আজঃ শনিবার ১৩ এপ্রিল ২০২৪
শিরোনাম

শান্তিরক্ষা মিশন কঙ্গোগামী কন্টিনজেন্ট সদস্যদের ব্রিফিং

প্রকাশিত:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Image

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক কঙ্গোতে নিয়োজিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কন্টিনজেন্টের প্রতিস্থাপন করতে যাচ্ছে। বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান রবিবার বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে কঙ্গোগামী কন্টিনজেন্ট সদস্যদের উদ্দেশ্যে মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন।

এ সময় তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তাদেরকে শৃঙ্খলা, সততা, পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী তথা দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনার আহবান জানান।

পরিশেষে তিনি মিশনের সাফল্য কামনায় আয়োজিত এক বিশেষ মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে বিমান সদরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারগণ, ঢাকাস্থ এয়ার অফিসারগণ এবং বিমান সদর ও ঘাঁটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এখানে উল্লেখ্য যে, কঙ্গো শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ০২টি কন্টিনজেন্টে (ইউটিলিটি এভিয়েশন ইউনিট ও এয়ার ট্রান্সপোর্ট ইউনিট) বিমান বাহিনীর সর্বমোট ২৫২ জন সদস্য গমন করছেন, যেখানে আগে থেকেই ০৬টি Mi-Series হেলিকপ্টার ও ০১টি C-130 পরিবহন বিমান এবং গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইকুইপমেন্ট রয়েছে।


আরও খবর



ইসরায়েলে গাড়ি চাপায় পাঁচ বিক্ষোভকারী আহত

প্রকাশিত:রবিবার ০৭ এপ্রিল ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ০৭ এপ্রিল ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

ইসরায়েলের তেল আবিবে বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থলের কাছে একটি গাড়ি চাপায় পাঁচ বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, জরুরি মেডিকেল টিম আহতদের ইচিলভ হাসপাতালে সরিয়ে নিয়েছে এবং একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

সংবাদমাধ্যম ওয়ালার হয়ে কাজ করা সাংবাদিক উরি সেলার পোস্ট করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। হামাসের হাতে বন্দীদের ফিরিয়ে আনার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে বিক্ষোভ করে আসছে ইসরায়েলি নাগরিকরা।

খবর অনুসারে, জেরুজালেমে বিক্ষোভকারীরা জিম্মি চুক্তির দাবি জানাচ্ছে। তারা বলছে, বন্দীরা কেবল চুক্তির মাধ্যমেই ফিরে আসবে, যুদ্ধের মাধ্যমে নয়।


আরও খবর



লাইলাতুল কদরের ফজিলত ও আমল

প্রকাশিত:শনিবার ০৬ এপ্রিল ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ০৬ এপ্রিল ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ধর্ম ও জীবন

Image

হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ রজনী লাইলাতুল কদর। ফারসি ভাষায় যা শবে কদর নামে খ্যাত। লাইলাতুল কদর এমন এক মহিমান্বিত রজনী যে রজনীতে আল্লাহ তাআলা তার প্রিয় হাবিব হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পবিত্র কুরআন নাজিল করেছেন। মূলত এজন্যই এই রজনী এত ফজিলতপূর্ণ আর এই রজনীর কারণেই মাহে রমজান এত সম্মানিত।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে এই রজনীর গুরুত্ব বুঝাতে কদর নামে একটি সুরা অবতীর্ণ করেছেন। তিনি ইরশাদ করেন: নিশ্চয়ই আমি এই কিতাব (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি লাইলাতুল কদরে। আর আপনি কি জানেন লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর অর্থাৎ কদরের রজনী হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এই রাতে ফেরেশতারা ও রূহ (জিবরাইল) তাদের রবের অনুমতিক্রমে সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে অবতরণ করে। শান্তিময় সেই রাত, ফজরের সূচনা পর্যন্ত। সুরা কদর: ১-৫

পবিত্র কুরআনে লাইলাতুল কদরকে আল্লাহ তাআলা হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। অর্থাৎ আল্লাহর কোন বান্দা যদি এই রাতে ইবাদত-বন্দেগী করে তবে সে হাজার মাস ইবাদত-বন্দেগী করার সাওয়াব লাভ করবে। এক হাজার মাসে ৩০ হাজার রাত্রি হয়। অর্থাৎ এই রাতের মর্যাদা ৩০ হাজারগুণ অপেক্ষাও বেশী!

