আজঃ মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরল শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

তীব্র দাবদাহের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিখন ঘাটতি দেখা দিলে শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে সরকার। এ নিয়ে ক্ষোভ জানান শিক্ষকরা। সেসময় শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী আশ্বাস দেন, ঈদুল আজহার পর শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি ফিরিয়ে দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শনিবারের ছুটি বহাল করেছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় এখন থেকে শনিবারও আগের মতো সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে সারা দেশে এবং পরবর্তীতে জেলাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। সেসময় শিখন ঘাটতি তৈরি হয়। এ ঘাটতি পূরণে গত ৪ মে থেকে শনিবারও ক্লাস চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর থেকে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির পরিবর্তে ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়। এবার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ছুটি বহাল করল মন্ত্রণালয়।

এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলতি বছরের গ্রীষ্মের ছুটি কমানো হয়েছে। এ ছুটি আগামী ২ জুলাই পর্যন্ত ছিল। কিন্তু বুধবার (২৬ জুন) থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।


আরও খবর
আরও ৩ দিনের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে আপিল শুনানি আজ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আদালত প্রতিবেদক

Image

সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর শুনানির দিন আজ ধার্য রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের নিয়মিত ও পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের কার্যতালিকায় আবেদনটি শুনানির জন্য ৮ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে ২০১৮ সালের ৩ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে ৫৬ শতাংশ কোটা বাতিল করা হয়। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে কোটা ব্যবস্থা বহাল রাখে সরকার।

এ পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে গত ৫ জুন রায় দেন হাইকোর্ট। ফলে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল থাকবে। পরে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। গত ৯ জুন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করা হয়।

ওই দিন কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় স্থগিত না করে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম।


আরও খবর
কোটা নিয়ে আপিল বিভাগে শুনানি রোববার

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




ভারত থেকে ৩০ হাজার টন ডিজেল কিনবে সরকার

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে জি-টু-জি ভিত্তিতে ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারী লিমিটেড থেকে ২৭৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা দিয়ে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব মো. মাহমুদুল হোসাইন খান সাংবাদিকদের জানান, ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারী লিমিটেড থেকে জুলাই থেকে ডিসেম্বর ২০২৪ সময়ের জন্য ৩০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।  সরকার মোট যে, জ্বালানি তেল আমদানি করে, তার ৫০ শতাংশ করে জি-টু-জি ভিত্তিতে। বাকি ৫০ শতাংশ স্পর্ট মার্কেট থেকে কেনা হয়। নুমালীগড় রিফাইনারী থেকে যে ডিজেল কেনা হবে তা জি-টু-জি প্রক্রিয়ায়।

তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপ লাইনের মাধ্যমে এই ডিজেল শিলিগুড়ি মার্কেটিং টার্মিন্যাল থেকে বাংলাদেশের পর্বতীপুর ডিপোতে সরাসরি আমদানি হবে। প্রিমিয়ামসহ ৩০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দাম হবে ২৭৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। প্রতি ব্যারেললে প্রিমিয়াম হলো ৫ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার। আর রেফারেন্স প্রাইস ধরা হয়েছে চলতি বছরের ২৮ জুনের দাম।


আরও খবর
মেট্রোরেল চলাচল পুরোপুরি বন্ধ

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: প্লাবিত ১ হাজার ১৭৬ গ্রাম

প্রকাশিত:বুধবার ০৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ০৩ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
এস এ শফি, সিলেট

Image

উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতে সিলেট বিভাগে তৃতীয় দফা বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা ও কুশিয়ারাসহ সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

সুরমা, কুশিয়ারা, সারি ও সারিগাঙ্গ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্লাবিত হয়েছে জেলার ৯৭ ইউনিয়নের এক হাজার ১৭৬ গ্রাম। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ৭ লাখ ১ হাজার ৬৫৮ জন। এছাড়া সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোণা ও শেরপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

এতে সিলেট বিভাগের চার জেলার ৮৯৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৬ হাজার ২৭১ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় আট হাজার ৪০৭ জন, মৌলভীবাজারে ছয় হাজার ৬৪ জন, সুনামগঞ্জে এক হাজার ৩২৫ জন এবং হবিগঞ্জে ৪৯৩ জন।

