আজঃ রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

সুরমা-কুশিয়ারাসহ সুনামগঞ্জের ২০টি নদী খনন করা হবে

প্রকাশিত:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ | পত্রিকায় প্রকাশিত
এস এ শফি, সিলেট

Image

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেছেন, সিলেটবাসীকে বন্যার কবল থেকে রক্ষা করতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামীতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যাকবলিত এলাকা কীভাবে সহনীয় পর্যায় নিয়ে আসতে পারি সে লক্ষ্যে আমরা আলোচনা করেছি। সামগ্রিকভাবে সুরমা-কুশিয়ারা নদী খনন করব, সেই সঙ্গে সুনামগেঞ্জর ছোট বড় ২০টি নদী আমরা খনন করব।

শুক্রবার (২১ জুন) সকালে সিলেট নগরীর কিন ব্রিজ এলাকায় সুরমা নদী পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ইতোমধ্যে সুরমা নদীর ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে ১২ কিলোমিটার খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বন্যার পানি কমে গেলে বাকিটুকু খনন করা হবে। এই খনন কাজ করলে নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পানির ধারন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এ লক্ষ্যে আমি স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা দিয়েছি। উজান থেকে যে পরিমাণ পানি আসে তা ধারণ করার ক্ষমতা তৈরি করার জন্য যে সকল নদী ও খাল খনন করার দরকার সিলেটের প্রধান প্রকৌশলীকে তা খনন করার নির্দেশনা দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেটের বন্যার খোঁজখবর রাখছেন। তিনি আমাকে সব সময় সজাগ থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমার আসার আগে এই সিলেটে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রীকেও তিনি পাঠিয়েছেন। সার্বক্ষণিক তিনি সিলেটের খবর রাখছেন এবং সিলেটবাসীকে বন্যার কবল থেকে রক্ষা করার জন্য যা যা করণীয় তা করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

এ সময় সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নিউজ ট্যাগ: সিলেট

আরও খবর



বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই প‌রিবা‌রের তিনজনসহ নিহত ৪

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বগুড়া প্রতিনিধি

Image

বগুড়ার শেরপু‌রে ট্রাক চাপায় সিএন‌জি‌ চালিত অটোরিকশায় থাকা একই পরিবা‌রের তিনজ‌নসহ মোট ৪ জ‌নে‌র মৃত্যু হ‌য়ে‌ছে। এ সময় আহত হ‌য়ে‌ছেন আরো দুই জন।

বৃহস্প‌তিবার (১১ জুলাই) সন্ধ‌্যা সা‌ড়ে ৭টায় উপ‌জেলার শাহব‌ন্দেগী ইউনিয়‌নের ধড়‌মোকাম এলাকার ঢাকা বগুড়া মহাসড়‌কে এ ঘটনা‌টি ঘ‌টে।

নিহতরা হ‌লেন, সিরাগ‌ঞ্জের রায়গঞ্জ উপ‌জেলার সোনাখাড়া ইউনিয়‌নের বান্ধাইল গ্রা‌মের ওলিউজ্জাম‌া‌নের ছে‌লে আরিফুল ইসলাম (৩২), আরিফু‌লের স্ত্রী মৌসুমী আক্তার (২৫) ও ছে‌লে সাইফুল ইসলাম (৪) ও সিএসজি ড্রাইভার নাসিম হোসেন (৩০)। সে সিরাজগঞ্জ জেলার তারাশ থানার সেলুন গ্রামের পরবত শেখের ছেলে। আহতরা হ‌লেন, শেরপু‌রের গোলাম (৫০) ও কাওছার আলী।

