আজঃ শনিবার ০২ মার্চ 2০২4
শিরোনাম

টাঙ্গাইল হাসপাতাল চত্বরে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রকাশিত:সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

Image

টাঙ্গাইল ২৫০শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল চত্ত্বরে অবৈধভাবে ব্যক্তিগত একটি বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হাসপাতাল চত্ত্বরে ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রোগীর স্বজনরা ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

মানববন্ধন চলাকালে ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মোখলেসুর রহমান।

তিনি অভিযোগ করেন, হাসপাতালের প্রবেশমুখে এ ধরনের একটি বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোন অনুমতি নেওয়া হয়নি। সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এ ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এ ভবন নির্মাণে হাসপাতালে প্রবেশের রাস্তাটি চিরতরে সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। ফলে রোগী ও তাদের স্বজনদের যাতায়াত এবং হাসপাতালে কোন অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলে তা নিয়ন্ত্রণেও সমস্যা হবে। এছাড়া বাণিজ্যিক এ ভবনটি দালালদের আখরায় পরিণত হবে।

প্রসঙ্গত, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বাঁধা উপেক্ষা করে কমিটির সদস্যরা গত ১৩ নভেম্বর সভায় আবেদনকারী শিলা আনছারীর নামে ৭৫০ বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ দেয়। বরাদ্দের চুক্তিপত্রে দেখা যায়, বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকার মধ্যে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে নিতে বলা হয়েছে। ১২ বছর মেয়াদী ওই বরাদ্দ চুক্তিতে মাসিক ভাড়া ধরা হয়েছে ২০ হাজার টাকা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বরাদ্দ দিতে সম্মতি না দিলেও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়ম বহির্ভূতভাবে হাসপাতাল চত্বরে বাণিজ্যিক ভবন নির্মানের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেওয়ায় সংশ্লিষ্টরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠছে। অবিলম্বে অবৈধ বাণিজ্যিক ভবন অপসারণ করা না হলে বৃহত্তর কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে।

নিউজ ট্যাগ: টাঙ্গাইল

আরও খবর



রমজানে পুরো মাস বন্ধ থাকবে মাদরাসা

প্রকাশিত:সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

আসন্ন রমজানে স্কুল-কলেজ ১৫ দিন ও প্রাথমিক স্কুল ১০ দিন খোলা থাকলেও পুরো মাস বন্ধ থাকবে মাদরাসা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদরাসা ও কারিগরি বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, পুরো রমজান মাস বন্ধ থাকবে সরকারি ও বেসরকারি (স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল) মাদরাসা। মন্ত্রণালয়ের মাদরাসা ও কারিগরি বিভাগের উপসচিব হাসিনা আক্তার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ২০২৪ শিক্ষাবর্ষের সংশোধিত ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জি প্রকাশ করা হয়।

মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শাহীনুর ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়নের তাগিদ দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, আসন্ন রমজানে সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং সরকারি ও বেসরকারি কলেজগুলোতেও শ্রেণি কার্যক্রম সচল রাখার নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। তবে পুরো রমজান ছুটি পাচ্ছেন মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

প্রজ্ঞাপনে ৭ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৩০ দিন ছুটির কথা উল্লেখ রয়েছে। সে অনুযায়ী, পুরো রমজান মাস ছুটি পাচ্ছে মাদরাসা শিক্ষার্থীরা।

এর আগে বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় ছাড়াও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, আসন্ন রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আংশিক খোলা থাকবে। এরমধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল-কলেজ ও সরকারি-বেসরকারি উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের কলেজগুলো রমজানের প্রথম ১৫ দিন এবং প্রাথমিক পর্যায়ের স্কুল রমজানের প্রথম ১০ দিন খোলা থাকবে।


আরও খবর
জাবির ‘ডি’ ইউনিটের ফল প্রকাশ

বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




১০ দেশের রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফেরার নির্দেশ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

