আজঃ বুধবার ১৯ জুন ২০২৪
শিরোনাম

সন্তানদের পড়াশোনায় আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ৩০ মে ২০২৩ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ৩০ মে ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুসলিম উম্মাহকে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে তাদের সন্তানদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার ক্ষেত্রে আরও বেশি বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি বলেন, আমাদের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হবে।

মুসলমানদের যথেষ্ঠ পরিমাণ সম্পদ রয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে বিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির উন্নয়নে যথাযথভাবে এ সম্পদ ব্যবহার করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি-আমরা এটা করতে পারবো। যখনই আমি ওআইসি সদস্য দেশে যাই তাদের আমি এ অনুরোধই করি।

সরকার প্রধান বলেন, ইসলামের স্বর্ণযুগে বিশ্ব সভ্যতা, বিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য, দর্শন, রসায়ন, গণিত, চিকিৎসা, জ্যোতির্বিদ্যা ও ভূগোলসহ জ্ঞানের আরও অনেক শাখায় মুসলিম স্কলারদের ব্যাপক অবদান রয়েছে। যা আমাদের মুসলিমদের ঐতিহ্যের গৌরবময় ইতিহাস গড়েছে। সে যুগের মুসলিম স্কলাররা সংস্কৃতি, জ্ঞান অর্জন, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার এবং সমসাময়িক সাহিত্যে বিশ্বে আধিপত্য বিস্তার করেছিল।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, সেই অবস্থান থেকে বর্তমানে মুসলিম উম্মাহর এ পিছিয়ে থাকার কারণগুলো আমাদের বিশ্লেষণ করা দরকার। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির অভাব, জ্ঞান-বিজ্ঞানের অভাব এবং অন্যান্য অনেক বিষয় মুসলিম উম্মাহর পতনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি এ হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের জন্য আমাদের মুসলিম উম্মাহকে মতভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি মুসলিম দেশগুলোকে বিশেষ করে তাদের নিজস্ব শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও বিজ্ঞান এবং আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হবে। আধুনিক যুগে মুসলিমরা মাত্র তিনটি নোবেল পেয়েছেন। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এটাই এ আধুনিক যুগে গবেষণা, প্রযুক্তি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে মুসলিম উম্মাহর অবদানের প্রকৃত উদাহরণ।

তিনি অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, মুসলিম জাতির এ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে জোরালো প্রচেষ্টা প্রয়োজন-যাতে করে তারা এ ক্ষেত্রে আরও অবদান রাখতে পারেন।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব দ্বারা উপস্থাপিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মুসলিম সম্প্রদায়ের পিছিয়ে পড়া উচিত নয়। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, ইন্টারনেট অফ থিংস, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও অন্যান্য খাতে।

ওআইসির মহাসচিব ও ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) চ্যান্সেলর হিসেন ব্রাহিম তাহার সভাপতিত্বে এতে স্বাগত বক্তব্য দেন আইইউটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।

এছাড়াও এ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি ও বক্তব্য দেন।

সমাবর্তনে ২০২১ এবং ২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের স্নাতক, মাস্টার্স, পিএইচডি এবং ডিপ্লোমা ডিগ্রি প্রদান করা হয়। শিক্ষার্থীদের অসামান্য ফলাফলের জন্য দুই ধরনের স্বর্ণপদক আইইউটি স্বর্ণপদক এবং ওআইসি স্বর্ণপদক দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানের শুরুতে আইইউটির ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তার অর্থায়নে আইইউটির নবনির্মিত নারী হলেরও উদ্বোধন করেন। আইইউটি বাংলাদেশের একটি শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-যা অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি) এর অর্থায়নে পরিচালিত হয়। আইইউটির মূল উদ্দেশ্য হলো ওআইসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মানবসম্পদ উন্নয়নে-বিশেষ করে প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে অবদান রাখা। আইইউটি ওআইসিভূক্ত সদস্য দেশগুলো থেকে সরাসরি অনুদান পায় এবং ছাত্রদের বিনামূল্যে শিক্ষাদান, বোর্ডিং, বাসস্থান ও চিকিৎসা প্রদান করে।