জানা গে‌ছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত সিএন‌জি চালিত অটোরিকশা‌টি সিরাজগঞ্জ থে‌কে যাত্রী নি‌য়ে বগুড়ার শেরপু‌রের দিকে যাচ্ছিলো। প‌থিম‌ধ্যে ধড়মোকাম এলাকায় পৌঁছালে ঢাকামুখী একটি দ্রুতগামী ট্রাক তাদেরকে সাম‌নে থে‌কে চাপা দেয়। এতে সিএন‌জি‌টি দুম‌ড়ে মুচ‌ড়ে যায়। প‌রে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সা‌র্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থ‌লে গি‌য়ে তা‌দের উদ্ধা‌রের চেষ্টা ক‌রে। এ সময় সিএন‌জির ভেত‌রে থাকা চালকসহ যাত্রী‌দের ম‌ধ্যে ৪ জন নিহত হন। আহত হন আরও দুইজন।

শেরপুর হাইওয়ে থানার দা‌য়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ (এসআই) আবুল হা‌শেম ব‌লেন, দ‌ুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থ‌লেই চারজন মারা গে‌ছেন। আইনগত প্রক্রিয়া শে‌ষে লাশ নিহত‌দের প‌রিবা‌রের কা‌ছে হস্তান্ত‌র করা হ‌বে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রাক ও সিএন‌জি আটক র‌য়ে‌ছে।


আরও খবর



এনবিআরের প্রথম সচিবের ১৬ কোটি টাকার সম্পদ জব্দের আদেশ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আদালত প্রতিবেদক

Image

আয়কর বিভাগের (ট্যাক্স লিগ্যাল ও এনফোর্সমেন্ট) প্রথম সচিব কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের নামে-বেনামে থাকা সব স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের (অবরুদ্ধ) আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালত এ আদেশ দেন।

দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালসহ ১৪ জনের ৮৭টি ব্যাংক হিসাবে থাকা ছয় কোটি ৯৬ লাখ টাকা ফ্রিজ করেছেন আদালত। পাশাপাশি ফয়সালসহ সাতজনের নামে থাকা ১৫টি সঞ্চয়পত্রে থাকা দুই কোটি ৫৫ লাখ টাকা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। ফয়সালের স্ত্রী আফসানাসহ চারজনের নামে থাকা স্থাবর সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।

এদিন দুদকের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী টিমের সদস্য মোস্তাফিজ অতিরিক্ত কর কমিশনার কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল, তার স্ত্রী আফসানা জেসমিন এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিগণের নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর, বিক্রয় বা মালিকানাসত্ব বদল রোধের জন্য ব্যাংক হিসাব, ব্যাংকে রক্ষিত সঞ্চয়পত্র ও নন ব্যাংকিং ফাইনান্সিয়াল প্রতিষ্ঠানের আমানতসমূহ থেকে অর্থ উত্তোলন অবরুদ্ধ এবং স্থাবর সম্পদ জব্দের আবেদন করেন। পরে দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত ব্যাংক হিসাব, সঞ্চয়পত্র ফ্রিজ ও স্থাবর সম্পদ ক্রোকের আদেশ দেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল তার নিজ নামে ও তার স্ত্রী আফসানা জেসমিনের নামে জলসিড়ি আবাসন প্রকল্পে মোট দুই কোটি ৩৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা পরিশোধ করে ৫ কাঠার প্লট ক্রয় করেছিলেন। অনুসন্ধান চলাকালীন জলসিড়ি আবাসন প্রকল্পের প্লট বিক্রয় করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন হতে অনুসন্ধান শুরুর পর থেকে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ অপরাধলব্ধ সম্পদ বিক্রি করার চেষ্টা করছেন মর্মে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়। অপরাধলব্ধ আয়ের মাধ্যমে অর্জিত বর্ণিত সম্পদ/সম্পত্তির বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তা বেহাত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বিধায় রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অপরাধলব্ধ আয়ের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ মানিলন্ডারিং আইনের ১৪ ধারা মতে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল তার স্ত্রী আফসানা জেসমিন এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিগণের নামে নিম্নবর্ণিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর, বিক্রয় বা মালিকানাসত্ব বদল রোধের নিমিত্ত ব্যাংক হিসাব, ব্যাংকে রক্ষিত সঞ্চয়পত্র ও নন ব্যাংকিং ফাইনান্সিয়াল প্রতিষ্ঠানের আমানতসমূহ থেকে অর্থ উত্তোলন অবরুদ্ধ এবং স্থাবর সম্পদ জব্দ করা একান্ত প্রয়োজন।


