আজঃ মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

বন্যায় ভাসছে সোমালিয়া, নিহত বেড়ে ১০০

প্রকাশিত:রবিবার ২৬ নভেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:রবিবার ২৬ নভেম্বর ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

পূর্ব আফ্রিকার দেশ সোমালিয়ায় ভারী বৃষ্টি এবং বন্যায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ১০০তে পৌঁছেছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সোনা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর রয়টার্সের।

সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সোমালিয়ায় বন্যায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ জন নিহত হয়েছে। দেশটির বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান মাহামুদ মোয়ালিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পূর্ব আফ্রিকার অন্যান্য দেশ এবং হর্ন অব আফ্রিকার মতো সোমালিয়াতেও অক্টোবরে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। এতে বিভিন্ন দেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন>> পাকিস্তানে শপিংমলে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ৯

সোমালিয়ায় গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের এক হিসেব অনুযায়ী, প্রায় ৭ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে।

তীব্র বর্ষণের কারণে সারা দেশেই ব্যাপক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেখানে বছরের বছর ধরে চলা বিদ্রোহের কারণে পরিস্থিতি এমনিতেই খারাপ ছিল। তার মধ্যে তীব্র বৃষ্টি-বন্যায় মানবিক সংকট আরও তীব্র হচ্ছে এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে।

কেনিয়ার রেড ক্রস জানিয়েছে, প্রতিবেশী কেনিয়ায় বন্যায় এ পর্যন্ত ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া রাস্তা ও সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়, খাবার এবং পানির তীব্র সংকটে পড়েছেন।


আরও খবর
আজ নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মদিন!

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




রাবিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি

প্রকাশিত:রবিবার ৩০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ৩০ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আসিক আদনান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

Image

সরকারি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা পুনর্বহাল বাতিল এবং সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবি জানিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

রোববার (৩০ জুন) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে এ দাবি জানান তারা। এ ছাড়াও সরকারি চাকরিতে বা জীবনে একবার কোটা ব্যবহার করতে পারবে কোটাধারী শিক্ষার্থীরা এমন দাবিও জানান তারা।

'দেশটা নয় পাকিস্তান, কোটা হোক অবসান', 'জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্র সমাজ জেগেছে',' ছাত্র সমাজ ভাই ভাই, কোটা ছাড়া চাকরি চাই', 'অন্যায় কোটায় নিয়োগ পেলে, দুর্নীতি বাড়ে প্রশাসনে, বৈষম্যের বিরুদ্ধে, লড়াই করো একসাথে','৭১র হাতিয়ার, গর্জে উঠো আরেকবার' এসময় এমনসব কোটাবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেয় তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শফিকুর ইসলাম বলেন, হাইকোর্টের এ রায় হচ্ছে যুক্তিহীন ও বৈষম্যমূলক। কানাডায় কোনো কোটা পদ্ধতি নেই, মাত্র ৫% কোটা আছে পাশের দেশ চীন ও ভারতে। বাংলাদেশের এতো উন্নয়নশীল দেশ হয়েও ৫৬% কোটা দিচ্ছে যা চরম বৈষম্য। আমরা দ্রুত কোটা সংস্কার চাই।

বায়োকেমেস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহিম রেজা বলেন, "কোটা বাতিল হোক এমনটা আমরা চাইনা। কারণ কোটার বিষয়ে সংবিধানো উল্লেখ রয়েছে। তেমনি সংবিধানে এটাও উল্লেখ রয়েছে যে, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা থাকবে। সমাজের দৃষ্টিতে যারা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী নয় তাদেরকে কোটার আওতাভুক্ত করা সংবিধান বহির্ভূত। আমরা চাই অতিদ্রুত কোটা পদ্ধতি সংস্কার করে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স এন্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আমান উল্লাহ খান বলেন, "আমরা কোটা সংস্কার না, কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি। আমরা দুই দফা দাবি আদায়ে এ আন্দোলনে নেমেছি। প্রথমত, একটি প্যানেল গঠনের মাধ্যমে ৫৬ শতাংশ কোটা থেকে সংস্কার করে ১০ শতাংশ কোটা রাখার দাবি জানাচ্ছি। দ্বিতীয়ত, কোটাধারী শিক্ষার্থীরা জীবনে একবার কোটা ব্যবহার করতে পারবে। একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ক্ষেত্রে কোটা ব্যবহার করলে চাকরিতে আর কোটা ব্যবহার করতে পারবে না। কোটায় যদি কোনো যোগ্য পার্থী না পাওয়া যায় তাহলে মেধা দিয়ে তা পূর্ণ করতে হবে। আমাদের এ দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কোটা আন্দোলন চলমান থাকবে।"

