আজঃ বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২
শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি: বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩১ মার্চ ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ৩১ মার্চ ২০২২ | ৬৯০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার একটি তিনতলা বাড়ির খোঁজ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ঘটনায় এস কে সিনহা ও তার ভাই অনন্ত কুমার সিনহার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) দুদকের উপপরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান মামলাটি দায়ের করেন।

দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২ লাখ ৮০ হাজার ডলার অর্থাৎ প্রায় আড়াই কোটি টাকা দিয়ে সিনহা তার ভাইয়ের নামে ২০১৮ সালের ১২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ১৭৯, জ্যাপার স্ট্রিট, প্যাটারসন নিউ জার্সি ০৭৫২২ এলাকায় তিন তলাবিশিষ্ট বাড়িটি কেনেন। এস কে সিনহা প্রধান বিচারপতি থাকার সময় অপরাধলব্ধ অর্থ হুন্ডিসহ বিভিন্ন কায়দায় আমেরিকায় পাচার করেন। পরে তার ছোট ভাই অনন্তর অ্যাকাউন্টে এসব অর্থ ট্রান্সফার করেন।

দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, এস কে সিনহা প্রধান বিচারপতি থাকাকালে বিভিন্নভাবে অর্জিত অর্থ হুন্ডিসহ বিভিন্ন অবৈধ পন্থায় আমেরিকায় পাচার করে তার ছোট ভাই নরেন্দ্র কুমার সিনহার হিসাবে ট্রান্সফার করেন। তা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ২ লাখ ৮০ হাজার ডলার নগদ প্রদান করে বাড়িটি ক্রয় করেন। যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় এবং ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অপরাধ হওয়ায় মামলা রুজু করা হয়।

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সিনহার ছোট ভাই অনন্ত কুমার সিনহা যুক্তরাষ্ট্রে ডেন্টিস্ট হিসেবে কর্মরত। আমেরিকার একটি ব্যাংক থেকে ৩০ বছরের জন্য ঋণ নেন ১ লাখ ৮ হাজার ৭৫০ ডলার।তারপর ১ লাখ ৪৫ হাজার ডলার দিয়ে একটি বাড়ি কেনেন তিনি। ২০১৮ সালের ১২ জুন ২ লাখ ৮০ হাজার ডলার নগদ অর্থ দিয়ে আরেকটি বাড়ি কেনেন তিনি।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, অর্থ পাচারের অভিযোগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এস কে সিনহার সম্পদের তথ্য চেয়ে চিঠি দেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান। এ চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রে এস কে সিনহার তিনতলা বাড়ির রেকর্ডপত্র হাতে আসে দুদকের।

রোববার (২৭ মার্চ) এ বিষয়ে রেকর্ডপত্রের বরাত দিয়ে দুদকের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, এস কে সিনহা তার ছোট ভাই অনন্ত কুমার সিনহার মাধ্যমে বাড়ি কেনার অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এছাড়া ২০২১ সালের ৭ অক্টোবর ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজউকের প্লট বরাদ্দ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এস কে সিনহার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। মামলায় তার বিরুদ্ধে ৭ কোটি ১৪ লাখ টাকার সম্পদ বেনামে অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।


আরও খবর



৬৫ দিন সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত:রবিবার ২৪ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৪ এপ্রিল ২০২২ | ৪৪৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

আগামী ২০ মে থেকে ৬৫ দিন অর্থাৎ ২৩ জুলাই পর্যন্ত সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। রোববার (২৪ এপ্রিল) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আ ন ম নাজিম উদ্দীন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়।

গেজেটে বলা হয়, সামুদ্রিক মৎস্য আইন ২০২০-এর ধারা ৩-এর উপধারা (২)-এর ক্ষমতাবলে বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় মাছের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসই মৎস্য আহরণের জন্য প্রতিবছরের মতো এ বছরও আগামী ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন সব ধরনের মৎস্য নৌযান কর্তৃক যেকোনো প্রজাতির মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ করা হলো। যথাযথ কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে এই গেজেট জারি করা হলো।


আরও খবর



নওগাঁয় গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে রসালো ফল কাঁঠাল

প্রকাশিত:বুধবার ১১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১১ মে ২০২২ | ৪৩০জন দেখেছেন

Image

নওগাঁ প্রতিনিধি:

নওগাঁয় গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে গ্রীষ্ম মৌসুমের বেশ জনপ্রিয় পুষ্টিগুণ সম্পন্ন রসালো জাতীয় ফল কাঁঠাল। যদিও পুরো পাকা পুক্ত কাঠাল হওয়ার সময় বাঁকী রয়েছে ২ মাস।