আরও খবর
কোটা নিয়ে আপিল বিভাগে শুনানি রোববার

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




কোটা আন্দোলনে নিহত বেরোবি শিক্ষার্থী আবু সাঈদের দাফন সম্পন্ন

প্রকাশিত:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

কোটাবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বোরোবি) অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদের (২৪) জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) সকাল ৯টায় রংপুরে পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের বাবনপুর গ্রামে জাফরপাড়া মাদরাসা মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হন আবু সাঈদ। জানাজায় ইমামতি করেন আবু সাঈদের আত্মীয় মো. সিয়াম মিয়া।

এ সময় মানুষের ঢল নামে। এর আগে মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে আবু সাঈদের মরদেহ তার গ্রামে এসে পৌঁছে। মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। শোক আর কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে যায়। সেখানে অপেক্ষমাণ ছিলেন শত শত মানুষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবু সাঈদের বাবা মকবুল হো‌সেন পেশায় একজন দিনমজুর। অর্থাভাবে কোনো ছেলে-মেয়েকে লেখাপড়া করাতে পারেননি তিনি। আবু সাঈদ ছোট থেকেই ছিল অত্যন্ত মেধাবী। ৯ ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিল সাঈদ। তাকে ঘিরে আকাশসম স্বপ্ন ছিল দরিদ্র মা-বাবার।

আবু সাঈদকে হারিয়ে মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে পরিবারটির। কারণ সাঈদ তার নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া করে এতদূর পর্যন্ত এসেছিলেন। মেধা ও আচরণে গ্রামে সবার প্রিয় ছিল সাঈদ। সেই ছেলেকে হারিয়ে কাঁদতে কাঁদতে শোকে পাথর হয়ে গেছেন মা মনোয়ারা বেগম।

জানা গেছে, ছোট থেকেই আবু সাঈদ ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। তার ব্যবহারে তার প্রতি সবাই মুগ্ধ ছিল। তিনি স্থানীয় জুনুদের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেন। পরে এলাকার খালাশপীর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গোল্ডেন জি‌পিএ-৫ পে‌য়ে এসএসসি পাস করেন। এরপর রংপুর সরকা‌রি কলে‌জ থেকেও এইচএসসিতে জি‌পিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। পরে বেগম রো‌কেয়া‌ বিশ্ববিদ্যাল‌য়ে ইং‌রে‌জি বিভাগে ভ‌র্তি হন আবু সাঈদ। বেঁচে থাকলে আবু সাঈদ জীবনে অনেক বড় হতেন এবং পরিবারসহ এলাকার জন্য যথেষ্ট অবদান রাখতেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শহরের লালবাগ এলাকায় থেকে ক্যাম্পাসের দিকে যান। এরপর ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ ও ছাত্রলীগ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাঁধে। তখন পুলিশ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট, টিয়ার শেলসহ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে। পুলিশ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সংঘর্ষে মিছিলের সম্মুখ থেকে বুক পেতে দেওয়া আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, মঙ্গলবার দুপুরে বেরোবিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিছিলে অংশ নেন আবু সাঈদ। এই আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন তিনি। এ কারণে মিছিলের সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ইউনুস আলী বলেন, এক শিক্ষার্থীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। এ ছাড়া আহত অবস্থায় আরও অনেকেই এসেছে। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে নিহত শিক্ষার্থী হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা গেছেন।


আরও খবর



শাহবাগ মোড়ে ‘বাংলা ব্লকেড’, যান চলাচল বন্ধ

প্রকাশিত:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে সকাল-সন্ধ্যা বাংলা ব্লকেড কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা। এতে প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

