আজঃ রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

ভারতে বিষাক্ত মদপানে ৩৭ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

ভারতে বিষাক্ত মদপানে ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির তামিলনাড়ু রাজ্যের রাজধানী চেন্নাই থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরবর্তী কল্লাকুরিচি জেলায় গত কয়েকদিন ধরে বিষাক্ত মদপানে আরও কমপক্ষে ৫৫ জন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মদপানে অসুস্থ হয়ে পড়া এবং মৃত্যু হওয়াদের অধিকাংশই কারুনাপুরাম এলাকার। এক নারী জানান, বিষাক্ত মদপানে তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, তার ছেলের প্রচণ্ড পেটে ব্যথা করছিল এবং সে চোখ খুলতে পারছিল না। মদপানে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে হাসপাতালেও ভর্তি করা যায়নি।

অন্য এক মা জানান, তার ছেলের প্রচণ্ড পেটে ব্যথা। সে কিছু দেখতেও পারছে না আর কিছু শুনতেও পাচ্ছে না। তিনি বলেন, এমনটা কারও সঙ্গে যেন না হয়। এ ধরনের বিষাক্ত মদ বিক্রি বন্ধ হওয়া উচিত।

এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে বৃহস্পতিবার কল্লাকুরিচির জেলা প্রশাসক এমএস প্রশান্ত জানিয়েছেন, অসুস্থদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য কাছাকাছি সরকারি মেডিক্যাল কলেজের বিশেষজ্ঞসহ পর্যাপ্ত চিকিৎসাকর্মীদের জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে। লাইফ-সাপোর্ট সিস্টেমসহ বাড়তি অ্যাম্বুলেন্সও মোতায়েন করা হয়েছে। বিষাক্ত মদপানে মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এই ঘটনার এর জের ধরে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। বিষাক্ত মদপানে একসঙ্গে এত মানুষের মৃত্যু ও অসুস্থতা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় ও গাফিলতির অভিযোগে কল্লাকুরচির জেলা প্রশাসককে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া জেলার পুলিশ সুপারসহ একাধিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ২৬ জনের পান করা দেশি মদের প্যাকেট থেকে নমুনা নিয়ে ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং সেখানে বিষাক্ত মিথানলের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

এই ঘটনায় নিহতদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন। তিনি বলেন, কল্লাকুড়িতে বিষাক্ত মদপানে মৃত্যুর ঘটনায় আমি মর্মাহত ও ব্যথিত হয়েছি। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর আগে গত বছর তামিলনাড়ুর চেঙ্গলপাট্টু এবং ভিল্লুপুরমে বিষাক্ত মদ পান করে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সে সময় একাধিক রিপোর্টে জানা যায় যে, দক্ষিণ ভারতের ওই রাজ্যে বেআইনিভাবে মদ বিক্রির রমরমা ব্যবসার কথা। এরপরেই মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।


আরও খবর
আজ নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মদিন!

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




পদত্যাগ করে সস্ত্রীক বাকিংহাম প্যালেস ছাড়লেন ঋষি সুনাক

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৫ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির ভরাডুবির পর সস্ত্রীক বাকিংহাম প্যালেস ছেড়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। শুক্রবার (৫ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি প্যালেসের বরাতে বলছে, সুনাকের পদত্যাগ রাজা গ্রহণ করেছেন। একটি বিবৃতিতে প্যালেস জানিয়েছে, ঋষি সুনাক শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন, যা প্রথম লর্ড গ্রহণ করছেন।

বিবিসির এক সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ভবন থেকে বেরিয়ে ঋষি সুনাকের গাড়ি সামনের গেট ছেড়ে দ্রুত গতিতে চলে গেছে। এর আগে পদত্যাগপত্র জমা দেন ঋষি সুনাক। এটিই তার অফিসে থাকাকালীন শেষ কার্যক্রম ছিল।

তিনি বলেন, আমি প্রথমেই বলতে চাই, আমি সরি। আমি আমার সবটুকু দিয়ে কাজ করেছি, কিন্তু আপনারা একটি পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের সরকার অবশ্যই পরিবর্তন হওয়া জরুরি। আমি আপনাদের রাগ ও বিরক্তি শুনেছি এবং আমি আজকের পরাজয়ের জন্য দায় নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছি। সময় নিজ দলের সব প্রার্থী ও সমর্থকদের কাছেও দুঃখপ্রকাশ করেন এই নেতা।