প্রবাদ আছে গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল- জ্যৈষ্ঠ মাসে এ কথাটি আর কথার কথা থাকে না। গাছে কাঁঠাল দেখলে এ কথা সবাই বলতেই পারে। বর্তমানে জেলার প্রতিটি উপজেলায় গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে রসালো ফল কাঁঠাল। আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাড়ির পাশে, রাস্তার ধারে, জঙ্গলের ভেতরে থাকা গাছে ধরেছে প্রচুর পরিমানে কাঁঠাল। গাছের গোঁড়া থেকে আগা পর্যন্ত শোভা পাচ্ছে সর্বোচ্চ পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এই ফল।

খাদ্য শষ্য ভান্ডার হিসেবে নওগাঁ জেলা বিখ্যাত হলেও এখানকার মানুষের অতি প্রিয় ফল ও তরকারি হিসেবে কাঁঠাল যুগ যুগ ধরে কদর পেয়ে আসছে। কাঁঠালের বিচি এখানকার মানুষের একটি ঐতিহ্যপূর্ণ তরকারি। বিশেষ করে কাঠালের বিচ দিয়ে শুটকি ভর্তা অত্যন্ত প্রিয় সকলের। বিভিন্ন ধরনের শাক ও কাঁঠালের বিচির সমন্বয়ে রান্না করা তরকারি এখানকার মানুষ তৃপ্তির সঙ্গে ভাত খেতে পারেন। তাছাড়া গবাদিপশুর জন্যও কাঁঠালের ছাল উন্নতমানের গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এক প্রকারের সবুজ রঙের সুমিষ্ট গ্রীষ্মকালীন ফল। এটি বাংলাদেশের জাতীয় ফল হিসাবে সরকারীভাবে নির্ধারিত। বাংলাদেশের সর্বত্র কাঁঠাল গাছ পরিদৃষ্ট হয়। কাঁঠাল গাছের কাঠ আসবাবপত্র তৈরির জন্য সমাদৃত। কাঁঠাল পাতা বিভিন্ন প্রাণীর পছন্দের খাদ্য। তুলনামূলকভাবে বিশালাকার এই ফলের বহির্ভাগ পুরু এবং কান্টকাকীর্ণ, অন্যদিকে অন্তরভাগে একটি কান্ড ঘিরে থাকে অসংখ্য রসালো কোয়া। কাঁঠালের বৃহদাকার বীজ কোয়ার অভ্যন্তরভাগে অবস্থিত।

বহুগুণ সমৃদ্ধ এ কাঁঠাল এখানকার হাট-বাজারে এখনও উঠতে শুরু করেনি। তবে জ্যৈষ্ঠের শেষ ও আষাঢ় মাসের শুরু থেকে এখানকার হাট-বাজারে কাঁঠাল কেনাবেচা শুরু হবে এমনটি ধারণা কাঁঠাল ব্যবসায়ীদের।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কেএম কাউছার হোসেন বলেন, এ উপজেলায় তেমন একটা কাঁঠালের বাগান নেই তবে দিন দিন বাড়ছে। তিনি আরো বলেন গত বছরের তুলনায় এ বছর উপজেলায় কাঁঠাল ভালো হয়েছে। দিন দিন উপজেলার মানুষের মাঝে কাঁঠালের চারা রোপনের আগ্রহ বাড়ছে।

নিউজ ট্যাগ: কাঁঠাল নওগাঁ

আরও খবর



ইউক্রেনের একাধিক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করল রাশিয়া

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৫ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৫ মে ২০২২ | ৩৩৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

জাপোরিঝিয়া পরমাণু কেন্দ্রের দখল নিয়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন জায়গা জুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিল রাশিয়া। ওই পরমাণু কেন্দ্রের দখল নেওয়ার পর আন্দ্রেই ভ্লাদিমির শেফচিককে তার দায়িত্ব দিয়েছে ক্রেমলিন। আন্দ্রেই বলেছেন, এই পরমাণু কেন্দ্র থেকে ইউক্রেনের বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তবে পূর্ব ইউক্রেনের সমস্ত রাশিয়া অধিকৃত অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।

জাপোরিঝিয়া পরমাণু কেন্দ্রের অবস্থান দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের এনেরহোদার শহরে ডিনিপার নদীর কাছে কাখোভকা জলাধারের তীরে। ডনবাস অঞ্চল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার এবং রাজধানী কিভের ৫৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এই পরমাণু কেন্দ্র ইউক্রেনের অন্যতম বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র।

