আজঃ বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২
শিরোনাম

টিকটক ব্যবহারকারীদের জন্য সুসংবাদ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৫ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৫ মে ২০২২ | ৪২৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

এখন থেকে টিকটকের রাজস্বের অংশ পাবেন নির্মাতারা। বুধবার এই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করে যে, জনপ্রিয় টিকটক নির্মাতাদের সঙ্গে বিজ্ঞাপন রাজস্বের একটি অংশ শেয়ার করা হবে।

সংক্ষিপ্ত-ভিডিও ফরম্যাটের অ্যাপটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এক শ কোটিরও বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী নিয়ে বিশ্বব্যাপী তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যদিও টিকটক নির্মাতাদের ঠিক উপায়ে অর্থ প্রদান না করার জন্য সমালোচিত হয়েছে প্ল্যাটফর্মটি।

টেক এক্সপ্লোরের প্রতিবেদনে জানা যায়, নতুন টিকটক পালস প্রোগ্রামের অধীনে হেলথ, ফ্যাশন, রান্না, গেমিং এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট বিভাগে ব্যবহারকারীর বিষয়বস্তুর পাশে বিজ্ঞাপন রাখা যাবে। এবং নির্মাতারা এই বিজ্ঞাপন থেকে অর্জিত রাজস্বের একটি অংশ পাবেন।

টিকটকের সহযোগী সংস্থা চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স এক বিবৃতিতে জানায়, আমরা নির্মাতা, পাবলিক ব্যক্তিত্ব এবং মিডিয়া প্রকাশকদের সঙ্গে প্রথমে আমাদের বিজ্ঞাপনের রাজস্ব শেয়ারের বিষয়টি পরীক্ষামূলক ভাবে প্রয়োগ করব।

বাইটড্যান্স আরও জানায়, আমরা মনিটাইজেশনের বিষয়ে মনোনিবেশ করছি যাতে নির্মাতারা টিকটকে নিজেদের মূল্যবান এবং সম্মানিত বোধ করেন।

টিকটক বলছে, প্রথম পর্যায়ে একটি অ্যাকাউন্টে অন্তত ১ লাখ সাবস্ক্রাইবার হলে মনিটাইজেশন পরিকল্পনার জন্য যোগ্য হবে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে টিকটক আনুমানিক ৪৬০ কোটি ডলার আয় করেছে। এই সংখ্যা আগের বছরের রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি।

ভিডিওতে ফোকাস করে প্রতিষ্ঠিত এমন অন্যান্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক যেমন ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম এবং স্ন্যাপচ্যাট ইতিমধ্যেই ব্যবহারকারীদের সঙ্গে রাজস্ব শেয়ারের বিষয়টি চালু করেছে।


আরও খবর



হলিউডকে নকল করতে গিয়ে ডুবছে বলিউড : রবিনা ট্যান্ডন

প্রকাশিত:রবিবার ২৪ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৪ এপ্রিল ২০২২ | ৪৮০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বাহুবলী থেকে পুষ্পা বা হাল আমলের আরআরআর বা কেজিএফ ২। বলিউডকে যেন প্রতি ম্যাচে বলে বলে ১০ গোল দিচ্ছে দক্ষিণী সিনেমাগুলি।কেন এমন অবস্থা? তার কারণ ব্যাখ্যা করলেন কেজিএফ ২ অভিনেত্রী রবিনা ট্যান্ডন।

রবিনার মতে হলিউডের ছবিকে নকল করতে গিয়েই ডুবছে বলিউড।হলিউডের অন্ধ অনুকরণ মানুষ ভাল চোখে দেখছেন না।দক্ষিণের ছবির সাফল্যের রহস্যও তিনি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, দক্ষিণের ছবি তৈরি হয় দেশীয় গল্পের উপর ভিত্তি করে।

এর ফলে দর্শকরা নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারেন গল্পের সঙ্গে। রবিনার মতে, এটাই হল দক্ষিণের ছবির সাফল্যের রহস্য।এ প্রসঙ্গে তিনি নব্বই দশকের বলিউড ছবির প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছেন।রবিনা বলেন, ওই সময় পর্যন্ত গান ও গল্পে ছিল দেশীয় ছোঁয়া। তার পর থেকে হলিউডের নকল করা শুরু হয়।

