আজঃ মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

যে পথে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল

প্রকাশিত:রবিবার ২৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৩ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

Image

হারলেই বিদায়। জিতলে টিকে থাকবে বিশ্বকাপ স্বপ্ন। এমন ম্যাচেই অবিশ্বাস্যভাবে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিল আফগানিস্তান। অসিদের বিপক্ষে ২১ রানের জয়ে ইতিহাস গড়ল আফগানরা। সেই সঙ্গে বাংলাদেশকেও সুখবর দিয়েছে রশিদ খানেদ দল।

আফগানদের জয়ে শেষ চারের আশা এখনও বেঁচে রইল বাংলাদেশের। চলুন দেখে নেওয়া যাক শেষ চারে যেতে কোন সমীকরণ মেলাতে হবে বাংলাদেশকে!

আফগানদের জয়ে জমে উঠেছে গ্রুপ ওয়ানের লড়াই। এই গ্রুপে ভারতের দুই জয়ে পয়েন্ট ৪। সেমির পথে এক পা বাড়িয়েই রেখেছেন রোহিতরা। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া-আফগানিস্তান দুদলের পয়েন্টই সমান দুই। এমনকি দুই দলের সামনেই শেষ চারে যাবার সুবর্ন সুযোগ।

অন্যদিকে শূন্য পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে থাকা বাংলাদেশের আশাও এখনও বেঁচে আছে। সেক্ষেত্রে সুপার এইটে নিজেদের শেষ ম্যাচে যে করেই হোক আফগানিস্তানকে হারাতেই হবে বাংলাদেশের।

আফগানদের হারালে বাংলাদেশের তাকিয়ে থাকতে হবে ভারত-অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচের দিকে। ওই ম্যাচে যদি অসিরা হেরে যায় তাহলে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া ও আফগানিস্তান তিন দলেরই পয়েন্ট হবে সমান দুই। সেক্ষেত্রে রান রেটে যে এগিয়ে থাকবে সে যাবে ভারতের সঙ্গে সেমিতে। সে জন্য নিজেদের আশা বাঁচাতে যে করেই হোক আফগানদের বিপক্ষে বিশাল ব্যবধানেই জিততে হবে বাংলাদেশকে। কারণ নেট রান রেটে আফগানিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া থেকে পিছিয়ে সবার নিচে আছে বাংলাদেশ। তাই বড় ব্যবধানে জিতলেই কেবল সমীকরণ মিলিয়ে শেষ চারে যেতে পারবে বাংলাদেশ। আপাতদৃষ্টিতে যা কঠিন হলেও ক্রিকেটের সবুজ গালিচায় অসম্ভব কিছু নয়। বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ২৫ জুন, বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায়!


আরও খবর



মাটির নিচে রাশিয়ার গোপন ঘাঁটি, আছে হেলিপ্যাড-রেলপথও

প্রকাশিত:রবিবার ৩০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ৩০ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

দশকের পর দশক পেরিয়ে গেছে কিন্তু রহস্যঘেরা এক পর্বতে গোপনে কী কার্যক্রম চালাচ্ছে রাশিয়া, তা আজও জানতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। সেই ১৯৯৫ সালে স্যাটেলাইট ইমেজে উরাল পর্বতমালায় রাশিয়ার গোপন কার্যক্রম ধরা পড়ে। কিন্তু সেখানে আরও কয়েক দশক আগে থেকে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে রাশিয়া। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ রাশিয়ার রহস্যময় এই প্রজেক্ট নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছে। কিন্তু রাশিয়ার কথিত এরিয়া ৫১ আজও গোয়েন্দাদের কাছে রহস্যে ঘেরা।

রাশিয়ার বাশকোর্তোস্তান অঞ্চলের বেলোরেতস্কি জেলায় অবস্থিত রহস্যে মোড়া মাউন্ট ইয়ামান্তাউ। এটি দক্ষিণ উরাল বিভাগের সর্বোচ্চ পর্বত এবং দক্ষিণ উরাল নেচার রিজার্ভের মধ্যে অবস্থিত একটি পর্বত। পর্বতটির চারদিক ঘন জঙ্গলে মোড়া। কিন্তু কেন এই পর্বত ভয়ংকর এবং রহস্যে মোড়া? মনে করা হয়, ইয়ামান্তাউের নিচে পুরোদস্তুর একটি সামরিক ঘাঁটি তৈরি করে রেখেছে রাশিয়া। কারও কারও মতে এটি পৃথিবীর বৃহত্তম সামরিক বাঙ্কারও।

