আজঃ মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

কয়রায় বাঁধ ভেঙে ২০ গ্রাম প্লাবিত

প্রকাশিত:সোমবার ২৭ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৭ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
তারিক লিটু, কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি

Image

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে খুলনার কয়রা উপজেলার ৩টি জায়গার বাঁধ ভেঙে অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ভেসে গেছে শতাধিক চিংড়ির ঘের, ভেঙে গেছে কয়েকশ কাঁচা ঘরবাড়ি ও দোকানপাট। এ ছাড়া রাতজুড়ে ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের তাণ্ডবে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পাউবো সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে জোয়ারের তীব্র চাপে মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের সিংহেরকোণা, মহারাজপুর ইউনিয়নের দশহালিয়া ও দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাল গাজীর বাড়ির সামনের বাঁধ ভেঙে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, বাঁধের দুর্বল অংশের ওই ৩টি স্থানে প্রায় ১৫০ মিটার ভেঙে নদীর নোনা পানিতে প্লাবিত হয়েছে এলাকা। এ ছাড়াও বাঁধের নিচু কয়েকটি জায়গা ছাপিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এসব জায়গায় এলাকার মানুষ রাতভর মেরামত কাজ চালিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেনি।

মহারাজপুরের ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, রোববার রাতের জোয়ারের চাপে ইউনিয়নের দশহালিয়া এলাকায় প্রায় ৫০ মিটার বাঁধ ভেঙে কপোতাক্ষ নদের পানি ঢুকে পড়েছে। এতে অন্তত দুটি গ্রাম ও কয়েকশ চিংড়ির ঘের তলিয়ে গেছে।

মহেশ্বরীপুরের ইউপি চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারি বলেন, ইউনিয়নের সিংহেরকোণা এলাকায় বাঁধ ভেঙে গেছে। এ ছাড়া নয়ানি এলাকার বাঁধের নিচু জায়গা ছাপিয়ে সারারাত পানি ঢুকেছে। এতে অন্তত ৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া অসংখ্য চিংড়ির ঘের ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। ঝড়ের তাণ্ডব ও ভারী বৃষ্টিতে কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে শতাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী জানান, তার ইউনিয়নের মাটিয়াভাঙ্গা এলাকায় রাতের জোয়ারে বাঁধের কিছু অংশ ভেঙে গেছে। এতে ৫-৭টি গ্রামে নদীর পানি ঢুকেছে। এ ছাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় নিচু বাঁধ ছাপিয়ে পানি প্রবেশ করেছে এলাকায়।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম তারিক উজ জামান বলেন, কয়েকটি স্থানে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে খবর পেয়েছি। এ ছাড়া ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার তাণ্ডবে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জেনেছি।


আরও খবর



‘খালেদা জিয়ার সময় বন্যায় ১ লক্ষের বেশি লোক মারা গিয়েছিলো’

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
মশিউর রহমান রাহাত, পিরোজপুর

Image

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, আপনাদের মনে করিয়ে দেই যারা নতুন প্রজন্ম তারা হয়তো জানেন না ১৯৯১ সালে তৎকালীন সময় বিএনপি ক্ষমতায় ছিলো। বিএনপির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। সেই ৯১ এর বন্যায় খালেদা জিয়ার আগাম প্রস্তুতি না নেওয়ায় ১ লক্ষ ৩৮ হাজার লোক মারা গিয়েছিলো। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি ১ লক্ষ ৩৮ হাজার লোক বন্যায় মারা গিয়েছিলো। একই কবরের ভিতরে ৪-৫ জন করে পুতে রাখা হয়েছিলো। গরু-মহিষ নদীর ভিতর ভেসে গিয়েছিলো। শুধু মাত্র প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি না নেয়ার কারণে এই ভয়ঙ্কর ক্ষতি হয়েছিলো।