রবিনার মতে, বলিউড ছবিতে পশ্চিমী সংস্কৃতির প্রভাব, নায়কের বা ভিলেনের চপারে যাতায়াতএ সব আরও দূরে সরিয়েছে ভারতীয় দর্শককে।অন্য দিকে, দক্ষিণী ছবিতে দেশের গল্প, দেশীয় সংস্কৃতির ছোঁয়া থাকার ফলে মানুষের মধ্যে তার আকর্ষণ বাড়ছে। এমনকি অ-হিন্দিভাষী ভারতীয়রাও দক্ষিণের ছবি দেখতে হলে ভিড় করছে।

রবিনা নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আমি নিজেও যখন স্ক্রিপ্ট পড়তাম, তখন বুঝতে পারতাম কোথাও যেন গল্পগুলো আলাদা হয়ে যাচ্ছে। দেশের সংস্কৃতি এবং ভাবনার সঙ্গে মিলছে না।রবিনা মনে করেন, হাল আমলে বলিউড ছবির পশ্চিমীকরণের শুরু হয়েছে যশরাজ এবং ধর্মা প্রোডাকশনসের হাত ধরে। দুটিই বর্তমানে বলিউডে সবচেয়ে বড় প্রোডাকশন হাউস।

একটা সময় অবধি মানুষ তাদের প্রযোজিত ছবিগুলি পছন্দ করেছেন। কিন্তু লাগাতার পশ্চিমী সংস্কৃতির প্রাধান্যে দর্শক দূরে সরেছেন সেই ধরনের ছবিগুলি থেকে।আয়ের অঙ্কেও সম্মিলিত দক্ষিণী চলচ্চিত্র (তেলুগু, তামিল, কন্নড় এবং মালায়লাম) বলিউডকে ছাপিয়ে গিয়েছে।

২০২১ সালে বক্স অফিসের হিসাবে সবচেয়ে বেশি আয় করেছে তেলুগু সিনেমা।দক্ষিণী ছবির বিষয়বস্তু বেছে নেওয়া হয় বৃহৎ অংশের দর্শকদের কথা মাথায় রেখে। অল্লু অর্জুনের পুষ্পার কথাই ধরা যাক। এই ছবির বিষয়বস্তু একেবারেই অনন্য। গল্প বলার পদ্ধতিতেও নিজস্বতা রয়েছে।শুধু বিষয়বস্তু নয়, দক্ষিণী অভিনেতারাও মন ছুঁয়ে যাচ্ছেন দর্শকের। অভিনেতার স্টাইলও সাফল্যের একটি অন্যতম সূত্র।

যে স্টাইলের শুরু করেছিলেন রজনীকান্ত, তা বজায় রেখেছেন তেলুগু তারকা অল্লু অর্জুন, প্রভাস, মহেশ বাবু, জুনিয়র এনটিআর এবং রাম চরণ।আর্থিক বিশেষজ্ঞ রমেশ বালার মতে, সিনেমার বৃহত্তর বাজারকে এড়িয়ে যাচ্ছে বলিউড। আর সেই জায়গাতেই ঢুকে পড়ছে দক্ষিণী ছবি।

রমেশের মতে, বলিউড গত কয়েক বছর ধরে সিনেমার যে বৃহৎ বাজার রয়েছে, তাকে উপেক্ষা করছে। রাজকুমার রাও, আয়ুষ্মান খুরানা অভিনীত চলচ্চিত্রগুলি বৃহত্তর ভারতীয় দর্শককে ছুঁতে পারে না।অক্ষয়কুমার সামাজিক বার্তাবাহী ছবি টয়লেট: এক প্রেম কথা কিংবা পুরোদস্তুর কৌতুকধর্মী করছেন। রমেশের প্রশ্ন, দক্ষিণ কি এই ধরনের ছবি করবে? বরং তারা বিজিল, বিস্ট বা পুষ্পার মতো ছবি তৈরি করবে, যা বৃহৎ অংশের দর্শককে ধরবে।

তা হলে হাতে রইল কী? স্রেফ নিজস্বতা এবং দেশের মানুষ যে ধরনের গল্প পছন্দ করেন, তেমন সিনেমা করেই বাজিমাত করছে দক্ষিণ।

