আজঃ বৃহস্পতিবার ০৯ ডিসেম্বর ২০২১
শিরোনাম

লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে সরকারের বৈঠক বিকেলে

প্রকাশিত:রবিবার ০৭ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ০৭ নভেম্বর ২০২১ | ৩৮৫৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে লঞ্চ ভাড়ার সমন্বয় নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ ও লঞ্চ মালিকদের জরুরি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আজ রবিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় মতিঝিলের বিআইডব্লিউটিএ কার্যালয়ে এই বৈঠক হবে বলে জানা গেছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম খান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বৈঠকে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান ছাড়াও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী এবং সচিবও থাকতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, নৌ ধর্মঘটের কোনো আশঙ্কা নেই, সারাদেশে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে যাত্রীবাহী লঞ্চসহ সব নৌযান। আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ মালিক সমিতির পক্ষ থেকে কোনো ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে ঢাকা-বরিশাল রুটে কয়েকজন লঞ্চ মালিক তাদের লঞ্চে যাত্রীপরিবহন বন্ধ রেখেছেন।


আরও খবর



দুর্দান্ত লড়াইয়ে রোনালদোর ইতিহাস

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২১ | ৩৯০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ব্যালন ডি' অর নিয়ে বিতর্কের মাঝেই নতুন কীর্তি স্থাপন করে ফেললেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পেশাদার ফুটবলে নিজের ৮০০ তম গোলটি করে ফেললেন পর্তুগিজ তারকা। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে এই রেকর্ডের মালিক একমাত্র সিআরসেভেন।

বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) রোনালদোর জোড়া গোলে আর্সেনালকে ৩-২ গোলে হারায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে পেনাল্টি থেকে গোল করে নিজের ৮০১ নম্বর গোলটিও তুলে নেন সিআরসেভেন। গত সপ্তাহে ভিয়ারিয়ালের বিরুদ্ধে একার হাতেই দলকে প্রায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোয়  তুলে ফেলেছিলেন। কিন্তু রবিবার চেলসির বিরুদ্ধে ম্যাচে আশ্চর্যজনকভাবে শুরুতে রোনাল্ডোকে রিজার্ভ বেঞ্চে রাখা হয়। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে পরিবর্ত হিসেবে নেমেও গোল পাননি। কিন্তু পর্তুগিজ তারকার গোলের আকাঙ্ক্ষা দমিয়ে রাখা যায়নি।

ম্যান‌ ইউতে রোনালদোর দ্বিতীয় ইনিংস নিয়ে অনেক ফুটবল বোদ্ধাই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। বলা হয়েছিল, তার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে প্রত্যাবর্তন দলের ভারসাম্য নষ্ট করে দিয়েছে। আরও একবার সমালোচকদের যোগ্য জবাব দিলেন আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা। আর্সেনাল ম্যাচে প্রথম একাদশে ফিরে আরও একবার নিজের জাত চেনালেন রোনাল্ডো। বোঝালেন ৩৬ বছরেও বিশ্বের যেকোনও ফুটবলারকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন তিনি।

মোট ১০৯৭ ম্যাচ খেলে ৮০১ গোল। ঈর্ষণীয় রেকর্ড। দুই ইনিংস মিলিয়ে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে ১৩০ গোল হয়ে গেল রোনাল্ডোর। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৪৫০ গোল করেছেন। জুভেন্টাসের হয়ে ১০১। স্পোর্টিং লিসবনের হয়ে পাঁচটি গোল রয়েছে তার। পর্তুগালের জার্সিতে রোনাল্ডো করেছেন ১১৫ গোল।

আর্সেলানের বিরুদ্ধে ম্যাচের ১৩ মিনিটে এমিল স্মিথের গোলে পিছিয়ে পড়ে ম্যান ইউ। বিরতির ঠিক আগে ৪৪ মিনিট ১-১ করেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নিজের ৮০০ তম গোলটি করেন রোনালদো। ৫২ মিনিটে ছুঁয়ে ফেলেন মাইলস্টোন। তবে লিড ধরে রাখতে পারেনি রেড ডেভিলসরা। মাত্র ৩ মিনিটের মধ্যেই ২-২ করেন মার্টিন ওডগার্ড। আরও একবার দলের পরিত্রাতার ভূমিকায় পর্তুগিজ তারকা। ম্যাচের ৭০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোল রোনালদোর। এই জয়ের ফলে ২১ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের সাত নম্বরে উঠে এল ম্যান ইউ।