সুতরাং বলা যায় এ রাতের একটি তাসবিহ অন্যান্য রাতের ৩০ হাজার তাসবিহ অপেক্ষা উত্তম। অনুরূপভাবে, এই রাতের এক রাকাত নামাজ অন্যান্য রাতের ৩০ হাজার রাকাতের চেয়েও উত্তম। বলা বাহুল্য, এই রাতের আমল লাইলাতুল কদর বিহীন অন্যান্য ৩০ হাজার রাতের আমল অপেক্ষা অধিক শ্রেষ্ঠ। তাই যে ব্যক্তি এই রাতে ইবাদত করল, মূলত সে যেন ৮৩ বছর ৪ মাস অপেক্ষা বেশি সময় ধরে ইবাদত করল।

এছাড়াও লাইলাতুল কদরের রাতের অনেক ফজিলত হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে। কদর রজনীর ইবাদত, সালাত আদায়ের ফলে পূর্ববর্তী জীবনের গুণাহসমূহ মাফ হয়ে যায়। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: যে ব্যক্তি রমজানে ইমানের সাথে ও সাওয়াব লাভের আশায় সিয়াম পালন করে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হয় এবং যে ব্যক্তি ইমানের সাথে, সাওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল কদরে রাত জেগে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয়। সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০১৪।

এই ফজিলতপূর্ণ রাতটি কখন? কোন সময় আসে? এ সম্পর্কে রসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা রমজানের শেষ-দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ করো। বুখারী: ২০২০

তাহলে শেষ-দশক মানে কি রমজানের শেষ দশকে প্রতিদিন লাইলাতুল কদর তালাশ করতে হবে? এই প্রসঙ্গে নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: তোমরা রমজানের শেষ-দশকের বেজোড় রাতসমূহে লাইলাতুল কদর তালাশ করো। বুখারী : ২০১৭

অর্থাৎ মাহে রমজানের ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ এ পাঁচটি রাতের মধ্যে লাইলাতুল কদর বা শবে কদর তালাশ করতে হবে। তাহলে প্রশ্ন আসতে পারে আমরা যে ২৭ তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে লাইলাতুল কদর পালন করি এর ভিত্তি কী? প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতের জন্য এ রাতের ব্যাপারে আরও নির্দিষ্ট করে বলছেন: তোমাদের মধ্যে কেউ যদি অক্ষম হয় বা দুর্বল থাকে তাহলে সে যেন ২৭ রমজানের রজনীকে লাইলাতুল কদর বলে বিবেচনা করে ইবাদত করে। মুসলিম: ১১৬৫

হযরত উবাই ইবনে কাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে ২৭ রমজানকে লাইলাতুল কদর বিবেচনা করে ইবাদত করতে বলেছেন।

এছাড়াও মুহাক্কিক ইমামগণ বলেন, আরবিতে লাইলাতুল কদর শব্দদ্বয়ে নয়টি হরফ বা আরবি বর্ণ রয়েছে; আর সুরা কদরে লাইলাতুল কদর শব্দদ্বয় তিনবার রয়েছে; নয়কে তিন দিয়ে গুণ করলে সাতাশ হয়, তাই সাতাশে রমজানের রাতে শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তাফসিরে মাযহারি

যে রাতে লাইলাতুল কদর বা শবে কদর হবে তার কিছু আলামত হাদিস শরিফে এসেছে:

১. আকাশ মেঘমুক্ত ও উজ্জ্বল থাকবে। তিরমিজি

২. ঠাণ্ডা ও গরমের মাঝামাঝি তথা নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া থাকবে। তিরমিজি

৩. রাতগত দিনে সূর্য উদিত হবে আলোক-রশ্মীহীন অবস্থায়, অর্থাৎ সূর্যের চিরচেনা তেজবিহীন অবস্থায়। মুসলিম, সহিহ ইবনে খুযায়মা

মহিমান্বিত এ রাত পেলে মুমিন বান্দা আল্লাহর কাছে কী প্রার্থনা করবে? কী চাইবে? এ সম্পর্কে হাদিস শরিফে উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে একটি বর্ণনা পাওয়া যায়। তিনি বলেন: একবার আমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম- হে আল্লাহর রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি বলে দিন, যদি আমি লাইলাতুল কদর কোন রাতে হবে তা জানতে পারি, তাতে আমি কী দোয়া পড়বো? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি বলবে- আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন; তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নী। অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন। সুনানুত তিরমিজি, হাদিস: ৩৫১৩