আরও খবর



রাঙামাটিতে বজ্রপাতে নারীসহ ৪ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত:শনিবার ১৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৫ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জেলা প্রতিনিধি

Image

রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে এক নারীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৫ জুন) বিকেলে এসব ঘটনা ঘটে।

লংগদু থানা পুলিশের ওসি হারুনুর রশিদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লংগদু উপজেলার আটারকছড়া ইউনিয়নের করল্যাছড়ি চেয়ারম্যান টিলার মো. ইব্রাহিমের স্ত্রী রিনা বেগম (৩৬) নিজ বাড়িতে বজ্রপাতে মারা যান। এ ছাড়া কাপ্তাই হ্রদে বোট চলমান অবস্থায় বজ্রপাতে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।

রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (লংগদু সার্কেল) মো. আবদুল আউয়াল জানান, লংগদু উপজেলার দুই স্থানে বজ্রপাতে মোট চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। সেখানে পৌঁছানোর পর বিস্তারিত জানা যাবে।


আরও খবর



ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে মসজিদ থেকে চলছে মাইকিং

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
মোঃ রাসেল আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

Image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় একটি কেন্দ্রে ভোটের জন্যে মাইকিং করা হয়েছে। মোগড়া দক্ষিণ জামে মসজিদ থেকে মঙ্গলবার (২১ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দ্রে এসে ভোট দেওয়ার জন্যে মাইকিং করা হয়। ওই সময়ে কেন্দ্রটিতে ভোট পড়ে প্রায় ২০০।

আখাউড়ার প্রায় সব ভোটকেন্দ্রে ভোটারের কোনো সারি দেখা যায়নি। ২ থেকে ১ জন করে এসে ভোট দিয়ে চলে যান। ফলে কেন্দ্র ফাঁকা।

আখাউড়ার সালেহ আহমেদ নূরপুর-রুটি আবদুল হক উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৯টায় ফাঁকা ভোটের সারি চোখে পড়ে। ১ থেকে ২ জন করে ভোটার আসছেন। তবে মহিলা ভোটার উপস্থিতি নেই বললেই চলে। ৪ হাজার ৮৬১ ভোটকেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ২৭৬টি। এরমধ্যে মহিলাদের ৬টি বুথে ভোট পড়েছে ৪৮টি। সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে ৪ নম্বর বুথে ৩টি। ৩ নম্বর বুথে ৫টি।

এদিকে পুরুষ ভোটকেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নূরপুর গ্রামের হাসেম ৭ নম্বর বুথে ভোট দিতে এলে জানানো হয়, তার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। বুথের পোলিং অফিসার সাবিকুন্নাহারের দাবি, হাসেম ভোট দিয়েছেন। কিন্তু হাসেমের হাতে ভোটের কোনো চিহ্ন নেই। সাবিকুন্নাহারের সঙ্গে সুর মিলান আনারসের এজেন্ট সালমান হোসেন ভূঁইয়া। তবে এর প্রতিবাদ করেন ঘোড়া প্রতীকের এজেন্ট আনোয়ার।

কেন্দ্রে দেখা মিলে চেয়ারম্যান প্রার্থী মুরাদ হোসেন ভূঁইয়ার। তিনি জানান, ভালোই চলছে ভোট। তবে কেন্দ্রে প্রবেশের প্রধান গেটে মানুষের জটলা দেখা যায়।

কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার সালেহ আহমেদ জানান, ভোটার কেন আসছে না তাতো বলতে পারব না। ম্যাজিস্ট্রেট বলে গেছেন, এ দিকে যাতে কোনো লোক না থাকে। লাল পতাকা দেওয়া আছে।’