যদিও রাশিয়ার সরকার কখনও সেখানে সামরিক ঘাঁটি বা বাঙ্কারের অস্তিত্বের কথা স্বীকার করেনি। তবে ওই বাঙ্কারের অস্তিত্ব সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রমাণ বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে এসেছে। ১৯৮০ সালের গোড়ার দিকে ইয়ামান্তাউ পর্বতের বাঙ্কার নিয়ে প্রথম জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়। স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা যায়, ওই পর্বতের দক্ষিণ দিকে একটি বিস্তৃত বনাঞ্চল কেটে ফেলেছে রাশিয়া। তার পর থেকেই নাকি সেখানে লাগাতার কাজ চালিয়ে গেছে দেশটি। ধারণা করা হয়, আশির দশকের শেষের দিকে পর্বতের নিচে বাঙ্কার তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করে ফেলেছিল রাশিয়া।

শোনা যায়, ইয়ামান্তাউ পর্বতের ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার ১০০ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এবং ৬০০ মিটারেরও বেশি গভীর। ওই বাঙ্কারে নাকি বিভিন্ন ধরনের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার ওই গোপন সামরিক ঘাঁটি পরমাণু হামলা রোধ করতেও সক্ষম। নিমেষে শত্রুপক্ষের বিমান ধ্বংস করতে পারে এমন ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাঙ্করোধী ক্ষেপণাস্ত্র, এমনকি যুদ্ধবিমানও নাকি মজুত রয়েছে বাঙ্কারটিতে।

রাশিয়া ওই বাঙ্কারের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্রও মজুত রেখেছে বলে শোনা যায়। রয়েছে গবেষণাগারও। সেখানে বিপজ্জনক সব সামরিক অস্ত্র নিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়। রাশিয়ার গোপন ওই বাঙ্কারের কয়েক হাজার মানুষ একসঙ্গে থাকতে পারেন। থাকতে যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, এ জন্য বাঙ্কারের মধ্যেই নাকি হাসপাতাল, খাবার উৎপাদনের ব্যবস্থা, জল পরিশোধন ব্যবস্থা, এমনকি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রও রয়েছে। রয়েছে হেলিপ্যাড এবং রেলপথও।

তবে রাশিয়া পর্বতের নিচে ওই বাঙ্কার থাকার বিষয়টি বরাবর গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাই ইয়ামান্তাউ পর্বতকে ঘিরে তৈরি হওয়া রহস্যের কোনও সমাধান হয়নি। সত্যিই যদি ইয়ামান্তাউ পর্বতের নিচে কোনও বাঙ্কার থেকে থাকে, তাহলে সেটি কোন উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে, তাও স্পষ্ট নয়। তবে অন্য কোনও দেশের সঙ্গে যুদ্ধ বাধলে রাশিয়ার হয়ে নেতৃত্ব দিতে পারে ভূগর্ভস্থ ওই বাঙ্কার। অনেকে এ-ও মনে করেন যে, যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে রাশিয়ার শীর্ষ নেতাদের সুরক্ষিত রাখতে ওই বাঙ্কার তৈরি করা হয়েছে।


আরও খবর
আজ নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মদিন!

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




কোপার ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করবেন ক্লাউস

প্রকাশিত:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

Image

কোপা আমেরিকার ফাইনালে সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় মুখোমুখি হবে গতবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা বনাম কলম্বিয়া। এই হাইভোল্টেজ ম্যাচকে নিয়ে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা বিরাজ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রে হচ্ছে কোপা আমেরিকার এবারের আসর। এই মুহূর্তে আর্জেন্টিনা ফুটবলের জনপ্রিয় তারকা লিওনেল মেসি খেলছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মিয়ামির হয়ে। যে কারণে এই ম্যাচকে ঘিরে বাড়তি উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। সেই উত্তেজনার কারণেই ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্রাজিলের অভিজ্ঞ রেফরি রাফায়েল ক্লাউসকে।

রাফায়েল ক্লাউস প্রায় দশ বছর ধরে ফিফার ম্যাচ অফিসিয়াল হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৫ সালে তিনি ফিফার অনুমোদিত ম্যাচ রেফারিদের তালিকায় জায়গা করে নেন। ৪৪ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান রেফারি আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনার ক্ষেত্রেও বেশ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন।