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী এ অবস্থান কর্মসূচিতে অবস্থান নেন।


আরও খবর
আরও ৩ দিনের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




মতিঝিলে মন্দিরের জমি উদ্ধারে জেলা প্রশাসনের অভিযান

প্রকাশিত:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

ব্রিটিশ আমল থেকে দখলে থাকা রাজধানীর মতিঝিলের টয়েনবি সার্কুলার রোডের প্রায় ৩০ শতাংশ জমি উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন।

শনিবার (১৩ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহামুদুল হাসানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের নেতারা জানান, শ্রী শ্রী লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরের জায়গাটি দীর্ঘ দিন ধরে হাত বদল হয়ে বিভিন্ন পক্ষের দখলে ছিল। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়।

এ আবেদনের পর তদন্ত করে জায়গাটি হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় জেলা প্রশাসন বলেও জানান তারা।


আরও খবর



কয়রায় নির্মাণ হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন গুচ্ছগ্রাম

প্রকাশিত:বুধবার ০৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ০৩ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
তারিক লিটু, কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি

Image

খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ মদিনাবাদ গ্রামে আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ৪৯টি দৃষ্টিনন্দন সেমি পাকা ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। সাড়ে ৪ একর জমির উপর পরিকল্পিত ডিজাইনের দৃষ্টিনন্দন গুচ্ছগ্রাম দেখতে হাজির হচ্ছে এলাকার মানুষ।

দৃষ্টিনন্দন এই গুচ্ছগ্রামে প্রতিটি ঘর নির্মাণের জন্য ৩ লাখ ৫ হাজার টাকা বরাদ্দে দুটি কক্ষ, একটি রান্নাঘর ও একটি বাথরুম আছে। উপজেলায় যে কয়টি গুচ্ছগ্রাম আছে তারমধ্যে মদিনাবাদে নির্মাণধীন গুচ্ছগ্রামটি সব দিক দিয়ে গুনে মানে সেরা। উপজেলা সদরে আশ্রয়ণ প্রকল্পটি নির্মিত হওয়ায় সব ধরণের আধুনিক সুযোগ সুবিধা পাবে গুচ্ছগ্রামের মানুষেরা।

বুধবার (৩ জুলাই) দুপুরে মদিনাবাদ গুচ্ছগ্রামে সরেজমিন গেলে চোখে পড়ে, সারি করে সাজানো রঙিন টিনের ঘর। প্রতিটি ঘরের সাথে রয়েছে উন্নতমানের শৌচাগার ও রান্না ঘর। দুই কক্ষ ঘরে একটি পরিবার সুন্দন ভাবে থাকতে পারবে। লাল ও নীল রংয়ের টিনের ঘর দেখে মনে হবে, যেন পরিপাটি সাজানো একটি গ্রাম। গুচ্ছগ্রাম নির্মাণে সবচেয়ে ভাল মানের ইট ও উন্নতমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। কাগজে সর্বোনিম্ন ০.৩২০ মিমি ঘনত্বের টিন ব্যবহার করার কথা থাকলেও ব্যবহার করা হয়েছে সর্বোচ্চ মানের ০.৩৬০ মিমি ঘনত্বের টিন।

গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের কাজের দায়িক্তে থাকা কামরুল ইসলাম জানান, প্রকল্পের নিয়ম মেনেই কাজ করা হচ্ছে। কোন অনিয়মের সুযোগ নেই। সদরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হওয়ায় প্রকল্পের সভাপতি এক দিন পর পর এসে সব কিছু চেক করে দিক নির্দশনা দিয়ে যান। শুরুকে কিছু ঘরের বেস ঢালাই ভাল না হওয়ায় সেগুলো ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে কাজ করছি।

সরকারের এই প্রকল্পে অসহায় ভূমিহীন মানুষের জীবন বদলে যাবে বলে মনে করছেন কয়রা উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভাপতি মাস্টার খায়রুল আলম। তিনি বলেন আমি খোঁজ নিয়েছি গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পটিতে সুন্দর ভাবে কাজ শেষের পথে।নির্মাণ কাজে কোন অভিযোগ নেই। গুচ্ছগ্রামে আশ্রয় পাবে এলাকার ভূমিহীন দিনমজুর, ভিক্ষুক পরিবার। যাদের ঘর করার সামর্থ্য নেই। এমন সুন্দর ঘর পেয়ে হত-দরিদ্র মানুষেরা খুব খুশি হবে। এতে সরকার, ইউএনওর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিরা প্রশংসিত হবেন।


আরও খবর



আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে বরদাশত করা হবে না: ডিএমপি কমিশনার

প্রকাশিত:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেছেন, আদালতের আদেশ মেনে চলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গজনিত কোনো কার্যক্রম যদি কেউ করে তবে সেটি বরদাশত করা হবে না।

শুক্রবার (১২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্যাব চত্বরে আয়োজিত ওয়ালটন-ক্র্যাব স্পোর্টস ফেস্টিভ্যাল ও ফল উৎসব অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের ওপর এক মাসের স্থিতাবস্থা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বিষয়টি আদালতের। আদালতের প্রতি সবার আস্থা রাখা উচিত। আদালতের আদেশ মেনে চলার জন্য বাধ্য-বাধকতা রয়েছে। সেটি সবার করা উচিত বলে মনে করি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ডিএমপি কমিশনার বলেন, পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি ক্র্যাব ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিতে পুলিশকে সহায়তা করেন সাংবাদিকরা। এজন্য সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বিকল্প নেই। সাংবাদিকরা সব সময় সত্য প্রকাশে সচেতন ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেন এবং সেটি নিশ্চিত করার জন্য কাজ করেন।

ক্র্যাব সভাপতি কামরুজ্জামান খান আজকের বৈরী আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতা উপেক্ষা করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ায় সব সাংবাদিক ও অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, বরাবরের মতো এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে ক্র্যাব স্পোর্টস ফেস্টিভ্যাল ও ফল উৎসব উদযাপন হচ্ছে।

ক্র্যাবের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম মানিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি শুকুর আলী শুভ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক ও ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি খায়রুজ্জামান কামাল, ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক পারভেজ খান, সাবেক সভাপতি আবুল খায়ের, সাবেক সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল, সাবেক সভাপতি ইশারফ হোসেন ইসা প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির সিনিয়র নির্বাহী পরিচালক এফ এম ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন) ও ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির সিনিয়র উপ নির্বাহী পরিচালক মো. রবিউল ইসলাম মিলটন।


আরও খবর
মেট্রোরেল চলাচল পুরোপুরি বন্ধ

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




হালদা মৎস্য প্রজননক্ষেত্র ধ্বংসের জন্য দায়ী মানবসৃষ্ট দূষণ

প্রকাশিত:রবিবার ৩০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ৩০ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

Image

চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীতে সম্প্রতি বেড়েছে মা মাছ ও ডলফিনের মৃত্যুর ঘটনা। হালদায় দূষণের ফলে গত এক সপ্তাহের মধ্যে ৫টি মৃত মাছ ও ১টি ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছে।

সম্প্রতি হালদায় মানবসৃষ্ঠ ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড জন্য মরছে মা মাছ ও ডলফিন বলে জানিয়েছেন হালদা গবেষকরা।