অপরদিকে কসবার শিমরাইল, আকছিনা, শাহপুর, মান্দারপুর কেন্দ্রে ভোটে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়া জীবন।

উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার-২ উপজেলা কসবা ও আখাউড়ায় ভোটগ্রহণ চলছে।


আরও খবর



বড় জয় পেয়ে পদত্যাগ করলেন নরেন্দ্র মোদী

প্রকাশিত:বুধবার ০৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ০৫ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। বুধবার (৫ জুন) রাষ্ট্রপতি তার এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির কাছে নিজের এবং মন্ত্রিসভার পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে নতুন সরকার গঠনের দাবি জানান মোদী।

এদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, যদি জোটের সঙ্গে বোঝাপড়া ঠিক থাকে তাহলে, আগামী শনিবার (৮ জুন) সন্ধ্যায় দিল্লিতে মোদীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। ফলে তৃতীয় বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছেন মোদী।

ভারতের ১৮তম লোকসভা নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি বিজেপি। নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে নরেন্দ্র মোদীর দল। ৪০০ আসনে জয়ের যে লক্ষ্য ছিল তার ধারে কাছেও ঘেষতে পারেনি তারা। এমনকি বিজেপি এককভাবে ৩০০ আসনও পার করতে পারেনি।

৫৪৩ আসনের মধ্যে লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল ২৭২টি আসন। বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এ সংখ্যা পার করেছে। জোটের মধ্যে সবকিছু ঠিক থাকলে কেন্দ্রে সরকার গড়তে চলেছে এনডিএ এবং ফের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন মোদী। ফলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয় বারের জন্য শপথ নিতে চলেছেন তিনি।

এনডিএ মোট ২৯২ আসনে জয়ী হয়েছে। এর মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ২৪০টি আসন। অন্যদিকে ৯৯টি আসনে জয় পেয়েছে প্রধান বিরোধীদল ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস। এই দলের নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট পেয়েছে ২৩৫টি আসন। এক দশক আগে ক্ষমতায় আসা মোদীকে এই প্রথমবার সরকার গঠনের জন্য জোটের অংশীদারদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

জোট এনডিএ সরকার গঠন করলে এবং মোদী প্রধানমন্ত্রী হলে জওহরলাল নেহরুর পর তিনিই হবেন দ্বিতীয় ব্যক্তি, যিনি পর পর তিনবার প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসতে চলেছেন। লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর্যালোচনা করতে বুধবারই বৈঠকে বসেন মোদী। বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে বৈঠক শুরু হয়। এটাই ছিল দ্বিতীয় মোদী সরকারের মন্ত্রিপরিষদের শেষ বৈঠক। সেখানে শনিবার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, মোদীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান প্রথমে আগামী রোববার অর্থাৎ ৯ জুন হতে পারে বলে ঠিক হয়। তবে পরে তা বদলে শনিবার করা হয়।

২০১৯ সালের নির্বাচনে মাত্র ৯৪টি আসনে জিতেছিল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোট। আর কংগ্রেস এককভাবে পেয়েছিল ৫২টি আসন। অর্থাৎ এবারের নির্বাচনে বিস্ময়কর উন্নতি হয়েছে ভারতের প্রাচীনতম এই রাজনৈতিক দলটির।

সে বছরের নির্বাচনে বিজেপি এককভাবে ৩০৩ আসনে জয় পেয়েছিল। আর বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ ৩৫২ আসনে জয় পায়। সে সময় বিজেপির পক্ষে কাজ করেছিল মোদী ম্যাজিক এবং জাতীয়তাবাদী হাওয়া। কিন্তু এবার তার কোনো কিছুই কাজে আসেনি। এবার নির্বাচনে বিজেপি সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পায়নি। সে কারণে এনডিএ জোট শরিকদের ওপরই নির্ভর করতে হবে বিজেপিকে।


আরও খবর



এমপি আনার হত্যাকাণ্ড: খুনের পর চামড়া ছাড়িয়ে টুকরো করা হয় মৃতদেহ

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৪ মে 20২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৪ মে 20২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

