আজঃ শনিবার ১৫ জুন ২০২৪
শিরোনাম

যত প্রভাবশালীই হোক, অপরাধ করলে সরকার সুরক্ষা দেবে না

প্রকাশিত:বুধবার ২৯ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২৯ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

কেউ অপরাধ করলে তিনি যত প্রভাবশালীই হোন না কেন সরকার তাকে সুরক্ষা দেবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

বুধবার (২৯ মে) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কলকারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে দুর্ঘটনা রোধ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণে জাতীয় কমিটির তৃতীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

সাবেক সেনাপ্রধান এবং পুলিশ প্রধানের অনিয়মের বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে। এ নিয়ে সরকার বিব্রত কি না এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, আমাদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্পষ্টভাবে বলেছেন, কেউ যদি আইন ভঙ্গ করেন‌, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সালমান এফ রহমান বলেন, এখানে সরকার বিব্রত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি না। আইন নিজের গতিতে চলবে। তিনি যেটা বলেছেন, লোকটা যতই ইনফ্লুয়েনশিয়াল (প্রভাবশালী) হোক না কেন, সরকার কোনোরকম প্রটেকশন কাউকে দেবে না। আইন নিজের গতিতে চলবে।

ভারতে বাংলাদেশের একজন সংসদ সদস্য খুন হওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, আমরা সবাই কিন্তু এটা নিয়ে খুবই শকড (ব্যথিত) হয়েছি। আপনারা জানেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন আছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমার মনে হয় এটার ওপর কমেন্ট করা ঠিক হবে না।

বাজেটের পর দ্রব্যমূল্যের ক্ষেত্রে নতুন কোনো অস্বস্তি তৈরি হবে কি না জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, এটা তো হাইপোথেটিক্যাল কোশ্চেন। বাজেট কী হবে, বাজেটের পরে কী হবে, আমরা সুস্থ থাকব নাকি অসুস্থ থাকব, সেটা তো বাজেট দেখার পর আমি উত্তর দিতে পারব।


আরও খবর



পাহাড়তলী-দোহাজারী ডুয়েলগেজ নির্মাণে ব্যয় হবে ১১ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশিত:সোমবার ১০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১০ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রাহুল সরকার, চট্টগ্রাম ব্যুরো

Image

চট্টগ্রামের দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথের সাথে ট্রেন চলাচলের সুফল পেতে পাহাড়তলী-ষোলশহর হতে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৪ কিলোমিটার মিটারগেজ (এমজি) রেলপথকে ডুয়েলগেজে উন্নীত করার কাজ শুরু হবে ২০২৫ সালে। তিন বছরের প্রকল্পে ২০২৮ সালে কাজ শেষ হবে। নবনির্মিত দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথের সাথে সঙ্গতি রেখে এই পথ ডুয়েলগেজ করার উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

এ প্রকল্পে ব্যয় বহুল নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা উপরে। প্রকল্পে সরকারের অর্থায়ন আছে ৩ হাজার ৭১১ কোটি টাকা, এডিবির ঋণ রয়েছে ৭ হাজার ৮৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের জন্য বেশিরভাগ জায়গা রেলওয়ে রয়েছে। তবে ৫৬ একর জায়গা রিকুজেশন করা হবে, এতে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সাথে নিরাপদ ও দ্রুতগতিসম্পন্ন নিরবচ্ছিন্ন রেল যোগাযোগ স্থাপনকল্পে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থেকে দোহাজারী পর্যন্ত বিদ্যমান মিটারগেজ রেলপথটি ব্রডগেজ রেললাইনে উন্নীতকরণের মাধ্যমে ট্রেনের গতিসীমা বৃদ্ধি এবং সেকশনাল ক্যাপাসিটি দৈনিক ২৬ জোড়া ট্রেনে উন্নীত করা হবে।

এ প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থেকে ঝাউতলা রেলস্টেশন পর্যন্ত ডাবল লাইন ডুয়েলগেজ বাইপাস ট্র্যাক নির্মাণ, চট্টগ্রামের ষোলশহর স্টেশন থেকে কালুরঘাট ব্রিজের সংযোগ সড়ক পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল ট্র্যাক নির্মাণ, গুমদণ্ডী থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ এবং ওই সেকশনের তিনটি রেলস্টেশন নতুন করে পুনঃনির্মাণ ও ১৪টি রেলস্টেশন সংস্কারকরণ করা হবে।

পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সাথে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ঢাকা-কক্সবাজার নিরবচ্ছিন্ন দ্রুতগতিসম্পন্ন ব্রডগেজ ট্রেন পরিচালনার জন্য চট্টগ্রাম-দোহাজারী সেকশনে বিদ্যমান মিটারগেজ ট্র্যাকটি ব্রডগেজে রূপান্তরসহ বিভিন্ন রেলস্থাপনা ও সিগন্যালিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন জরুরি হয়ে পড়ে। আর এটি বাস্তবায়নের ফলে ঢাকা থেকে কক্সবাজার নিরবচ্ছিন্নভাবে দ্রুতগতির ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে এবং এ অংশের সেকশনাল ক্যাপাসিটি (দৈনিক ২৬ জোড়া ট্রেন) বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও পাহাড়তলী-ঝাউতলায় বাইপাস নির্মাণ করা হচ্ছে তা বাস্তবায়ন হলে ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ট্রেনগুলোকে আর চট্টগ্রামে প্রবেশ করে অতিরিক্ত সময় অপচয় করতে হবে না। এতে এক ঘণ্টা রানিং টাইমও সাশ্রয় সম্ভব হবে। চট্টগ্রামের ষোলশহর থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত উচ্চগতির ট্যুরিস্ট এক্সপ্রেস ট্রেন ছাড়াও ঢাকা ও সিলেট এলাকা থেকে উচ্চগতির ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে ওই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে।

 প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানায়, দোহাজারী হতে কক্সবাজার পর্যন্ত নবনির্মিত নির্ধারিত ১০১ কিলোমিটার রেলপথটি সিঙ্গেল ট্র্যাক ডুয়েলগেজে নির্মিত হয়েছে। অন্যদিকে দোহাজারী হতে নগরীর পাহাড়তলী রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত রেলপথটি মিটারগেজে নির্মিত রেলপথটি ডুয়েলগেজে উন্নীত করতে উদ্যোগ নেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ।

গত ২০২৩ বছরের নভেম্বরে প্রকল্পটি সভায় অনুমোদন পায়। খুব শীঘ্রই প্রকল্পের টেন্ডার হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন চলাচলে জনসাধারণ সুফল ভোগ পেতে পাহাড়তলীষোলশহর হয়ে দোহাজারী পর্যন্ত মিটারগেজ (এমজি) রেললাইনকে ডুয়েলগেজে উন্নীত করা হবে। নির্মাণ কাজে ব্যয় হবে ১০ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা উপরে। উক্ত প্রকল্পে সরকারি অর্থায়ন রয়েছে ৩ হাজার ৭১১ কোটি টাকার উপরে। প্রকল্পে এডিবির ঋণ আছে ৭ হাজার ৮৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ তিন বছর। ২০২৫ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে, প্রকল্পের টেন্ডার হলেও কাজ শেষ হতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত লাগবে। পাহাড়তলীর ঝাউতলায় বাইপাস নির্মাণ করা হলে ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী যে ট্রেনগুলো চলাচল করছে তা আর চট্টগ্রাম স্টেশনে অতিরিক্ত সময় থাকতে হবেনা। ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী সবগুলো ট্রেন সরাসরি ঢাকা থেকে পাহাড়তলী হয়ে ঝাউতলা এবং ষোলশহর দিয়ে কক্সবাজার চলে যাবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ষোলশহর থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত উচ্চগতির ট্যুরিস্ট এক্সপ্রেস ট্রেন ছাড়াও ঢাকা ও সিলেট এলাকা থেকে উচ্চগতির ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

