আজঃ বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪
শিরোনাম

জানাজা ও জুমার নামাজ থেকে মোবাইল চুরি করত চক্রটি

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

রাজধানী ও আশপাশের জেলায় জুমার নামাজ ও জানাজায় অংশ নিতো সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সদস্যরা। তাদের টার্গেট থাকতো মুসল্লিদের পকেটের দিকে। সময় বুঝে পকেট থেকে মোবাইল ও টাকা হাতিয়ে চম্পট দিতো চক্রটি। এমনই একটি চোর চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) সদস্যরা।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, তারা হলেন- মো. বাহাউদ্দিন হোসেন মিজি ওরফে বাহার, রমজান আলী, মো. হামিম আহমেদ ওরফে হামিম, মো. আতিকুল ইসলাম, মো. পারভেজ হাসান, মো. মাসুদুর রহমান ওরফে মাসুদ, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. ফয়সাল আহমেদ রনি ও মো. মিল্লাত হোসেন। চক্রটি পায়জামা, পাঞ্জাবি ও টুপি পরে জুমার নামাজ ও জানাজা থেকে মোবাইল ফোন চুরি করতো।

গত বুধবার রাতে রাজধানীর চাঁনখারপুল, জুরাইনের বিক্রমপুর প্লাজা ও বুড়িগঙ্গা সেতু মার্কেট, যমুনা ফিউচার পার্কসহ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল রাজধানীর বারিধারায় এটিইউ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির পুলিশ সুপার (অপারেশনস) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন।

গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ৩টি ল্যাপটপ, একটি মনিটর, ৭টি মোবাইল, কম্পিউটার ও ল্যাপটপ সামগ্রী এবং মোবাইলের আইএমইআই পরিবর্তনের কাজে ব্যবহৃত ১৬টি ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। চক্রটি পায়জামা, পাঞ্জাবি ও টুপি পরে জানাজা ও জুমার নামাজ থেকে মোবাইল ফোন চুরি করতো। গতকাল রাজধানীর বারিধারায় এটিইউ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির পুলিশ সুপার (অপারেশনস) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতরা ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলোর বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, ওয়াজ মাহফিল এবং জানাজাসহ জনসমাগমস্থল থেকে মোবাইল ফোন চুরি করে। এরপর চোরাই মোবাইলের আইএমইআই পরিবর্তন করে কেনাবেচা করে। চক্রটির সদস্যরা অনলাইনের মাধ্যমে ঢাকা ও এর আশপাশে কোনো জানাজা আছে কিনা তা খুঁজতে থাকে। কোনো জানাজার সন্ধান পাওয়ার পর তারা খোঁজ-খবর নিতে থাকে সেখানে কেমন মানুষের সমাগম হতে পারে। এ কাজের সাংকেতিক নাম দেয় বডিকাজবডিকাজ বলতে তারা বুঝায় লাশের কাজ, মানে জানাজার কাজ। জানাজার স্থান নির্ধারণ হওয়ার পর তারা সেখানে পায়জামা, পাঞ্জাবি ও টুপি পরে যায়। সেখানে গিয়ে তারা গ্রুপে গ্রুপে বিভক্ত হয়ে যায়।

প্রতিটি গ্রুপে তিনজন করে সদস্য থাকে। এই গ্রুপের সদস্যরা জানাজার ভিড়ের মধ্যে কৌশলে একজনের পকেটে থেকে মোবাইল চুরি করে গ্রুপের দ্বিতীয় সদস্যকে দেয়। দ্বিতীয় সদস্য মোবাইলটি আবার তৃতীয় আরেকজনকে দেয়। মোবাইল হাতে পাওয়ার পর তৃতীয় ব্যক্তি জানাজার স্থান ছেড়ে চলে যায়। পকেট থেকে মোবাইলটি যে চুরি করে তাকে বলা হয় মহাজন। জানাজা ছাড়াও চক্রটির টার্গেটে থাকত শুক্রবারের জুমার নামাজ। শুক্রবার যেসব মসজিদে বেশি মানুষ জুমার নামাজ আদায় করতে আসেন, সেসব মসজিদে চক্রটির সদস্যরা তিনজনের গ্রুপ করে অবস্থান নিত। জুমার নামাজের কাতারে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে একই কায়দায় মোবাইল চুরি করে নিয়ে যায় তারা। মসজিদের এই চুরিকে তারা মসজিদ কাম বলে থাকে। জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে চক্রটির সব থেকে বেশি গ্রুপ সক্রিয় থাকে বায়তুল মোকাররম মসজিদে।

