আজঃ বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
শিরোনাম

উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির তীব্র সংকট

প্রকাশিত:শনিবার ২৫ মার্চ ২০২৩ | হালনাগাদ:শনিবার ২৫ মার্চ ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

Image

উপকূলীয় অঞ্চলে ভূগর্ভে পানির স্তর ক্রমেই নিচে নামছে। আশেপাশের অঞ্চলের গভীর নলকূপ থেকে আর পানি ওঠছে না। সুপেয় পানির উৎসগুলোয় লবণাক্ততা ছড়িয়ে পড়েছে। লবণ পানি পরিশোধন ফিল্টারগুলো অকেজো হয়ে পড়ায় দুষ্কর হয়ে পড়েছে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ।

তীব্র গরম পড়ার আগেই সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদ পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। গ্রীষ্মের তাপদাহ বাড়ার সাথে সাথে এই সংকট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট তীব্র হয়েছে। তা ছাড়া গাছপালা ও ফসলি জমি বিলীন এবং কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়সহ জীববৈচিত্র্যে নানা প্রভাব পড়েছে।

ইউনিসেফের এক গবেষণা জরিপে বলা হয়, নিরাপদ উৎস থেকে পানি সংগ্রহের সুযোগ নেই এমন ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত কয়েক দশক ধরে পানি প্রতিবেশ ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়েছে। ভূ-উপরিস্থিত পানির আধার নষ্ট হয়েছে। পানির বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় না নিয়ে সরকারি-বেসরকারি বিচ্ছিন্ন উদ্যোগগুলো কোনো কাজে আসেনি। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের জেলা পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরার ১৩ শতাংশ, খুলনার ২২ শতাংশ এবং বাগেরহাটের ১৫ শতাংশ এবং মানুষ খাবার পানির সংকটে রয়েছে। তবে বেসরকারী হিসেবে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। সংশ্লিষ্টরা বলছে ভূগর্ভের নোনা পানির অনুপ্রবেশ বাড়ছে। দেশের মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত চলে এসেছে নোনা পানি। ভূগর্ভে পানির স্তর ক্রমেই নিচে নামছে। অনেক জায়গায় গভীর নলকূপেও পানি ওঠছে না। সুপেয় পানির অভাবে কলেরা, ডায়রিয়া, দীর্ঘ মেয়াদী ডায়রিয়া বা আন্ত্রিক রোগ, টাইফয়েড ইত্যাদির মতো জীবনবিনাশী পানিবাহিত রোগেরও দ্রুত বিস্তার ঘটছে।

আবার ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে এসব এলাকার সুপেয় পানির উৎসস্থল পুকুরগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। উপকূলের জল বেদনা নামক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপকূলের মানুষের মুখে সুপেয় পানি তুলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা নোনা পানির এই জনপদে বছর বছর চালু করে নিত্যনতুন প্রকল্প। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন দাতা সংস্থার টাকায় এনজিওগুলো উপকূলবাসীকে সুপেয় পানি বিতরণের নানা প্রকল্প হাতে নেয়। সরকারি অনুমোদনের পর তারা প্রকল্পের প্রযুক্তি বসিয়ে দেয় কারো বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা কোনো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। কাজ শেষে এর কয়েকটি বুঝিয়ে দেয় স্থানীয় সরকার বা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাছে। আর বেশির ভাগই গছিয়ে দেয় সুফলভোগীদের ঘাড়ে।

নামমাত্র কমিটি করে প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণের ভার দিয়ে আসে কয়েকজন ব্যক্তির ওপর। এসব আয়োজনের কোনো সমন্বিত পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা থাকে না। পানি বিক্রির টাকা আর এর-ওর কাছ থেকে চাঁদা তুলে জোড়াতালি দিয়ে চলতে থাকে প্রকল্প। গতি হারালে প্রকল্পের সুফলভোগীরা জলকষ্টে পড়ে।

