স্ত্রী জমিলা বেগম (৩০) নিহত হন৷ কাছাকাছি সময়ে শহরের ৭নং ওয়ার্ডের সিকদার বাজার এলাকায় বাড়ির মাটির দেয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু হয় সাইফুল ইসলামের ছেলে নাজমুল হাছান (১০)।

নিহত জমিলার স্বামী করিম জানান, সকাল ৬টার দিকে ঘুম থেকে উঠেই নাস্তা খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সপরিবার। এসময় আচমকা পাহাড়ের কাদামাটি বসত ঘরে পড়লে চাপা পড়েন গৃহবধূ জমিলা। তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শিশু হাসানের পরিবার জানায়, পাহাড় ধসে ঘরের মাটির দেয়ালে পড়লে মাটির দেয়ালসহ আসবাবপত্রে চাপা পড়ে শিশু হাসান। ঘটনাস্থল থেকে তাকে মৃত উদ্ধার করে স্থানীয়রা।

কক্সবাজার পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম তারিকুল আলম বলেন, পাহাড়ে ঝুঁকিতে থাকারা নিরাপদে সরে আসতে কক্সবাজার পৌরসভা ১৩টি আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছে। সেখানে রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শহরের পাহাড়ে বসবাসরতদের মাইকিং করে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। কিন্তু মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে চায় না। এ কারণেই বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে গেলো।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আতাউল গনি ওসমানী বলেন, যুগ যুগ ধরেই কক্সবাজারের পাহাড় ও পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি গেড়েছে অধিবাসীরা। মৃত্যুর হাতছানি দেখেও তাদের সরানো যায় না। এরপরও মাইকিং অব্যাহত রাখা হয়েছে। পাহাড় ধসে মৃত্যুরোধে প্রয়োজনে আইনী পদক্ষেপে তাদের সরানোর উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে বলেও উল্লেখ করেন এডিএম।


আরও খবর



চট্টগ্রামে বার্ন ইউনিট চালু হলে কাউকে ঢাকা ছুটতে হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত:শনিবার ০৬ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ০৬ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রাহুল সরকার, চট্টগ্রাম ব্যুরো

Image

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেছেন, আমরা চট্টগ্রাম বার্ন ইউনিট স্থাপনে এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে গেছি। এটা যেহেতু একনেকে পাস হয়ে গেছে আর প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে যাচ্ছে। আমার ইচ্ছা আছে যে প্রধানমন্ত্রী যখন দেশে থাকেন, তখন উনাকে দিয়ে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করানো। আশা করি প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে আসলে আমরা এটা করতে পারবো।

তিনি বলেন, এই মাসেই এটা করার চেষ্টা করব আর যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করব। কারণ চাইনিজরা কমিটেড যে দুই বছরের মধ্যে ভবন নির্মাণ শেষ করবে। পাশাপাশি আমরা জনবল যন্ত্রপাতি সবনিয়েই একসাথে কাজ করছি। আমি যে রকম শেখ হাসিনা বার্ণ ইনস্টিটিউটে সবগুলো একসাথে করে একদম একদিনে শুরু করতে পেরেছিলাম। আমারও টার্গেট হচ্ছে, আমরা সবগুলো একসাথে করে চালু করব। এই বার্ন ইউনিট চালু হলে চট্টগ্রাম এবং আশেপাশের জেলা উপকৃত হবে। সবাইকে ঢাকা ছুটতে হবে না

শনিবার (৬ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ বার্ন ইউনিটের সাইট পরিদর্শন করার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

এরপর তিনি চটগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ার্ডে পরিদর্শন এবং চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বিভিন্ন কথা শুনেন। পরিদর্শন শেষে চমেক হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও কর্তব্যরত ডাক্তারদের সাথে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় যোগদান করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রোগী যাতে যথাযথ চিকিৎসা পায় সেটা দেখা যেমন আমার দায়িত্ব তেমনি ডাক্তাররাও যাতে চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে সুরক্ষা পায় সেটা দেখাও আমার দায়িত্ব। রোগী ও ডাক্তার উভয়কেই সুরক্ষা দেয়ার দায়িত্বটা আমার।