আরও খবর
মেসির সামনেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন এমবাপে

বৃহস্পতিবার ০৯ ডিসেম্বর ২০২১




লাগামহীনভাবে বাড়ছে রডের দাম

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ নভেম্বর ২০২১ | ৪৭০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

জ্বলানি তেলের দাম বাড়ার পর এবার বাড়িঘরসহ স্থাপনা নির্মাণের অন্যতম প্রধান উপকরণ রডের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে। মাত্র ১৪ দিনের ব্যবধানে প্রতি টনে ৮ হাজার টাকা বেড়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন বাড়ি নির্মাণকারী ও আবাসন ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর অধিকাংশ স্থানে ভালো মানের (৬০ গ্রেডের ওপরে) রড বিক্রি হচ্ছে প্রতি টন ৮০ থেকে ৮১ হাজার টাকায়, যা ১৫ থেকে ১৬ দিন আগেও বিক্রি হয় ৭২ থেকে ৭৩ হাজার টাকায়। এক মাস আগে দাম ছিল ৬৯ থেকে ৭০ হাজার টাকা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম এবং জাহাজ ভাড়া ব্যাপকভাবে বেড়েছে। কাঁচামালের দাম না কমলে সামনের মাসগুলোতে দাম আরও বাড়তে পারে। এরমধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে স্থানীয়ভাবে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। ফলে সামনে রডের দাম আরও বাড়বে।

বিএসআরএম স্টিলের কোম্পানি সচিব শেখর রঞ্জন কর গণমাধ্যমকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্ক্র্যাপের দাম বাড়ার কারণে রডের দামও বেড়েছে। সামনে দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। এটা সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভর করছে।

নিউজ ট্যাগ: রডের দাম

আরও খবর
শেয়ারবাজারে মূল্যসূচকের বড় উত্থান

মঙ্গলবার ০৭ ডিসেম্বর ২০২১

সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে

সোমবার ০৬ ডিসেম্বর ২০২১




মেয়র পদ থেকে বরখাস্ত জাহাঙ্গীর আলম

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৫ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৫ নভেম্বর ২০২১ | ২৮৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত গাজীপুরের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রেস ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বেশকিছু অভিযোগ মন্ত্রণালয়ে দাখিল হয়েছিল। সেগুলোকে পর্যালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। যেহেতু আইন অনুযায়ী কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বিশেষ করে মেয়রের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ আসে এবং তা যদি তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য আমলে নেওয়া হয় তাহলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে কারণে মেয়র জাহাঙ্গীরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ এর ১২ (১) ধারা অনুযায়ী, জাহাঙ্গীর আলমকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো কি জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ আছে। বেশ কয়েকটি অভিযোগ আছে। সেসব যেহেতু তদন্ত হবে তখন আপনারা জানতে পারবেন। অভিযোগ যেমন কোথাও অবৈধভাবে জায়গা দখল করা, জনগণের স্বার্থপরিপন্থি কাজ করা। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, সেখানে অনেক অবকাঠামো ক্ষতিপূরণ না দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে, জোর-জবরদস্তি করা, এ ধরনের কিছু অভিযোগ এসেছে।

স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তির কোনো অভিযোগ এসেছে কি না জানতে চাইলে তাজুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক সে যেই হোক না কেন, কথা বলা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ। এটাকে একজন নাগরিক হিসেবে আমি ঘৃণা করি। স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে যিনি বাংলাদেশকে স্বীকার করেন, তাহলে বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা না করার কোনো কারণ নেই। যারা বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা করবেন না, সে তো বাংলাদেশকেই স্বীকার করে না। সেই কারণে আমরা সবাই জানি, আপনারাও জানেন, সেই অভিযোগটা দলের কাছে দিয়েছে এবং দলের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

‘আইন অনুযায়ী আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান আছে। সেই প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি দায়িত্বপালনে যদি গর্হিত কাজ করে সেসব ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা আমাদের দেওয়া আছে। সেই ক্ষমতাই আমরা প্রয়োগ করছি। আইনে আমাদের যেসব অপশন দেওয়া আছে সে অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।’