নিউজ ট্যাগ: রবিনা ট্যান্ডন

আরও খবর



গ্যাসকে অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করে রাশিয়া: জেলেনস্কি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৮ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৮ এপ্রিল ২০২২ | ৪০০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, গ্যাস এবং যে কোনও ধরনের বাণিজ্যকে অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করে রাশিয়া। বুধবার (২৭ এপ্রিল) স্থানীয় সময় রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এমন মন্তব্য করেছেন তিনি। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

জেলেনস্কি দাবি করেন, রাশিয়া তার জ্বালানির মাধ্যমে ইউরোপকে ব্ল্যাকমেইল করছেন। পোল্যান্ড ও বুলগেরিয়ায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার মধ্য দিয়ে মস্কো দেখিয়ে দিয়েছে যে, ইউরোপের কেউ রাশিয়ার সঙ্গে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বজায় রাখার আশা করতে পারে না।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, রাশিয়া শুধু গ্যাস নয়, যে কোনও বাণিজ্যকেই তারা অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করে। তিনি আরও বলেন, যত দ্রুত ইউরোপের সবাই স্বীকার করবে যে, বাণিজ্যে রাশিয়ার ওপর নির্ভর করা অগ্রহণযোগ্য, তত দ্রুত ইউরোপের বাজারে স্থিতিশীলতার গ্যারান্টি দেওয়া সম্ভব হবে।


আরও খবর



মা হওয়ার পর কাজলের আবেগঘন পোস্ট

প্রকাশিত:শনিবার ২৩ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২৩ এপ্রিল ২০২২ | ২৭৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কাজল আগারওয়াল মা হয়েছেন। গত ১৯ এপ্রিল তার কোলজুড়ে এসেছে পুত্রসন্তান। নাম রেখেছেন নীল। সুখবরটি কাজলের স্বামী গৌতম কিসলু প্রকাশ্যে এনেছিলেন। এবার মা হওয়ার অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি নিয়ে আবেগঘন পোস্ট দিলেন কাজল। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া সেই পোস্টে তিনি তুলে ধরেছেন অত্যন্ত কঠিন এবং স্বর্গীয় এই অনুভূতির কথা।

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় একটি ফটোশুট করেছিলেন কাজ। সেই ফটোশুটের একটি মায়াবী ছবি শেয়ার করে অভিনেত্রী লিখেছেন, ছোট্ট নীলকে পৃথিবীতে স্বাগত জানানোর জন্য উত্তেজিত এবং উচ্ছ্বসিত। এটা স্মরণীয়, অপ্রতিরোধ্য, দীর্ঘ ও সবচেয়ে আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা।

কাজল জানান, জন্মের পরই যখন তার কোলে সন্তানকে দেওয়া হয়, ওই মুহূর্তের অভিজ্ঞতা অবর্ণনীয়। তিনি লিখেছেন, জন্মের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে নীলকে শ্লেষ্মা, ঝিল্লি ও প্লাসেন্টা দিয়ে আবৃত অবস্থায় আমার বুকে ধরে রাখাই আমার আত্মার শান্তি। ওই মুহূর্তে আমি প্রকৃত ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার গভীরতা বুঝতে পেরেছি। সন্তান জন্ম দেওয়ার কঠিন এই সময়টার কথা জানিয়ে কাজল লিখেছেন, সহজ ছিল না। নিদ্রাহীন ৩ রাত, ভোরে রক্তক্ষরণ, থলথলে পেট, যন্ত্রণা, প্রসারিত ত্বক, ভিজে যাওয়া প্যাড, স্তন পাম্প, অনিশ্চয়তা, অবিরাম উদ্বেগ, ঠিকঠাক করতে পারছি কিনা, মাথায় একগুচ্ছ দুশ্চিন্তা ঘুরপাক খেয়েছে।

