আজঃ বুধবার ১৯ জুন ২০২৪
শিরোনাম

ঠাকুরগাঁওয়ে জরাজীর্ণ ভবনেই বন্দিদের বসবাস

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৯ নভেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৯ নভেম্বর ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
রেদওয়ানুল হক মিলন, ঠাকুরগাঁও

Image

ব্রিটিশরা ১৮৯২ সালে নিশ্চিন্তপুর বর্তমান ঠাকুরগাঁও স্বর্ণপট্টি এলাকায় ২ দশমিক ৮৩ একর জমিতে স্থাপন করা হয় একটি উপ-কারাগার। যার মূল ওয়ালের ভেতরে দশমিক ৮২ একর ও বাইরে ২ দশমিক শূন্য ১ একর জমি রয়েছে। পরে ১৯৮৪ সালে তৎকালীণ সরকার এটিকে জেলা কারাগারে রূপান্তর করে।

বর্তমানে বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে কারাগারটি। যেকোনো সময় হুড়মুড় করে ধসে পড়তে পারে বলে কারাগারে আটক বন্দীরা আশঙ্কা করছেন। তারপরও জরাজীর্ণ এ ভবনে চলছে বন্দিদের বসবাসসহ সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম।

১৩০ বছরের পুরোনো এই কারাগারটি আধুনিকায়ন করতে ২০১৮ সালের শুরুর দিকে সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের চব্বিশ টিউবওয়েল এলাকায় ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে ১৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। অধিগ্রহণের পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শুরু হয়নি নির্মাণ কাজ। এতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কয়েদিরা।

সূত্রে জানা গেছে, কারাগারটিতে ১৬৮ পুরুষ হাজতি ও তিনজন নারী হাজতি থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। থাকার জন্য রয়েছে একটি মাত্র ভবন। নারী হাজতিদের জন্য রয়েছে টিনশেডের একটি রুম। ১৬৮ জন পুরুষ হাজতি ধারণ ক্ষমতার ভবনে এখন থাকছেন ৪২০ জন। তিনজন নারী হাজতির জন্য টিনশেডের সেই রুমে থাকছেন তিন শিশুসহ ৯ জন নারী।

অন্যদিকে, বিএনপি-জামায়াতের চলমান আন্দোলনকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ধরপাকড়ে কারাগারে চাপ বেড়েছে বন্দিদের। ধারণ ক্ষমতার প্রায় তিন গুণ বন্দি রয়েছে এ কারাগারে।

এ ছাড়া জেলায় জঙ্গি, জেএমবি, মৃতদণ্ডসহ অন্য কারাবন্দিদের রাখার জন্য কোনো সেল নেই। সেল না থাকায় জেলার চার জেএমবিকে পঞ্চগড় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সারাদেশে জেলা কারাগারগুলোয় হস্তশিল্প, কারিগরি প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন বন্দিরা। শুধু অবকাঠামোগত কারণে এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ঠাকুরগাঁওয়ের কারাগারে বন্দিরা।

কারাগার থেকে জামিনে একব্যাক্তি জানান, রাতে এক রুমে ৬০-৭০ জনকে থাকতে হয়। ৬০-৭০ জনের জন্য মাত্র একটি টয়লেট। এক রুমে আমাদের প্রায় ১২-১৩ ঘণ্টা থাকতে হয়। এতে রাতে তেমন ঘুম হয় না। আমরা খুব গাদাগাদি করে ছিলাম। রুমের মধ্যে পা ফেলানোর মতো জায়গা থাকে না। বেশির ভাগ সময় দেখা যায় বাথরুমে পানি থাকে না। গোসলের জন্য যে পানি দেওয়া হয় সেটাও অল্প সময় থাকে।

অর্থ বরাদ্দের জন্য প্রাক্কলন প্রস্তুত করে ২০ বারেরও অধিক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও সেটি পাশ হয়নি বলে জানান ঠাকুরগাঁও গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, আমরা আবারো প্রাক্কলন করে পাঠাব। ইতোমধ্যে নতুন কারাগারের জন্য জমি অধিগ্রহণ করেছি।