২০২৪ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেয়ার পর বৃহস্পতিবার ( ৪ জুলাই) যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দেশটির পার্লামেন্টের ৬৫০টি আসনে স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় (বাংলাদেশি সময় দুপুর ১২টা) শুরু হয় ভোটগ্রহণ, যা চলে টানা রাত ১০টা (বাংলাদেশি সময় রাত ৩টা) পর্যন্ত।

নির্বাচনের মোট ৬৪৮টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ফলাফলে দেখা গেছে, ৪১২ আসনে জয় পেয়েছে লেবার পার্টি। যেখানে সরকার গঠনে প্রয়োজন ছিল ৩২৬ আসন। এ ছাড়া নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে মাত্র ১২১টি আসন। আর ৭১টি আসন পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে  লিবারেল ডেমোক্র্যাটসরা। এর বাইরে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি নয়টি এবং এসএফ সাতটি আসনে জয়লাভ করেছে। আর অন্যান্যরা পেয়ছেন ২৮টি আসন।

নিউজ ট্যাগ: ঋষি সুনাক

আরও খবর
আজ নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মদিন!

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




শেখ হাসিনা কোন হুমকির কাছে মাথা নত করে না: শ ম রেজাউল করিম

প্রকাশিত:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
মশিউর রহমান রাহাত, পিরোজপুর

Image

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শ ম রেজাউল করিম এমপি বলেছেন, কোটার নামে উশৃংখলতা সৃষ্টি করে রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেশকে অস্থিতিশীল করে কেউ যদি সুযোগ নিতে চায় লাভ হবে না। শেখ হাসিনা কোন অপচেষ্টা অথবা হুমকির কাছে মাথা নত করে না।

তিনি আজ পিরোজপুরের ইন্দুরকাণী উপজেলার সেতারা স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ কৃষকলীগ ইন্দুরকানী শাখার উপজেলা ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, রুহুল কবির রিজভী ও বিএনপির কিছু কিছু নেতা কোটা আন্দোলনের ছাত্রদের উপর ভর করে দুর্নীতিবাজ খালেদা জিয়া, চোর তারেক জিয়াকে ক্ষমতায় বসাতে চায়। কোটা আন্দোলন আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হবে। কোটা আন্দোলনের নামে শেখ হাসিনা সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা কেউ করলে তারা ছাড় পাবেন না এটা বিশ্বাস রাখতে হবে। স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি যেনো শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের দেশকে কোন ভাবে ব্যাহত করতে না পারে।

এমপি বলেন, খালেদা জিয়ার আমলে ১৯৯৫ সালে গাইবান্ধায় সার কিটনাশকের জন্য কৃষকরা মিছিল করেছিলো। সেই মিছিলে গুলি করে পাখির মত ১৮ জনকে হত্যা করা হয়েছিলো। তাই শুধু না জমিতে পানি উঠানোর জন্য বিদ্যুৎ লাগবে। সেই বিদ্যুতের দাবিতে মিছিল করেছিলো কৃষকরা। নির্মমভাবে তাদেরকেও গুলি করে হত্যা করা হয়েছিলো। কৃষকদের প্রতি তাদের (বিএনপির) মায়া নাই। আর শেখ হাসিনা আপনারা মিলিয়ে দেখবেন ১ কেজি ইউরিয়া সার যে টাকায় আপনারা কেনেন, আমাদের কিন্তু তা আনতে খরচ হয় ৭৫ টাকা। ৭৫ টাকার ভিতর থেকে সরকার ভর্তুকি দিয়ে আপনাদের কম দামে সার দেয়। কিটানাশক নবনা পয়সায় দেই। শর্ষের বীজ বিনা পয়সায় দেই। ট্রাক্টর লাগবে, একভাগ টাকা আপনারা আর সরকার দুইভাগ টাকা দেয় শেখ হাসিনা সরকার। কৃষকদের জন্য যদি বলি তাহলে কৃষক রত্ন, কৃষক বান্ধব প্রধানমন্ত্রী বলি বঙ্গবন্ধুর পরে সে একজনই সে শেখ হাসিনা আর কেউ না। কৃষকদের মায়া তিনি যত  বোঝেন কৃষকদের প্রতি তার যত দরদ এই দরদ বাংলাদেশে আর কারো নাই। কেননা শেখ হাসিনা কৃষদের ভিতর থেকে বেড়ে উঠেছেন। শেখ হাসিনা জানেন এটা কৃষি প্রধান দেশ। ধান, শষ্য উৎপাদন না হলে আমরা না খেয়ে মরবো। এই বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে লাগবে কৃষককে। আর কৃষককে না বাঁচালে জমিতে কৃষি হবে না। হাহাকার হবে বুভুক্ষ হবে। না খেয়ে মরবো। সেজন্য আজ বাংলাদেশ খাদ্যে সয়ংসম্পন্ন শেখ হাসিনার সুপরিকল্পনার কারনে। 

