আজঃ মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

ঠাকুরগাঁওয়ে ফলন ভালো হলেও লিচুর গায়ে তাপের ক্ষত

প্রকাশিত:রবিবার ২১ মে ২০২৩ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ মে ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
রেদওয়ানুল হক মিলন, ঠাকুরগাঁও

Image

উত্তরের কৃষিপ্রধান জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের মাটি প্রায় সব রকমের ফল উৎপাদনের জন্য উপযোগী। এখানকার আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ হওয়ায় মৌসুমী ফল ছাড়াও অন্যান্য ফলও হয় বেশ ভালো। তবে অনাবৃষ্টি ও তীব্র তাপদাহে আবারো ক্ষতির মুখে পড়ছে জেলার লিচু বাগানি ও ব্যবসায়ীরা। তবে কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী গত বছরে জেলার ২শ ৫৬ টি বাগানে ৮শ ৫ হেক্টর জমিতে ৫হাজার ৯শ ৯৮ টন লিচু উৎপাদন হয়েছিল।

গত বছর দফায় দফায় শিলা বৃষ্টির একটা বড় প্রভাব পড়েছিলো লিচুর ওপরে। লিচু ঝড়ে পড়ায় স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছিলো বাগান ব্যবসায়ীদের। এ বছর জেলার লিচু বাগানগুলিতে ফলন ভালো এসেছে। গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে লাভের স্বপ্ন দেখেছিল বাগান মালিক ও লিচু ব্যবসায়ীরা। কিন্তু তীব্র তাপদাহের কারণে স্বপ্নের লিচুতে দেখা দিয়েছে তাপের ক্ষত। এ ক্ষত লোকসানের শঙ্কা বাড়াচ্ছে আবারও।

সদর উপজেলার মুন্সিরহাট বাগান বাড়ি, আকচা মুন্সিপাড়া, হরিহরপুর, কালাপাহার, নারগুন কহরপাড়া সহ বেশ কয়েকটি স্থানে বড় বাগান ঘুরে দেখা গেছে লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে লিচুর আকৃতি এখনো অনেক ছোট। এরই মধ্যে তীব্র রোদের কারণে অধিকাংশ লিচুর চামড়া পুড়ে গেছে। কিছু লিচুর আকৃতি বড় হতেই সে পোড়া চামড়া ফেটে যাচ্ছে। ফলে এবারেও লিচুতে বিপর্যয় ও লোকসানের শঙ্কা করছেন লিচু চাষী ও বাগান লিজ নেয়া ব্যবসায়ীরা।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বাগান ব্যবসায়ী নয়ন জানান, গত বছর শিলা বৃষ্টিতে তার সব লিচু ঝড়ে পড়েছিলো। তিনটি বাগান থেকে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা লোকসান হয়েছিল তার। এবছর বাগান গুলোতে ফলন ভালো হয়েছে। তবে লিচুর আকৃতি এখনো বড় হয়নি। ঝড়বৃষ্টির কবলে না পড়লেও তীব্র রোদে লিচুর একপাশের চমড়া পুড়ে গেছে। এখন লিচু যত বড় হচ্ছে লিচু ফেঁটে যাচ্ছে। এ বছর বাগান গুলো থেকে ২০ লক্ষ টাকার লিচু বিক্রি করে ঋণ পরিশোধের স্বপ্ন থাকলেও এখন তিনি প্রায় ৫ থেতে ৭ লক্ষ টাকা লোকসানের শঙ্কা করছেন।

আকচা মুন্সিপাড়ার একটি লিচু বাগানে সেচ দিতে দেখা গেল বাগান চাষী খায়রুল ইসলামকে। তিনি জানালেন, তীব্র রোদের কারণে গাছ পানি পাচ্ছেনা। এদিকে লিচুর চামড়া পুড়ে যাচ্ছে ও ফেটে যাচ্ছে৷ এমন হতে থাকলর ফলন থাকবে ঠিক কিন্তু দাগের কারনে লিচুর দাম পাওয়া যাবেনা। ফলে লোকসান হবে। তাই সেচের মাধ্যমে নিজের স্বপ্ন বাঁচানোর চেষ্টা করছেন তিনি।