গাজীপুরে তিন সদস্যের মেয়র প্যানেল গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, যিনি জ্যেষ্ঠতার বিচারে এক নম্বরে আছেন, তিনি মেয়র হিসেবে দায়িত্বপালন করবেন। তাকেই দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে।’

তদন্ত শেষ হবে কবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমরা আমলে নিয়েছি। এখন তদন্ত শুরু হবে অনতিবিলম্বে। তদন্ত করতে মাঠপর্যায়ে কতদিন লাগবে সেটা এখনই বলা যাবে না। হয়তো বেশি সময় লাগতে পারে। আরও নতুন বিষয়ও যোগ হতে পারে।’

জাহাঙ্গীর আলম আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে যে চার্জগুলো গঠন করা হবে, আমরা তদন্ত করে যেগুলো পাবো, সেসব বিষয়ে তাকে শোকজ করা হবে। প্রত্যেক নাগরিকের আত্মপক্ষ সমর্থনের সাংবিধানিকভাবে অধিকার আছে। সেই অধিকার তিনিও ভোগ করতে পারবেন।’

মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে অপসারণ করা হবে।’

‘আজ আমরা বহিষ্কারাদেশ জারি করছি। পত্রপ্রাপ্তির তিনদিনের মধ্যে নতুন ভারপ্রাপ্ত মেয়র দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এর মধ্যেই ক্ষমতা হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে’ বলেন তাজুল ইসলাম।

সাময়িক বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি

পরে জাহাঙ্গীর আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এতে বলা হয়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ভুয়া টেন্ডার, আরএফকিউ, বিভিন্ন পদে অযৌক্তিক লোকবল নিয়োগ, বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে ও একই কাজ বিভিন্ন প্রকল্পে দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রতি বছর হাট বাজার ইজারার অর্থ যথাযথভাবে নির্ধারিত খাতে জমা না রাখাসহ নানাবিধ অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এছাড়া ভূমি দখল ও ক্ষতিপূরণ ছাড়া রাস্তা প্রশস্তকরণ সংক্রান্ত প্রাপ্ত অভিযোগটির বিষয়ে সিটি করপোরেশনের মতামত জানতে চাওয়া হলে অদ্যাবধি কোনো মতামত প্রদান করা হয়নি।’

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এই অভিযোগসমূহ- ক্ষমতার অপব্যবহার, বিধিনিষেধ পরিপন্থী কার্যকলাপ, দুর্নীতি ও ইচ্ছাকৃত অপশাসনের শামিল যা করপোরেশন আইনের ধারা ১৩ (১) (ঘ) অনুযায়ী অপসারণযোগ্য অপরাধ। এসব অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে ২০০৯ সালের সিটি করপোরেশন আইনের ধারা ১৩ ধারা মতে অপসারণের কার্যক্রম আরম্ভ করা হয়েছে। তাই সিটি করপোরেশন আইনের ধারা ১২ (১) অনুযায়ী, সুষ্ঠু তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে জাহাঙ্গীর আলমকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়রের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।’

সিটি করপোরেশন আইনের ধারা ১২ (২) অনুযায়ী এই আদেশ প্রাপ্তির তিনদিনের মধ্যে সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র ক্রমানুসারে মেয়র প্যানেলের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিন সদস্যের মেয়র প্যানেল

অপর আদেশে তিন সদস্যের মেয়র প্যানেল গঠন করে অফিস আদেশ জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯’ এর ধারা ২০ (২) এর বিধান অনুযায়ী গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তিন কাউন্সিলরের সমন্বয়ে এই প্যানেল গঠন করা হয়।

মেয়র প্যানেলে মনোনীত হয়েছেন- ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আসাদুর রহমান কিরন, ৫২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আব্দুল আলীম মোল্লা ও ১০ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোসা. আয়েশা আক্তার।


আরও খবর



আমরা এখন একা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৮ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৮ নভেম্বর ২০২১ | ৪৩০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image
বহুকাল আগে একবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছি। তখন সময়টা ভালো না, দেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বঙ্গবন্ধুর অবদান এসব কিছুকে নির্বাসন দেওয়া হয়েছে