আজ বুধবার সকাল ৯টায় সুরমা নদীর পানি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় বিপৎসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে এবং সিলেট নগরীতে দুই সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার অমলসীদে বিপৎসীমার ১৩৫ সেন্টিমিটার উপরে, বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলায় ৪৩ সেন্টিমিটার উপরে, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় ৯৯ সেন্টিমিটার উপরে এবং মৌলভীবাজারের শেরপুরে ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তবে উজানে বৃষ্টিপাত তুলনামূলক কম হওয়ায় সিলেটে সারি ও গোয়াইন নদীর পানি একদিনে ১০৮ সেন্টিমিটার কমে দ্রুত নেমে জৈন্তাপুর উপজেলার সারিঘাটে বিপৎসীমার ১১১ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মৌলভীবাজারে মনু নদীর পানি মনু রেলওয়ে ব্রিজে বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার এবং মৌলভীবাজার সদরে ৪৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর পানি বাল্লা পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯০ সেন্টিমিটার এবং হবিগঞ্জ সদরে ৩৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগের চার জেলার ৮৯৮টি আশ্রয়কেন্দ্রের ১৬ হাজার ২৭১ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় আট হাজার ৪০৭ জন, মৌলভীবাজারে ছয় হাজার ৬৪ জন, সুনামগঞ্জে এক হাজার ৩২৫ জন এবং হবিগঞ্জে ৪৯৩ জন।

মানুষ ছাড়াও আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে এক হাজার ৯৬৪টি গবাদিপশু, যার মধ্যে সিলেটে এক হাজার ২০৩টি, মৌলভীবাজারে ৫৪৭টি, সুনামগঞ্জে ১২৩টি ও হবিগঞ্জে ৯১টি।

সিলেট ও ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম থাকায় নিম্নাঞ্চল এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর, এতে আবারও পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। নতুন করে বৃষ্টিপাত না হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তবে কিছু এলাকায় এখন বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত অবস্থায় রয়েছে। অনেক জায়গায় ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে পানি প্রবেশ করেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা। 

কোম্পানীগঞ্জ থানা সদরের বাসিন্দা মঈন উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার থেকে পানি কমতে শুরু করেছে, এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরছে। তবে বৃষ্টি হলেই মনে আতঙ্ক কাজ করে। কখন যে ঘরের ভেতরে পানি প্রবেশ করে এ চিন্তায়।

গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছানাকান্দি ইউনিয়নের বাসিন্দা নজির মিয়া জানান, নিম্ন এলাকা থেকে পানি নামছে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা আব্দুস সত্তার জানান, নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এতে করে আবারও ঘরের ভেতরে পানি প্রবেশ করেছে। ঘরের আসবাবপত্র পানিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, কিছু জিনিস ওপরে তুলে রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় চরম বিপাকে পড়েছেন বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত সিলেট মহানগর ও ১৩টি উপজেলায় ১ হাজার ১৭৬টি গ্রাম প্লাবিত ছিল। বন্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৭ লাখ ১ হাজার ৬৫৮। ১৮৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখনো ৮ হাজার ৩৫১ জন মানুষ অবস্থান করছেন।

সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন জানান, সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫ মিলিমিটার বৃ‌ষ্টি হয়েছে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় সিলেটে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। ভারতের আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি সবকটি পয়েন্টে বিপদসীমার ওপরে অবস্থান করছেন। বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি জানান, বুধবার দুপুর ১২টার তথ্য অনুযায়ী সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৮৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ওই পয়েন্টে পানির বিপদসীমা ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার। নদীর সিলেট পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ওই পয়েন্টে পানির বিপদসীমা ১০ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। আমলশীদ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ওই পয়েন্টে পানির বিপদসীমা ১৫ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার। শেওলা পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ওই পয়েন্টে পানির বিপদসীমা ১৩ দশমিক ০৫ সেন্টিমিটার। ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৯৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ওই পয়েন্টে পানির বিপদসীমা ৯ দশমিক ৪৫ সেন্টিমিটার। তা ছাড়া লুবা, সারি, সারিগোয়াইন, ডাউকি, ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার নিচে অবস্থান করছে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়ে রেখেছে, আমাদেরও সেভাবে প্রস্তুতি রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে সালিক রুমাইয়া জানান, উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। নতুন করে বৃষ্টিপাত না হলে আরও উন্নতি হবে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান বলেন, জেলায় অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের ফলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে প্রশাসন আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিল। যারা পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন তাদেরকে উদ্ধারে প্রশাসন কাজ করছে। আশ্রয়কেন্দ্র ও পানি বন্দিদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ চলমান রয়েছে। তাছাড়া বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য উপজেলা পর্যায়ে ডেডিকেটেড কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন ভিত্তিক ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।

সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার আবু আহমদ ছিদ্দীকী বলেন, 'চলমান বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে অতিবৃষ্টির ফলে আবারও বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে। প্রশাসন জনদুর্ভোগ লাঘবে আক্রান্ত প্রতিটি পরিবারের কাছে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করছে।'

সিলেট বিভাগে চলতি বন্যা পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত চার হাজার ২৩৫ টন চাল, এক কোটি ১৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা নগদ, ২৯ হাজার ৮৩০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ৪০ লাখ টাকার শিশু খাদ্য এবং ৪০ লাখ টাকার গোখাদ্য ত্রাণ হিসেবে বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা পর্যায়ক্রমে বিতরণ চলছে বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার।

'নতুন করে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা আরও ত্রাণ সহায়তা চেয়েছি মন্ত্রণালয়ের কাছে। বন্যা শেষে ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথভাবে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে', বলেন তিনি।


আরও খবর



গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, বানভাসি লক্ষাধিক মানুষ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
গাইবান্ধা প্রতিনিধি

Image

গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্রের পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। নতুন করে পানি বৃদ্ধির কারণে ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র বেষ্টিত সুন্দরগঞ্জ, সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ১৬৫টি চরের লক্ষাধিক মানুষ ১০ দিন ধরে পানিবন্দি জীবন যাপন করছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টায় পাউবোর দেওয়া তথ্যমতে এ সময় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৯২ মিলিমিটার।

এ ছাড়াও ঘাঘট ও তিস্তা নদীতেও পানি বাড়ছে। গাইবান্ধা জেলার ৪টি উপজেলায় ২৬টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৫টি, সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ৯টি, সাঘাটা উপজেলায় ৫টি ও ফুলছড়ি উপজেলায় ৭টি ইউনিয়ন রয়েছে।

কাঁদা-পানিতে বন্যার্তরা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। দুর্গত এলাকায় খাদ্য সংকটের পাশাপাশি মানুষের দেখা দিয়েছে চর্মরোগসহ পানিবাহিত নানান রোগ। ঘরে পানি থাকায় গবাদি পশু নিয়ে উঁচু ঢিবিতে মানুষ গাদাগাদি করে বসবাস করছে। গো-খাদ্যের অভাবে চরাঞ্চলের মানুষের প্রধান অর্থকরী সম্পদ গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। বন্যায় ১৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ৩৬ হাজার ২০৭টি। এরমধ্যে গাইবান্ধা সদরে ১০ হাজার ৫৮৭টি, সুন্দরগঞ্জে ৫ হাজার ৫০০টি, সাঘাটায় ১২ হাজার ৬৩০টি ও ফুলছড়িতে ৭ হাজার ৪৯০টি। এছাড়া বন্যার্তদের জন্য ১৮১টি স্থায়ী অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। দুর্গত এলাকায় ৩ হাজার ২৫০ প্যাকেট শুকনা খাবার, ৩৮৫ মেট্রিক টন জি আর চাল ও জিআর ক্যাশ ১৫ লাখ টাকা ৪ উপজেলায় উপবরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য নৌকা, স্পীড বোট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা এবং উপজেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। ইউনিয়ন ভিত্তিক বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় মেডিকেল টিম, কৃষি টিম, স্বেচ্ছাসেবক টিম এবং লাইভস্টোক টিম গঠন করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রচার প্রচারণা চলমান রয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে পানির জেরিকেন এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ করা হচ্ছে।