তিনি বলেন, আপনারা যদি আমাকে প্রয়োজনীয় সাহায্য করেন তাহলে হাসপাতালের সব সমস্যার সমাধান করার জন্য প্রয়োজনীয় চেষ্টা আমার থাকবে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এমআরআই মেশিন, সিটি স্ক্যান নষ্ট এটা শুনতেও আমার কাছে খারাপ লাগে। ঢাকার পর চট্টগ্রাম বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। এগুলো জরুরি ভিত্তিতে ঠিক করার জন্য প্রয়োজনীয় যা যা করা দরকার আমি করব।

কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমি অনেক কষ্টে সময় বের করে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, ডিজি সবাইকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করেছি। ওখানে আমরা স্বাস্থ্যখাত নিয়ে প্রেজেন্টেশন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেখিয়েছিলাম। স্বাস্থ্যখাত নিয়ে সেখানে বিস্তারিত খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। আমরা যে প্রসিডিওর, মডেল তৈরী করেছি সেটা অনুযায়ী কাজ করতে পারলে স্বাস্থ্যখাতে ভালো কিছু হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে উন্নতমানের চিকিৎসা সেবা থাকা সত্বেও মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশ চলে যায়। আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশেই চিকিৎসা করেন। মাননীয় সংসদ সদস্যরা যার যার স্থানীয় হাসপাতালে গিয়ে যদি চেকআপ করান তাহলে হাসপাতালে চিকিৎসার মান উন্নত হবে। দেশের চিকিৎসার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরে আসবে। ফলে মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাবে না।

সভায় হাসপাতালের বিভিন্ন অসুবিধা ও লোকবল সংকটের বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং সীমিত সময়ের মধ্যে এসব সমস্যার সমাধান করা হবে বলে মন্ত্রী আশ্বাস প্রদান করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাক্তারের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, একজন চিকিৎসকের জন্য আমি সব ধরনের সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করতে চাই। মহিলা ডাক্তারদের রাতে ডিউটি করার সময় যাতে কোন ধরনের অসুবিধা না হয় তার আমি জন্য কাজ করছি।

তিনি হাসপাতাল পরিদর্শন প্রসঙ্গে বলেন, আমি গতকাল চট্টগ্রামে একটা হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে আমার মন খারাপ হয়ে গেছে। একটা হাসপাতালে যদি ইমার্জেন্সি ডাক্তার না থাকে, অক্সিজেন সিলিন্ডার খালি থাকে তাহলে তারা রোগীকে কি সেবা দিবে। প্রাইভেট ক্লিনিক অবশ্যই চলবে আমি তার বিরুদ্ধে নই। কিন্তু তাদেরকে সব নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। সাংবাদিক ভাইদের বলব আমি হাসপাতালে  অভিযান চালাই না, পরিদর্শন করি। প্রত্যেকটা রোগী যাতে সুচিকিৎসা পায় সেটা দেখার দায়িত্ব আমার। ডাক্তাররা কিভাবে কাজ করছে, তারা সুরক্ষিত আছে কি না সেটা দেখার জন্য আমি পরিদর্শনে যাই। দেশের চিকিৎসার মান উন্নত করতে আপনারা আমাকে সহযোগিতা করুন। তাহলে আমি আশা করি, দেশের মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে না গিয়ে বিদেশের মানুষ চিকিৎসার জন্য দেশে আসবে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে গাইনি চিকিৎসকরা ঢাকায় চলে যেতে চায় উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন আরো বলেন, সবাই যদি ঢাকায় যেতে চায় তাহলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ চলবে কেমন করে? এক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে একটা অনুশাসন দিয়েছেন। তিনি আমাকে বলেছেন, যার যেখানে পোস্টিং তার সেখানেই চাকুরি করতে হবে। কেউ যদি যেতে না চায় বা আসতে না চায় তাহলে তাকে বলবা চাকরি ছেড়ে দিতে। যাকে যেখানে পোস্টিং দেয়া হবে সেখানে তাকে যেতেই হবে।

সুন্দরভাবে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে যাতে পোস্টিং দিতে পারেন সে লক্ষ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাজ করছেন জানিয়ে বলেন, এটি অনেক বড় সময়সাপেক্ষ কাজ। আমি মাত্র ছয় মাস হলো দায়িত্বে আছি। আপনারা ইতোমধ্যে জানেন আমি ঠিক করেছি ঢাকায় দুইদিনের বেশি থাকব না। সারা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা আমি নিজে গিয়ে দেখব।