রাফায়েল ক্লাউস ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও ম্যাচ রেফারির ভূমিকায় ছিলেন। ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ড-ইরান এবং কানাডা-মরক্কো ম্যাচে রেফারি হিসেবে ছিলেন তিনি। শুক্রবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আর্জেন্টিনা বনাম কলম্বিয়ার মধ্যকার কোপা আমেরিকা ফাইনাল ম্যাচ অফিসিয়ালদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেন (কনমেবল) জানায়, কোপা আমেরিকার ফাইনালে ক্লাউসের সহকারী হিসেবে থাকছেন দুই স্বদেশি রেফারি ব্রুনো পিরেস এবং রদ্রিগো কোহেয়া। চতুর্থ ও পঞ্চম অফিসিয়াল হিসেবে থাকছেন প্যারাগুয়ের হুয়ান বেনিতেজ ও এডুয়ার্দো কারদোসো। ভিএআর পরিচালনা করবেন ব্রাজিলের হোদোলফো টস্কি।


আরও খবর



কোটা আন্দোলনে নিহত বেরোবি শিক্ষার্থী আবু সাঈদের দাফন সম্পন্ন

প্রকাশিত:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

কোটাবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বোরোবি) অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদের (২৪) জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) সকাল ৯টায় রংপুরে পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের বাবনপুর গ্রামে জাফরপাড়া মাদরাসা মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হন আবু সাঈদ। জানাজায় ইমামতি করেন আবু সাঈদের আত্মীয় মো. সিয়াম মিয়া।

এ সময় মানুষের ঢল নামে। এর আগে মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে আবু সাঈদের মরদেহ তার গ্রামে এসে পৌঁছে। মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। শোক আর কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে যায়। সেখানে অপেক্ষমাণ ছিলেন শত শত মানুষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবু সাঈদের বাবা মকবুল হো‌সেন পেশায় একজন দিনমজুর। অর্থাভাবে কোনো ছেলে-মেয়েকে লেখাপড়া করাতে পারেননি তিনি। আবু সাঈদ ছোট থেকেই ছিল অত্যন্ত মেধাবী। ৯ ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিল সাঈদ। তাকে ঘিরে আকাশসম স্বপ্ন ছিল দরিদ্র মা-বাবার।

আবু সাঈদকে হারিয়ে মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে পরিবারটির। কারণ সাঈদ তার নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া করে এতদূর পর্যন্ত এসেছিলেন। মেধা ও আচরণে গ্রামে সবার প্রিয় ছিল সাঈদ। সেই ছেলেকে হারিয়ে কাঁদতে কাঁদতে শোকে পাথর হয়ে গেছেন মা মনোয়ারা বেগম।

জানা গেছে, ছোট থেকেই আবু সাঈদ ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। তার ব্যবহারে তার প্রতি সবাই মুগ্ধ ছিল। তিনি স্থানীয় জুনুদের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেন। পরে এলাকার খালাশপীর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গোল্ডেন জি‌পিএ-৫ পে‌য়ে এসএসসি পাস করেন। এরপর রংপুর সরকা‌রি কলে‌জ থেকেও এইচএসসিতে জি‌পিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। পরে বেগম রো‌কেয়া‌ বিশ্ববিদ্যাল‌য়ে ইং‌রে‌জি বিভাগে ভ‌র্তি হন আবু সাঈদ। বেঁচে থাকলে আবু সাঈদ জীবনে অনেক বড় হতেন এবং পরিবারসহ এলাকার জন্য যথেষ্ট অবদান রাখতেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শহরের লালবাগ এলাকায় থেকে ক্যাম্পাসের দিকে যান। এরপর ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ ও ছাত্রলীগ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাঁধে। তখন পুলিশ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট, টিয়ার শেলসহ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে। পুলিশ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সংঘর্ষে মিছিলের সম্মুখ থেকে বুক পেতে দেওয়া আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, মঙ্গলবার দুপুরে বেরোবিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিছিলে অংশ নেন আবু সাঈদ। এই আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন তিনি। এ কারণে মিছিলের সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ইউনুস আলী বলেন, এক শিক্ষার্থীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। এ ছাড়া আহত অবস্থায় আরও অনেকেই এসেছে। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে নিহত শিক্ষার্থী হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা গেছেন।


