আজঃ মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

স্বাভাবিক জীবনে কর্মঠ করা হচ্ছে কারাগারে বন্দীদের

প্রকাশিত:সোমবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:সোমবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
দিনাজপুর প্রতিনিধি

Image

দিনাজপুর জেলায় ৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক জেলকারাগারে কয়েদী ও হাজতি আসামীদের কারা কর্তৃপক্ষ ধর্মীয় শিক্ষাসহ বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষা দিয়ে তাদের স্বাভাবিক জীবনে কর্মঠ করে গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

দিনাজপুর জেল কারাগারের জেল সুপার নুরশেদ আহমেদ ভূঁইয়া সাথে আলোচনা করা হলে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় দিনাজপুর জেলা শহরে সেই পুরাতন জেল খানাটিকে আধুনিক যুগ-উপযোগী নতুন ভবনসহ নিরাপত্তা বেষ্টুনি নির্মাণে কারাগারটিকে অপরাধীদের সংশোধনাগার হিসেবে রুপান্তরিত করেছেন। এই কারাগারে দন্ডিত আসামীদের ধর্মীয় শিক্ষাসহ তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে কারিগারি শিক্ষায় বিভিন্ন হাতের কাজ শিখানো হচ্ছে। তারা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে যাতে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে সে বিষয়ে প্রতিদিন দন্ডিত শিশু, কিশোর ও যুবক দন্ডিত আসামীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আকৃষ্ট করা হচ্ছে। এভাবে যে সব কিশোর মাদক সেবনসহ মাদক ব্যবসায় জড়িত হয়ে ভ্রাম্যমান আদালতে বা নিয়োমিত বিচার সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেল কারাগারে আসছে তাদেরকে কারা কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত সময় দিয়ে মাদক সেবন ও ব্যবসা থেকে বিরত করতে বিভিন্ন উদ্বুদ্ধ করণ কর্মসূচী মাধ্যমে নিয়োমিত কাজ করা হচ্ছে। ফলে অনেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন। এভাবে জেলখানার বাহিরে এই কাজগুলো পারাবারিকভাবে করা গেলে নতুন শিশু কিশোর ও যুবকেরা মাদক সেবন থেকে বিরত করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, আজ সোমবার পর্যন্ত এই কারাগারে ২ হাজার ৬৩৮ জন পুরুষ-মহিলা কয়েদী ও হাজতি বন্দী রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ৪৩৯ জন ও মহিলা ২৯৯ জন। পুরুষ হাজতির মধ্যে ২ হাজার ১২১ জন হাজতি ও ৩১৮ জন কয়েদী রয়েছে। মহিলাদের মধ্যে ১৭১ জন হাজতী ও ২৮ জন কয়েদী রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও ধর্মীয় উৎসবে কয়েদীদের সদাচারণের জন্য মুক্তি দেয়া হয়ে থাকে।