তিনি ইউরোলজি, পেডিয়াট্রিক, শিশু হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উক্ত বিভাগে ভর্তিকৃত শিশু এবং তাদের অভিভাবকদের সাথে বিস্তারিত কথা বলেন। বিভাগের কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্সদের সাথেও তিনি চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কথা বলেন।

এসময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সাহেনা আক্তার, চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস চৌধুরীসহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং সিনিয়র স্টাফ নার্সবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



প্রশ্নফাঁসে অভিযুক্ত আবেদ আলীসহ ১৭ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৯ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

Image

গত ১২ বছরে পিএসসির অধীনে ৩০টি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার গাড়িচালক আবেদ আলীসহ ১৭ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়।

এর আগে রাজধানীর পল্টন থানায় হওয়া মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা হকের আদালত গাড়িচালক আবেদ আলীর ছেলে সোহানুর রহমান সিয়ামসহ ১০ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

এদিন সকালে এ মামলায় গ্রেপ্তার ১৭ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের মধ্যে পিএসসির চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনসহ সাত আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হলে তা রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করা অপর আসামিরা হলেন- অফিস সহায়ক খলিলুর রহমান, অফিস সহায়ক (ডিসপাস) সাজেদুল ইসলাম, ব্যবসায়ী আবু সোলায়মান মো. সোহেল, ব্যবসায়ী সহোদর সাখাওয়াত হোসেন ও সায়েম হোসেন এবং বেকার যুবক লিটন সরকার।

এ ছাড়া অপর ১০ আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। পরে ১০ আসামির জামিন চেয়ে আবেদন করেন তাদের আইনজীবীরা। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালতে ১০ আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

কারাগারে যাওয়া অপর আসামিরা হলেন- পিএসসির উপপরিচালক মো. আবু জাফর ও মো. জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী পরিচালক মো. আলমগীর কবির, সাবেক সেনা সদস্য নোমান সিদ্দিকী, অডিটর প্রিয়নাথ রায়, ব্যবসায়ী মো. জাহিদুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী শাহাদাত হোসেন, ঢাকার ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অফিসে কর্মরত মো. মামুনুর রশীদ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মেডিকেল টেকনিশিয়ান মো. নিয়ামুন হাসান।


আরও খবর



ভূমি উন্নয়ন কর দেয়ার নতুন সময় কার্যকর

প্রকাশিত:সোমবার ০১ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ০১ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের সময়কাল জাতীয় অর্থবছরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রতিবছরের ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়, যা আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 এতে বলা হয়, এ পরিবর্তনের মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় ব্যবস্থাপনাকে জাতীয় অর্থবছরের সঙ্গে সমন্বিত করা হয়েছে। আগে ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের সময়কাল ছিল বাংলা সনের পহেলা বৈশাখ থেকে ৩০ চৈত্র পর্যন্ত। আশা করা যাচ্ছে, জাতীয় অর্থবছরের সঙ্গে সমন্বয়ের ফলে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ভূমি মালিকের ভূমি উন্নয়ন কর দেয়া সম্পর্কিত হিসাব ব্যবস্থাপনা অধিকতর সহজ ও গতিশীল হবে। এ ছাড়া জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমি উন্নয়ন করের প্রভাব নির্ণয় অধিকতর সুবিধাজনক হবে।

এ বিষয়ে ভূমিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ গত ৮ জুন বলেন, প্রচলিত অর্থবছরের সঙ্গে সমন্বয় করে এখন থেকে কর আদায়ের সময় হবে প্রতিবছরের ১ জুলাই খেকে ৩০ জুন পর্যন্ত। কর আদায় প্রক্রিয়া অধিকতর সুষম, স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই নতুন পদ্ধতি দেশের ভূমি রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং রাজস্ব আদায়ে গতিশীলতা আনবে। আসুন, আমরা সবাই মিলে এই নতুন যাত্রায় সফল হই। বর্তমান পরিবর্তনটি ভূমি উন্নয়ন কর আদায় প্রক্রিয়াকে অধিকতর সুষম, স্বচ্ছ ও কার্যকর করবে।

উল্লেখ্য, মোগল বাংলায় ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে প্রথম বাংলা সন গণনা করা হয়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে খাজনা আদায়ে এই গণনা কার্যকর শুরু হয়েছিল ১৫৫৬ সাল থেকে। কালক্রমে ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশেও বাংলা সনের হিসাবেই জমির খাজনা তথা ভূমি কর নেয়া হতো। ১৫৮৪ প্রায়োগিক সাল ধরলে সময়ের প্রয়োজনে প্রায় ৪৪০ বছর পর ভূমি কর আদায়ের সময় পরিবর্তন হলো।