সুতরাং, লাইলাতুল কদরে আমাদেরকে আমল ও দোয়ার মাধ্যমে রাত অতিবাহিত করা জরুরি। আর কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এই রাতের কতিপয় আমল হলো-

১. নফল নামাজ পড়া।

২. মসজিদে প্রবেশ করে ২ রাকাত (দুখুলিল মাসজিদ) নামাজ পড়া।

৩. দুই রাকাত করে (মাগরিবের পর ৬ রাকাত) আউওয়াবিনের নামাজ পড়া।

৪. রাতে তারাবির নামাজ পড়া।

৫. শেষ রাতে সাহরির আগে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া।

৬. সম্ভব হলে সালাতুত তাসবিহ পড়া।

৬. তাওবার নামাজ পড়া।

৭. সালাতুল হাজাত পড়া।

৮. সালাতুশ শোকর ও অন্যান্য নফল নামাজ বেশি বেশি পড়া।

৯. কুরআন তেলাওয়াত করা। সুরা কদর, সুরা দুখান, সুরা মুজ্জাম্মিল, সুরা মুদ্দাসির, সুরা ইয়াসিন, সুরা ত্বহা, সুরা আর-রাহমান, সুরা ওয়াকিয়া, সুরা মুলক, সুরা কুরাইশ, সুরা ইখলাস ইত্যাদি সুরা তিলাওয়াত করা।

১০. অধিক পরিমাণে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাম ও দরূদ শরিফ পাঠ করা।

১১. তাওবাহ-ইসতেগফার পড়া। সাইয়্যেদুল ইসতেগফার পড়া।

১১. জিকির-আজকার করা।

১২. কুরআন-সুন্নাহ বর্ণিত দোয়া পাঠ করা।

১৩. পরিবার পরিজন, বাবা-মা ও মৃতদের জন্য দোয়া করা,

১৪. কবর জেয়ারত করা।

১৫. বেশি বেশি দান-সদকাহ করা।

এছাড়াও এই রাতে নিজেকে নানাবিধ ইবাদতে ব্যস্ত রাখা। কারণ এই রাতের ইবাদতের দ্বারা আমাদের জীবনের গুণাহসমূহ আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দিবেন। তাই আমাদের উচিত এই রাতকে অবহেলায় না কাটিয়ে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল রাখা। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে লাইলাতুল কদর পালন করে কল্যাণ লাভ করার তাওফিক দান করুক। আমিন বিজাহিন নাবিয়্যিল কারিম রাউফুর রাহিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।


আরও খবর
শুক্রবারের বিশেষ ৪ আমল

শুক্রবার ১২ এপ্রিল ২০২৪

আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর

বৃহস্পতিবার ১১ এপ্রিল ২০২৪




দু’দিন ধরে যোগাযোগ বন্ধ, উৎকণ্ঠায় জিম্মি নাবিকদের পরিবার!

প্রকাশিত:রবিবার ১৭ মার্চ ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৭ মার্চ ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

Image

সোমালি জলদস্যুরা এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজটি ছিনতাই করার পর প্রথম দিকে জিম্মি নাবিকদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ দিলেও গত দুই দিন ধরে সেটি বন্ধ রয়েছে। শনিবার (১৬ মার্চ) থেকে রবিবার (১৭ মার্চ) পর্যন্ত জিম্মি নাবিকদের কাছ থেকে আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মো. আবু সাইদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শনিবারের পর থেকে আজ পর্যন্ত জিম্মি নাবিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাই নাবিকরা এখন কেমন আছেন, জাহাজে কোনো অসুবিধা হচ্ছে কিনা এসব বিষয়ে আমরা কোনো তথ্য পাচ্ছি না।’

জিম্মি নাবিকদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাদের স্বজনরা। তারা বলছেন, প্রথম দিকে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ দিলেও এখন কেন দিচ্ছে আমরা বুঝছি না। এটি নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। এটি ভারতীয় নৌবাহিনীসহ ইইউর অভিযানের কারণে নয়তো? অন্যদিকে ছিনতায়ের পর ছয়দিন পার হতে চললেও এখনও মুক্তিপণ চেয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি জলদস্যুরা। তাই জিম্মি নাবিকদের উদ্ধারে তৎপরতাও শুরু করতে পারছে না মালিকপক্ষ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের প্রধান রিয়ার এডমিরাল (অব.) মো. খুরশেদ আলম গত শনিবার (১৬ মার্চ) জানান, সোমালিয়ার জলদস্যুরা যখন বাংলাদেশি জাহাজ জিম্মি করে সে সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি জাহাজ অভিযান চালানোর জন্য বাংলাদেশের অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু জাহাজটিতে থাকা নাবিক, ক্রু এবং অন্যদের প্রাণনাশের আশঙ্কার কথা ভেবে বাংলাদেশ সরকার অভিযানের অনুমতি দেয়নি।

এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজের সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. তৌফিকুল ইসলামের স্ত্রীর ভাই শিবলি মাহমুদ বলেন, মঙ্গলবার সর্বশেষ আমাদের সঙ্গে তৌফিকুল ইসলামের যোগাযোগ হয়। তখন জানিয়েছিল সোমালিয়ান জলদস্যুরা জাহাজটি ছিনতাই করে সোমালিয়ায় নিয়ে যাচ্ছে। এরপর গত পাঁচদিন ধরে তার সঙ্গে আমাদের আর যোগাযোগ হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, যোগাযোগ না হওয়ায় আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি। বিশেষ করে যখন শুনেছি ভারতীয় নৌবাহিনী এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজটি উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে, হাইজ্যাক হওয়া মালটার একটি জাহাজ উদ্ধারের সময় ৩৫ জন জলদস্যুকে আটকের ঘটনা আমাদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জলদস্যুরা এখন জিম্মি নাবিকদের নির্যাতন করতে পারে।’

একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজের থার্ড অফিসার তারিকুল ইসলামের বড় ভাই আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার যে যোগাযোগ হয়েছে এরপর আমাদের সঙ্গে আমার ভাইয়ের আর যোগাযোগ হয়নি। গত দুই দিন তার কাছে থেকে কোনো বার্তা পাইনি। তাই জিম্মি অবস্থায় এখন তারা কেমন আছে সেটি উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় আছি। খবর শোনার পর থেকে আমার মা অনবরত কাঁদছেন। ভাইয়ের জন্য দুশ্চিন্তায় ঠিক মতো খাওয়া দাওয়াও করছেন না। জিম্মি জাহাজ উদ্ধারের খবর শুনে আমরা আরও বেশি দুশ্চিন্তায় আছি।’

গত ১২ মার্চ বাংলাদেশ সময় দুপুরে জাহাজ থেকে বার্তা পাঠিয়ে জানানো হয়, আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুর কবলে পড়েছে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ। এরপরপরই জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় জাহাজটি। এরপর সেখান থেকে জাহাজটিকে চালিয়ে বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) জাহাজটিকে সোমালিয়ার উপকূলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে সোমালিয়ার গারাকাদ বন্দরের কাছে নোঙর করে। এরপর শুক্রবার জাহাজটির নোঙর তুলে ফেলা হয় এবং দুপুর থেকে সেটিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।

সন্ধ্যা পর্যন্ত জাহাজের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে শুক্রবার রাতে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএমওএ) পক্ষ থেকে এমভি আব্দুল্লাহর সর্বশেষ অবস্থান জানানো হয়েছে।

বিএমএমওএ’র সাধারণ সম্পাদক মো. শাখাওয়াত হোসেন জানান, গতকাল জাহাজটি যেখানে নোঙর করা ছিল, সেখান থেকে আজ ৪৫-৫০ নটিক্যাল মাইল উত্তর দিকে সরিয়ে সোমালিয়ার গদবজিরান উপকূলে নেওয়া হয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে আমরা তথ্য পেয়েছি বর্তমানে গদবজিরান শহর থেকে ৪ নটিক্যাল মাইল দূরে নোঙর করা হয়েছে।’

জিম্মি নাবিকদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই জাহাজে থাকা ২০ জন জলদস্যু জাহাজের ক্যাপ্টেনকে বাধ্য করেছে নোঙর পরিবর্তন করে নতুন জায়গায় গিয়ে নোঙর করতে। অবস্থান পরিবর্তনের সময় জাহাজ পরিচালনা করেছেন জাহাজের ক্যাপ্টেন এবং নাবিকরা। কিন্তু তাদের জাহাজ মুভ করতে হয়েছে জলদস্যুদের কথা অনুযায়ী।

বাংলাদেশ থেকে শনিবার দুপুরে জিম্মি নাবিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা একজন ক্যাপ্টেন বলেন, এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজটি নতুন জায়গায় গিয়ে নোঙর করার আগে আমরা সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। এরপর পুনরায় যোগাযোগ করার কথা থাকলেও নতুন অবস্থানে যাওয়ার পর থেকে নাবিকদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। গত দুই দিন নাবিকদের কাছ থেকে আর কোনো সাড়া পাইনি।’