গত কয়েক বছর ধরে লিচুর বাগানে লোকসান গুণেছেন অনেক বাগান চাষী তারই মধ্যে একজন আজাদ আলী। এ বছর লিচুর বাগান কেটে ফেলেছেন তিনি। তিনি বলেন, লিচু লাভজনক ফসল হলেও অনেক ঝুঁকি আছে। প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা, ফলন ও বাজার সব কিছুর সঙ্গে লড়াই করে এ ব্যবসা করতে হয়। কখনো লোকসান হলে কোন প্রনোদনা পাইনি। তাই লিচুর বাগান কেটে অন্য চাষাবাদ শুরু করছি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ বছর লিচুর আবাদ ও বাগান সংখ্যার হিসাব জানাতে পারেনি। সেই সাথে কি পরিমাণ লিচু তীব্র তাপদাহে ক্ষতি হতে পারে তারও ধারণা দিতে পারেনি। তবে তারা বলছে উৎপাদনের হিসেব থেকে এর সঠিক পরিসংখ্যান জানাতে পারবেন তারা। এখনো জেলাতে গাছ থেকে লিচু সংগ্রহের কাজ শুরু হয়নি। কিন্তু তারা জানিয়েছেন এখন পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে অনেক বড় বড় বাগান কর্তন করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, দুই কারণে লিচু ফেটে যেতে পারে। প্রথম কারণ বোরন সারের ব্যবহার ঠিক মতো না হলে আর অনেক দিন পরে বৃষ্টি হলে। তাছাড়াও এবার রোদে তাপমাত্রাটা অনেক বেশি। যে কারণে লিচুর গায়ে দাগ পড়েছে। তবে আমরা চাষীদের নিয়মিত সেচ ও সারের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে পরামর্শ দিচ্ছি।

নিউজ ট্যাগ: ঠাকুরগাঁও

আরও খবর



বাগেরহাটে গলায় ফাঁস দিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বাগেরহাট প্রতিনিধি

Image

বাগেরহাটে গলায় ফাঁস দিয়ে মিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে বাগেরহাট সদর উপজেলার চিতলী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, চিতলী মৃত আঃ আজিজ শেখের ছেলে আবু দাউদ শেখ (৪৯) ও তার স্ত্রী তোহেলি সুলতানা লাকি (৪৫)। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। নিহত আবু দাউদ শেখ স্থানীয় বাজারে ইট বালি ব্যবসা করতেন।

নিহতদের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস লামিয়া (১৭) জানান, তার পিতা মাতার মধ্যে কোন কলহ ছিলনা। গত রাত ৩ টা পর্যন্ত সে তার পিতা-মাতা ও ভাই একই রুমে গল্প করেছে। এরপর তার পিতা মাতা তাদের রুমে ঘুমাতে যা চলে যায়। সকালে তার ভাইয়ের পরীক্ষা থাকায় ঘুম থেকে উঠে পিতা-মাতার রুমের সামনে যায়।

নিহতদের ছেলে আল কাইয়ুম সিয়াম (১৩) জানায়, সকালে ঘুম থেকে উঠে তার বাবা-মায়ের রুমের সামনে গিয়ে তাদের দেখতে পান। এরপর তার বাবা-মা আবার ঘুমাতে যায়। কিছু সময় পর বাসার ছাদে কাজ করা মিস্ত্রিরা এসে কলিং বেল চাপতে থাকে। সে মনে করেছিল তার বাবা-মা উঠে মিস্ত্রিদের দরজা খুলে দেবে। কিন্তু দরজা না খোলায় সে তার বাবা মার দরজায় এসে ধাক্কা দেয়। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পর দরজা না খোলায় পাশের জানালার ফাঁক দিয়ে তার বাবাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে তার মায়ের গলায় ফাঁস লাগানো চিহ্নসহ মৃতদেহ এবং বাবাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে এলাকাবাসী এসে তার বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসরতায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুর রহমান জানান, স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

নিউজ ট্যাগ: বাগেরহাট

আরও খবর



পদ্মা সেতুর নদী শাসনে ব্যয় বাড়ল আরও ২৪৯ কোটি

প্রকাশিত:শনিবার ২৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৯ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