এটিইউ কর্মকর্তা ছানোয়ার আরও বলেন, চোরাই মোবাইল গ্রুপগুলোতে থেকে সংগ্রহ করত চক্রের সদস্য বাহার। তার একজন মোটরসাইকেল চালক আছে। যে বাহারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গ্রুপগুলো থেকে মোবাইল সংগ্রহ করে। বাহার পরে মোবাইলগুলো গ্রেফতার মাসুদের কাছে পাঠিয়ে দিত। গ্রেফতার মাসুদের কাজ হচ্ছে চোরাই মোবাইলগুলো নির্দিষ্ট দোকানে পৌঁছে দেওয়া। তদন্তে এমন তিনটি দোকানের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। দোকানগুলো হলো, জুরাইনের বিক্রমপুর প্লাজার এসআই টেলিকম যার মালিক গ্রেফতার সাইফুল, জুরাইনের সেতু মার্কেটের ফয়সাল টেলিকম যার মালিক গ্রেফতার ফয়সাল ও যমুনা ফিউচার পার্কের চতুর্থ তলার একটি দোকান যার মালিক গ্রেফতার মিল্লাত। এ দোকানগুলোতে চলত টেকনিক্যাল ও মোবাইল বিক্রির কাজ। প্রথমে মোবাইলগুলোর আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করা হতো। তারপর মোবাইলগুলোর প্যাটার্ন লক খোলা হতো। সর্বশেষ মোবাইল থেকে ল্যাপটপের মাধ্যমে ফ্লাশ দিয়ে বিক্রি করা হতো।


আরও খবর



দোহারে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

প্রকাশিত:সোমবার ০৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ০৩ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নাজনীন শিকদার (দোহার-নবাবগঞ্জ)

Image

ঢাকার দোহার উপজেলায় পানিতে ডুবে জান্নাত নামে আড়াই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৩ জুন) দুপুরে উপজেলার ইউসুসপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত জান্নাত ইউসুসপুর এলাকার মো.শরিফ ও ফাতেমা দম্পতির একমাত্র মেয়ে।

শিশুটির পরিবার জানান, দুপুরে বাড়ির আঙ্গিনার পুকুর পাড়ে শিশুটি খেলা করতে থাকে। খেলা করার এক পর্যায়ে শিশুটির খেলনা পুকুর পাড়ে পড়ে যায়। পরে পুকুর পাড়ে খেলনা আনতে গিয়ে শিশু জান্নাত পুকুরে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর সন্তানকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তারা। কোথাও না পেয়ে বাড়ির পুকুর পাড়ে পানির মধ্যে উপুড় হয়ে থাকা অর্ধেক ডুবন্ত অবস্থায় শিশু জান্নাতকে দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রতিবেশি মো. মানিক হোসেন বলেন, শিশুটি বাড়ির আঙ্গিনায় পুকুরপাড়ে বসে খেলতে গিয়ে পড়ে যায়। আমরা খবর পেয়ে বাড়িতে এসে দেখি বাচ্চাটা মারা গেছে। পরিবারের ব্যস্ততার কারণে নজর না রাখায় শিশুটির এমন মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বর্ষাকাল আসছে, তাই যেসব পরিবারের ছোট ও সাঁতার না জানা শিশু আছে সেসব পরিবারের লোকজনকে আরো বেশি সচেতন ও সতর্ক হতে হবে।