 উক্ত প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমগুলো হলো চট্টগ্রামের গোমদন্ডী-দোহাজারী মেইনলাইন রেলপথ ২৯ দশমিক ৩২ কিলোমিটার, পাহাড়তলীঝাউতলা বাইপাস রেলপথ ডুয়েলগেজ ডবল ট্র্যাক ৫ দশমিক ৫০ কিলোমিটার, লুপ ও অন্যান্য লাইন ১০ দশমিক ৮৮ কিলোমিটারসহ মোট ৬২ দশমিক ৮৮ কিলোমিটার ট্র্যাককে ডুয়েলগেজ রেললাইনে রূপান্তর করে  নতুন করে নির্মাণ করা।ষোলশহর থেকে কালুরঘাট ব্রিজের সংযোগ সড়ক পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডবল ট্র্যাক নির্মাণ ১৭ দশমিক ১৮ কিলোমিটার এবং ২৫ টি স্টেশন (পাহাড়তলী, ষোলশহর, পটিয়া, কাঞ্চননগর ও দোহাজারী) কম্পিউটার বেইজড ইন্টারলকিং (সিবিআই) সিগন্যাল ও ইন্টারলকিং পদ্ধতি চালু করা; তিনটি স্টেশন ভবন (পাহাড়তলী, ষোলশহর ও ঝাউতলা) পুনঃনির্মাণ এবং ১৪টি স্টেশন ভবনের সংস্কারকাজ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে । প্রকল্পের মধ্যে ২০টি মেজর ও ৬৮টি মাইনর ব্রিজ পুনঃনির্মাণ প্রক্রিয়া দিন রয়েছে।  প্রকল্পে ৩টি রেল ওভারপাস নির্মাণ করা হচ্ছে। ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক (ডিই) লোকোমোটিভও সংগ্রহ হবে জানায় কর্তৃপক্ষ।

নিউজ ট্যাগ: চট্টগ্রাম

আরও খবর



বাজেট: ট্যাক্স রিটার্ন ছাড়া করা যাবে না বিয়ের অনুষ্ঠান

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৬ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

ট্যাক্স রিটার্ন ছাড়া কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের অনুষ্ঠান করা যাবে না। কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের অনুষ্ঠান করতে বাধ্যতামূলক ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে।

বৃহস্পতিবার (৬ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন।

সাধারণত বিয়ে, বিবাহবার্ষিকী, জন্মদিন, গায়ে হলুদ, সুন্নতে খাতনাসহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সভা, সেমিনার, পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান করতে কমিউনিটি সেন্টার ও মিলনায়তন ভাড়া করা হয়। এখন থেকে বার্ষিক আয়কর রিটার্ন জমার রসিদ ছাড়া মিলনায়তন ভাড়া করা যাবে না।

বর্তমানে ৪৩ ধরনের সেবা পেতে রিটার্ন জমার রসিদ লাগে। এই তালিকায় মিলনায়তন ভাড়া, হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্ট, হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স নিবন্ধন ও নবায়নে রিটার্ন জমার বাধ্যবাধকতা যুক্ত হচ্ছে।

সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অঙ্গীকার প্রতিপাদ্যে নতুন বাজেটের আকার ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। আগামী ৩০ জুন বাজেট পাস হওয়ার কথা রয়েছে।


আরও খবর



কারিগরি বোর্ডের দুই পরীক্ষা স্থগিত

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

ঘূর্ণিঝড় রেমাল এর কারণে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের মঙ্গলবার (২৮ মে) অনুষ্ঠিতব্য দুইটি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

সোমবার কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. কেপায়েত উল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চলমান ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং ও ডিপ্লোমা-ইন-ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি শিক্ষাক্রমের ২৮ মে তারিখে অনুষ্ঠিতব্য সব পরীক্ষা ঘূর্ণিঝড় রেমাল এর কারণে স্থগিত ঘোষণা করা হলো। পরবর্তী পরীক্ষাগুলো যথারীতি চলমান থাকবে।

স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সূচি পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের একই বিজ্ঞপ্তিতে।


আরও খবর



সর্বজনীন পেনশন স্কিমের নিবন্ধন ৩ লাখ ছাড়ালো

প্রকাশিত:সোমবার ১০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১০ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

কার্যক্রম শুরুর ১০ মাসের মাথায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নিবন্ধন সংখ্যা ৩ লাখ ছাড়িয়েছে। সোমবার (১০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে পেনশন স্কিমে নিবন্ধনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩ হাজার ১৭৬ জন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শরীফ উদ্দিন গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে একটি টেকসই ও সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী সর্বজনীন পেনশন স্কিমের শুভ উদ্বোধন করেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্বোধনের পর হতেই জনকল্যাণকর এ কর্মসূচিতে মানুষের উল্লেখযোগ্য আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে, সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নিবন্ধন সংখ্যা ১০ মাসে ৩ লাখের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