২০২১ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) জরিপের ফলাফল বলছে, সাতক্ষীরার জেলার আশাশুনি উপজেলা ও শ্যামনগর উপজেলা এবং খুলনার জেলার কয়রা উপজেলা, দাকোপ উপজেলা, পাইকগাছা উপজেলায় বসবাসকারী ৭৩ শতাংশ মানুষ অনিরাপদ লবণাক্ত পানি পান করছেন। প্রতি লিটারে ১ হাজার মিলিগ্রামের বেশি লবণাক্ততা থাকলে তা পানযোগ্য নয় হিসেবে বিবেচিত হয়। অথচ ওই উপজেলাগুলোর পানিতে প্রতি লিটারে ১ হাজার ৪২৭ মিলিগ্রাম থেকে ২ হাজার ৪০৬ মিলিগ্রাম পর্যন্ত লবণাক্ততা আছে। এসব এলাকার ৫২ শতাংশ পুকুর ও ৭৭ শতাংশ নলকূপের পানিতে বেশি মাত্রায় লবণাক্ততা পাওয়া গেছে।

গত বছর বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় এবারে শীতের পর থেকেই সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট এর আশেপাশের অঞ্চলের গভীর নলকূপ থেকে আর পানি ওঠছে না। সুপেয় পানির অন্য উৎসগুলোয় লবণাক্ততা ছড়িয়ে পড়েছে। আবার লবণ পানি পরিশোধন করতে যে ফিল্টারগুলো বসানো হয়েছিল সেগুলো অকেজো হয়ে পড়ায় দুষ্কর হয়ে পড়েছে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ।

সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি, তালা ও শ্যামনগর সুপেয় খাবার পানির তীব্র সংকট, মিষ্টি আধার পুকুরগুলো এখন লবণাক্ত হয়ে গেছে। বেঁচে থাকার জন্য দৈনিক প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহে তাদের সংগ্রামের কথা জানিয়ে তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও মনুষ্যসৃষ্ট নানা কারণে সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলে পানীয় জলের সংকট সময়ের সাথে সাথে তীব্র আকার ধারণ করেছে, জনজীবনে যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে। এর মধ্যে রয়েছে পানি সংগ্রহ করতে দূর-দুরান্তে গিয়ে অতিরিক্ত সময় ব্যয়, কলস, ড্রামের মত পানি সংরক্ষণের ভারী আধার বহন করার ফলে শারীরিক নানা অসুস্থতা, বাধ্য হয়ে লবণাক্ত ও দূষিত পানি পানের ফলে উচ্চরক্তচাপ, পেটের পীড়া, হৃদরোগের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি, শিশুমৃত্যু, গর্ভবতী নারীদের খিঁচুনি, অকালগর্ভপাত ও উচ্চরক্তচাপ ইত্যাদি সংকট। আবার লবনাক্ততাজনিত অসুস্থতার চিকিৎসায় এবং প্রয়োজনীয় পানীয় জল কিনতে গিয়ে পরিবারগুলোর উপর রয়েছে অতিরিক্ত খরচের বোঝা।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক, কৃষি, খাদ্য, স্বাস্থ্য ও সুপেয় পানির সংকট তৈরি হয়েছে। পানি সংকটকে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রতিদিন নানা ধরণের পারিবারিক ও সামাজিক দ্বন্ধ তৈরি হচ্ছে। সংকট ঘিরে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিযোজন চর্চাও বৈচিত্র্যময়। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং উপকূল মানুষের জীবনসংগ্রামের সাথে সাথে এলাকায় যেসব ধান, মাছ, গাছ, পাখি ও বন্য জীবজন্তু ছিল, সেসব এখন হারিয়ে গেছে। বদলে গেছে এলাকার দুর্যোগ পঞ্জিকাও।


আরও খবর
সিলেট নগরী থেকে গৃহবধূর গলিত লাশ উদ্ধার

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




‘ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দানকারীদের অন্যতম প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু’

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
মশিউর রাহাত (পিরোজপুর)

Image

পিরোজপুর ১ আসনের সংসদ সদস্য শ ম রেজাউল করিম এমপি বলেছেন, প্রতিষ্ঠিত সত্য যে ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দানকারীদের অন্যতম প্রধান ছিলেন আমাদের স্বাধীনতার জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