আরও খবর



এবার কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের

প্রকাশিত:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রেখে হাইকোর্টের দেওয়া রায় চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা। বলছেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিপরীতে এবার কঠোর কর্মসূচি দেবেন তারা।

বুধবার (১০ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের পর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় এ ঘোষণা দেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, প্রজন্ম ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

তাদের দাবি আদালতের কাছে নয়, বরং সংসদের কাছে উল্লেখ করে নেতাকর্মীরা বলেন, দেশের মানুষকে জিম্মি করে এই রায় নিয়েছে কোটাবিরোধীরা। এখন আমরাও বসে থাকবো না। এতোদিন সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে দেখে কঠোর আন্দোলন করিনি। কিন্তু এবার বৈঠক করে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। কোটা আবার ফিরিয়ে আনতে শীঘ্রই সংসদ ভবন অভিমুখী মিছিল বের করা হবে। প্রয়োজনের সংসদে আমাদের বিষয়টি উত্থাপন করে শীঘ্রই কোটা ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি।

কোটাবিরোধীরা দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন দাবি করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা বলেন, ৭১ সালে যে স্বাধীনতা হয়েছে তোমরা তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছ। এখানে শরীক হয়েছে বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ডা। আমরা এই যুদ্ধে অংশ নিতে প্রস্তুত। যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবে, ততোক্ষণ পর্যন্ত আমরাও আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আমরাও রাস্তায় থাকবো।

আপিল বিভাগের আদেশের প্রতিক্রিয়ায় তারা আরও বলেন, আমরা কোটা পুর্নবহাল চাই। কোটা আন্দোলনকারীদের বিপক্ষে আমাদের অবস্থান। এটি চলবে। দাবি আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরবো।

আদালতের রায়ের পর আন্দোলন করার আর কোনো যৌক্তিকতা নেই; প্রধান বিচারপতির এমন বক্তব্যের ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা বলেন, আমাদের দাবি হাইকোর্টের কাছে নয়, সংসদের কাছে। আমরা স্থায়ী সমাধান চাই। স্থায়ী সমাধান না পাওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না, আন্দোলন চালিয়ে যাব।

প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের আন্দোলনের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর নবম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে একটি পরিপত্র জারি করে। সেখানে বলা হয়, ৯ম গ্রেড (পূর্বতন ১ম শ্রেণি) এবং ১০ম-১৩তম গ্রেড (পূর্বতন ২য় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাতালিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। ওই পদসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হলো।

সব মিলিয়ে তখন নারীদের জন্য বরাদ্দ ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরসূরীদের জন্য বরাদ্দ ৩০ শতাংশ এবং জেলাভিত্তিক ১০ শতাংশ, উপজাতিদের জন্য বরাদ্দ ৫ শতাংশ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বরাদ্দ ১ শতাংশ কোটা বাতিল করা হয় ওই পরিপত্রে।

পরবর্তীতে পরিপত্রের ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি অহিদুল ইসলাম তুষারসহ সাতজন হাইকোর্টে রিট করেন। সে রিটের শুনানি নিয়ে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। সে রুল যথাযথ ঘোষণা করে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ বলে গত ৫ জুন রায় দেন হাইকোর্ট। এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলে ৪ জুলাই পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে বিষয়টি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের চেম্বার জজ আদালত। কিন্তু ওইদিন রিটের পক্ষের আইনজীবী না থাকায় তার পক্ষে সময় চাইলে সর্বোচ্চ আদালত শুনানি নট টুডের আদেশ দেন।

পরবর্তীতে শনিবার রাজধানীর শাহবাগ থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা 'বাংলা ব্লকেড' কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সে অনুযায়ী রোববার ও সোমবার টানা দুদিন বিকেলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে অবস্থান ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। এছাড়া দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও নিজ নিজ এলাকা থেকে এ কর্মসূচি পালন করেন।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বিকেলে সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের' ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর আগে ব্লকেড কর্মসূচিতে কয়েকঘণ্টা সড়ক অবরোধ করলেও বুধবার সকাল-সন্ধ্যা ব্লকেড কর্মসূচি দেন আন্দোলনকারীরা।