বিদেশে দ্বায়িত্বরত ১০ রাষ্ট্রদূতকে পৃথক বদলির আদেশ জারি করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অবসরে যাওয়া বা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাদের দেশে ফিরতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পৃথকভাবে রাষ্ট্রদূতদের কাছে পাঠানো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়, আপনাকে সদর দপ্তর, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রদূতদের তাদের বর্তমান দ্বায়িত্বভার অবিলম্বে ছেড়ে ঢাকায় ফিরে আসার অনুরোধ জানিয়েছে।

যেসব দেশের দূতদের বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে- জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার খলিলুর রহমান, ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মনিরুল ইসলাম, পোল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুলতানা লায়লা হোসেন, কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. আশিকুজ্জামান, জেনেভাস্থ জাতিসংঘ কার্যালয়সহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ সুফিউর রহমান, জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহমদ, থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আবদুল হাই, গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমেদ ও ইরাকে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ফজলুল বারী।


আরও খবর
শপথ নিলেন নতুন ৭ প্রতিমন্ত্রী

শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪




সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ মুলোৎপাটনই আজকের দিনের অঙ্গীকার: ওবায়দুল কাদের

প্রকাশিত:বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের বিশ্বাসের বাতিঘর। বিএনপির নেতৃত্বে সারাদেশে সাম্প্রদায়িকতার যে বিষবৃক্ষ ছড়িয়ে পড়েছে, তার মুলোৎপাটন করাই আজকের দিনের অঙ্গীকার।’

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

কাদের বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি হচ্ছে স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তি। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে একুশে ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল। পরে স্বাধিকার সংগ্রামে বিভিন্ন মাইলফলক অতিক্রম করে একাত্তরের স্বত্ব জাতীয়তাবাদের দিকনির্দেশনা আসে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে। আমরা প্রথমে ভাষা যোদ্ধা। অতঃপর একাত্তরে আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধা।’

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যে বাংলাদেশের বিজয় হয়েছে, সেই বাংলাদেশের উন্নয়ন সমৃদ্ধি আজকে সারা বিশ্বে বিস্ময়ের।


আরও খবর
শপথ নিলেন নতুন ৭ প্রতিমন্ত্রী

শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪




বগুড়ায় যমুনার গতিপথ পরিবর্তন, হারিয়ে যাচ্ছে উপনদী

প্রকাশিত:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বগুড়া প্রতিনিধি

Image

যমুনার গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে বগুড়ায়। ফলত ইতিহাস থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে সুখদহ নদী। জেলার প্রধান প্রধান নদীগুলো দিন দিন মরে যেতে বসেছে। পানি প্রবাহ কমে যাওয়া, দূষণ, পলি পড়ে ভরাট, দীর্ঘদিন খনন না হওয়া, বাঁধ দিয়ে চাষাবাদ করা, জনবসতির ড্রেনের পানি নদীতে ফেলা, নদীর দুই পাড় ইচ্ছেমত দখলের কারণে নদীগুলো মরে যাচ্ছে। এরই মধ্যে যমুনা, বাঙ্গালী ও সুখদহসহ অন্যান্য উপনদীগুলো ধীরে ধীরে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করেছে।

বিভিন্ন সূত্র বিশ্লেষণে গেছে, বর্ষাকালে নদী ভরাট থাকায় গতিপথ তেমন বোঝা না গেলেও শুকনা মৌসুমে মূল প্রবাহ থাকছে না যমুনায়। সারিয়াকান্দির কালিতলা গ্রোয়েন বাঁধ থেকে পূর্ব দিকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে মূল প্রবাহ সরে যাওয়ায় নতুন নতুন চর জাগতে শুরু করেছে নদীটিতে। শুকনো মৌসুমে পানি কমে যাওয়ায় যমুনা চরের মানুষ পায়ে হেঁটে পারাপার হচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও হাঁটু পানি দিয়ে পারাপার হচ্ছে এলাকাবাসী। কেউ কেউ যমুনাতে জেগে ওঠা চরে বিভিন্ন ফসল ফলাচ্ছে। চাষাবাদ হচ্ছে মরিচ, মাশকলাই, ভূট্টা, কাউন, পেঁয়াজ ও বোরো ধান।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে যমুনা নদীর অবস্থান ছিল বাম তীর ঘেঁষে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে নদী ভাঙতে ভাঙতে ডান তীর ঘেঁষে অবস্থান নেয়। ডান তীরে নদী শাসনের কাজ হওয়ায় বর্তমানে নদী আবারও বাম তীর ঘেঁষে অবস্থান করছে। ১৯৮৫ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত গত আড়াই দশকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার বিভিন্ন অংশে যমুনা নদীর ডান তীরে প্রায় ৫৬০ মিটার ভেঙেছে। ২০১০ সালের পর থেকে সরকারিভাবে নদী শাসনের কাজ হওয়ায় এ এলাকা বন্যায় বড় আকারে আর ভাঙেনি।