Image

পদ্মা বহুমুখী সেতুর নদী শাসন ব্যয় আরও একদফা বাড়ানো হয়েছে। ফলে নতুন করে এ খাতে ব্যয় ২৪৯ কোটি ৪২ লাখ ৫২ হাজার ৩৪৯ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে পদ্মা সেতুর নদী শাসনের ব্যয় বেড়ে দাঁড়াল ৯ হাজার ৮৩৪ কোটি ৭৭ লাখ ৪৫ হাজার ৩৪৯ টাকা।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নতুন করে ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব মো. মাহমুদুল হোসাইন খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের মেয়াদ আগামীকাল (৩০ জুন) শেষ হচ্ছে। তার মানে আগামীকাল প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। নদী শাসনের কাজ করছে চীনের সিনোহাইড্রো কর্পোরেশন। তাদের কাজ সমাপ্তির তারিখ ছিল ৩০ জুন ২০২৩। ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ড আছে এক বছর। তার মানে তাদের কাজ শেষ হবে আগামীকাল।

তিনি বলেন, এ সময়ে ঠিকাদারকে অতিরিক্ত কিছু কাজ করতে হয়েছে। দুটি কারণে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়েছে। একটা হলো প্রকল্পের জাজিরা প্রান্তে নদী শাসন কাজের সীমানায় অবস্থিত কাঁঠালাবাড়ি ফেরি ঘাট, লঞ্চ ঘাট এবং আশপাশের প্রায় এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নৌযোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করার জন্য বিআইডব্লিউটিএ থেকে জায়গা পেতে বিলম্ব হয়েছে। এতে তিন বছরের বেশি সময় বিলম্ব হয়েছে।

দ্বিতীয় কারণ হলো, কাজ করতে যাওয়ার সময় ডিজাইন চূড়ান্ত হওয়ার পর মাওয়া প্রান্তে মূল সেতুর ওজনে নদী শাসন কাজের সীমানা বরাবর ২০১২ সালে নদীর প্রচণ্ড স্রোতে নদীভাঙন হয়ে ঠিকাদারের কাজের কিছু অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ফলে ডিজাইন পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ডিজাইন তৈরিতে বিলম্ব হয়। এ কারণে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব দাখিল করেছে জানান সচিব মাহমুদুল হোসাইন খান।

পদ্মা সেতুর প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা হয় বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ১৯৯৮-১৯৯৯ সময়ে। ২০০৩-০৫ সময়ে নিজস্ব অর্থায়নে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করে জাপানের জাইকা। ২০০৬ সালে ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পরিকল্পনা করা হয় বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে। ২০০৯-১১ সময়ে বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন করা হয়। নিউজিল্যান্ডভিত্তিক মনসেল এইকম সেতুর পূর্ণাঙ্গ নকশা তৈরি করে। জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর জন্য অর্থায়ন করে এডিবি ও বাংলাদেশ সরকার।

২০১২ সালের জুনে বিশ্বব্যাংক তাদের ঋণ বাতিল করে। একই বছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৪ সালের ১৭ জুন মূল সেতু নির্মাণ কাজের জন্য চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি হয়। ওই বছরের ২৬ নভেম্বর সেতুর মূল নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায় বহুল প্রত্যাশিত পদ্মা সেতুর কাজ উদ্বোধন করেন।

এরপর ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সেতুর প্রথম স্প্যান বসানো হয়। ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর শেষ স্প্যান বসানো হয়। আর ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরের দিন ২৬ জুন পদ্মা সেতু দিয়ে যানচলাচল শুরু হয়।

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। মূল সেতুর কাজ করেছে চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। এর অ্যাপ্রোচ সড়ক ১২ দশমিক ১১৭ কিলোমিটার। ভায়াডাক্ট ৩ দশমিক ১৪৮ কিলোমিটার (সড়ক) এবং ৫৩২ মিটার (রেল)।

পদ্মা সেতু সংলগ্ন নদী শাসন কাজের উদ্দেশ্যে চূড়ান্ত দরপত্র গ্রহণ করা হয় ২০১৪ সালের ১৯ জুন। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশে ওই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের নদী শাসন কাজের জন্য চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো করপোরেশনকে নিয়োগ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।

প্রস্তাবটি অনুমোদনের পর সিনোহাইড্রো কর্পোরেশনের সঙ্গে ২০১৪ সালের ১০ নভেম্বর ৪৮ মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ সম্পন্নের লক্ষ্যে চুক্তিপত্র সই হয়। যার চুক্তিমূল্য ৮ হাজার ৭০৭ কোটি ৮১ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৬ টাকা। পরে কয়েক দফায় বাড়ানো হয় সময়। এই কাজ তদারকির জন্য কন্সট্রাকশন সুপারভিশন কনসালটেন্ট হিসেবে কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে কর্পোরেশন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস নিয়োজিত রয়েছে।

পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহান চলাচল শুরু হওয়ার পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে পদ্মা বহুমুখী সেতুর নদী শাসনের ব্যয় ৮৭৭ কোটি ৫৩ লাখ ৫১ হাজার ৫৫৩ টাকা বাড়ানো হয়। এতে ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ পদ্মা সেতুর নদী শাসনের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৯ হাজার ৫৮৫ কোটি ৩৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। এখন দ্বিতীয় দফায় পদ্মা সেতুর নদী শাসনের ব্যয় ২৪৯ কোটি ৪২ লাখ ৫২ হাজার ৩৪৯ টাকা বাড়ানো হলো। এতে মোট ব্যয় বেড়ে দাঁড়ালো ৯ হাজার ৮৩৪ কোটি ৭৭ লাখ ৪৫ হাজার ৩৪৯ টাকা।


আরও খবর



জয়ে কোপা আমেরিকা শুরু আর্জেন্টিনার

প্রকাশিত:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

Image

কানাডার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় পেয়েছে সর্বশেষ কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপ জয়ী আর্জেন্টিনা। দুই আলবিসেলেস্তে স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজ ও লওতারো মার্টিনেজ গোল করেছেন। সহজ জয়ে মেসিরা শুরু করেছেন কোপা আমেরিকা।

শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকালে আটলান্টায় শুরু হওয়া ম্যাচের প্রথমার্ধে আর্জেন্টিাকে আটকে দেয় কানাডা। আর্জেন্টিনা গোল মিসের পসরা সাজিয়ে আটকে যায় বললেও ভুল হবে না। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দলকে লিড এনে দেন ম্যানচেস্টার সিটির তরুণ স্ট্রাইকার লওতারো মার্টিনেজ। তিনি ৪৯ মিনিটে জালে বল পাঠান।

আকাশি-সাদার প্রতিনিধিরা দ্বিতীয় গোল পেয়েছে ম্যাচের শেষ সময়ে। ৮৮ মিনিটে মেসির আলতো করে ঠেলে দেওয়া পাস ডান পায়ের টোকায় জালে পাঠিয়ে দেন বদলি নামা ইন্টার মিলান স্ট্রাইকার মার্টিনেজ। সহজ জয়ে মাঠ ছাড়ে কোপার শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামা আর্জেন্টিনা।

এই দুই গোলের তথ্যে পুরো ম্যাচ  আসবে না। বরং আর্জেন্টিনার গোল মিসের ঘটনাই বড় হয়ে উঠতে পারত। ম্যাচে লিওনেল মেসি একাই হারিয়েছেন সহজ চারটি সুযোগ। এর মধ্যে দুবার গোল রক্ষকের সঙ্গে ওয়ান অন ওয়ান ছিলেন লিও। অর্থাৎ গোলরক্ষককে ফাঁকি দিতে পারলেই গোল। কিন্তু পারেননি তিনি। অন্য একটি শট অবশ্য পোস্ট ঘেসে বেরিয়ে যায়।

শুধু মেসি কেন ডি মারিয়া সহজ গোল মিস দিয়েই ম্যাচের শুরু বলা যায়। ম্যাচের ১৫ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সেরা সুযোগ পান বেনফিকা মিডফিল্ডার। দুর্দান্ত এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বক্সে ঢুকে যান বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকার ফাইনালে গোল করা ডি মারিয়া। কিন্তু সামনে থাকা কানাডার গোলরক্ষকে আটকে যান তিনি।

আবার ম্যাক অ্যালিস্টার ও বদলি নামা নিকোলাস ওটামেন্ডি হারিয়েছেন সহজ গোলের সুযোগ। সব মিলিয়ে ম্যাচে আর্জেন্টিনা গোল মুখে ১৯টি শট নিয়েছে। যার নয়টি ছিল একেবারেই গোল হওয়ার মতো। যা আটকে দিয়েছেন কানাডার গোলরক্ষক। বিপরীতে নয় শটের দুটি জালে রাখতে পারে কানাডা। তবে আর্জেন্টিনার মতো ভুল না করলে যে নয়টি সুযোগ তারা তৈরি করেছিল তাতেই ঘটে যেতে পারত অঘটন।