আরও খবর



রাবিতে এক রাতে হলের চার কক্ষে ছাত্রলীগের লঙ্কাকাণ্ড

প্রকাশিত:রবিবার ২৬ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৬ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আসিক আদনান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

Image

হলের সিট নিয়ে নেতিবাচক শিরোনামে সারাবছরই আলোচনায় থাকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। রুম ওয়ার্ক ও জয় বাংলা ব্লাড সার্ভিসের মত নানা নামে হলের শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করে রাজনৈতিক ভাবে দুর্বল ও মাস্টার্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সিট ছেড়ে চলে যেতে চাপ দেওয়া হয়। কাউকে বের করে দেওয়া হয় জোরপূর্বক।

গতকাল রাতে (২৫ মে) শনিবার মাদার বক্স হলের ৪টি কক্ষে ঘটে লঙ্কাকাণ্ড। প্রথম ব্লকের ৪১৭ নম্বর রুমে এক শিক্ষার্থীকে নামিয়ে নিজকর্মীকে তুলে দেওয়া, ২য় ব্লগের ৩১৯ নম্বর কক্ষে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী, একই ব্লকের ৩২৫ নম্বর ও ৩য় ব্লকের ৩৪৯ নম্বর কক্ষে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত মার্কেটিং বিভাগের দুই আবাসিক শিক্ষার্থীকে ডাবলিং করে থাকার হুমকি দেওয়া হয়। এসব ঘটনা ঘটে হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মিশকাত হাসানের নেতৃত্বে। তিনি সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ-হিল-গালিবের অনুসারী।

প্রায় ৭ বছর পর ছাত্রলীগের এই শাখাটির কমিটি ঘোষণা পর ক্যাম্পাসে প্রথম প্রবেশ করে সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ-হিল-গালিব সিট বাণিজ্য বন্ধ করার ঘোষণা দেন।

এসময় রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছিলেন, এই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি সমস্যার নাম সিট বাণিজ্য। আজকে আমি রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা দিচ্ছি যদি আমাদের কোনো নেতাকর্মী সিট বাণিজ্যের সাথে নিজেকে যুক্ত করে, তাহলে হয় সে ছাত্রলীগ করবে, নয়তো আমি ছাত্রলীগ করব। আজ থেকে সিট বাণিজ্যের কবর রচনা ঘোষণা করলাম।

কিন্তু নতুন কমিটির সেই বক্তব্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে সাময়িক স্বস্তি দিয়েছিল তবে বর্তমানে তার কার্যকারিতা হারিয়েছে শিক্ষার্থীদের মাঝে। প্রতিনিয়ত হলের সিট দখল, শিক্ষার্থীদের নামিয়ে দেওয়া ও এক সিটে ডাবলিং করে থাকার হুমকি-ভয় দেখানোর অভিযোগ নৈমিত্তিক ঘটনা।

ভুক্তভোগী ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও মার্কেটিং বিভাগের আবাসিক শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করে। এক পর্যায়ে নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, আমরা এখনো হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। আমাদের মাস্টার্সের থিসিস এখনো বাকি আছে। অনেকের নিয়মিত ক্লাস হয়। একাডেমিকভাবে খুব চাপে আছি। এমন অবস্থায় আমাদের ডাবলিং করে থাকতে বলা হয়েছিল। আমরা সাধারণ সম্পাদক গালিব ভাইয়ের সাথে কথা বলে একটা সমাধানে এসেছি। আপাতত আমাদের কক্ষে হয়তো ডাবলিং করে থাকতে হবে না৷ কিন্তু ভয় বা একটা আতঙ্ক-শঙ্কা তো থেকেই যায়। 

এ বিষয়ে হল ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মিশকাত হাসান বলেন, আমি ভেবেছিলাম তাদের মাস্টার্স শেষ। তারা শীঘ্রই হল থেকে চলে যাবে। তাই তাদের রুমে কিছু জুনিয়ারদের থাকতে বলেছিলাম। সবার সাথে কথা বলে আমি বুঝতে পেরেছি তারা এখনই হল ছেড়ে যাচ্ছেন না। তাই এখন আর কেউ তাদের রুমে যাবে না।