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল

পুরো করোনার সময় একটা বাসার চার দেয়ালের ভেতরে আটকা থেকে সময় কাটিয়েছি। তখন বসে বসে নানা কিছু চিন্তা করেছি, তার মাঝে একটা ছিল করোনার উপদ্রব শেষ হওয়ার পর কী করব তার নানারকম পরিকল্পনা। সবচেয়ে বড় কল্পনাটা ছিল রাজশাহী গিয়ে হাসান আজিজুল হক স্যারের সাথে দেখা করে তাঁর সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে আসা। স্যারের সাথে অনেকবার দেখা হয়েছে, অনেকবার কথা হয়েছে, কিন্তু আর কেউ নেই শুধু আমি আর স্যার, তার সাথে বসে সাহিত্য, দেশ, ইতিহাস, রাজনীতি এইসব সিরিয়াস বিষয় নিয়ে কথা বলার একটা ছেলেমানুষী শখ ছিল। যত সময় গিয়েছে সেটা নিয়ে আমার সেই শখটা অনেক বেড়ে গিয়েছিল।

খবর পেয়েছিলাম স্যারের শরীরটা ভালো যাচ্ছে না, তার ছেলের বক্তব্য থেকে জানতে পেরেছিলাম তার স্মৃতি শক্তিও কমে আসছে, অনেক সময় পরিচিত মানুষজনকে চিনতে পারেন না। তারপর দেখলাম স্যারকে চিকিৎসার জন্যে ঢাকা নিয়ে আসা হয়েছে, খুব ভয় পেয়েছিলাম তখন। তাঁর ছেলের কাছে স্যারের খোঁজ নিয়েছি। করোনার সময়টিতে আমরা আইসিইউ নামে একটা ভয়ংকর শব্দ শিখেছি, দেখে আসছি একবার কেউ তার ভেতরে গেলে প্রায় কখনোই বেঁচে ফিরে আসছেন না। স্যার কিন্তু সুস্থ হয়ে বের হয়ে এসেছেন, আবার রাজশাহী ফিরে গিয়েছেন দেখে অনেক শান্তি পেয়েছিলাম।

আমি জানি স্যার পরিণত বয়সে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন শেষে অসাধারণ কালজয়ী কিছু লেখা আমাদের উপহার দিয়ে, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে থেকে দেশের অসংখ্য মানুষের অভিভাবক হয়ে আত্মীয় পরিজন গুণগ্রাহীদের মাঝে থেকে বিদায় নিয়েছেন। আমাদের হয়তো দীর্ঘশ্বাস ফেলে এটা মেনেই নিতে হবে। কিন্তু যখন মনে হয় তিনি আর নেই তখনই মনে হয় এখন আমরা একা। একেবারেই একা।

শুধু তাই না কয়েক সপ্তাহ আগে দেখলাম স্যার পত্রিকায় একটি লেখা দিয়েছেন, লেখার বিষয়বস্তুটুকু আমাকে যতটুকু আনন্দ দিয়েছে তার থেকে বেশি আনন্দ দিয়েছে স্যার আবার লিখছেন সেই তথ্যটুকু। আমি যখন রাজশাহী যাওয়ার কথা চিন্তা করছি তখন একেবারে হঠাৎ করে জানতে পারলাম স্যার আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। হঠাৎ করে মনে হল একেবারে একা হয়ে গেছি। আমাদের বুঝি দেখে শুনে রাখার আর কেউ নেই।

বহুকাল আগে একবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছি। তখন সময়টা ভালো না, দেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বঙ্গবন্ধুর অবদান এসব কিছুকে নির্বাসন দেওয়া হয়েছে। সেই দুঃসময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ছেলেমেয়েরা মিলে মুক্তিযুদ্ধের জন্য ভালোবাসাটুকু ধরে রাখার জন্য একটা সংগঠন করেছে। সেই বাচ্চা ছেলেমেয়েরা আমাকে ডেকেছে, আমি তাদের সাথে কথাবার্তা বলছি। হঠাৎ করে দেখি সেই বাচ্চা ছেলেমেয়েদের মাঝে একজন বড় মানুষ—খবর পেয়ে হাসান আজিজুল হক স্যার চলে এসেছেন। দেশের বাইরে ছিলাম বলে দেশের এই বড় বড় কবি, সাহিত্যিক শিল্পীদের সাথে আমার পরিচয় নেই, তার উপর সবাই ঢাকাকেন্দ্রিক শুধু স্যার রাজশাহী থাকেন! স্যারের সাথে পরিচয় হল, কথা হল। তারপর থেকে যতবার রাজশাহী গিয়েছি স্যারের সাথে একটিবার হলেও দেখা করে এসেছি, স্যার হাসিমুখে আমার যন্ত্রণা সহ্য করেছেন।