বুধবার সন্ধ্যায় পিরোজপুরের শারিকতলা ইউনিয়নের শনিরহাটে মহান ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, এই বাংলাদেশ অর্জন এমনি এমনি আসে নাই। ভাষা আন্দোলন থেকে কিন্তু শুরু আর সেটাকে পুর্ণঙ্গতা পায় ছেষট্টির ৬ দফা আন্দোলনে। পরে ৬২ সালের শিক্ষা কমিশন আন্দোলন। ৬৯ এ গণঅভ্যুথান। ৭১ এ মুক্তিযুদ্ধ। মূল কথা ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে শুরু হয়ে ৭১ এ মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য থেকে আমরা আমাদের বাঙালিত্বকে খুঁজে পেয়েছি।

এ সময় রেজাউল করিম ওই এলাকার কিছু সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা এ অবস্থার পরিত্রাণ করবো। এ এলাকায় যে সকল উন্নয়ন হয় নাই আমি তা করবো। আমি আপনাদের সেবক হিসেবে আপনাদের পাশে আছি। ভয় পাবেন না।

আলোচনা অনুষ্ঠানে বাবুল তালুকদারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান ফুলু ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বায়েজিদ হোসেন।


আরও খবর
সিলেট নগরী থেকে গৃহবধূর গলিত লাশ উদ্ধার

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




বিপিএল দেখতে বসে টিভি বন্ধ করে দেই: হাথুরুসিংহে

প্রকাশিত:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

Image

বাংলাদেশ জাতীয় দলের হেড কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়ে রীতিমতো বোমাই ফাটালেন। তার মতে, এই টুর্নামেন্ট বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট উন্নয়নে কোনো অবদান রাখতে পারেনি!

হাথুরু ক্রিকেটভিত্তিক পোর্টাল ক্রিকইনফোর সঙ্গে আলাপকালে বিপিএলের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্থানীয় ক্রিকেটারদের ব্যবহার করে বিদেশি খেলোয়াড়দের ওপরই নির্ভর করে থাকেন বেশি।

লংকান কোচ বলেন, বাংলাদেশে উপযুক্ত কোনো টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট নেই। শুনতে খুবই অস্বাভাবিক লাগবে। কিন্তু আমি যখন বিপিএল দেখি, অনেক সময় টিভি বন্ধ করে দেই। কিছু খেলোয়াড় তো ওই মানের মধ্যেই পড়ে না।

তিনি আরও বলেন, যে পদ্ধতি মেনে চলছে সেটা নিয়ে আমার আপত্তি আছে। আইসিসির এসব ক্ষেত্রে এগিয়ে আসা উচিত। কিছু নিয়ম তো অবশ্যই থাকা উচিত। বিশেষ করে একই সময়ে একজন খেলোয়াড় একটি টুর্নামেন্ট খেলছে, পরে দেখা গেলো আরেকটিতেও অংশ নিচ্ছে। বিষয়টা পুরোপুরি সার্কাসের মতোন। খেলোয়াড়রা সুযোগের কথা বলবে; কিন্তু এটা সঠিক নয়। এমনটা হলে দর্শকরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। আমি নিজেও সেটা হারিয়ে ফেলেছি।

বিপিএলে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের মূল ভূমিকায় রাখা উচিত বলে মনে করেন হাথুরু, আমাদের এমন টুর্নামেন্ট হওয়া উচিত যেখানে স্থানীয় খেলোয়াড়রা টপ তিন নম্বরে ব্যাট করতে পারে... বাংলাদেশের বোলাররা বল করবে ডেথে। তাহলে আমরা আর কোন জায়গা থেকে শিখবো? আমাদের তো এই একটাই টুর্নামেন্ট।

এই মৌসুমে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স, সিলেট স্ট্রাইকার্স ও দুর্দান্ত ঢাকা টপ তিনের জন্য বিদেশির ওপর নির্ভর করেছে। বিপরীতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, খুলনা টাইগার্স ও রংপুর রাইডার্স স্থানীয়দের ব্যবহার করেছে। বোলিংয়ের কথা এলে কুমিল্লার স্কোয়াডে আছেন ১২জন। সেখানে ডেথে তারা আটজন বিদেশি ব্যবহার করেছে। খুলনা, ঢাকাও বিদেশিদের ওপর নির্ভর করেছে আরও বেশি। শুধু চট্টগ্রাম, রংপুর, বরিশাল ও সিলেট স্থানীয়দের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। এই অবস্থায় হাথুরুসিংয়ের পরামর্শ হলো বিসিবির উচিত বিপিএলের আগে আলাদা একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন। যাতে স্থানীয় খেলোয়াড়রা আরও বেশি টি-টোয়েন্টি অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে।