বুধবার (১০ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড়ে জড়ো হন। এরপর চারপাশে ব্যারিকেড দিলে এলিফ্যান্ট রোড, ফার্মগেট রোড, টিএসসি এবং মৎসভবন রোডে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় যানজট।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই এ এলাকায় গাড়ি চলাচল কম ছিল। সড়ক বন্ধ করে দেয়ার পর নগরবাসী হেঁটে গন্তেব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।  নিরাপত্তার জন্য শাহবাগ এলাকায় পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য অবস্থান করছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, দাবি পূরণ না হলে সারা বাংলাদেশ অবরোধ করা হবে। আর যদি কোটা রাখতেই হয় তাহলে ৫ শতাংশের বেশি নয়।

নির্বাহী বিভাগ থেকে কমিশন গঠনের মাধ্যমে কোটা পদ্ধতির স্থায়ী ও যৌক্তিক সমাধান করতে হবে জানিয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ আহমেদ সময় সংবাদকে বলেন, কোর্টে অর্ডার স্থগিত হলেও আন্দোলন থেকে সরবে না শিক্ষার্থীরা। আমাদের আন্দোলনে জনসমর্থন থাকায় লোকজন কম বের হয়েছে।

এদিকে, কোটাবিরোধী আন্দোলনে এক দফা দাবিতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর সাইন্সল্যাব মোড় অবরোধ করেন শত শত শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থী। এতে সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে একই দাবিতে টানা সপ্তম দিনের মতো ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে দেশের উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল (একাংশ) এর সাথে ঢাকার যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংবাদ সম্মেলনে সকাল-সন্ধ্যা বাংলা ব্লকড কর্মসূচি ঘোষণা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সর্বাত্মক বাংলা ব্লকেড অনুযায়ী সারা দিন দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থান অবরোধ করা হবে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানের পাশাপাশি হাইওয়ে এবং রেলপথও এ কর্মসূচির আওতায় থাকবে।

তিনি বলেন, আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে আমাদের কর্মসূচি পালন করছি। এ আন্দোলনের ফলে জনসাধারণের যে ভোগান্তি হচ্ছে, তার প্রতি আমরা সংবেদনশীল। কিন্তু এর দায়ভার সরকারকে বহন করতে হবে। কারণ এতদিনের আন্দোলনের পরও তারা আমাদের সঙ্গে  যোগাযোগ কিংবা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেনি। আমরা চূড়ান্ত সমাধান চাই।

এদিকে, রাজধানীর শাহবাগে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কটূক্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করছে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, প্রজন্ম ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির সব সংগঠন।


আরও খবর
মেট্রোরেল চলাচল পুরোপুরি বন্ধ

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




হিজরি নববর্ষ আজ, কী এর ইতিহাস ও তাৎপর্য

প্রকাশিত:সোমবার ০৮ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ০৮ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ধর্ম ও জীবন

Image

বিদায় নিল ১৪৪৫ হিজরি। রোববার (৭ জুলাই) সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে গেল নতুন আরবি বছর; ১৪৪৬ হিজরি। ইসলাম মতে, আসমান, জমিন সৃষ্টির পরপরই বারো মাসে বছর গণনার পদ্ধতি নির্ধারিত হয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গণনায় বারোটি মাস আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। (সুরা তওবা: ৩৬)

পবিত্র কুরআনে আরও ইরশাদ হয়েছে, তিনিই সূর্যকে দীপ্তিময় ও চাঁদকে আলোকময় করেছেন এবং তার জন্য কক্ষপথ নির্দিষ্ট করেছেন, যাতে তোমরা বছর গণনা ও সময়ের হিসাব জানতে পারো। (সুরা ইউনুস: ৫)

প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন সম্প্রদায়, বিভিন্ন জাতি, বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন গণনা শুরু করত। যেমন, হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সম্প্রদায়ের লোকেরা হজরত ইবরাহিম (আ.)-কে আগুনে নিক্ষেপ করার দিন থেকে সন গণনা শুরু করে। পরবর্তী সময়ে বায়তুল্লাহ নির্মাণের পর তা বিলুপ্ত হয়ে নতুন করে আবার সন গণনা শুরু হয়। একসময় এসে এই সন গণনা বিলুপ্ত হয়ে যায়। ইসলামের আগমনের আগে সর্বশেষ আবরাহার হস্তিবাহিনী পবিত্র কাবা ধ্বংস করতে এসে আবাবিল পাখির পাথরবৃষ্টির মাধ্যমে নিজেরাই ধ্বংস হয়ে যায়। তৎকালীন আরবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন গণনা শুরু হয়। কিন্তু বর্তমানে আমরা যে সন গণনা করি, তার সূচনা হয় একটু ভিন্নভাবে।