হলের ১ম ব্লকের ৪১৭ কক্ষের সোহেল আল মাহমুদ নামে এক শিক্ষার্থীকে নামিয়ে আরেক জনকে তুলে দেওয়া হয়। ছাত্রলীগ নেতার অভিযোগ সে অনাবাসিক। তার হল কার্ড নেই।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, তিনি ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর থেকে হলের সিটে থাকছেন। অসংখ্যবার প্রাধ্যক্ষ বরাবর অনুরোধ ও আবেদন জমা দিয়েছেন হলের কার্ড করার জন্য। তখন প্রাধ্যক্ষ তাকে কার্ডের বিষয়ে আশ্বস্ত করেন এবং হলে থাকার মৌখিক অনুমতি দেন। কয়েকদিন আগে ছাত্রলীগ নেতা মিশকাত হাসান তার রুমে এসে দেখেছে কার্ড আছে কিনা এবং বলেছিল দ্রুত করে নিতে। প্রাধ্যক্ষ গত রবিবারে পুনরায় দেখা করতে বললেও শনিবার রাতে তার সিটে আরেকজনকে তুলে দেন হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছাত্রলীগের এই নেতা। তবে নতুন যাকে সিটে তুলে দেওয়া হয়েছে সেও কাউকে তার হল কার্ড দেখাতে পারেনি।

হল প্রশাসনের দায়িত্ব পালন করার অধিকার তার আছে কিনা জানতে চাইলে ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত এই নেতা বলেন, এই বিষয়ে হল প্রভোস্ট আছে। আমার সভাপতি-সেক্রেটারি আছে তাদের জিজ্ঞেস করেন। 

শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ-হিল-গালিবের কাছে একাধিকবার ফোন ও সরাসরি যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে মাদার বক্স হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. রোকনুজ্জামান বলেন, এরকম কোন দায়িত্ব কাউকে দেওয়া হয়নি। হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের দায় হল প্রশাসন নিবে তবে অনাবাসিক শিক্ষার্থীর দায় হল প্রশাসন নিবে না।

সার্বিক বিষয়ে এই হল প্রাধ্যক্ষ আরও বলেন, হলের কোন আবাসিক শিক্ষার্থী আমার কাছে কোন অভিযোগ করেনি। কেউ অভিযোগ না করলে তো আমরা কোন ব্যবস্থা নিতে পারি না। অভিযোগ আসলে আমরা খুব দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করব।


আরও খবর



গাজায় ইসরায়েলি হামলা: ৬৪ ফিলিস্তিনি নিহত

প্রকাশিত:রবিবার ১৯ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৯ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায়  ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অনেকে। শনিবার (১৮ মে) গাজায় অবস্থানরত আলজাজিরার প্রতিনিধি এ তথ্য জানিয়েছেন।

শুক্রবার (১৭ মে) হামাসের ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী তাদের হামলা জোরদার করেছে।

সংবাদ সংস্থা ওয়াফা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় রাফার মধ্যাঞ্চলের জাবালিয়া আল-বালাদ এলাকার আবু হাশেম’ ভবনে ইসরায়েলি বোমা হামলার পর উদ্ধারকর্মীরা সেখান থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে।

গাজার উত্তরাঞ্চলে কামাল আদওয়ান হাসপাতালের কাছে একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি হামলায় ২৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আরও ডজন খানেক ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে।

উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের দরজায় জড় হওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ১২ ফিলিস্তিনি নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছে।

জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের পশ্চিমে ফালুজাহে পানি নিতে আসা ফিলিস্তিনিদের ওপর আর্টিলারি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে আট জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছে।

মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি হামলায় পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরে একটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে চারজনকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী। খান ইউনিসের পূর্বে আবাসান আল-কাবিরা শহরের আল-ফারাহিনে হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছে। উত্তরপশ্চিম রাফাহে একটি গাড়িতে ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছে।