আরও খবর



নাইজেরিয়ায় সিরিজ বোমা হামলায় নিহত ১৮

প্রকাশিত:রবিবার ৩০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ৩০ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

নাইজেরিয়ায় বেশ কয়েকটি স্থানে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বোর্নো রাজ্যে ওই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় সময় শনিবার একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সন্দেহভাজন বোমা হামলায় ছয়জন নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

প্রদেশের জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, সন্দেহভাজন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীরা গোওজা শহরের একটি বিয়ে, শেষকৃত্য এবং একটি হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে।

বোর্নো রাজ্যে প্রায় ১৫ বছর ধরেই জঙ্গি গোষ্ঠী বোকো হারাম সক্রিয় রয়েছে। এ সময়ে বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি হামলায় দেশটিতে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছে আরও ২০ লাখের বেশি মানুষ।

২০১৪ সালে চিবোক শহর এবং বোর্নো রাজ্য থেকে ২৭০ জনের বেশি স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে বোকো হারাম।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার অন্তঃসত্ত্বা নারী, শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্ক মোট ১৮ জন নিহত হয়েছে। তবে সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি। নাইজেরিয়ার ভ্যানগার্ড এবং দিস ডে পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফারণে কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হয়েছে।

কয়েকটি স্থানে একসঙ্গে হামলার পর কারফিউ জারি করেছে সামরিক বাহিনী। এখনো পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী ওই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

২০১৪ সালে গোওজা শহরের দখল নেয় বোকো হারাম। পরবর্তীতে নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী ২০১৫ সালে বোকো হারামের কাছ থেকে শহরটি মুক্ত করে। এরপর থেকেই ওই শহরের আশেপাশে হামলা এবং অপহরণ করে যাচ্ছে জঙ্গিরা।

গত নভেম্বরে প্রতিবেশী ইয়োব রাজ্যে একটি শেষকৃত্যু অনুষ্ঠান শেষ করে ফেরার সময় বোকো হারামের হামলায় ২০ জন নিহত হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই হামলার একদিন আগেই গুরুকায়েয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। গ্রামবাসীরা তথাকথিত ফসলের কর দিতে অস্বীকার করায় সেখানে অভিযান চালানো হয়।


আরও খবর



অনেক ঝড়ঝাপটা পার করে পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৫ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অনেক ঝড়ঝাপটা পার করে পদ্মাসেতু নির্মাণ করতে হয়েছে। সাধারণত কোনও প্রকল্প শেষ হলে সেই শেষ হওয়ার অনুষ্ঠান হয় না। কখনো করা হয় না, শেষ হয়ে যায়। বাংলাদেশের জনগণের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুলাই) বিকেলে পদ্মা সেতুর মাওয়াপ্রান্তে পদ্মাসেতুর প্রকল্পের সমাপনী উপলক্ষ্যে সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, পদ্মাসেতুর সঙ্গে যারা জড়িত, যারা জমি দিয়েছে, তাদের প্রতি ধন্যবাদ জানাতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। এটি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানানোর অনুষ্ঠান। ক্ষমতা ছিল না বিদেশে গেছি, তখন বাংলাদেশের নামটা শুনলে কেউ জিজ্ঞাসা করত, এটা কি ভারতের কোনও অংশ? জিজ্ঞেস করত, এদেশে তো শুধু ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, দুর্ভিক্ষ লেগে থাকে। মিসকিন হিসেবে আমাদেরকে হিসেব করা হতো। যেটা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্ট, ব্যথার ছিল। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। আর সেই স্বাধীন জাতি হিসেবে আমাদের মর্যাদা থাকবে না, আমরা মাথা তুলে কথা বলতে পারবো না, আমাদের আত্মমর্যাদাবোধ থাকবে না, এটা কি ধরনের বাংলাদেশ?

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এতে সভাপতিত্ব করেন।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মনজুর হোসেন। প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন পদ্মা বহুমুখী সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই পদ্মাসেতুর থিমসং প্রচার করা হয়। এছাড়া পদ্মাসেতুর ওপর একটি প্রামাণ্য চিত্র দেখানো হয়। সুধী সমাবেশে সেতুমন্ত্রীর ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সেতু বিভাগের সচিব মো. মনজুর হোসেন, সেতু বিভাগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলামসহ অনেকে।


আরও খবর