সারিয়াকান্দির কালিতলা গ্রোয়েন বাঁধ থেকে পূর্বে দিকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নদী বেশিরভাগ সময় অবস্থান করছে। কয়েক বছর আগে নদী সবসময় কালিতলা গ্রোয়েন বাঁধের সঙ্গে থাকায় নদীটি পূর্ব দিকে কিছুটা সরে যাওয়ার কারণে সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা নদীর ডান তীরের সামনে চালুয়াবাড়ী, হাটশেরপুর, কাজলা এবং সারিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নে বিশালাকার চরাভূমির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এইসব এলাকা দিয়ে বয়ে যাওয়া একসময়ের প্রখর স্রোতধারার প্রমত্তা যমুনা নদী এখন তার গতিপথ পরিবর্তন করে বাম তীর ঘেঁষে জামালপুরের দিকে পুনরায় বাঁক নিয়েছে।

এদিকে বর্ষার ভরা যৌবনে দুই কূল উপচিয়ে দাপিয়ে চলা যমুনা নদী ফাল্গুনে শুকিয়ে যাওয়ায় হেঁটেই পার হচ্ছে স্থানীয়রা। নিয়মিত ড্রেজিং না করায় নাব্যতা সংকটে নদীটি। উজান থেকে আসা পলিতে নদীর বুকে জেগে উঠেছে ছোটো বড় অসংখ্য চর। ফলে নৌকা আটকে যাচ্ছে ডুবোচরে, চলাচল কমে বন্ধ হয়েছে বেশ কয়েকটি নৌরুট। এতে বিপাকে নদীপথে যাতায়াতকারী হাজারো যাত্রী ও চরাঞ্চলের মানুষেরা। সারিয়াকান্দি ও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার মানুষ যমুনা নদীর কালীতলা ঘাট থেকে শ্যালো মেশিন চালিত নৌকায় জামালপুর ও খেয়া নৌকায় বাগবের, গজারিয়া, চরবাটিয়া, শালুখা কুড়িপাড়া, পাখিমারাসহ বিভিন্ন চরে যাতায়াত করেন। কিন্তু যমুনা নদীতে নাব্যতা সংকট দেখা দেওয়ায় ঘাটের দক্ষিণে চর জেগে ওঠেছে। নদীর বুকেই হচ্ছে চাষাবাদ। নদীর মাঝখান এখন সরু খালের মতো। কোথাও হাঁটুপানি, হেঁটেই পার হওয়া যায় এপাড় থেকে ওপাড়। নদীর তীরে পড়ে আছে নৌকা। আবার কিছু নৌকা চলাচল করলেও তা গন্তব্যে যেতে দ্বিগুণ সময় লাগছে। এতে একদিকে যেমন সময় অপচয় হচ্ছে, তেমনি বাড়তি ভাড়া দিয়ে তাদের চলাচল করতে হচ্ছে। কৃষিপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য পরিবহণে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে।

সারিয়াকান্দি পৌর এলাকার বাসিন্দা রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী আপেল মাহমুদ লাভলু জানান, যমুনা নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে নদীপথে নৌকা নিয়ে যেতে অনেক সময় লাগছে। বর্ষাকালে নদী ভরাট থাকায় গতিপথ তেমন বোঝা না গেলেও শুকনা মৌসুমে নদীর মূল প্রবাহ থাকছে সারিয়াকান্দির কালিতলা গ্রোয়েন বাঁধ থেকে পূর্বে দিকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে। মূল প্রবাহ সরে যাওয়ায় নতুন নতুন চর জাগতে শুরু করেছে। বর্ষাকালে পানি দেখা গেলেও সারা বছর আর পানি থাকে না। এক সময় জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলায় নদীর পানি কৃষি কাজে লাগলেও এখন সেই নদীতে চর জেগেছে।