চিকিৎসার জন্য ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে গিয়ে খুন হয়েছেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার। তবে তার মৃতদেহ এখনও উদ্ধার করা যায়নি। পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থা এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে এবং সময় যতই গড়াচ্ছে হাড়হিম করা ভয়ঙ্কর সব তথ্য সামনে আসছে।

এদিকে আনারকে হত্যার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এরপরই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। বলা হচ্ছে, এমপি আনারকে হত্যার পর চামড়া ছাড়িয়ে টুকরো টুকরো করা হয় মৃতদেহ।

এরপর সেগুলো প্লাস্টিকের প্যাকেটে করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। বেশ কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে শুক্রবার (২৪ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতায় একটি অ্যাপার্টমেন্টে খুন হওয়ার পর বাংলাদেশের সংসদ সদস্যের মৃতদেহের চামড়া ছাড়ানো হয়। এরপর মৃতদেহ টুকরো টুকরো করে বেশ কয়েকটি প্লাস্টিকের প্যাকেটে করে শহর জুড়ে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয় বলে তদন্তে জানা গেছে।

সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার কলকাতায় আসার দুদিন পর গত ১৪ মে থেকে নিখোঁজ ছিলেন।

এনডিটিভি বলছে, পশ্চিমবঙ্গ সিআইডি (অপরাধ তদন্ত বিভাগ) মুম্বাইতে বসবাসকারী বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী জিহাদ হাওলাদারকে গ্রেপ্তারের পর তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, জিহাদ হাওলাদার কলকাতার নিউ টাউনের একটি অ্যাপার্টমেন্টে বাংলাদেশের সংসদ সদস্যকে হত্যা ও টুকরো টুকরো করার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

মূলত তাকে গ্রেপ্তারের পরই কীভাবে হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনাটি সুচিন্তিতভাবে পরিকল্পিত ও সম্পাদিত হয়েছিল তার চমকপ্রদ বিবরণ বেরিয়ে এসেছে। জিহাদ হাওলাদার জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন আখতারুজ্জামান নামে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক মার্কিন নাগরিক। আখতারুজ্জামানের নির্দেশেই হাওলাদারসহ আরও চার বাংলাদেশি নাগরিক এমপি আনারকে নিউ টাউন অ্যাপার্টমেন্টে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

এর আগে গত বুধবার বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, আনোয়ারুল আজিম আনারকে খুন করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এমপি আনোয়ারুল আজিম আনারকে শেষবার কলকাতা শহরতলির এই অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছিল, পরে পশ্চিমবঙ্গ সিআইডি নিউ টাউনের ওই অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরে রক্তের দাগ খুঁজে পায় এবং বেশ কয়েকটি প্লাস্টিকের ব্যাগও সেখান থেকে উদ্ধার করে। এসব ব্যাগ মরদেহের টুকরো ডাম্প করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল বলে তারা মনে করছেন।

পুলিশ দাবি করেছে, পরিস্থিতিগত প্রমাণে যে ইঙ্গিত মিলেছে তাতে বোঝা যায়, এমপিকে প্রথমে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং তারপরে তার মরদেহকে টুকরো টুকরো করা হয়।

পশ্চিমবঙ্গ সিআইডির এক শীর্ষ কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জানিয়েছেন, জিহাদ হাওলাদার নামে ওই ব্যক্তি বাংলাদেশি নাগরিক এবং তিনি অবৈধভাবে ভারতের মুম্বাইতে বাস করতেন। তার আদি বাসস্থান বাংলাদেশের খুলনা জেলার দিঘলিয়া থানার অন্তর্গত বারাকপুরে।

এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক আখতারুজ্জামান দুমাস আগে জিহাদকে কলকাতায় নিয়ে এসেছিল।