সম্মেলনে কৃষকলীগের জেলা কমিটির সভাপতির ও সম্মেলনের উদ্বোধক চান মিয়া মাঝির সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম টিটুর সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন। আরও বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম মতিউর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান ফুলু, পিরোজপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম বায়েজীদ হোসেন, জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম ডালিম, জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ মাঝি, ইন্দুরকানী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এম এ লতিফ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রাসেল পারভেজ রাজা প্রমূখ।


আরও খবর



দেশে ফিরেছেন ৫৬ হাজার ৩৩১ হাজি, মৃত্যু বেড়ে ৬২

প্রকাশিত:সোমবার ০৮ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ০৮ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

পবিত্র হজ পালন শেষে এখন পর্যন্ত ৫৬ হাজার ৩৩১ হাজি দেশে ফিরেছেন। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৬২ জন। সোমবার (৮ জুলাই) হজ পোর্টালের সবশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে জানানো হয়, সৌদি থেকে ১৪৪টি ফ্লাইটে এসব হাজি বাংলাদেশে এসেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৬৬টি ফ্লাইটে ২৪ হাজার ১৪৪ জন, সৌদি এয়ারলাইনসের ৫২টি ফ্লাইটে ১৯ হাজার ৭০২ এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ২৬টি ফ্লাইটে ৯ হাজার ৭১৫ হাজি দেশে ফিরেছেন।

চলতি বছর হজ পালন করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৬২ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ৪৯ এবং নারী ১৩ জন।

হজ শেষে গত ২০ জুন থেকে দেশে ফেরার ফ্লাইট শুরু হয়। ওইদিন বাংলাদেশ বিমানের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ৪১৭ হাজি নিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আগামী ২২ জুলাই পর্যন্ত হাজিদের ফিরতি ফ্লাইট অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, আগামী বছর (২০২৫) বাংলাদেশের জন্য এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের কোটা দিয়েছে সৌদি আরব।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম জানান, নির্ধারিত সংখ্যার মধ্যে কতজন সরকারি ব্যবস্থাপনায় আর কতজন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাবেন তা বাংলাদেশ সরকার পরে নির্ধারণ করে দেবে।


আরও খবর
রাজধানীতে তাজিয়া মিছিল শুরু

বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪

আজ পবিত্র আশুরা

বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪




ম‌ন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুর মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

প্রকাশিত:সোমবার ০৮ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ০৮ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
মশিউর রহমান রাহাত, পিরোজপুর

Image

পিরোজপুর সদর উপজেলার শিকদার মল্লিক ইউনিয়নের পাঁচপাড়া বাজারে থাকা সর্বজনীন কালীমন্দির ভাঙচুর ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি শিকদার মল্লিক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম হাওলাদারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার স্বাক্ষরিত ৭ জুলাইয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম হাওলাদারের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগপত্র পিরোজপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গ্রহণ করায় এবং পিরোজপুরের জেলা প্রশাসকের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে শহিদুল ইসলাম হাওলাদারকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পিরোজপুর জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সরদার ফারুক আহম্মেদ জানান, মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় মামলার পর পুলিশ তদন্ত শেষে ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম হাওলাদারসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আদালতে  অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালত চার্জ গঠন করেন। তিনি বেশ কিছুদিন জেলহাজতে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।


আরও খবর



কক্সবাজারে পাহাড় ধস, নারী-শিশুসহ চারজনের মৃত্যু

প্রকাশিত:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
মোহাম্মদ ফারুক, কক্সবাজার

Image

কক্সবাজারে শুরু হওয়া ভারি বর্ষণে ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে চারবার পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। পৃথক এ ঘটনাগুলোতে নারী-শিশুসহ চারজনের করুণ মৃত্যু হয়েছে। এদের মাঝে দুজন বৃহস্পতিবার সকালে, একজন দুপুরে এবং অপরজন রাতে পৃথক ঘটনায় মাটিচাপা পড়ে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আতাউল গনি ওসমানী।

সর্বশেষ পাহাড় ধসের ঘটনায় কক্সবাজার শহরের কলাতলী সৈকত পাড়া এলাকা থেকে এক স্কুল ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) রাতে ৮টা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টার উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে একজনের মরদেহ এবং বাকি তিনজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়।