এছাড়া ইতিহাস থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে সুখদহ নদী। সুখদহ নদীতে এখন আর মাছ দেখা যায় না। ময়লা আবর্জনা জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সুযোগ সন্ধানীরা ধান চাষ করে আবার কেউ কেউ বিভিন্ন এলাকায় পাড় দখল করে রেখেছে। নদীটি প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ হলেও খালে পরিণত হয়েছে। জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলাটি যমুনা, বাঙালী, ইছামতি এবং সুখদহ নদী বিধৌত। তিনটি নদীর মধ্যে যমুনা নদী ভরা মৌসুমে প্রবল বন্যাসহ তার খরস্রোতা রূপ ধারণ করে। কিন্তু বাঙালী, ইছামতি এবং সুখদহ নদীতে শুধুমাত্র বর্ষার মৌসুমে পানি থাকে। আর এই পানি দিয়ে স্থানীয়রা একসময় কৃষিকাজ করতো।

জানা যায়, যমুনা নদী ৪০ বছর আগে বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি সদর, ধুনট ও সোনাতলা উপজেলা থেকে ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে ময়মনসিংহ জেলার পশ্চিম সীমানা দিয়ে প্রবাহিত হতো। বর্তমানে সারিয়াকান্দি শহর হতে যমুনা নদীর দূরত্ব মাত্র কয়েকশ মিটার। ক্ষ্যাপাটে স্বভাবের বৈচিত্র্যময় এ নদীটির ইতিহাস সুপ্রাচীন। ভুতাত্ত্বিকদের ধারণা হিমালয় পর্বতমালা উত্থানের পূর্বে যমুনা নদীর আদি নাম ছিল ব্রহ্মপুত্র। ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের কৈলাশ শৃঙ্গের একটি হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়ে চীন, তিব্বত, ভুটান ও ভারতের আসামের মধ্য দিয়ে কুড়িগ্রামের নুন খাওয়া নামকস্থানে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। নদীটি বগুড়ার শেষ সীমানা শেরপুর ও ধুনট উপজেলার মধ্য দিয়ে রাজবাড়ি গিয়ে গোয়ালন্দঘাটে পদ্মার সাথে মিশেছে। আন্তর্জাতিক নদী গবেষণা সংস্থার তথ্যমতে, যমুনা নদী এককালে রংপুর, বগুড়া, পাবনা ও ময়মনসিংহ জেলার পশ্চিম সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

১৯৭৭ সালে শুরু হয় নদী শাসনের কাজ। ১৯৮৬ সালে সারিয়াকান্দির প্রধান পয়েন্টে কালিতলায় একটি গ্রোয়েন বাঁধ নির্মিত হয়। এরপর ১৯৯৬ সাল হতে শুরু করে ২০০০ সাল পর্যন্ত ৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে গ্রোয়েন বাঁধটির পুনঃনির্মাণ কাজ শেষ করে দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলা হয়। সর্বমোট ২২৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটির নামকরণ করা হয় যমুনা এবং বাঙালি নদী একীভূতকরণ রোধ। প্রকল্পের আওতায় সদর ইউনিয়নের দীঘলকান্দি এবং কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের দেবডাঙায় দুইটি বড় হার্ডপয়েন্ট নির্মাণ করা হয়। এছাড়া ধুনট সীমানা হতে সারিয়াকান্দির হাটশেরপুর ইউনিয়নের হাসনাপাড়া বাজার পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৮ সাল হতে ২০১৮ সাল পর্যন্ত যমুনা নদীর ডান তীর সংরক্ষণের কাজ করা হয়। এর মধ্যে ১৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৬ সালে কালিতলা গ্রোয়েন বাঁধ হতে পারতিতপরল গ্রাম পর্যন্ত ২ হাজার মিটার এবং দেবডাঙা পয়েন্টে ১ হাজার ২০০ মিটার তীর সংরক্ষণ কাজ হয়েছে। ২০০৬ সালের পর পারতিতপরল গ্রাম হতে হাসনাপাড়া পর্যন্ত তীর সংরক্ষণ কাজ হয়। ২০১৬ সালে রৌহাদহ হতে মথুরাপাড়া পর্যন্ত ৬ কিঃ মিঃ তীর সংরক্ষণ কাজ হয় ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে। ফলে উজান থেকে বয়ে আসা পলিজমে উপজেলার চালুয়াবাড়ী, হাটশেরপুর, কাজলা, কর্নিবাড়ী এবং সারিয়াকান্দি সদরের মৌজায় বিশালাকার আয়তনের চরাভূমির সৃষ্টি হয়েছে। নদী শাসনের কাজগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য যমুনা নদী তার গতিপথ পরিবর্তন করে এখন বাম তীর ঘেঁষে জামালপুরের সীমানার কাছাকাছি অবস্থান করছে।