এ বিষয়ে জেল সুপার মো. আবু তালেব এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাদের জেলকোডে এ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনো নিয়ম নেই।

তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কিছুটা উন্নয়নে ব্যাঘাত ঘটেয়েছে। আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে নতুন কারাগার ভবন নির্মাণ করা হবে বলে জানান আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন।

নিউজ ট্যাগ: ঠাকুরগাঁও

আরও খবর



ঈদযাত্রায় মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন যান চালালেই ব্যবস্থা: আইজিপি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

ঈদযাত্রায় মহাসড়কে যারা ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালানোর চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন। বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) দুপুরে গাবতলীর কোরবানির পশুর হাট ও বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

আইজিপি বলেন, এবারের ঈদযাত্রায় কোনোভাবেই মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল করবে না। চলবে না নছিমন করিমন ভটভটিও। যারা চালানোর চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়ন্ত্রণহীন গতিতে গাড়ি না চালানোর জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, রোজার ঈদে একমুখী চাপ থাকে। কিন্তু কোরবানির ঈদে সাধারণত যেটা ঘটে সেটা হচ্ছে, ঘরমুখো মানুষের চাপ সড়কে যেমন থাকে তেমনি, পশুবাহী ট্রাক-পিকআপও চলাচল করে। অর্থাৎ মানুষ বাড়ি যায়, গরু আসে। সড়কে দ্বিমুখী চাপ মোকাবিলা করতে হয়। পুরো বিষয় বিবেচনায় রেখে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সঠিক রাখার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোরবানির পশুবাহী গাড়ি যাতে ঢাকাসহ সারাদেশে যথাযথভাবে এবং নিরাপদে চলাচল করতে পারে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা করা হয়েছে। সড়কে হাইওয়ে পুলিশ ব্যাপক নজরদারি করছে।

হাটে কোনো হয়রানি হলে হটলাইনে ফোন দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আইজিপি বলেন, হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন রয়েছে। সমস্যা মনে হলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হেল্প করবে। কোরবানির পশুর হাটে কোনো ধরনের হয়রানির ঘটনা ঘটলেই পুলিশের হটলাইনে ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারবেন ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই।

তিনি বলেন, ঘরমুখো মানুষের আরো চাপ আজ বিকেল থেকে শুরু হবে। ঈদের দু-একদিন আগ পর্যন্ত এই চাপ অব্যাহত থাকবে। তাই বরাবরের মতো এবারও আমরা ঈদ উপলক্ষে পশুর হাট, রেল, সড়ক ও নৌপথে ঈদযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবকিছু মিলিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি।


আরও খবর



ঘূর্ণিঝড় রেমাল: পানি উন্নয়ন বোর্ডে কন্ট্রোল রুম চালু

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৪ মে 20২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৪ মে 20২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ থেকে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় রেমাল সম্পর্কিত জরুরি তথ্য সংগ্রহ এবং বিতরণের জন্য কন্ট্রোল রুম খুলেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। শুক্রবার (২৪ মে) বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে রয়েছেন বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় রেমাল বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানার সম্ভাবনার তৈরি হয়েছে। সেজন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের গ্রীন রোডের পানি ভবনের লেভেল-২ এবং কক্ষ নম্বর ২১৪ এ বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে। যার কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চলবে। এর সার্বিক দায়িত্বে থাকবেন দপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া।

এতে আরও জানানো হয়, কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থা থেকে হতে সার্বক্ষণিক ঘূর্ণিঝড়ের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, পূর্বাভাস ও জলোচ্ছ্বাস সংক্রান্ত তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হবে। প্রতিষ্ঠানটির মাঠ পর্যায়ের দপ্তর থেকে উপকূলীয় বাঁধ, পোল্ডার ইত্যাদির ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ সংগ্রহ করা হবে।