আরও খবর
মেট্রোরেল চলাচল পুরোপুরি বন্ধ

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




‘ভারতীয় গল্প পড়ে ব্যারিস্টার সুমনের সঙ্গে প্রতারণার ছক কষা হয়েছিল’

প্রকাশিত:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

Image

সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে হত্যার হুমকির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হবিগঞ্জ পুলিশ ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) সমন্বয়ে একটি দল গতকাল মঙ্গলাবার (৯ জুলাই) দুপুর সোয়া দুইটায় সিলেটের একটি হোটেল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম সোহাগ মিয়া (২৭)। পুলিশের দাবি, এমপিকে হত্যা পরিকল্পনার বিষয়ে তথ্য প্রদানকারী করেছিল সোহাগ মিয়া। সে একজন প্রতারক। প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে এ নাটক সাজিয়েছিল। গ্রেপ্তার সোহাগ মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার মোবারকপুর গ্রামের মন্তাজ মিয়ার ছেলে।

আজ বুধবার হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ডার্ক ওয়েব সাইটে থাকা ভারতীয় একজন প্রভাবশালীর জীবনের হুমকি আছে বলে তথ্য দিয়ে একজন প্রতারক অর্থ হাতিয়ে নেয়। ওই গল্প পড়ে সোহাগ একই কায়দায় প্রতারণার জন্য ব্যারিস্টার সুমনকে টার্গেট করেন তিনি। এর ধারাবাহিতকায় প্রথমে সে ব্যারিস্টার সুমনের জীবনের হুমকি আছে বলে একাধিক ভিডিও প্রকাশ করে।

সূত্র জানায়, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিল্লোল রায়ের কাছে গত ২৮ জুন রাতে অজ্ঞাত পরিচয়ে সোহাগ প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে ব্যারিস্টার সুমনের মোবাইল নম্বর চান। তখন ওসি মোবাইল নম্বর চাওয়ার কারণ জানতে চাইলে উত্তরে তিনি জানান, ব্যারিস্টার সুমনের সঙ্গে জরুরি কথা বলতে চাই। মোবাইল নম্বর না দিলে আত্মহত্যা করবেন। ওসি সংসদ সদস্যের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ওই ব্যক্তিকে মোবাইল নম্বরটি দেননি। এর কিছুক্ষণ পরই সোহাগ হোয়াটসঅ্যাপে একটি মেসেজ পাঠান এবং পরে তা ডিলিট করে দেন। এর কিছুক্ষণ পর আবারও একটি মেসেজ পাঠান। এতে বলা হয়, ব্যারিস্টার সুমনের কিছু শত্রু আছে, যারা তার ক্ষতি করতে পারে। এই মেসেজও পরে ডিলিট করে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ওসির মাধ্যমে সোহাগ ব্যারিস্টার সুমনের সাথে মোবাইলে কথা বলেন। তিনি জানান, ৪/৫ জনের একটি টিম তাকে হত্যার জন্য মাঠে নেমেছে। সোহাগের উদ্দেশ্য ছিল হত্যার মিশনের তথ্য জানানোর নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়া। কিন্তু ব্যারিস্টার সুমন লাইভে গিয়ে ঘটনাটি প্রচার করেন। এছাড়া চুনারুঘাট ও ঢাকার শেরেবাংলা থানায় দুটি জিডি করা হয়। জিডি ও লাইভে প্রচারের খবর পেয়ে সোহাগ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম চলে যায়। যখন তিনি বুঝতে পারেন তাকে ট্র্যাক করা হচ্ছে পরবর্তীতে তিনি সিলেটে আত্মগোপন করেন। পরে হবিগঞ্জ পুলিশ ও সিটিটিসি ইউনিট সমন্বয়ে তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে তাকে একটি হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিদেশ পাঠানোর নামে টাকা আত্মসাতের মামলা রয়েছে। এ ছাড়া মৌলভীবাজার জেলায় রাজনগর থানায় প্রতারণার মামলা রয়েছে। যা আদালতে রিচারাধীন।

পুলিশ সুপার জানান, সোহাগ কিছুদিন বিদেশে ছিল। সে দুটি বিয়ে করেছে। তার একটি কন্যা রয়েছে। সোহাগ অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। তাকে রিমান্ডে নিয়ে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে। 


আরও খবর