সারিয়াকান্দি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাফি মন্ডল জানান, যমুনা নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মৌজার জমিগুলো পুনরায় জেগে উঠেছে। এসব জমিগুলোতে নানা ধরনের কৃষি ফসল উৎপাদিত হচ্ছে। এছাড়াও সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটফুলবারী এলাকা দিয়ে বয়ে যাওয়া সুখদহ নদীটি খনন করে দিলে এর নাব্যতা পুনরায় ফিরে পাবে। নদীপথে পুনরায় যোগাযোগ শুরু হবে এবং কৃষি ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নাজমুল হক জানান, ১৯৮৫ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত গত আড়াই দশকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সারিয়াকান্দি এলাকায় যমুনা নদীর ডানতীরে প্রায় ৫৬০ মিটার ভেঙেছে। ২০১০ সালের পর থেকে সরকারিভাবে নদী শাসনের কাজ হওয়ায় এই এলাকায় বন্যায় বড় আকারে ভাঙেনি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে নদী ভাঙন রোধে কাজ করা হয়েছে। ভাঙন কবলিত এলাকায় ব্লক ও বালি ভর্তি বস্তা ফেলা হয়েছে। বন্যায় যেন বড় ধরনের ক্ষতি না হয় সেজন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতি বছর উজান থেকে হাজার হাজার টন পলি নদীর তলদেশে জমা হয়ে নদীর গভীরতা কমে যাচ্ছে। যে কারণে নদীগুলো মরে যাচ্ছে।


আরও খবর



নারকেল দুধে রান্না পোলাওয়ের সঙ্গে দুই পদ

প্রকাশিত:বুধবার ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জীবন ধারা ডেস্ক

Image

পিঠাপুলি তৈরির সময় যেহেতু এখনো ফুরিয়ে যায়নি, তাই বাড়িতে দু-একটা নারকেল থাকতেই পারে। নারকেলের দুধ দিয়ে রেঁধে ফেলতে পারেন ভিন্ন স্বাদের পোলাও। সঙ্গে থাকতে পারে চিংড়ি ভুনা কিংবা চিকেন রোস্ট। রেসিপি দিয়েছেন সিম্পল কুকিং বাই নাতাশার স্বত্বাধিকারী এবং টনি খান হোটেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ প্রশিক্ষক নাদিয়া নাতাশা।

নারকেল দুধে পোলাও

উপকরণ

পোলাওয়ের চাল ২ কাপ, নারকেল দুধ ২ কাপ, ঘি আধা কাপ, বেরেস্তা আধা কাপ, ২ টেবিল চামচ গরমমসলা গুঁড়া, তেজপাতা ২টি, লবণ প্রয়োজনমতো ।

প্রণালি

পোলাওয়ের চাল ১০ মিনিট ভিজিয়ে ছেঁকে রাখতে হবে। নারকেল কুরিয়ে ২ কাপ গরম পানি দিয়ে কচলিয়ে দুধ বের করে নিন। ননস্টিক হাঁড়িতে নারকেলের দুধ, গরম মসলা ও লবণ দিয়ে ফুটিয়ে চাল দিয়ে নেড়েচেড়ে ঢেকে দিন। চাল ও পানি যখন সমান হবে তখন ঘি দিয়ে তাওয়ার ওপর দমে বসাতে হবে। চাল ফুটে গেলে বেরেস্তা ছিটিয়ে ১০ মিনিট দমে রাখুন। এবার নামিয়ে গরম-গরম পরিবেশন করুন।