তিনি আজ বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সকালে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলা অডিটরিয়ামে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, আইলা, সিডর, বুলবুল, রেমাল অনেক প্রকৃতিক দুর্যোগ এসেছে। আমাদের সরকার প্রতিটি দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি এমন ভাবে নিয়েছেন যাতে মানুষ, জীব, গৃহপালিত পশু ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। আমাদের আগাম প্রস্তুতির কারণে কিন্তু ভয়ঙ্কর কোন ক্ষতি হয়নি। এটা একজন সফল রাষ্ট্র নায়কের সুচিন্তিত পরিকল্পনার কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে। এখানেই পার্থক্য শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য সরকারের প্রধানমন্ত্রী যারা ছিলেন তাদের মধ্যে। যে কিভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয় এটা রাষ্ট্র নায়কদের জানতে হয়। আর শেখ হাসিনা সেটা জানেন।

পিরোজপুর সদর উপজেলা অডিটরিয়ামে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় হতে বরাদ্দ প্রাপ্ত মানবিক সহয়তা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য ঢেউটিন ও নগদ অর্থের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।


আরও খবর



সাতসকালে রাজধানীতে ঝুম বৃষ্টি, বিপাকে পরীক্ষার্থীরা

প্রকাশিত:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সাতসকালে মুষলধারে ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়েছে রাজধানী ঢাকায়। মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি কিছুটা বিরতি নিয়ে এখন কমবেশি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঝরছে। বৃষ্টিতে সড়কে যানবাহন কম চলাচল করায় বিপাকে পড়েছেন ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়া চাকরিপ্রার্থীরা।

বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ু মাঝারি থেকে প্রবল অবস্থায় রয়েছে জানিয়ে আবহাওয়া অফিস বলছে, দেশের সব বিভাগেই আজ শুক্রবার বজ্রসহ বৃষ্টি হবে। কোথাও কোথাও হতে পারে ভারি বর্ষণও।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মধ্যরাত থেকেই ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। আবার তা কিছুটা সময় থেমে থাকে। এরপর ভোর ৫টার দিকে আবারও মাঝারি আকারে বৃষ্টি ঝরতে শুরু করে। সকাল সাড়ে ৮টার সময় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে রাজধানীতে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় পথে মানুষজন কম। অধিকাংশ সড়কেই নেই যানবাহনের চাপ। এরমধ্যেও যারা বের হয়েছেন তারা ছাতা নিয়ে, না হয় ভিজে ভিজে গন্তব্যে যাচ্ছেন।

তবে বেশি বিপাকে পড়েছেন ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়া চাকরিপ্রার্থীরা। সকাল ৯টা থেকে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে অনেকে বাসা থেকে বের হতে পারেননি। কেউ কেউ বের হলেও সড়কে পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকায় বিপাকে পড়ছেন। এই সুযোগে সিএনজি-রিকশাচালকরা ভাড়া দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন। বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়ায় গন্তেব্যে যেতে হচ্ছে যাত্রীদের।

ঢাকার ধামরাই থেকে মিরপুর বাংলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে এসেছেন বদরুল আমিন। সাথে ছাতা না থাকায় টেকনিক্যাল মোড় থেকে বাংলা কলেজ গেট পর্যন্ত যেতে রিকশা চালক তার কাছে ৫০ টাকা ভাড়া চেয়েছেন । বাধ্য হয়ে ওই টাকায়ই তিনি কেন্দ্র পর্যন্ত গিয়েছেন বলে জানান। বলেন, বৃষ্টির কারণে তার মতো প্রায় সবারই ভুগতে হয়েছে।

এদিকে পথাচারী ছিন্নমূল মানুষ অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন মেট্রোরেলের পিলার ও বিভিন্ন স্থাপনার নিচে। এরমধ্যেও অনেকে বসে থাকতে পারেননি। জীবিকার তাগিদে ভিজে ভিজেই নেমে পড়তে হয়েছে কাজে।