জাপোরিঝিয়া পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে মোট ছটি চুল্লি রয়েছে। সাধারণত এটি ইউক্রেনের এক-পঞ্চমাংশ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। এ ছাড়াও এই পরমাণু কেন্দ্র থেকে দেশের মোট পারমাণবিক শক্তির অর্ধেকই উত্পাদিত হয়। তাই এই পরমাণু কেন্দ্র হাতছাড়া হওয়ার পর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের সরকারি কর্মকর্তারাও। গত মার্চ মাসে ইউক্রেনের কয়েকটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, কিভ-মস্কো সঙ্ঘাতে ব্যাপক রুশ গোলাবর্ষণের কারণে জাপোরিঝিয়া পারমাণু কেন্দ্র ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, রাশিয়ার একনায়ক প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বারবার দাবি জানিয়েছেন, তিনি ইউক্রেনে যুদ্ধ নয়, সামরিক অভিযান চালাচ্ছেন। কিন্তু তিনি যে কোনও মুহূর্তে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন বলে নিশ্চিত পশ্চিমী দুনিয়া। পুতিনের সামরিক অভিযানের ঠেলায় ইতিমধ্যেই বিপর্যস্ত ইউক্রেনে হাজারো মানুষ বলি হয়েছেন।

এর পর আবার সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করলে ইউক্রেনকে আরও ভয়াবহতার মুখোমুখি হতে হবে বলেও মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ভাবে যুদ্ধ ঘোষণার জন্য পুতিন আগামী ৯ মে দিনটিকে বেছে নিতে পারেন বলেও একটি সূত্রের দাবি।


আরও খবর



ইউক্রেনে এক-তৃতীয়াংশ রুশ স্থলসেনা নিহতের দাবি যুক্তরাজ্যের

প্রকাশিত:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ২০০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

যুক্তরাজ্যের সামরিক গোয়েন্দারা দাবি করেছেন, ইউক্রেনে এক-তৃতীয়াংশ স্থলসেনা হারিয়েছে রাশিয়া। এ ছাড়া দোনবাস অঞ্চলে রুশ বাহিনী যে হামলা চালাচ্ছে, তাতে রাশিয়া অবস্থান হারিয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে এসব দাবি করে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, আগামী এক মাসে নাটকীয়ভাবে এ অবস্থার পরিবর্তন হবে বলে মনে হয় না।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, শুরুর দিকে কিছুটা অগ্রগতি হলেও রাশিয়া গত এক মাসে অনেক এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

এই সময়ে ধারাবাহিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে রুশ বাহিনীর। গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পাঠানো রাশিয়ার স্থলসেনাদের এক-তৃতীয়াংশ প্রাণ হারিয়েছে।’

এদিকে যুক্তরাজ্যের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ক্রিস্টোফার স্টেলি দাবি করছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের শরীর ভালো নেই। তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।


আরও খবর



এপ্রিলে সড়কে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি মোটরসাইকেলে

প্রকাশিত:রবিবার ০৮ মে ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৮ মে ২০২২ | ৪৫০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

গত এপ্রিল মাসে সারাদেশে ৪২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৪৩ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৭ জন নারী ও ৮১ জন শিশু। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৬১২ জন। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ছিল ঈদযাত্রার সময়। এ মাসে সড়কে সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারিয়েছেন মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী। ১৮৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২০৬ জন, যা এপ্রিলে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট মৃত্যুর ৩৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় এপ্রিলে প্রতিদিন গড়ে নিহত হয়েছেন ১৮ জন। এর আগের মাস মার্চে প্রতিদিন গড় মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৯ জন। এ হিসাবে মার্চের তুলনায় এপ্রিলে প্রাণহানি কমেছে ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ। তবে এটা উন্নতির কোনো টেকসই সূচক নির্দেশ করে না। দুর্ঘটনায় ৪৩১ জন ১৮-৬৫ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষ নিহত হয়েছেন।

‘রোড সেফটি ফাউন্ডেশন’র এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এ সংস্থাটি দেশের সাতটি জাতীয় দৈনিক, পাঁচটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন করেছে। শনিবার (৭ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিবেদনের তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার পরই বেশি হতাহত হয়েছেন সাধারণ পথচারী। এপ্রিলে নিহতদের মধ্যে পথচারী ১১৬ জন, যা মোট নিহতের ২১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৮৭ জন, যা মোট নিহতের ১৬ শতাংশ। এসময়ে ছয়টি নৌ-দুর্ঘটনায় আটজন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ হয়েছেন ছয়জন। রেলপথে দুর্ঘটনা ঘটেছে ২১টি। এতে মৃত্যু হয়েছে ২৩ জনের। আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন।

এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় বাসের যাত্রী নিহত হয়েছেন ১৩ জন, যা একমাসে মোট নিহতের ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি আরোহী নিহত হয়েছেন ৬৩ জন, যা মোট নিহতের ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ। মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-পুলিশের গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে নিহত হয়েছেন ১৪ জন, যা মোট মৃত্যুর ২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-মিশুক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১০০ জন, যা মোট মৃত্যুর ১৮ দশমিক ৪১ শতাংশ।

নসিমন-ভটভটি-আলমসাধু-টমটমের ১৯ যাত্রী নিহত হয়েছেন, যা মোট মৃত্যুর ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এছাড়া বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যানের ১২ জন আরোহী নিহত হয়েছেন, যা মোট মৃত্যুর ২ দশমিক ২০ শতাংশ।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৮৭টি সংঘটিত হয়েছে জাতীয় মহাসড়কে, যা এপ্রিলের মোট দুর্ঘটনার ৪৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ। আঞ্চলিক মহাসড়কে ঘটেছে ১২৩টি দুর্ঘটনা, যা মোট দুর্ঘটনার ২৮ দশমিক ৮০ শতাংশ। গ্রামীণ সড়কে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৬৫টি, যা মোট দুর্ঘটনার ১৫ দশমিক ৪২ শতাংশ, শহরের সড়কে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪৬টি, যা মোট দুর্ঘটনার ১০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আর অন্যান্য স্থানে ছয়টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা আলোচিত মাসের মোট দুর্ঘটনার ১ দশমিক ৪০ শতাংশ।

এসব দুর্ঘটনা ৮৪টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৬৭টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১১৩টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়া, ৫২টি যানবাহনের পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়া এবং ১১টি অন্যান্য কারণে সংঘটিত হয়েছে। দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ৭৫৭টি। এরমধ্যে ট্রাক ১৪৪, বাস ৭৯, কাভার্ডভ্যান ২৬, পিকআপ ৫৮, ট্রলি ৯, লরি ১০, ট্রাক্টর ১৭, তেলবাহী ট্যাঙ্কার তিনটি, গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্যাঙ্কার একটি, ডিএনসিসির ময়লাবাহী ট্রাক একটি, ড্রাম ট্রাক সাতটি, মাইক্রোবাস ১৭, প্রাইভেটকার ১৪, অ্যাম্বুলেন্স তিনটি, পুলিশ জিপ একটি, মোটরসাইকেল ১৯৭, থ্রি-হুইলার ১১৬। এছাড়া স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৪৩ এবং বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যান ১১ টি।

বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এপ্রিলে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ মাসে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৩০ দশমিক ৬৭ শতাংশ ঢাকা বিভাগে। এপ্রিলে সড়কে প্রাণহানির ২৮ দশমিক ৭২ শতাংশ ঢাকায়। মোট দুর্ঘটনার ১২ দশমিক ৪১ শতাংশ রাজশাহী বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ২৪ দশমিক ১২ শতাংশ, খুলনায় ১০ দশমিক ৭৭ শতাংশ, বরিশালে ৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ, সিলেটে ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ, রংপুরে ৬ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং ময়মনসিংহে ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী। এপ্রিলে সড়কে প্রাণ ঝরেছে ৬৩ জন শিক্ষার্থীর। এছাড়া রাজনৈতিক নেতা ১২ জন, ব্যবসায়ী ৩১ জন, শিক্ষক ১৩ জন, পুলিশ সদস্য চারজন, সেনাসদস্য একজন, র‌্যাব সদস্য একজন, বিজিবি সদস্য একজন, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য দুজন, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য একজন, চিকিৎসক দুজন, সাংবাদিক তিনজন, আইনজীবী চারজন, প্রকৌশলী দুজন, সংগীত শিল্পী একজন, ব্যাংক কর্মকর্তা ৯ জন, এনজিও কর্মকর্তা ১১ জন, ওষুধ ও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বিক্রয় প্রতিনিধি ১৯ জন, পোশাকশ্রমিক সাতজন, চালকল শ্রমিক দুজন, ইটভাটা শ্রমিক চারজন, ধানকাটা শ্রমিক ছয়জন, মাটিকাটা শ্রমিক চারজন।

যেসব কারণে দুর্ঘটনা: সংস্থাটি বলছে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতার কারণে সড়কে বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণ ও যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএ’র সক্ষমতার ঘাটতি, গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

নিউজ ট্যাগ: সড়ক দুর্ঘটনা

আরও খবর