আমি সিলেটের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে, অভ্যাস অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথাবার্তা বলে জামায়াত শিবিরের চক্ষুশূল হয়ে আছি। দুইদিন পরে পরেই আমাকে নিয়ে ঝামেলা হয়, কখনো বাসায় বোমা পড়ে, কখনো ফাঁসির দাবি, কখনো আমার বিরোদ্ধে আন্দোলন—স্যার প্রতিবার রাজশাহী থেকে আমাকে ফোন করেন, সাহস দেন। আমার পাশে আছেন বলে আমিও ভরসা পাই, বাড়াবাড়ি করছি কিনা জানি না, কিন্তু ভুল করছি না সেই বিষয়টা বুঝতে পারি।

এই দেশে যারা থেকেছে, মুক্তিযুদ্ধের জন্য ভালোবাসাটুকু ধরে রাখার জন্য তাদের সবাইকেই কাজ করতে হয়েছে, সেজন্য ঝামেলাও কম হয়নি। কাজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হওয়ার পরও স্যারের পরিচয় শুধু অধ্যাপক নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল চেতনার একজন অভিভাবকও। এতো কিছুর পরেও স্যারের সবচেয়ে বড় পরিচয় হচ্ছে লেখক। আমি নিজে আমার ছেলেমানুষী লেখার চেষ্টা করি বলে আমি বুঝতে পারি আমরা কেন দায়সারা লেখক আর স্যার কেন সত্যিকারের লেখক—শুধু লেখক নয়, বড় লেখক! খুব বেশি লিখেননি কিন্তু যেটুকু লিখেছেন একেবারে খাটি সোনা। দেখে ভালো লাগে যে স্যারের লেখার জন্য দেশে এবং দেশের বাইরে তাঁকে ঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

বহুদিন আগে এলিস ওয়াকারের লেখা দি কালার পারপল’ নামে একটা উপন্যাস পড়েছিলাম (আমার ধারণা এই নামে তৈরি চলচ্চিত্রটি মূল বই থেকে বেশি পরিচিত)। যারা মূল বইটি পড়েছেন তারা জানেন এই বইয়ের ভাষা কিন্তু আমাদের পরিচিত ইংরেজি নয়, আমেরিকান কালো মানুষদের নিজস্ব এক ধরনের ভাষা। প্রথম এক দুই পৃষ্ঠা পড়লেই এই ভাষাটিতে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া যায়, তখন এই নূতন ভাষাটিকে রীতিমত মিষ্টি একটি ভাষা বলে মনে হতে থাকে। আমাদের বাংলা ভাষায় লেখা বইয়েও কেউ এক দুইটি সংলাপ নয় পুরো বইটি এভাবে লিখেছেন কিনা আমার সেটি নিয়ে কৌতূহল ছিল।

হাসান আজিজুল হক স্যারের আগুনপাখী বইটি পড়ে আমার সেই অতৃপ্তিটুকু প্রথমবার পূরণ হয়েছে। প্রমিত ভাষায় বই পড়ে পড়ে হঠাৎ করে একটা স্থানীয় আঞ্চলিক ভাষায় একটা মেয়ের জবানিতে পুরো বইটুকু পড়ে মনে হয় সামনে বুঝি একটা নূতন দিগন্ত খুলে গিয়েছে। বইয়ের ভাষা হচ্ছে মাত্র একটি দিক, বইটিতে সেই সময়ের এত নিখুঁত এবং এত মানবিক একটি ইতিহাস উঠে এসেছে যে তার তুলনা নেই।