তারা জানায়, হালদা সরাসরি ফেলা হচ্ছে ট্যানারীর বিষাক্ত বর্জ্য ও অন্যান্য শিল্পকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য, পোল্ট্রি বর্জ্য, গৃহস্থালী, মানববর্জ্য, হালদা ও শাখা খালে অবৈধভাবে জাল, বঁড়শি ও বিষ ব্যবহার করে মাছ নিধন, অবৈধ বালু উত্তোলন ইত্যাদি। এতে হালদা নদীকে মা মাছ, ডলফিন ও অন্যান্য জলজ প্রাণির নিরাপদ আবাসস্থল দূষিত পানি জন্য প্রায় হাজার একর জমি নষ্ট হয়ে গেছে।

রবিবার (৩০ জুন) হালদা নদীর আজিমারঘাটে একটি মৃত কাতলা মা মাছ ভেসে ওঠে। মাছটির দৈর্ঘ্য ১১৮ সেমি. ও ওজন প্রায় ১৯ কেজি ৩০০ গ্রাম।

হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গত ২৮ জুন হালদা নদীর উত্তর মাদার্শার কুমারখালী ঘাটে একটি মৃত কাতলা মা মাছ ও সুলতানা বাপের ঘাটে আরেকটি মৃত কাতলা মা মাছ ভেসে ওঠে। বিগত এক সপ্তাহে হালদা নদী থেকে ৫টি মৃত মা মাছ ও ১টি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছে। যা হালদা নদীর জলজ বাস্তুতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। এমতাবস্থায় হালদা নদীকে মা মাছ, ডলফিন ও অন্যান্য জলজ প্রাণির নিরাপদ আবাসস্থল করতে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আগে এক সময় হালদায় প্রতিমাসে কমপক্ষে দুই তিনটি অভিযান হত, যা এখন আর চোখে পড়ছে না।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিসার্চ অ্যান্ড ল্যাবরেটরির হিসাব অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে হালদা নদীতে ৪৩টি ডলফিন এবং ২৫-৩০টি বড় মা মাছের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মা মাছ ও ডলফিনের মৃত্যুর পেছনে মূলত শনাক্ত করা হচ্ছে- আঘাত, শ্বাসকষ্ট ও দূষণ।

এদিকে, হালদা নদীর প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও মানবসৃষ্ট দূষণ, বিষ প্রয়োগ, মাছ ডিম ছাড়া নিয়ে তদারকি করা হবে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা চট্টগ্রামের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ।

তিনি বলেন, হালদা নদীর দূষণ নিয়ে আমরা হাটহাজারী উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ময়েদুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এরপর দূষণের কারণ নির্ধারণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাটহাজারী উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ময়েদুজ্জামানকে বলেন, আমরা সম্প্রতি হালদায় নদীতে মা মাছ ও ডলফিন মৃত্যুর খবর পাচ্ছি। প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও মানবসৃষ্ট দূষণে মূলত হালদা নদীতে মাছের মৃত্যু ঘটনা ঘটছে মনে করছি। হালদায় মানবসৃষ্ট জন্য জন্য নদীর পানি দূষণ হচ্ছে।

হালদা নদীর প্রকল্প পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, সম্প্রতি আবারও বেড়েছে মা মাছ ও ডলফিনের মৃত্যুর ঘটনা। গত এক সপ্তাহে নদীতে মৃত মা মাছ  ডলফিন ভেসে উঠেছে, যা উদ্বেগজনক। হালদার দূষণ নিয়ে মৎস্য দপ্তর থেকে থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে তারপর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র হালদা নদী। ৯৮ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীটির জলজ প্রাণি রক্ষায় সরকার ২০০৭ সালে নদীর কর্ণফুলীর মোহনা থেকে ফটিকছড়ি, নাজিরহাট পর্যন্ত এলাকাকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে। ২০১৮ সালে নদীর সব স্থানে বালুর ইজারা মহাল তুলে নিয়ে বালু উত্তোলন এবং বালুবাহী ড্রেজার, যান্ত্রিক নৌ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এসব উদ্যোগের কারণে মা মাছের মৃত্যু কমে এসেছিল।


আরও খবর