তিনি জানান, দিনাজপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে ঐতিহ্যবাহী লোক ভবনের বিপরীতে জেল রোডসংলগ্নে প্রায় ২৯ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এ কারাগারটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম একটি বৃহৎ জেলা কারাগার হিসাবে ১৮৫৪ খ্রীষ্টাব্দে স্থাপিত হয়। তখন এটির ধারণ ক্ষমতা ছিল ৫৯০ জন বন্দির। ঐ সময় গড়ে প্রায় ১০০০ এর বেশী বন্দি এ কারাগারে অবস্থান করত। সম্প্রতি  দিনাজপুর জেলা কারাগার পুন:নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের জন্য ৫ তলা বিশিষ্ট ১০টি আবাসিক ভবন, ৩ তলা বিশিষ্ট জেল সুপারের বাসভবন এবং কারাভ্যন্তরে বন্দিদের জন্য ৬ তলা বিশিষ্ট ৬টি হাজতি ভবন, ৬ তলা বিশিষ্ট ৩টি কয়েদি ভবন, ১ তলা বিশিষ্ট ১টি ওয়ার্ক সেড, ১তলা বিশিষ্ট ১টি কিশোর বন্দী ভবন, মহিলা বন্দিদের জন্য সেফ কাস্টডি ২ তলা বিশিষ্ট ১টি ভবন, ১ তলা বিশিষ্ট ১টি ডিভিশন ভবন, ফাঁসির গ্যালোজ, ১ তলা বিশিষ্ট ২টি রান্নাঘর, ১ তলা বিশিষ্ট ১টি কেস টেবিল, প্রশাসনিক ভবনের উপরে জেলারের বাসভবনসহ ২তলা বিশিষ্ট রেষ্ট হাউজ, ১ তলা বিশিষ্ট রিজার্ভ গার্ড হাউজ, প্যারেড গ্রাউন্ড, গ্যারেজ, ২ তলা বিশিষ্ট মাল্টিপারপাস হল ও আধুনিক কনফারেন্স রুম এবং বিদ্যামান মসজিদের আধুনিকীকরণ ও পার্শ্বমুখী সম্প্রসারণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি জানান, নব-নির্মিত কারাগারটি গত ২০১৬ সালে ২০ শে জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন। কারাগারটি পুন:নির্মাণের ফলে বর্তমানে এটি একটি আধুনিক কারাগারে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এর বর্তমান ধারণ ক্ষমতা ৩ হাজার ১৫৩ জন। অন্তরীন বন্দির সংখ্যা গড়ে ১০০০ থেকে ১ হাজার ২০০ জন। এক জন জেল সুপার এবং তার কাজে সহযোগীতা করার জন্য নির্বাহী অফিসার হিসাবে ১ জন জেলার, ২ জন ডেপুটি জেলার, ২ জন কারা সহকারী, ২ জন সর্বপ্রধান কারারক্ষী, ১১ জন প্রধান কারারক্ষী, ১৭৫ জন কারারক্ষী, ১০ জন মহিলা কারারক্ষী ও ১ জন গাড়ী চালক কর্মরত রয়েছেন।

অন্যদিকে এ কারাগারে বন্দিদের চিকিৎসার জন্য রয়েছে একটি ৭৫ শয্যা বিশিষ্ট কারা হাসপাতাল। চিকিৎসার জন্য ১ জন মেডিকেল অফিসার ও ১ জন ফার্মাসিস্ট নিয়োজিত রয়েছে। বন্দি চিকিৎসার বিষয়টি সার্বিকভাবে তদারকির জন্য কারাবিধি মতে সিভিল সার্জন দায়িত্ব পালন করে থাকেন। প্রতিষ্ঠানের মিশন ও ভিশন-রাখিব নিরাপদ দেখাব আলোর পথ।


আরও খবর



সিলেটের বন্যার্তদের পাশে দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর

প্রকাশিত:বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
এস এ শফি, সিলেট

Image

সিলেটের বন্যার্তদের পাশে দাড়িয়েছেন দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মোঃ মহিববুর রহমান এমপি। তিনি বুধবার দিনভর নগরীর বিভিন্ন বন্যা কবলিত কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করে মিরাবাজার কিশোরী মোহন বালক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে ত্রাণ বিতরণ করেন।

এসময় নগরীর বন্যা পরিস্থিতি দেখে তাৎক্ষণিক নগদ ১০ লক্ষ টাকা, ১ শ' মেট্রিক টন চাল ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেন প্রতিমন্ত্রী।

ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি দুর্যোগ প্রবণ এলাকা। এরমধ্যে সিলেট অঞ্চল অন্যতম। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো: আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী আমাদের সাথে সব সময় যোগাযোগ রাখছেন। ঈদের দিন আমকে ফোন করে বন্যার খবর জানান। সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রতিনিয়ত তিনি এর খোঁজ খবর রাখছেন।

সিসিক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়ার পর থেকে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত আছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাবার বিতরণ করছে সিটি কর্পোরেশন। পানি না কমা পর্যন্ত আমাদের ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

এসময় সাবেক প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ও সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল ইসলাম, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার আবু আহমদ ছিদ্দীকী, এনডিসি, সিলেট জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।


আরও খবর



কিশোরগঞ্জে শিশুর গলায় ছুরি ধরে মাকে ধর্ষণ

প্রকাশিত:সোমবার ০১ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ০১ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

Image

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় গভীর রাতে ৯ মাসের শিশুর গলায় ছুরি ধরে মাকে (১৯) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার উপজেলার দশদ্রুণ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রোববার তাড়াইল থানায় মামলা করেন।