বৃটিশ ঔপনিবেশ, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ, আমাদের দেশে যে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি করেছিল তার একটা অসাধারণ বাস্তব ছবি এই বইয়ে পরম মমতায় তুলে ধরা হয়েছে সেটি না পড়া পযন্ত কেউ বুঝতে পারবে না। স্যারের সাথে যতবার দেখা হয়েছে প্রত্যেকবার সাধারণ কথাবার্তা হয়েছে কিন্তু আমার মনের গহীনে একজন সত্যিকার সাহিত্যিকের সাথে সাহিত্য নিয়ে কথা বলার একটা গোপন বাসনা ছিল। সেই বাসনাটুকু বাসনা হিসেবেই থেকে গেল।

হাসান আজিজুল হক স্যারের মেধাবী ছেলেটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার জন্য ইন্টারভিউ দিতে এসেছিল। সে যোগ্য প্রার্থী ছিল, এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কিন্তু—সেই সময়টিতে হাসান আজিজুল হকের পুত্র হওয়ার অপরাধে এখানে নিয়োগ পায়নি, যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ে তার মত একজনের খুবই প্রয়োজন ছিল। তখন তার সাথে পরিচয় হয়েছিল এবং তার কাছে স্যারের অনেক গল্প শুনেছি। তার কাছে জেনেছি স্যারের হাতের লেখা নাকি খুবই দুর্বোধ্য, যারা তাঁর হাতের লেখার সাথে পরিচিত নন তাদের কাছে মনে হবে স্যার বুঝি কলম দিয়ে কাগজে দাগ দিয়ে গিয়েছেন মাঝে মাঝে শুধু কলমটি একটু উপরে নিচে করেছেন! শুধু সে তার হাতের লেখা মর্মোদ্ধার করতে পারে!

আমি স্যারের হাতের লেখা দেখিনি, তাই কথাটুকু কতটুকু বাবাকে নিয়ে কৌতুক কতটুকু সত্যি কখনো যাচাই করে দেখতে পারিনি! হাতের লেখা যেরকমই হয়ে থাকুক সেই লেখা দিয়ে তিনি যে অসাধারণ লেখাগুলো লিখে গিয়েছেন তার জন্য আমরা সবসময়েই স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব। আমি জানি স্যার পরিণত বয়সে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন শেষে অসাধারণ কালজয়ী কিছু লেখা আমাদের উপহার দিয়ে, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে থেকে দেশের অসংখ্য মানুষের অভিভাবক হয়ে আত্মীয় পরিজন গুণগ্রাহীদের মাঝে থেকে বিদায় নিয়েছেন। আমাদের হয়তো দীর্ঘশ্বাস ফেলে এটা মেনেই নিতে হবে। কিন্তু যখন মনে হয় তিনি আর নেই তখনই মনে হয় এখন আমরা একা। একেবারেই একা।

লেখক : কথাসাহিত্যিক, সাবেক অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।


আরও খবর
এই দুঃখ কোথায় রাখি?

বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর 20২১




চলতি বছর ইরাকে মার্কিন সামরিক মিশন শেষ হবে: পেন্টাগন

প্রকাশিত:রবিবার ২১ নভেম্বর 20২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ নভেম্বর 20২১ | ৪১০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

চলতি বছরেই ইরাকে মার্কিন সামরিক মিশন শেষ হবে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।

পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কিরবি স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার বলেছেন, এ বছরের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরাক কৌশলগত সংলাপের সময় যে প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছিল, তা পালন করা হবে। মার্কিন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইরাকে যুদ্ধের ভূমিকায় কোনও মার্কিন বাহিনী থাকবে না।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন গতকাল শনিবার বাহরাইনে বার্ষিক মানামা সংলাপের সময় ইরাকের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জুমাহ ইনাদ সাদুন আল-জাবুরির সঙ্গে সাক্ষাতের পর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।

পেন্টাগনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইরাকি প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে নিশ্চিত করেছেনইরাকি সরকারের আহ্বানে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তা দিতে ইরাকে মার্কিন বাহিনী  থাকবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছেইরাকে মার্কিন সামরিক মিশনের পরবর্তী পর্যায় কী হবে, তা নিয়েও উভয় পক্ষ আলোচনা করেছে। আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, ইসলামিক স্টেট-আইএসআইএসকে পরাজিত করার লক্ষ্য সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীকে পরামর্শ, সহায়তা ও বুদ্ধিমত্তা ভাগাভাগির দিকে নজর দেবে।


আরও খবর