সন্তানের মুখ দেখার পর সব কষ্ট ভুলে যান কাজল। তিনি লিখেছেন, এটি এরকম মুহূর্ত- সকালে-বিকেলে মিষ্টি আলিঙ্গন, আত্মবিশ্বাসের দৃষ্টিতে একে অপরের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকা, ছোট্ট চুম্বন, দুজনের মধ্যে শান্ত মুহূর্ত, বেড়ে উঠছি, শিখছি, আবিষ্কার করছি। বাস্তবে প্রসবোত্তর গ্ল্যামারাস নয়, তবে নিশ্চিত সুন্দর হতে পারে।

কাজলের এই আবেগে ভরা পোস্টে ভক্ত-শুভাকাঙ্খীদের ভালোবাসা উপচে পড়ছে। ইতোমধ্যে সাড়ে ৮ লাখের বেশি রিঅ্যাকশন জমা হয়েছে এতে। রয়েছে হাজারো মন্তব্য। যেগুলোতে সবাই কাজলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন।

নিউজ ট্যাগ: কাজল আগারওয়াল

আরও খবর



বগুড়ায় চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৬ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৬ মে ২০২২ | ৩৯০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বগুড়ার শাজাহানপুরে রবিউল ইসলাম ওরফে মেহেরুল (৩৮) নামে এক যুবককে চুরির অভিযোগে সন্দেহভাজন হিসেবে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারনা করছে তাকে পেটানোর পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে উপজেলার শাকপালা এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের স্বজনরা এসে পরিচয় নিশ্চিত করেন। জানান শাজাহানপুর কৈগাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজু কামাল।

নিহত মেহেরুল শাকপালা এলাকায় ভাড়াবাড়িতে থেকে সাইকেল মেকানিকের কাজ করতেন। তিনি বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের ডামরুল গ্রামের হবিবর রহমানের ছেলে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে এসআই রাজু কামাল জানান, মেহেরুল মাদকসেবন এবং এলাকায় ছোটখাটো চুরি করতেন। শাকপালা এলাকায় চুরির ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে ধরে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করতে পারেন স্থানীয় কিছু লোকজন। তবে এখনি পরিস্কার করে কিছু বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে বিস্তারিত জানা যাবে।

শাজাহানপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন জানান চুরির সন্দেহে রবিউল ইসলাম ওরফে মেহেরুলকে গনপিটনি দিয়ে শুক্রবার ভোরে হত্যা করা হয়েছে । এ বিষয়ে একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। আসামী গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রয়েছে ।


আরও খবর



দুই দশকে প্রায় অর্ধশত মাঠ হারিয়েছে ঢাকা

প্রকাশিত:বুধবার ২৭ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ২৭ এপ্রিল ২০২২ | ৩৫৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

চলতি শতকের শুরুতেও রাজধানী ঢাকায় সিটি করপোরেশনের অধীন খেলার মাঠ ছিল ৭০টির মতো। এখন দুই সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে টিকে রয়েছে মোটে ২০টি। এ দুই দশকে নিশ্চিহ্ন হয়েছে প্রায় অর্ধশত মাঠ। যেগুলো টিকে রয়েছে খেলাধুলার স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ হারিয়ে ফেলছে সেগুলোও। মাঠ বেদখল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠছে প্রায়ই। আবার নানা স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে মাঠে খেলার জায়গা সংকুচিত করে ফেলার নিদর্শনও পাওয়া যায় অনেক।

একটি শহরে পর্যাপ্তসংখ্যক মাঠের উপস্থিতিকে অত্যাবশ্যক বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। নগরবাসীর নির্মল বিনোদন, সুস্থ পরিবেশ ও শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ নিশ্চিতের জন্য বিষয়টিতে সবসময়ই জোর দেয়া হয়। গত কয়েক দশকে ঢাকা আয়তন ও জনসংখ্যায় বাড়লেও খেলার মাঠ হারিয়ে গিয়েছে একটির পর একটি।

ঢাকার অবিভক্ত সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি শতকের শুরুতেও নগর কর্তৃপক্ষের অধীন মাঠ ছিল ৬৮টি। অন্যদিকে রাজধানীতে বর্তমানে দুই সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন মাঠ আছে ২০টি। সে হিসাবে দুই দশকে রাজধানীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন হয়েছে অন্তত ৪৮টি মাঠ। এর মধ্যে কোনো কোনোটিকে এখন পার্কে রূপ দেয়া হয়েছে।