হাথুরু আরও বলেন, আমার পরামর্শ হচ্ছে বিপিএলের আগে আরেকটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করা উচিত। ফ্র্যাঞ্চাইজিরা যা খুশি করতে পারে। সেরাদের মধ্যে অনেকে খেলছে না, তাহলে আপনি কীভাবে আশা করেন বাংলাদেশ অন্য দলের চেয়ে ভালো করবে? এখানে আমি এক কঠিন যুদ্ধে আছি।


আরও খবর
বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মুখোমুখি রংপুর-বরিশাল

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

বিসিবিতে নতুন দায়িত্ব পেলেন নান্নু

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




নদীর তীরের মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি, ৩ জনের কারাদণ্ড

প্রকাশিত:শনিবার ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
Image

তালতলী(বরগুনা)প্রতিনিধি:

বরগুনার তালতলীতে আন্ধারমানিক নদীর তীর থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির দায়ে একজনকে ২ মাস ও দুইজনকে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (১৭ ফেব্রয়ারি) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার শারিকখালী ইউনিয়নের আঙ্গারপাড়া এলাকায় আন্ধারমানিক নদীর তীরে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিফাত আনোয়ার তুমপা।

জানা যায়, তালতলী উপজেলার শারিকখালী ইউনিয়নের আঙ্গারপাড়া এলাকার আন্ধারমানিক নদীর তীর পার্শবর্তী পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার যমুনা ব্রিকসের কাছে প্রতি কাঠা ৩ হাজার টাকা করে বিক্রি করেন স্থানীয় সুজন ও নিপেন রায় নামের দুই ব্যক্তি। পরে যমুনা ব্রিকসের লোকজন ভেকু মেশিন দিয়ে আন্ধারমানিক নদীর তীর কেটে মাটি নিয়ে যায়। নদীর তীর কাটার ফলে গ্রাম রক্ষা বাঁধটি হুমকির মুখে পড়ার শঙ্কায় ঐ এলাকার পরিমল রায় নামের এক ব্যক্তি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও মাটি কাটা ফেরানো যায়নি। পরে শনিবার সকালে স্থানীয়রা মাটি কাটা বাধা দিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে খবর দেয়। খবব পেয়ে ঐ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাটি কাটা অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে তিন জনকে আটক করে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ এর ৪(গ) ধারার বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

যমুনা ব্রিকস এর ম্যানেজার আবুল বাশার বলেন, আমরা নদীর তীরের মাটি ক্রয় করেছি। সেই মাটি ভেকু মেশিন দিয়ে কেটে নিয়ে আসতেছি। নদীর তীরের মাটি ক্রয় কিভাবে করা হলো জানতে চাইলে ফোনের লাইন কেটে দেয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিফাত আনোয়ার তুমপা বলেন, আন্ধারমানিক নদীর তীর কেটে মাটি বিক্রী করার অপরাধে তিন জনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মাটি কাটার ভেকু মেশিন ও টার্মিনাল জব্দ করা হয়েছে।


আরও খবর
সিলেট নগরী থেকে গৃহবধূর গলিত লাশ উদ্ধার

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রান্সফরমার চুরি করতে এসে চার চোর আটক

প্রকাশিত:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ | অনলাইন সংস্করণ
মোঃ রাসেল আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

Image

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইলে ট্রান্সফরমার চুরির সময় চোর চক্রের ৪ সদস্য আটক করেছেন এলাকাবাসীরা। শনিবার সকালে উপজেলার ইসলামাবাদ (গোগদ) এলাকা থেকে তাদের আটক করে পুলিশে সোর্পদ করা হয়।

আটকরা হলেন- উপজেলার মীর সরাইল এলাকার মুগল মিয়ার ছেলে তারেক মিয়া (২৮), দামাউড়া এলাকার আবুল উদ্দিনের ছেলে মো: শিপন মিয়া (২৭), অরুয়াইল এলাকার শওকত মিয়া ছেলে হাবিব মিয়া (৫০) ও নাসিরনগর এলাকার চাতলপাড় এলাকার মৃত: চান মিয়ার ছেলে সাদেক মিয়া (৩৮)।