দ্বিতীয় খলিফা ওমর (রা.)-এর সময়কালে বসরার গভর্নর আবু মুসা আশআরি (রা.) খলিফার কাছে এক পত্রে লেখেন, হে আমিরুল মুমিনিন, আমাদের কাছে বহু পত্র আসে, যাতে তারিখ লেখা থাকে শাবান। কিন্তু তা কি বর্তমান বছরের, নাকি অতীতেরআমরা বুঝতে পারি না। তারপর ওমর (রা.) সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। (ইবনুল আসির, আল-কামিল ফিত-তারিখ: ১/৮)

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, যখন ওমর (রা.) সন প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন, তখন তিনি পরামর্শ সভার আহ্বান করেন। সভায় সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) নবীজি (স.)-এর ইন্তেকালের বছর, তালহা (রা.) নবুয়াতের বছর, আলী (রা.) হিজরতের বছর থেকে বর্ষ গণনার প্রস্তাব দেন। এরপর উপস্থিত সবাই আলী (রা.)-এর প্রস্তাবে ঐকমত্য পোষণ করেন। (আল-আইনি, উমদাতুল কারি: ১৭/৬৬)

সন গণনা শুরুর জন্য নবীজি (সা.)-এর জন্ম, মৃত্যু, নবুয়ত ও হিজরতচারটি প্রস্তাব এসেছিল। বস্তুত জন্ম ও নবুয়াতের সন নিয়ে বিভিন্ন মতামত আছে। তাই অগত্যা হিজরতের মাধ্যমেই সাল গণনা শুরু করা হয়। (ইবনে হাজার আসকালানি, ফাতহুল বারি: ৭/২৬৮)।

এখানে একটা প্রশ্ন থেকে যায়। সেটা হলো, নবী কারিম (স.) হিজরত করেন রবিউল আউয়াল মাসে। তাহলে বছরের প্রথম মাস মহররম হলো কীভাবে? এর উত্তরে কেউ কেউ বলেন, যখন মক্কায় মুশরিকরা মুসলমানদের ওপর নির্যাতন সীমাতিরিক্ত করতে লাগল, তখন আল্লাহ ও নবীর আদেশে সর্বপ্রথম যে দলটি আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন- তখন ছিল মহররম মাস। এজন্য হিজরি সনের প্রথম মাস মহররম।

তবে গ্রহণযোগ্য মতানুযায়ী, নবীজি (স.)-এর হিজরত ২৭ সফর থেকে শুরু করে ১২ রবিউল আউয়াল অবধি সম্পন্ন হয়েছিল। বর্ষ গণনার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় হিজরতের ১৬ বছর পর ১৭তম বছরের ১০ জুমাদাল উলা মাসে। মাস হিসেবে রবিউল আউয়াল কিংবা জুমাদাল উলা কোনোটি থেকে বর্ষ গণনা শুরু হয়নি। সমকালীন আরবে মহররম ছিল প্রথম মাস। পরিস্থিতি বিবেচনায় শৃঙ্খলা রক্ষার্থে তা অপরিবর্তিত রাখা হয়। (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪/৫১৭)