চলতি শতকের শুরুতেই রাজধানীর খেলার মাঠগুলো বেদখল হয়ে যাওয়ার বিষয়টি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠে। ২০০৩ সালে রাজধানীর খেলার মাঠ ও পার্ক বেদখলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি রিট করেছিল বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) পক্ষ থেকে ২০০৪ সালে একই বিষয়ে আরেকটি রিট হয়। এ দুই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর ৬৮টি খেলার মাঠ ও পার্কের জন্য সংরক্ষিত জায়গা ১৫ দিনের মধ্যে দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এ আদেশ যথাযথভাবে পালনে গত দুই দশকে কোনো অগ্রগতি লক্ষ করা যায়নি। বরং দিন দিন পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। একের পর এক মাঠ বেদখল হয়ে নির্মাণ হচ্ছে বাজার, রাজনৈতিক দলের কার্যালয়সহ নানা ধরনের স্থাপনা। কোনো কোনো মাঠে উন্মুক্ত জায়গা থাকলেও খেলার পরিবেশ নেই। এসব জায়গায় মাদক ব্যবসাসহ আরো নানা ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রমেরও অভিযোগ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, তখন আমরা শুধু ঢাকা সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত মাঠগুলো নিয়ে রিট করেছিলাম। আদালত মাঠ ও পার্ক দখলমুক্ত করতে বলেছেন। কিন্তু তার বাস্তবায়ন খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।

তবে ঢাকার সব মাঠই সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে নেই। দুই সিটির অধীন মাঠ ছাড়াও ঢাকায় আরো অন্তত ২০০ খোলা জায়গার তথ্য পাওয়া যায়, যেগুলোকে মাঠ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ২০১৯ সালে করা বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) জরিপে উঠে আসে, কয়েক বছর আগেও ঢাকায় মাঠের সংখ্যা ছিল ২৩০। এর মধ্যে ১৪০টি প্রাতিষ্ঠানিক মাঠ, যেগুলো ওই প্রতিষ্ঠানের কম্পাউন্ডের ভেতরে অবস্থিত। অর্ধশতাধিক জায়গা ছিল ব্যক্তিমালিকানাধীন। এসব খোলা জায়গা শিশুরা মাঠ হিসেবে ব্যবহার করত। পরে সেসব জায়গায় অট্টালিকা গড়ে ওঠে। ৪০টির মতো মাঠ ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত। এর মধ্যে আবার ১৬টি বেদখল হয়ে পড়েছে। ফলে এখন রাজধানীতে সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ও আওতাবহির্ভূত উন্মুক্ত মাঠ আছে মাত্র ২৪টি। এর মধ্যে কিছু খেলার মাঠ সংস্কার করায় সেগুলোর সৌন্দর্য বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু সেসব মাঠে প্রবেশে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

এদিকে ২০০০ সালের একটি জরিপে দেখা যায়, ওই সময় ঢাকা শহরে খেলার মাঠ ছিল ১৫০টি। যদিও ঢাকার মাঠ নিয়ে সরকারি কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠগুলোর অন্যতম গেন্ডারিয়ার ধূপখোলা মাঠ। বর্তমানে এটির উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। মাঠটিতে চলছে স্থাপনা নির্মাণের কাজ। নির্মাণসামগ্রী রাখায় মাঠের বড় একটি অংশ এখন খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এ নিয়ে ধূপখোলা মাঠে কথা হয় গেন্ডারিয়ার প্রবীণ বাসিন্দা হাসান মাহমুদের (৬০) সঙ্গে। শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, একসময় এখানে দুরন্তপনার ছড়াছড়ি ছিল। সকাল থেকে শুরু হয়ে দিনের আলো মিলিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত খেলতাম আমরা। আট-দশ বছর আগেও এখানে শিশু-কিশোরদের স্বতঃস্ফূর্ত আনাগোনা ছিল। সম্প্রতি মাঠ উন্নয়নের কাজ শুরু হওয়ার পর নির্মাণসামগ্রী রাখায় খেলার পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েক মাস হলো খেলাধুলা বন্ধ।