বৃহস্পতিবার জিহাদকে আটক করে একটানা জেরা করা হয়। তারা নিহত আনোয়ারুল আজীমের মরদেহ কলকাতা সংলগ্ন কোন এলাকায় ফেলে দিয়ে থাকতে পারে, সেটা জানার চেষ্টা করা হয়।

নিহত এমপির দেহাংশের খোঁজে সিআইডি বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতা পুলিশ এলাকার অন্তর্গত পোলেরহাট থানার কৃষ্ণবাটি সেতুর কাছে বাগজোলা খালে তল্লাশি চালায়। নিউ টাউন এলাকার যে ফ্ল্যাটে এমপি আনারকে খুন করা হয়, সেই আবাসিক কমপ্লেক্সের সামনে দিয়েই এই খালটি বয়ে গেছে। তবে সেখানে কিছু পাওয়া যায়নি বলেই সিআইডি জানিয়েছে।

সিআইডির ওই শীর্ষ কর্মকর্তা সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীমকে খুনের পরে কীভাবে মরদেহ লোপাট করা হয়েছিল, তার ভয়ঙ্কর বর্ণনা দিয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়া জিহাদ সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, আখতারুজ্জামানের নির্দেশে ওই ফ্ল্যাটে সে এবং আরও চার জন বাংলাদেশি নাগরিক এমপি আনারকে শ্বাসরোধ করে খুন করে।

সিআইডির ওই কর্মকর্তা বলছেন, হত্যা করার পরে মৃতদেহ থেকে চামড়া ছাড়িয়ে শরীরে মাংস আলাদা করে নেয় তারা। শরীরের মাংস এমনভাবে টুকরো করা হয় যাতে তাকে চেনা না যায়। মাংস-খণ্ডগুলো প্ল্যাস্টিকের প্যাকেটে ভরা হয়। হাড়ও ছোট টুকরো করা হয়।’

সিআইডির ওই শীর্ষ কর্মকর্তা বলছেন, এরপরে ফ্ল্যাট থেকে প্যাকেটগুলো বের করে বিভিন্নভাবে কলকাতার নানা জায়গায় ফেলে দেওয়া হয়।’

পুলিশ বলছে, তারা নিহত বাংলাদেশের রাজনীতিকের শরীরের বিভিন্ন অংশের অবস্থান সম্পর্কে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করছে। অবশ্য গ্রেপ্তারকৃত জিহাদ হাওলাদারকে শুক্রবার বারাসাত আদালতে হাজির করা হবে বলে জানা গেছে।


আরও খবর



রাজশাহীতে ১০ আগ্নেয়াস্ত্রসহ শ্বশুরবাড়িতে জামাই গ্রেপ্তার

প্রকাশিত:বুধবার ২৯ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২৯ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রাজশাহী প্রতিনিধি

Image

রাজশাহীর বাঘায় অভিযান চালিয়ে ১০টি দেশীয় ওয়ান শুটারগানসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

বুধবার (২৯ মে) ভোরে বাঘার আলাইপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়ী থেকে আব্দুর রশীদ ব্যাপারী নামে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।

আব্দুর রশিদ ব্যাপারী পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানার পাঁকশী গার্ড ব্যাংক পাড়া এলাকার আইনুল ব্যাপারীর ছেলে।

র‌্যাব-৫ এর জানায়, রশীদ পেশায় প্রাইভেটকার চালক হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভারত সীমান্ত থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে রাজশাহীর বিভিন্ন স্থানসহ তার নিজ এলাকায় বিক্রয় করে আসছিলেন।

বুধবার ভোরে র‌্যাব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে তার শ্বশুরবাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় রশীদকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ঘরে থাকা বড় টিনের বাক্সের ভিতর থেকে ১০টি ওয়ান শুটারগান উদ্ধার করেন র‌্যাব সদস্যরা।

র‌্যাব-৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনিম ফেরদৌস জানান, আব্দুর রশীদ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। এর আগেও একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে অবৈধ মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।


আরও খবর