আরেকটি বিষয়, হিজরি সনের সম্পর্ক চাঁদের সঙ্গে। বিশ্বের প্রায় ১৫০ কোটি মুসলমান এই সন ব্যবহার করে থাকেন। বছরে বারো মাস যেভাবে আল্লাহ নির্ধারণ করেছিলেন, তেমনি মাসের দিনক্ষণও আল্লাহ নির্ধারণ করেন। মাস ঊনত্রিশ দিনের হবে নাকি ত্রিশ দিনের হবে, তা মহান আল্লাহ নির্ধারণ করে দেন। এই ফায়সালা হয় প্রতিমাসে নতুন চাঁদ উদিত হওয়ার মাধ্যমে। আল্লাহর ফয়সালার বিরুদ্ধে যাওয়ার সাহস কারো নেই। তাইতো মাসের ঊনত্রিশতম দিনে আমাদের চেয়ে থাকতে হয় চাঁদের দিকে। কবে উদিত হচ্ছে নতুন মাসের চাঁদ। যদি উদিত না হয়, তাহলে এই মাস হবে ত্রিশ দিনে। আর উদিত হলে হবে ঊনত্রিশ দিনে। কিন্তু ইংরেজি মাস কিংবা বাংলা মাসের তারিখ মানুষের নিজেদের তৈরি পদ্ধতিতে হয়।

হিজরি সনের মাসগুলো হলো- মহররম, সফর, রবিউল আউয়াল, রবিউস সানি, জমাদিউল আউয়াল, জমাদিউস সানি, রজব, শাবান, রমজান, শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজ।

৬৩৯ খ্রিস্টাব্দে হিজরি সন প্রবর্তিত হলে তার এক বছরের মধ্যে তা আমাদের এই বাংলাদেশে চলে আসে আরব বণিকদের হাত ধরে। হিজরি সন প্রবর্তনের বছর বা তার পরের বছর এখানে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম প্রচার শুরু হয় এবং হিজরি সনও স্বাভাবিকভাবে আমাদের দেশে প্রচলিত হয়। এই হিজরি সন আমাদের দেশে রাষ্ট্রীয় সন হিসেবেও প্রচলিত হয়েছিল, যা ৫৫৬ বছর স্থায়ী হয়েছিল। এখনও আমাদের দৈনন্দিন জীবনে হিজরি সনের প্রভাবই বেশি। ইসলামের বিভিন্ন বিধিবিধান হিজরি সন, আরবি তারিখ ও চান্দ্রমাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। ধর্মীয় আচারঅনুষ্ঠান, আনন্দ-উৎসবসহ সব ক্ষেত্রেই মুসলিম উম্মাহ হিজরি সনের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কৃষ্টি-সংস্কৃতি ও মুসলিম জীবনে হিজরি সনের গুরুত্ব অপরিসীম।

হিজরি নববর্ষের শিক্ষা হলো ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও মানবতার জন্য ত্যাগ স্বীকার। এই দিনে ব্যক্তি পুরনো বছরের আত্মপর্যালোচনা এবং নতুন বছরের কর্মপরিকল্পনা সাজিয়ে নব উদ্যমে কর্মতৎপর হতে পারে। নববর্ষের শুরুতে শুভেচ্ছা বিনিময় করে পরস্পরের কল্যাণ কামনা করতে পারে। ইসলামে অশুভ ও কুলক্ষণের চর্চা না থাকলেও শুভ ও কল্যাণের ধারণা আছে।

আনাস (রা.) বলেন, নবী (স.) বলেছেন, ইসলামে সংক্রামক ব্যাধি আর কুলক্ষণ বলতে কিছু নেই। তবে ফাল (শুভ লক্ষণ) আমাকে আনন্দিত করে। সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, ফাল কী? তিনি বলেন, উত্তম বাক্য। (সহিহ বুখারি: ৫৭৭৬)

অর্থাৎ সুন্দর শব্দ ও উত্তম বাক্য শুনে মনে মনে কল্যাণের আশা পোষণ করা বৈধ। এজন্য রাসূল (স.) এর জীবনের আদর্শ অনুসরণের জন্য কোরআন-হাদিসের পাশাপাশি বছরব্যাপী সিরাত-সাহিত্য অধ্যয়নের পরিকল্পনা নিতে পারে মুসলিম উম্মাহ। এই নববর্ষ হোক জীবনকে ঢেলে সাজানোর নতুন আত্মপ্রত্যয়।


আরও খবর
রাজধানীতে তাজিয়া মিছিল শুরু

বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪

আজ পবিত্র আশুরা

বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