স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কের পাশে ইসলামাবাদ এলাকায় খুঁটি থেকে ট্রান্সমিটার খুলছিলেন চোর চক্রের সদস্যরা। ট্রান্সমিটারটির ভেতরের কয়েলে ব্যবহৃত তামার ক্যাবল বের করার সময় টের পায় স্থানীয় কয়েকজন লোক। এরপর তাদেরকে আটক করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম বলেন, ট্রান্সফরমারের ভিতরের কয়েল থেকে পিতলের তার চুরির সময় ৪ চোরকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশকে খবর দেয় এলাকাবাসীরা। তাদেরকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।


আরও খবর
সিলেট নগরী থেকে গৃহবধূর গলিত লাশ উদ্ধার

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




মুক্তি পেলেন সাবেক থাই প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা

প্রকাশিত:রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা মুক্তি পেয়েছেন। আজ রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে দেশটির পুলিশ হাসপাতাল থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি রাজধানী ব্যাংককে নিজের বাসভবনে ফিরে যান। ১৫ বছর স্বেচ্ছানির্বাসনে থেকে দেশে ফেরার ছয় মাসের মাথায় কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন তিনি। খবর এএফপির।

থাইল্যান্ডের দুবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই বিতর্কিত ধনকুবের ২০০৬ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন। গত বছরের আগস্টে দেশে ফেরার পর ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির কারণে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাকে। তবে দেশে ফেরার কয়েকদিনের মাথায় থাইল্যান্ডের রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ন তার শাস্তি কমিয়ে আনেন এক বছরে। পরে গত সপ্তাহে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় ৭৪ বছর বয়সী থাকসিন সিনাওয়াত্রা তার স্বাস্থ্য ও বয়সের কারণে কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মুক্তি পাবেন। 

আরও পড়ুন>> বৈশ্বিক শান্তি সম্মেলনে যোগ দিতে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়ে জেলেনস্কির টুইট

আজ রোববার ভোরে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মুক্তির পর থাকসিন তার দুই মেয়ে পায়েতংতার্ন ও পিনতংতার সঙ্গে গাড়িতে করে তার বাড়িতে ফিরে আসেন। তবে এ সময় বেশকিছু লোককে হাসপাতালের বাইরে তার মুক্তির প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়। তার মুক্তির বিষয়ে অবশ্য বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে ধরে নেওয়া হচ্ছে তিনি নজরদারিতে থাকবেন এবং তার পায়ের গোড়ালিতে একটি ট্যাগ বসানো থাকবে। পাশাপাশি তার চলাফেরাতেও থাকবে বিধিনিষেধ।

গত বছর যে দিনে থাকসিন সিনাওয়াত্রা দেশে ফিরে আসেন, সেই দিনেই তার দল পিউ থাই পার্টি সেনা সমর্থিত দলের সঙ্গে জোট গঠন করে ক্ষমতায় ফিরে আসে। ওই সময় থেকেই অনেকে ধারণা করেছিলেন, তার কারাদণ্ডের মেয়াদ কমিয়ে আনতে নেপথ্যে সমঝোতা হয়েছে। এই গুজব আরও জোরালো হয়ে ওঠে যখন দেখা যায়, জেলখানা থেকে তাকে পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

থাকসিন সিনাওয়াত্রা বুকের সমস্যা ও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন। আর এই সমস্যা নিয়েই তিনি হাসপাতালে গিয়েছিলেন। পরের কয়েক মাসে তার শরীরে দুটি অস্ত্রোপচার করা হয় বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।

সরকারি দলের সঙ্গে পিউ থাই পার্টির কোনো চুক্তির বিষয়কে অস্বীকার করেছেন থাই প্রধানমন্ত্রী শ্রেত্থা থাভিসিন। বরং তিনি বলেন, থাকসিন তার কারাদণ্ডের মেয়াদ পূর্ণ করেছেন। যদিও থাকসিন সিনাওয়াত্রাকে কারাগারের কক্ষে সময় কাটাতে হয়নি।


আরও খবর
সৌদি আরবে এক দিনে সাতজনের শিরশ্ছেদ

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