অন্যদিকে গত ছয়দিনে মুক্তিপণ চেয়ে জলদস্যুরাও যোগাযোগ করেনি। এ সস্পর্কে জানতে চাইলে কেএসআরএম গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত জলদস্যুরা মুক্তিপণ চেয়ে যোগাযোগ করেনি। তাই জিম্মি নাবিকদের মুক্ত করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে জলদস্যুরা যোগাযোগ না করলেও আমরা বসে নেই। আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি, জলদস্যুরা যোগাযোগ করলে যাতে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে নেওয়া যায়।


আরও খবর



পাকিস্তানের সেনাঘাঁটিতে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ৭

প্রকাশিত:রবিবার ১৭ মার্চ ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৭ মার্চ ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

পাকিস্তানের আফগান সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি সেনাঘাঁটিতে আত্মঘাতী হামলায় অন্তত সাতজন সেনা নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও অনেকে। নিহতদের মধ্যে দুজন সেনা কর্মকর্তাও রয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল শনিবার উত্তর ওয়াজিরিস্তানে সেনাবাহিনীর একটি আঞ্চলিক ঘাঁটিতে ভোরবেলায় ট্রাক বোমা ও গুলি চালানো হয়। সেখানে নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিকে তালিবান পাকিস্তান বা টিটিপির সঙ্গে সম্পৃক্ত জঙ্গিরা নিয়মিত ভাবেই নিরাপত্তা বাহিনীকে তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই আক্রমণকে সন্ত্রাসীদের ভীরু কর্মকান্ড বলে নিন্দা জানিয়েছেন।

সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে আত্মঘাতী বোমাবাজরাসহ ছয় জন জঙ্গির একটি দল মীর আলী শহরে ঐ ঘাঁটিতে আক্রমণ করে। সন্ত্রাসীরা বিস্ফোরক ভর্তি গাড়িটি নিয়ে ঐ চৌকিতে ধাক্কায় লাগায় এবং তারপর একাধিক আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায়। এতে ভবনটির একটি অংশ ধসে যায়।

পাকিস্তানি সৈন্যরা দ্রুতই পাল্টা ব্যবস্থা নেয় এবং পরবর্তীতে সকল আক্রমণকারীকে হত্যা করে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।


আরও খবর



চাঁদাবাজির তুলনায় অধিক মুনাফার কারণে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত:শনিবার ২৩ মার্চ ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৩ মার্চ ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

চাঁদাবাজির চাইতে অধিক মুনাফার কারণে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে একটি পণ্যবাহী ট্রাক ঢাকা আসা পর্যন্ত কী পরিমাণ চাঁদা দেওয়া লাগে, আর সেই পণ্য কারওয়ান বাজার থেকে অন্য বাজারে নেওয়ার পর কী পরিমাণ দাম বাড়ে সবকিছুই আমরা অনুসন্ধান করেছি।’

শনিবার (২৩ মার্চ) সকালে রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন সাইবার সিকিউরিটি’ কোর্স উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে এ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, কারওয়ান বাজারে যে জিনিস ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেটাই অল্প কিছু দূর নিয়ে ৪০ টাকায় বিক্রি করছে। অধিক মুনাফার চিন্তা থেকেই এর প্রভাব বেশি পড়ে।’

তিনি আরও বলেন, যশোর থেকে ঢাকায় একটি ট্রাকের কত টাকা চাঁদা দেওয়া লাগে। সেই হিসাবে আমরা পরিসংখ্যান করেছি। চাঁদাবাজির চাইতে অধিক মুনাফার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঢাকায় বাড়ে। চাঁদাবাজি রোধে পুলিশের স্পেশাল ড্রাইভ চলছে। চাঁদাবাজি বন্ধে ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে, ভবিষ্যতে সব মহাসড়ক ক্যামেরার আওতায় আনা হবে।‘

যারা অতি মুনফার লোভে দামবৃদ্ধি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কীভাবে ব্যবস্থা নেবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছাড়াও ভোক্তা অধিকারসহ বিভিন্ন ফোর্স এখানে কাজ করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে যখনই আসে তখনই তারা অর্পিত দায়িত্ব পালন করে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান, আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমান এবং সভাপতিত্ব করেন পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর (অতিরিক্ত আইজিপি) ড. মল্লিক ফখরুল ইসলাম।


আরও খবর