ইসরায়েরি সামরিকবাহিনী উত্তর গাজায় নতুন করে হামলা চালাবে। তাই সেখানে থেকে ফিলিস্তিনিদেরকে অবিলম্বে সরে যাওয়ার আদেশ দিয়েছে। তারা রাফায় তাদের স্থল অভিযানও আরও বাড়াচ্ছে।

ইউনাইটেড ন্যাশনস রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্কস এজেন্সি ফর প্যালেস্টাইন রিফিউজি ইন দ্য নেয়ার ইস্ট (ইউএনআরডব্লিউএ) এর প্রধান ফিলিপ লাজারিনির মতে, ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী ৬ মে থেকে রাফাহতে তাদের স্থল অভিযান শুরু করার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮ লাখ ফিলিস্তিনিকে রাফাহ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করেছে। উত্তর গাজায় জোরপূর্বক আরও ১ লাখ ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে।


আরও খবর



ঠাকুরগাঁওয়ে ১২ মিনিটের ঝড়ে লন্ডভন্ড ২০ গ্রাম, প্রাণ গেল তিনজনের

প্রকাশিত:শনিবার ০১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ০১ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রেদওয়ানুল হক মিলন, ঠাকুরগাঁও

Image

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুটি ইউনিয়নে ভারী বৃষ্টিপাতের সঙ্গে মাত্র ১২ মিনিটের ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে ২০ গ্রাম। এ ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত তিনজন।

আজ শনিবার ভোরে এই ঝড়ো বৃষ্টি হয়। এতে পাড়িয়া ইউনিয়নের তিলকড়া, শালডাঙ্গা, বঙ্গভিটা, লোহাড়া, বামুনিয়াসহ ১২টি গ্রাম এবং বড়বাড়ী ইউনিয়নের বেলহাড়া, বেলবাড়ী, বটের হাট, হরিপুরসহ ৮টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গ্রামের বেশিরভাগ বাড়ির টিনের চালা উড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি ও দোকান।

ঝড়ের কবলে পড়ে দুই নারী এবং জমে থাকা পানিতে ডুবে মারা গেছে আড়াই বছরের এক শিশু। তারা হলেন উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের শালডাঙ্গা গ্রামের পইনুল ইসলামের স্ত্রী ফরিদা বেগম (৪০), একই গ্রামের দবিরুল ইসলামের স্ত্রী জাহেদা বেগম (৫০) এবং একই উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের লালাপুর নয়াপাড়া গ্রামের নাজমুল ইসলামের ছেলে নাঈয়ুম।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফছানা কাওছার বলেন, ঝড়ে এলাকায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। সেটি নির্ধারণে কাজ করছেন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানরা।

ঝড়ে তিনজন নিহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) অধ্যক্ষ মাজহারুল ইসলাম সুজন। এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।

নিউজ ট্যাগ: ঠাকুরগাঁও

আরও খবর



লক্ষ্মীপুরে পুকুরে ডুবে ভাই বোনের মৃত্যু

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

Image

লক্ষ্মীপুরে পুকুরে ডুবে স্কুলশিক্ষার্থী নাফিজা মোবারক মাদিহা (৮) ও তার ভাই মো. ওমরের (৫) মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কামালপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নাফিজা স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ও ওমর প্লে শাখার ছাত্র। তারা কামালপুর গ্রামের ব্যবসায়ী রাজু আহমেদের সন্তান। দুই সন্তানকে হারিয়ে তাদের মা-বাবাসহ স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুকুর ঘাটে গেলে পা পিছলে ওমর পানিতে পড়ে যায়। এ সময় ভাইকে বাঁচানোর জন্য নাফিজাও পানিতে নামে। এতে দুজনই পানিতে ডুবে যায়। পরে ওমর ও নাফিজাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য খুরশিদ আলম বলেন, ঘটনাটি মর্মান্তিক। একসঙ্গে দুটি সন্তানের মৃত্যু খুব বেদনাদায়ক। নিহতদের মা-বাবাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।


আরও খবর