এই বৃষ্টিতে ঢাকার অনেক এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতার। বিশেষ করে নিচু এলাকায় ড্রেন ভরে উপচে পানি জমেছে রাস্তায়। এছাড়া বৃষ্টিতে বঙ্গবাজার এলাকার রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের সব বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় দেশের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড়বৃষ্টি ও ভারি বর্ষণের প্রবণতা রোববার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে বর্ধিত ৫ দিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে।


আরও খবর



কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি সোয়া লাখ মানুষ

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৫ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জেলা প্রতিনিধি

Image

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সোয়া লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। শত শত ঘরবাড়ি পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। এতে বন্যাদুর্গতরা উঁচু স্থানে ও ফ্লাড সেন্টারে অবস্থান নিয়েছেন। এ দিকে বন্যা আক্রান্ত হওয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ মাদরাসার পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।

শুক্রবার (৫ জুলাই) ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ভোরে নুনখাওয়া পয়েন্টে ৭২, চিলমারী পয়েন্টে ৭৮ ও হাতিয়া পয়েন্টে ৮০ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এ নদের প্রবাহ অববাহিকার ৬টি উপজেলার সোয়া লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি কয়েক হাজার ঘরবাড়ি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যার কারণে ৩৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসার পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ২ হাজার ৩শ হেক্টর ফসলি জমি নিমজ্জিত রয়েছে। বানভাসিদের সহায়তায় ইউনিয়ন পর্যায়ে ৮৩টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন থেকে ৫শ টন চাল ও ২০ লাখ টাকা বিতরণের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাতিয়া পয়েন্টে ৭৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও ধরলা নদীর পানি ৪ সেন্টমিটার কমে ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়াও জেলার ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমা চিলমারী নৌবন্দর পয়েন্টে ৭১ সেন্টমিটার এবং নুনখাওয়া পয়েন্টে ৬৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধির ফলে বিপাকে পরেছে বানভাসি মানুষ। তারা ছুটছে আশ্রয়ের খোঁজে। বেশিরভাগ বানভাসি মানুষ নৌকার মধ্যে রাত্রিযাপন করছে। সরকারি প্রশাসন থেকে দুর্গতদের পাশে দাঁড়ালেও এখনও সবার কাছে পৌঁছেনি সরকারি সহায়তা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত পাঁচ দিন ধরে নদনদীগুলোতে অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধির ফলে গরু-ছাগল, সহায়-সম্পদ ও সন্তানদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বানভাসি মানুষ। ঘরের ভেতর পানি প্রবেশ করায় যাদের নৌকা আছে তারা নৌকায় আশ্রয় নিয়েছে। যাদের নৌকা নেই তারা ঘরের ভেতর মাচা ও চৌকি উঁচু করে সেখানেই আশ্রয় নিয়েছেন। রান্নাবান্না করে সেখানেই থাকছেন। আশেপাশে যত উঁচু বাড়ি ও ফ্লাড শেল্টার রয়েছে, সেখানে আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন বানভাসি মানুষ।

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের বালাডোবা গ্রামের হামিদা জানান, বাড়িঘরে পানি ওঠায় বাচ্চাদের নিয়ে খুব বিপদে আছি। অনেক কষ্টে চৌকির উপরে রান্না করছি। আনাজ তরকারি ডুবে যাওয়ায় বেশি কিছু রাঁধতে পারছি না। একই গ্রামের হামিদুল জানান, বন্যায় গরুবাছুর নিয়ে খুব বিপদে আছি। পানিতে রইছে গরু। ঠিকমতো খাবার দিতে পারছি না।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের কালির আলগা গ্রামের হাসনা বেগম বলেন, পুরো ঘরের ভেতর পানি। থাকতে না পেরে ছোট নৌকায় আশ্রয় নিয়েছি। কিছু রান্নাও করতে পারছি না। ছেলেমেয়ে নিয়ে আমরা খুব বিপদে আছি।

বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার, কচাকাটা, নারায়নপুর, বেরুবাড়ী, বামনডাঙ্গা, নুনখাওয়া, সদর উপজেলার যাত্রাপুর, ঘোগাদহ, পাঁচগাছী, মোগলবাসা, উলিপুর উপজেলার হাতিয়া, বেগমগঞ্জ, সাহেবের আলগা, চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ, চিলমারী সদর, রমনা, অস্টমীরচর, রৌমারী উপজেলার বন্দবের, চর শৌলমারী, দাঁতভাঙ্গা, যাদুরচর এবং চর রাজীবপুর উপজেলার কোদালকাটি, মোহনগঞ্জ ও চর রাজিবপুর ইউনিয়নে বন্যা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।

কুড়িগ্রাম খামারবাড়ীর উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, চলমান বন্যায় ২ হাজার ৩শ হেক্টর ফসলি জমি নিমজ্জিত হয়েছে। বিশেষ করে পাট, রোপা আমন বীজতলা, আউশ ধান, শাক সবজি, তিল, তিসি, চিনা, কাউন ফসল তলিয়ে গেছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরিফ বলেন, বন্যা মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বন্যা আক্রান্ত মানুষের মাঝে শুকনো খাবারসহ চাল, ডাল, তেলসহ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা চলমান রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বানভাসিদের নৌকা, স্পিডবোট নিয়ে আসা হচ্ছে। একাধিক টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।


আরও খবর



বেনজির ইস্যুতে আইজিপি, ব্যক্তির দায় নেবে না পুলিশ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০২ জুলাই 2০২4 | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০২ জুলাই 2০২4 | অনলাইন সংস্করণ
রাজশাহী প্রতিনিধি

Image

ব্যক্তির দুর্নীতির দায় পুলিশ বাহিনী নেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। মঙ্গলবার (২ জুলাই) রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ৩২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে উদ্বোধনের পর গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

পুলিশ সদস্যদের দুর্নীতির প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, ব্যক্তির দুর্নীতির দায় পুলিশ বাহিনী নেবে না। যে প্রক্রিয়ায় এটির তদন্ত হচ্ছে সেভাবেই এটি শেষ হবে। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোনো বিষয়কেই আমরা খাটো করে দেখি না।

পার্বত্য চট্টগ্রামে কুকিচিনের বিষয়ে আইজিপি বলেন, সেনাবাহিনীর সঙ্গে পুলিশ বাহিনী এক হয়ে কাজ করছে। সেখানে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক।

এর আগে পুলিশের মহাপরিদর্শক রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কার্যালয়ে বেলা পৌনে ১১টায় এসে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন। এ সময় একটি গাছ রোপণ করেন। পরে যোগ দেন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রায়।

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আনিসুর রহমানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজশাহীর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী পুলিশ লাইন্স মাঠে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করার কথা রয়েছে তার।


আরও খবর



পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে মহাসড়কে জাবি শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

Image

সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করে সংসদে আইন পাসের এক দফা দাবিতে বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি শুরুর সময় পুলিশের বাঁধার মুখে পড়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা। এসময় পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর দুইটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ব্যাপক সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রধান ফটকের সামনে এসে পুলিশের বাঁধার মুখোমুখি হলেও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছে তারা।

এসময় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আরিফ সোহেল বলেন, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আমাদের অবরোধ কর্মসূচি চলবে। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আমরা আমাদের কর্মসূচি চলমান রাখব। আশা করি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সহযোগিতা করবেন।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্ ও ট্রাফিক, উত্তর বিভাগ) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী বলেন, গত কয়েকদিনের টানা অবরোধে উত্তরবঙ্গগামী মানুষদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। যেহেতু আদালতের রায় শিক্ষার্থীদের পক্ষে এসেছে। আদালতের পক্ষ থেকে তাদের কাছে এক মাসের সময় চাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা আশা করি আদালতের প্রতি সম্মান রেখে তারা তাদের অবরোধ কর্মসূচির মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকবেন। শিক্ষার্থীরা চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যেতে পারেন।


আরও খবর
আরও ৩ দিনের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