বর্তমানে প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা নামে চারটি স্কিমে নিবন্ধনের সুবিধা চালু রয়েছে। এ চারটি স্কিমের মধ্যে সমতা স্কিমে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৬৪ জন, প্রগতি স্কিমে ২১ হাজার ২৯৪ জন, সুরক্ষা স্কিমে ৫৬ হাজার ৯১৯ জন এবং প্রবাস স্কিমে ৭৯৯ জন নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এতে চার স্কিমে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন ৩ লাখ ৩ হাজার ১৭৬ জন।

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, এরই মধ্যে ৮৭টি এনজিও প্রগতি স্কিমে নিবন্ধিত হয়ে তাদের কর্মচারীদের অনুকূলে সাবস্ক্রিপশন প্রদান করছে। ৫ম স্কিম হিসেবে প্রত্যয়'নামে নতুন স্কিম চালু করা হচ্ছে যা সব স্ব-শাসিত, স্বায়ত্তশাসিত, ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা ১ জুলাই ২০২৪ থেকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানে নতুন যোগদান করবেন তাদের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর হবে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ সর্বজনীন পেনশন স্কিম সম্পর্কে জনগণকে আগ্রহী করতে প্রচার-প্রচারনাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ, বেসরকারি সংস্থা, জনপ্রতিনিধি, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সুশিল সমাজের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ত করে কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে মাঠ প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ হতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে সভাপতি করে জাতীয় পর্যায়ে সর্বজনীন পেনশন কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ে সর্বজনীন পেনশন কার্যক্রমকে মনিটরিং ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও বাস্তবায়ন ও সমন্বয় কমিটি গঠন করে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের প্রয়োজনীন নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

সে অনুযায়ী বিভাগীয় পর্যায়ে সর্বজনীন পেনশন মেলা ও কর্মশালার আয়োজন করে সকল শ্রেণি-পেশার জনগণকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরইমধ্যে গত ১৯ এপ্রিল রাজশাহীতে এবং ৫ মে রংপুর বিভাগে বিভাগীয় পেনশন মেলা ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং জেলা পর্যায়ে সর্বজনীন পেনশন মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মাঠ প্রশাসনকে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার ফলে সম্প্রতি সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নিবন্ধন সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলশ্রুতিতে ৩ লাখ নিবন্ধনের এ মাইলফলক অর্জিত হয়েছে এবং সাবস্ক্রিপশন বাবদ মোট ৮৬ কোটি ৬৮ লাখ ৬৮ হাজার ৫০০ টাকা জমা হয়েছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আরও জানানো হয়েছে, এরই মধ্যে নিবন্ধনকারীদের অর্থ থেকে সরকারি ট্রেজারি বন্ডে ৬২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।

সর্বজনীন পেনশন কার্যক্রমে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের (ইউডিসি) উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সর্বজনীন পেনশন কার্যক্রমে সক্রিয় সহযোগিতা করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রবাস স্কিমে নিবন্ধন প্রত্যাশিত পরিমাণে আনয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ দূতাবাস সমূহের কূটনৈতিক শাখা ও শ্রম উইং শাখার সঙ্গে জুম প্ল্যাটফর্মে সভা করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া প্রবাস স্কিমে অংশগ্রহণে আগ্রহ সৃষ্টির জন্য জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বিপুল সংখ্যক তথ্যবহুল ফ্লায়ার বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোত পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে ২টি সরকারি ও ২টি বেসরকারি ব্যাংক এবং একটি মোবাইল ফাইন্যান্সিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নিবন্ধনসহ মাসিক জমা আদায়ে সম্পৃক্ত আছে। এর আওতা আরো বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার ফলে আরো ৪টি সরকারি ও ৪টি বেসরকারি ব্যাংক ও ১টি মোবাইল ফাইন্যান্সিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান খুব শিগগির এ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হবে।