নিহত শিক্ষার্থী মিম (১২) সৈকত পাড়ার মুহাম্মদ সেলিমের কন্যা। সে সৈকত বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার দোলন আচার্য বলেন, পাহাড় ধসের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। পাহাড়ের নিচে বিপদজনকভাবে তৈরি করা একটি ঘরের ছোট খুপরিতে মাটিচাপা পড়েন কয়েকজন। সেখানে তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। মিমকে বের করতে প্রায় তিন ঘণ্টা লেগে যায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের বরাতে পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এম এ মনজুর বলেন, পরমাণু শক্তি কমিশন অফিসের নিরাপত্তাকর্মী মোহাম্মদ সেলিমের মালিকানাধীন টিন সেট বাড়ির উপর রাত ৮টার দিকে একটি গাছসহ পাহাড় ধসে পড়ে। এসম সময় বাড়িতে সাত সদস্য অবস্থান করলেও সেলিমের স্ত্রী নূরজাহান, তাদের সন্তান লামিয়া হাবিবা, হুজাইফা, মাওয়া ও মিম মাটির নিচে চাপা পড়ে। তাৎক্ষণিক চেষ্টাও তিনজনকে জীবিত বের করা গেলেও মিমকে উদ্ধারে সময় বেশি লাগায় তার মৃত্যু হয়। প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয়রাও উদ্ধারে অংশ নেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরিপাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে গৃহবধূ লায়লা বেগম (৩৫) নিহত হন। তিনি স্থানীয় বজল আহমদের স্ত্রী। তাদের শিশু সন্তান মোহাম্মদ জুনায়েদকে (২) গুরুতর আহত অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতের মেয়ে ইয়াছমিন আক্তার বলেন, আমার মা ভাইকে নিয়ে দুপুরে ভাত খাচ্ছিলেন। এসময় হঠাৎ পাহাড় ধসে এসে রান্নাঘরে পড়ে। মা এবং ভাই মাটি চাপা পড়লে এলাকাবাসীর সহায়তায় তাদের ভেতর থেকে বের করা হয়। পরে আমার মা মারা গেলেও ভাইকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

একইদিন সকাল ৭টার দিকে পাহাড় ধসের পৃথক ঘটনায় আরো দুইজনের মৃত্যু হয়। শহরের ৬ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ পল্যানিয়া কাটা এলাকায় বসতঘরে পাহাড় ধসে স্থানীয় মোহাম্মদ করিমের স্ত্রী জমিলা বেগম (৩০) নিহত হন৷ কাছাকাছি সময়ে শহরের ৭নং ওয়ার্ডের সিকদার বাজার এলাকায় বাড়ির মাটির দেয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু হয় সাইফুল ইসলামের ছেলে নাজমুল হাছান (১০)।

নিহত জমিলার স্বামী করিম জানান, সকাল ৬টার দিকে ঘুম থেকে উঠেই নাস্তা খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সপরিবার। এসময় আচমকা পাহাড়ের কাদামাটি বসত ঘরে পড়লে চাপা পড়েন গৃহবধূ জমিলা। তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শিশু হাসানের পরিবার জানায়, পাহাড় ধসে ঘরের মাটির দেয়ালে পড়লে মাটির দেয়ালসহ আসবাবপত্রে চাপা পড়ে শিশু হাসান। ঘটনাস্থল থেকে তাকে মৃত উদ্ধার করে স্থানীয়রা।

কক্সবাজার পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম তারিকুল আলম বলেন, পাহাড়ে ঝুঁকিতে থাকারা নিরাপদে সরে আসতে কক্সবাজার পৌরসভা ১৩টি আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছে। সেখানে রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শহরের পাহাড়ে বসবাসরতদের মাইকিং করে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। কিন্তু মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে চায় না। এ কারণেই বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে গেলো।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আতাউল গনি ওসমানী বলেন, যুগ যুগ ধরেই কক্সবাজারের পাহাড় ও পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি গেড়েছে অধিবাসীরা। মৃত্যুর হাতছানি দেখেও তাদের সরানো যায় না। এরপরও মাইকিং অব্যাহত রাখা হয়েছে। পাহাড় ধসে মৃত্যুরোধে প্রয়োজনে আইনী পদক্ষেপে তাদের সরানোর উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে বলেও উল্লেখ করেন এডিএম।


আরও খবর