সিটি করপোরেশনের খেলার মাঠগুলোর মধ্যে ১২টি ঢাকা দক্ষিণ সিটির অধীনে। ঢাকা উত্তরের অধীনে রয়েছে আটটি। ঢাকা দক্ষিণের ১২টি মাঠ হলো বাংলাদেশ মাঠ, গোলাপবাগ মাঠ, মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা মাঠ, লালবাগ শ্মশানঘাট খেলার মাঠ, খিলগাঁও খেলার মাঠ, ধানমন্ডি খেলার মাঠ, কলাবাগান খেলার মাঠ, মরহুম হাজি আলী ঈদগাহ মাঠ, বালুর মাঠ ঈদগাহ মাঠ, আরমানিটোলা খেলার মাঠ, ধূপখোলা মাঠ ও জোড়াপুকুর খেলার মাঠ। ঢাকা উত্তর সিটির আটটি খেলার মাঠ হলো বনানী মাঠ, বনানী খেলার মাঠ, বড় মগবাজার খেলার মাঠ, গোলার টেক মাঠ, তাজমহল রোড মাঠ, জাকির হোসেন রোড খেলার মাঠ, সলিমুল্লাহ রোড খেলার মাঠ ও বৈশাখী খেলার মাঠ।

নগরবিদ ইকবাল হাবিব বলেন, দুই সিটির মাঠের সংখ্যা কমে যাওয়ার বড় একটি কারণ হলো এখন অনেক মাঠই পার্ক ও মাঠে রূপান্তরিত হয়েছে। সে হিসেবে দুই সিটিতে মাঠ ও পার্ক আছে ৪৯টি। মাঠ ও পার্ককে এক ধরে নিয়েই দুই সিটির উন্নয়ন কার্যক্রম এগোচ্ছে। তবে বর্তমানে যে কাজটি জরুরি, বিদ্যমান মাঠগুলোয় খেলার পরিবেশ যেন ব্যাহত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা।

তিনি বলেন, ঢাকায় মাঠের সংখ্যা আরো বাড়বে। এক্ষেত্রে দুই সিটির আওতায় নতুন যে পৌরসভাগুলো এসেছে, ওইসব পৌরসভার মাঠগুলোও চিহ্নিত করতে হবে। নতুন পৌরসভাগুলোয় দেখা যায় অনেক খোলা জায়গা আছে। সেখানে শিশুরা খেলছেও। কিন্তু এর অনেকগুলোই মাঠ হিসেবে চিহ্নিত নয়। কোনো জায়গা যদি মাঠ হিসেবে চিহ্নিত না হয় তাহলে সেটি যেকোনো মুহূর্তেই ভিন্ন কাজে ব্যবহার হতে পারে। বর্তমানে কোনো মাঠ দখল হলে আমরা মাঠ রক্ষায় আন্দোলন করতে পারছি, কারণ এগুলো মাঠ হিসেবে চিহ্নিত আছে। যদি মাঠটি সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের রেজিস্ট্রি করা না থাকে তাহলে ওই মাঠ আজ হোক কাল হোক অন্য কাজে ব্যবহার হবেই।

রাজধানীর টিকে থাকা মাঠগুলোও দখলের ঝুঁকিতে রয়েছে। আবার অনেক মাঠের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বও রয়েছে। ডিএসসিসি এলাকাধীন আলিয়া মাদ্রাসার মাঠটি সরকারি দুটি সংস্থা নিজেদের বলে দাবি করছে। একইভাবে ১১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি খোলা জায়গায় সরকারি আরেকটি সংস্থা ভবন নির্মাণ করেছে। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তাঙ্গনের মাঠটি ডিএসসিসির প্রশাসন দখলমুক্ত করার পরও বারবার দখল হয়ে যাচ্ছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ বলেন, আমাদের তালিকাভুক্ত কোনো মাঠ হারিয়ে যায়নি এবং বেদখলও নেই। এরই মধ্যে আমরা বেশ কয়েকটি মাঠের উন্নয়নকাজ শেষ করেছি। আরো কয়েকটি মাঠের কাজ চলমান রয়েছে। তাছাড়া নতুন নতুন মাঠ তৈরির ব্যাপারেও আমাদের সমন্বিত পরিকল্পনা চলছে।

নিউজ ট্যাগ: খেলার মাঠ

আরও খবর