একইদিন কোটা বহাল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি হয়। শুনানির পর হাইকোর্টের দেওয়া রাইয়ে চার সপ্তাহের স্থিতাবস্থা জারি করেন আপিল বিভাগ। চার সপ্তাহ পর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হবে।


আরও খবর
মেট্রোরেল চলাচল পুরোপুরি বন্ধ

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




অবশেষে কারামুক্ত জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ, ফিরলেন নিজ দেশে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

অবশেষে যুক্তরাজ্যের কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। সোমবার (২৪ জুন) তিনি কারামুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজ দেশ অস্ট্রেলিয়ার বিমানে উঠেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে তিনি নিজ দেশে ফিরতে পারলেন। তবে এখানেই যুক্তরাষ্ট্র তার পিছু ছাড়ছে না।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, এক্স-এ বার্তা দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে উইকিলিকস। তাতে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের অত্যন্ত সুরক্ষিত বেলমার্শ কারাগার থেকে অ্যাসাঞ্জ মুক্ত হয়ে লন্ডনের স্ট্যানস্টেড বিমানবন্দরে ছুটে যান। সেখানে তার জন্য ফ্লাইট নির্ধারিত ছিল।

বিবিসি একটি ভিডিওর বরাত দিয়েছে। তাতে দেখা যায়, জিনস ও নীল শার্ট পরা অ্যাসাঞ্জ বিমানবন্দরের পথে রয়েছেন। তবে স্বাধীনভাবে ভিডিওটি যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলেও জানায় বিবিসি।

অস্ট্রেলিয়ায় জন্মগ্রহণ করা ৫২ বছর বয়সী অ্যাসাঞ্জ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস করে বীরের খেতাব পান। এতে চরম ক্ষিপ্ত যুক্তরাষ্ট্র তাকে শাস্তি দিতে মরিয়া হয়ে উঠে। তার বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা করা হয়। এগুলোর তদন্ত করছে মার্কিন বিচার বিভাগ। অপরদিকে অ্যাসাঞ্জ ও তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা আইনি লড়াই অব্যাহত রাখেন। তাকে নিজ দেশে ফেরাতে আন্তর্জাতিক কূটনীতিও চলেও। তবু বেলমার্শ কারাগারে ১ হাজার ৯০১ দিন আটক ছিলেন তিনি। এক পর্যায়ে তার দেশে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

এরই মধ্যে খবর আসে, মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অ্যাসাঞ্জ সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছেছেন। ফৌজদারি অপরাধের দোষ স্বীকার করায় অ্যাসাঞ্জকে কারামুক্ত করা হয়েছে। তাকে নিজে দেশে যাওয়ারও অনুমতি দেওয়া হয়। সমঝোতা চুক্তির শর্ত মতে অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে থাকতে হবে না। এমনকি যুক্তরাজ্যের কারাগারে থাকার সময়কালকে তার সাজা ভোগের সময় হিসেবেও বিবেচনা করা হবে।

২০১০ ও ২০১১ সালে ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ গোপন সামরিক-কূটনৈতিক নথি ফাঁস করে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাসাঞ্জ। ওই সময় পশ্চিমাবিরোধীরা তাকে বীরের খেতাব দেয়। তার পক্ষে দেশে দেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। কিন্তু তাতেও টলেনি যুক্তরাষ্ট্র। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, অ্যাসাঞ্জকে ক্ষমা করা হবে না। যেকোনো মূল্যে তাকে শাস্তি পেতে হবে।

মুক্তির শর্ত অনুযায়ী অ্যাসাঞ্জকে বুধবার সকালে ইউএস নিয়ন্ত্রণাধীন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল সাইপানের একটি আদালতে হাজির হতে হবে। সেখানে তাকে ইতিমধ্যে ঘোষিত ৬২ মাসের সাজা দেওয়া হবে।

অ্যাসাঞ্জ ২০০৬ সালে উইকিলিকস প্রতিষ্ঠা করেন। অল্প সময়ে এটি খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠে। বিশ্বব্যাপী প্রভাবশালী লোকদের গোপন নথি ও ভিডিও বেনামে প্রকাশ করতো প্রতিষ্ঠানটি। তাই একটি অনলাইন হুইসেলব্লোয়ার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে খ্যাতি পায় উইকিলিকস।


আরও খবর
আজ নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মদিন!

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