এতে করে নিবন্ধন ও মাসিক জমা পরিশোধ সেবা জনগণের জন্য অধিকতর সহজলভ্য হবে। এ প্রক্রিয়ায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমে জনগণের অংশগ্রহণের হার আরো দ্রুততর হবে, যা প্রধানমন্ত্রীর এ বিশেষ জনকল্যাণকর কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে সহায়ক হবে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।


আরও খবর



স্মার্ট স্কুল বাস পরিচালনায় বিআরটিসির সঙ্গে জিপিএইচের সমঝোতা চুক্তি

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৭ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৭ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রাহুল সরকার, চট্টগ্রাম ব্যুরো

Image

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের স্মার্ট স্কুল বাস পরিচালনায় বিআরটিসি ও জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের মধ্যে সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। আগামী দুই বছর স্মার্ট স্কুল বাস এর স্পন্সর হিসাবে থাকছে জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড। এই দুই বছরে তারা ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা অনুদান দিবেন। যা থেকে বাসের ড্রাইভার স্টাফদের বেতন ছাড়াও জ্বালানী খরচসহ বাসগুলোর সকল ধরনের মেইনটেনেন্স খরচ বহন করা হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে ১০টি স্মার্ট স্কুল বাস পরিচালনায় এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয় ।

এতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাদি উর রহিম জাদিদ, জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের উপদেষ্টা কর্নেল (অব.) মো: শওকত ওসমান ও উপদেষ্টা মোহাম্মদ ওসমান গনি (মিডিয়া), চট্টগ্রা। বিআরটিসি ম্যানেজার মো. জুলফিকার আলী, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনারগণ, স্মার্ট স্কুল বাস মনিটরিং টিমের নুরুল আজিম রনি, টেকনলজি পার্টনার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।

 সমঝোতা স্মারকে বিআরটিসি সাবডিপোর ম্যানেজার জুলফিকার আলী এবং জিপিএইচ ইস্পাতের উপদেষ্টা শওকত ওসমান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মো: ফখরুজ্জামান বলেন, এসব বাসে নগরীর পাঁচটি সড়কে ছাত্র-ছাত্রীরা যাতায়াত করতে পারবেন । বাসগুলোতে স্মার্ট টেকনোলজি, জিপিএস ট্যাকার, ক্যামেরা, এআই ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের স্কুল যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাসে ওঠা-নামার সময় অভিভাবকের ফোনে স্বয়ংক্রিয় এসএমএস প্রদান, বাসে শিক্ষার্থীদের অবস্থান মনিটরিং এবং স্বল্প খরচে স্কুল কলেজে যাওয়া আসা নিশ্চিত করা হয়েছে। আগামীতে চাহিদা অনুযায়ী ক্রমান্বয়ে বাসের সংখ্যাও বাড়ানো হবে

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ হিসেবে সমৃদ্ধ নগর, উন্নত গ্রাম, প্রযুক্তির ছোঁয়ায় স্মার্ট চট্টগ্রাম- স্লোগান সামনে নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রোগ্রাম কর্তৃক পরিচালিত দেশের জেলাগুলোর উদ্ভাবনী কার্যক্রমভিত্তিক প্রতিযোগিতা স্মার্ট ডিস্ট্রিক্ট ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ-২০২৩ এর আওতায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের স্মার্ট স্কুলবাস নামক উদ্ভাবনী উদ্যোগটি প্রথম পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের ১০টি দ্বিতল স্কুল বাস ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে নগরীতে চলাচল করছে। আধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত এ সকল স্মার্ট স্কুল বাসে যে কোন স্কুলের শিক্ষার্থীরা নাম মাত্র ৫  টাকা ভাড়ায় যে কোন দূরত্বে চলাচল করতে পারেন। জিপিএস ট্র্যাকার, জিআইএস প্রযুক্তি, আইপি ক্যামেরা ছাড়াও এ বাসে ডিজিটাল হাজিরা ডিভাইস আছে। যেখানে শিক্ষার্থীরা কার্ড চাপ দিলেই অভিভাবকদের মোবাইলে চলে যাচ্ছে খুদে বার্তা। ফলে অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে পারছেন।

নিউজ ট্যাগ: চট্টগ্রাম

আরও খবর