চিংড়ি ভুনা 

উপকরণ

মাঝারি চিংড়ি ১৫টি, কাঁচামরিচ ৬টি, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, পেঁয়াজ বাটা ২ চাচামচ, আদারসুন বাটা ১ চাচামচ, মরিচ গুঁড়া দেড় চাচামচ, হলুদ গুঁড়া আধা চাচামচ, জিরা গুঁড়া ১ চাচামচ, তেল আধা কাপ, লবণ ১ চাচামচ, পানি আধা কাপ।

প্রণালি

চিংড়ি মাছ হলুদ ও লবণ মাখিয়ে আগেই একটু তেলে ভেজে নিন। কড়াইয়ে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে কিছুক্ষণ ভাজুন। এরপর সব মসলা দিয়ে কষান। মসলা কষানো হলে মাছগুলো দিয়ে কিছুক্ষণ কষিয়ে পানি দিয়ে দিন। তেল উঠলে নামিয়ে নিন।

চিকেন রোস্ট

উপকরণ

মুরগির লেগ পিস বা রান ৬ থেকে ৮টি, টক দই আধা কাপ, পেঁয়াজ বাটা ১ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ বাটা ১ চাচামচ, আদা ২ চাচামচ, রসুন দেড় চাচামচ, ধনে গুঁড়া আধা চাচামচ, জিরা গুঁড়া ১ চাচামচ, বেরেস্তার জন্য কাটা পেঁয়াজ ১ কাপ, কাঁচা মরিচ ৫ থেকে ৬টি, বাদাম বাটা ১ টেবিল চামচ, গোল মরিচ গুঁড়া সামান্য, আলু বোখারা ২টা, জায়ফল ও জয়ত্রী সামান্য, দারুচিনি ২ থেকে ৩ টুকরা, সাদা এলাচি ৪টা, জর্দার রং সামান্য, লবণ পরিমাণ মতো, চিনি ১ চাচামচ, ঘি ১ কাপ, মাওয়া ১ টেবিল চামচ, লেবুর রস ১ চাচামচ, কিশমিশ অল্প।

প্রণালি

প্রথমে মুরগির পিসগুলো ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে পানি ঝরিয়ে রেখে দিতে হবে। এরপর ধুয়ে রাখা মুরগির পিসগুলোর সঙ্গে টক দই, আদা, রসুন, ধনে, জিরা, লেবুর রস ও লবণ দিয়ে ভালোভাবে মাখিয়ে ঘণ্টা খানিক ঢেকে রেখে দিতে হবে। এবার একটি পাত্রে তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজ দিয়ে বেরেস্তা করে তুলে রেখে দিতে হবে। অন্য একটি পাত্রে ঘি গরম করে তাতে মুরগির পিসগুলো মাখানো মসলা থেকে ঝেড়ে তুলে মাঝারি আঁচে অল্প ভেজে নিতে হবে। ভাজা হয়ে গেলে এর সঙ্গে পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ বাটা, বাটিতে থাকা মাখানো মসলাগুলো দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে ঢেকে দিতে হবে। এবার পেঁয়াজ বেরেস্তা, চিনি, আলুবোখারা, কিশমিশ, মাওয়া ও কাঁচা মরিচ বাদে বাকি সব মসলা দিয়ে নেড়ে নিয়ে অল্প আঁচে রান্না করতে হবে। প্রয়োজনে ১ কাপ গরম পানি দিতে হবে। মাংস সেদ্ধ হয়ে আসলে বেরেস্তা, চিনি, আলু বোখারা, কিশমিশ ও আস্ত কাঁচা মরিচ দিয়ে আরও ২০ মিনিট অল্প আঁচে দমে রাখুন। রোস্টের পানি শুকিয়ে তেল ওপরে উঠে এলে মাওয়া দিয়ে নেড়েচেড়ে নামিয়ে ফেলুন।


আরও খবর
২৯ ফেব্রুয়ারি: ইতিহাসের এই দিনে

বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