সেজন্য মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা ও নির্বাহী প্রকৌশলীদের ঘূর্ণিঝড়ের সময় জরুরি তথ্য ই-মেইল বা ফোনের মাধ্যমে কন্ট্রোল রুমে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কন্ট্রোল রুমের টেলিফোন নম্বর হচ্ছে ০২-২২২২৩০০৭০, মুঠোফোন নম্বর হচ্ছে ০১৭৬৫৪০৫৫৭৬, ০১৫৫৯৭২৮১৫৮। তথ্য পাঠানোর ই-মেইল ঠিকানা হচ্ছে [email protected], [email protected]

একইসঙ্গে পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত এই দপ্তরের সব কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের সব ধরণের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে।


আরও খবর



বাজেট: শিল্প খাতে বরাদ্দ কমেছে ৫১৪ কোটি টাকা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৬ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে শিল্প খাতে ৫১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ কমিয়ে ২ হাজার ৫১০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা আগের অর্থবছরের বাজেটে ছিল ৩ হাজার ২৪ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার (৬ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে এ বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। তার আগে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয় এবং পরে ওই প্রস্তাবে সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী লিখিত বক্তব্যে বলেন, টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে শিল্প পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বেসরকারি খাতকে গতিশীল করতে উৎপাদন প্রযুক্তি এবং পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন, নতুন পণ্য উদ্ভাবন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি এবং বেসরকারি খাতের শিল্প উদ্যোগকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছি। ইউরিয়া সারের ক্ষেত্রে আমদানি নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কারখানা এবং ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা চালু করা হয়েছে।

কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, এ খাতের উন্নয়নে সরকার সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, পুনঃঅর্থায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় ও রফতানিমুখী ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল উৎপাদনের লক্ষ্যে মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলায় ২০০ একর জমিতে অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) শিল্প পার্ক স্থাপন করা হয়েছে।

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের লক্ষ্যে এ পর্যন্ত মোট ৪৪টি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের বিষয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এসব দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমেও রফতানি সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছি। রফতানি পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণে স্থানীয় শিল্পের সুষম বিকাশ, বিনিয়োগ উৎসাহিতকরণ, পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা ন্যাশনাল ট্যারিফ পলিসি ২০২৩ প্রণয়ন করেছি এবং রফতানি নীতি ২০২৪-২৭ এর খসড়া চূড়ান্ত করেছি। এছাড়া ই-কমার্স/ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠাকল্পে ডিজিটাল বিজনেস আইডেনটিটি (ডিবিআইডি) প্লাটফর্ম চালু করা হয়েছে।


আরও খবর



‘আনারকে হত্যার পর হাড়-মাংস আলাদা করে হলুদ মিশিয়ে ব্যাগে ভরা হয়’

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৩ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৩ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

ঢাকায় বসে ২/৩ মাস আগে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ঢাকায় না পেরে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারকে কৌশলে নেওয়া হয় কলকাতায়। সেখানে তাকে হত্যার পর শরীর টুকরো টুকরো করে হাড্ডি ও মাংস আলাদা করা হয়। এরপর হলুদ মিশিয়ে ব্যাগে ভরে ওই বাসা থেকে বের করা হয়েছে। তবে কোথায় মরদেহের খণ্ডিত অংশ ফেলা হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

ডিবিপ্রধান বলেন, দুই-তিন মাস আগে অপরাধীরা পরিকল্পনা করেছিল রাজধানীর গুলশান ও বসুন্ধরার বাসায় এমপি আনারকে হত্যা করার। কিন্তু বাংলাদেশ পুলিশের নজরদারি ও ঢাকায় হত্যাকাণ্ডের পরে সব হত্যার ক্লু পুলিশ বের করেছে বলেই হত্যাকারীরা কলকাতায় নিয়ে এমপিকে হত্যা করেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে অপরাধ করার সাহস পায়নি অপরাধীরা। বিদেশের মাটিতে অপরাধ করলে বাংলাদেশ পুলিশের নজরে আসবে না, তাই অপরাধীরা কলকাতাকে বেছে নিয়েছে হত্যার নিরাপদ স্থান হিসাবে।

মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, বিদেশের মাটিতে এ হত্যাকাণ্ডের পরও তারা পালিয়ে থাকতে পারেনি। আমরা তিনজকে গ্রেপ্তার করেছি। আরও কয়েকজনকে নজরাদিতে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারকে সেখানে হত্যার পর হত্যাকারীরা এমনভাবে লাশ গুমের চেষ্টা করেছে যাতে কোনো হদিস না মেলে। লাশ গুমের জন্য শরীর টুকরো টুকরো করে হাড্ডি ও মাংস আলাদা করা হয়। এরপর হলুদ মিশিয়ে ব্যাগে ভরে পৃথক পৃথক ট্রলিতে করে ওই বাসা থেকে বের করা হয়েছে। মাংস নিয়ে যাওয়ার সময় যাতে কেউ আটকালেও বুঝতে না পারে, সে জন্য মাংসের সঙ্গে মসলা মিশিয়ে খাবার উপযোগী মাংসের মতো বানানো হয়। তবে কোথায় মরদেহের খণ্ডিত অংশ ফেলা হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে ডিবিপ্রধান বলেন, মরদেহ উদ্ধারের কাজ চলছে। ভারতীয় পুলিশ গাড়ির চালককে নিয়ে তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পুরোপুরি না পেলেও মরদেহের অংশ বিশেষ পাওয়া যাবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।


আরও খবর



বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ

প্রকাশিত:বুধবার ০৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ০৫ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস। প্রতিবছর ৫ জুন বিশ্বের প্রতিটি দেশে পালিত হয় দিবসটি। দিবসটির মূল লক্ষ্য পরিবেশ দূষণের কারণ ও দূষণ থেকে বাঁচার উপায় খুঁজে বের করা। এ ছাড়া মানুষকে পরিবেশ রক্ষায় সচেতন করে তোলাও এ দিবসের অন্যতম একটি লক্ষ্য। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হবে।

দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য হলো করবো ভূমি পুনরুদ্ধার, রুখবো মরুময়তা।’

এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন উপলক্ষে সরকারিভাবে নেওয়া কর্মসূচি সর্ম্পকে জানাতে গতকাল দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে নেওয়া কর্মসূচি সম্পর্কে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।

সাবের হোসেন চৌধুরী জানান, বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে পরিবেশ মেলা ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করবেন। পলাশ ও বেলগাছের দুটি চারা রোপণের মাধ্যমে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন তিনি।

তিনি বলেন, শেরেবাংলা নগরের এই পরিবেশ মেলা চলবে ৫ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত এবং বৃক্ষমেলা চলবে ৫ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত। প্রতিদিন মেলা চলবে সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।

মন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ড কনজারভেশন ২০২৩ ও ২০২৪, বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার ২০২২ ও ২০২৩ এবং সামাজিক বনায়নে উপকারভোগীদের মধ্যে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও জাতীয়, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বৃক্ষমেলার আয়োজন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষের চারা বিতরণ এবং মোবাইল ফোন অপারেটরদের মাধ্যমে খুদে বার্তা পাঠানো হবে।

সাবের চৌধুরী বলেন, দেশের সব জেলা ও উপজেলায় এবং ঢাকা মহানগরীর একশটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শিশু চিত্রাঙ্কন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিতর্ক ও স্লোগান প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হবে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হবে।

এ উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ অন্যান্য গণমাধ্যমে পরিবেশ দিবসের তাৎপর্যভিত্তিক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। জাতীয় সংবাদপত্রে ক্রোড়পত্র এবং পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে স্মরণিকা ও বুকলেট প্রকাশ করা হবে।

এ ছাড়াও রোপণ করা বৃক্ষের যত্ন বৃদ্ধির জন্য এবারের জাতীয় বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- বৃক্ষ দিয়ে সাজাই দেশ, সমৃদ্ধ করি বাংলাদেশ।’


আরও খবর