জেলার সাঘাটা, ফুলছড়ি, সদর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ৪৫টি ইউনিয়নে ১৩ হাজার ৭৭১ পরিবারকে বন্যা পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে পরিবার প্রতি ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ কোটি টাকা মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে। ১০টি ক্লাস্টারভিলেজ, ৩টি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র ও জিইউকের পরিচালিত ৬টি স্কুলে অন্ততপক্ষে ৫ শতাধিক বন্যার্ত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। উদ্ধার নৌকার মাধ্যমে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে শতাধিক পরিবারের ৩০০ নারী-পুরুষ, শিশু. পাবিবন্দি ও বৃদ্ধসহ তাদের সহায়সম্পদ নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সদর উপজেলার কামারজানি উইনিয়নের কুনদেরপাড়া গণউন্নয়ন কেন্দ্র বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র ও বিভিন্ন বাধে ২০ ল্যাট্রিন সেট ও ২টি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে টিনসেট স্থাপন করে শতাধিক পরিবারের অস্থায়ী বাসস্থান তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া গবাদি পশুর জন্য পলিথিন সিট দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ফুট।

আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ইউএনএফপিই এর সহায়তা ২ হাজার ৪০০ নারীর মাঝে ১৬ ধরণের উপকরণ সামগ্রী মর্যাদা সুরক্ষা কিট ও প্রত্যেককে ৯০০ টাকা করে যাতায়াতভাতা প্রদান করা করেছে। এছাড়াও জেলায় ৯০৮ জনকে ৪ হাজার ৩০০ টাকা করে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধমে পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে ৫০ জন হিজড়াকে ৪ হাজার ৩০০ টাকা করে নগদ প্রদান করা হয়েছে।

গাইবান্ধার পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। তবে সপ্তাহখানেকের মধ্যে বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে যাবে।


আরও খবর



নামাজ পড়তে গিয়ে ঈশ্বরদীতে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

প্রকাশিত:শনিবার ২৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৯ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

Image

ঈশ্বরদীতে হুসাইন মোঃ হুজ্জাতুল্লাহ্ নামের এক মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ হয়েছে। তিন দিন পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান পাননি তার পরিবার।

গত বুধবার (২৬ জুন) উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের বাড়ির পাশের একটি মসজিদে এশার নামাজ পড়তে গিয়ে আর বাড়ি ফিরে আসেনি হুসাইন মোঃ হুজ্জাতুল্লাহ্ ওরফে উদয় (১৩) নামের এক মাদ্রাসা ছাত্র।

নিখোঁজ মাদ্রাসা ছাত্র হুসাইন মোঃ হুজ্জাতুল্লাহ পাবনার বলরামপুর (মোহাম্মদপুর) তাহফিজে সিলসিলায়ে মোজাদ্দিদ জামান পীর আবু বকর সিদ্দিকী (রহ:) ফুরফুরা কুরআন সুন্নাহ্ মিশন মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের ছাত্র ও ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের মোঃ আফজাল হোসেন ও হোসনেয়ারা পারভীন পল্লবীর ছেলে।

নিখোঁজ ছাত্রের বাবা মোঃ আফজাল হোসেন জানান, বুধবার সন্ধা ৭.৪৫ এ আমার ছেলে বাড়ির সাথে (৩০০ গজ দুরত্বে) অবস্থিত জান্নাতুল মাওয়া জামে মসজিদে এশার নামাজ পড়তে যায়। নামাজ শেষ হলেও আমার ছেলে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। সকল আত্বীয়স্বজন ও আমার ছেলের মাদ্রাসায় খোঁজ নিয়ে না পেয়ে ২৮ তারিখে ঈশ্বরদী থানায় একটি জিডি কেরেছি। জিডি নং: ১৯৫০।

নিখোঁজ ছাত্রের মা হোসনেয়ারা পারভীন পল্লবী জানান, আমার ছেলে পাবনায় একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। হিফজ করতেছে। ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসেছে। এখন সে নিখোঁজ রয়েছে। আমার ছেলের সন্ধান চাই।

হোসনেয়ারা খাতুন আরো জানান, আমার স্বামীর স্থায়ী ঠিকানা : বিশ্বাস পাড়া, কোলেরকান্দি, সলিমপুর ইউনিয়ন, ঈশ্বরদী, পাবনা। আমার মায়ের সুত্রধরে এখানে প্রায় ১০ বছর যাবত বাড়ি করে বসবাস করছি।

ছেলেটির সন্ধান পেলে নিম্নোক্ত নাম্বারে জানানোর অনুরোধ জানিয়েছেন নিখোঁজ ছাত্রের বাবা ০১৭৯৪৯৩২৫৪৩, ০১৭২৫০৯৬৩১২, ০১৭৯৮৪৫২৬৪৯।

ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি জিডি হয়েছে। তদন্ত চলছে।


আরও খবর