এদিকে ঘটনাটি জানতে পেরে ভুক্তভোগীর গ্রামের লোকজন অভিযুক্ত মো. আনুকে (২৫) ধরে নেওয়ার জন্য রোববার দুপুরে তার গ্রামে হামলা চালায়। পরে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে পুলিশ। অভিযুক্ত আনুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি দশদ্রুণ গ্রামের নূরুল আমিনের ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, তাড়াইল উপজেলার পংপাচিহা গ্রামের একটি পরিবার পার্শ্ববর্তী দশদ্রুণ গ্রামে বসতি স্থাপন করে বসবাস করছে। ওই পরিবারের মেয়ে ৯ মাসের শিশুকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকেন। তার স্বামী ঢাকায় ব্যবসা করেন। শনিবার রাতে পেশাদার চোর আনু ভুক্তভোগীর ঘরে ঢুকে। পরে শিশুর গলায় ছুরি ধরে ভয় দেখিয়ে পুকুর পাড়ে নিয়ে ওই মেয়েকে ধর্ষণ করে।

অন্যদিকে, রোববার ভুক্তভোগীর গ্রামের (পংপাচিহা) লোকজন ঘটনাটি জানতে পেরে আনুকে ধরতে দশদ্রুণ গ্রামে হামলা চালায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পাল্টা হামলা চালায় দশদ্রুণবাসী। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আলী আরিফ বলেন, অভিযুক্ত আনুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থানায় অন্তত ৮টি চুরি ও মাদকের মামলা রয়েছে। একাধিকবার জেলেও খেটেছেন।


আরও খবর
কে এই আবেদ আলী

সোমবার ০৮ জুলাই ২০২৪




রাজাকার হতে চাওয়াদের দাবি মানা হবে না: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

কোটা আন্দোলকারীদের রাজাকার শ্লোগানের প্রসঙ্গ টেনে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেছেন, আমরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে, মেধার পক্ষে। এটার জন্য রাজাকার হওয়ার দরকার নেই। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে যারা রাজাকার হতে চাইবে; তাদের কোন দাবি মানা হবে না।

সোমবার (১৫ জুলাই) মধ্যরাতে শাহবাগে অবস্থানরত কোটা রাখার পক্ষে অবস্থান নেয়া ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের জনসমাবেশে উপস্থিত হয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে রবিবার রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষার্থীরা বের হয়ে শুরু করে কোটাবিরোধী মিছিল। তবে কিছুক্ষণ পরেই তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ নেয় ছাত্রলীগ।

এসময় কোটার রাখার পক্ষে মিছিল দেয়াসহ শোডাউন দেয় তারা।


আরও খবর



ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে কর্মজীবী মানুষ

প্রকাশিত:বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

ঈদের টানা পাঁচদিনের ছুটি শেষে সরকারি অফিস, আদালত, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খুলছে আজ বুধবার (১৯ জুন)। ছুটি শেষ হওয়ায় ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তবে আজ ঢাকায় ফেরা মানুষের সংখ্যা কিছুটা কম।

গত ১৭ জুন সারাদেশে উদযাপিত হয় মুসলমান ধর্মালম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। ঈদ উপলক্ষে ১৬, ১৭ ও ১৮ জুন নির্ধারিত হয় সরকারি ছুটি। তবে তার আগে ১৪ ও ১৫ তারিখ শুক্র, শনিবার হওয়ায় মোট পাঁচদিনের ছুটি পান চাকরিজীবীরা।

এদিকে, ছুটি কাটিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের অনেকেই অফিস করতে আজই ঢাকায় ফিরছেন।

রাজধানীর ধোলাইপাড়, যাত্রাবাড়ী ও সায়দাবাদ ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে ফাঁকা সড়কগুলোতে কিছুক্ষণ পর পর এসে থামছে যাত্রীবাহী গাড়ি। এসব গাড়িতে করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের অধিকাংশই চাকরিজীবী। একই অবস্থা সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। অনেকে একা ফিরছেন, কেউ ফিরছেন পরিবার নিয়ে।

খুলনা থেকে ফেরা আতিকুল ইসলাম বলেন, পরিবার ছাড়াই ঢাকায় ফিরলাম। আজ অফিস করতে হবে তাই আমি একাই ফিরেছি। আবার বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়িতে যাবো। পরে শনিবার একসঙ্গে পরিবার নিয়ে আবার ফিরবো।

বরিশাল থেকে আসা সাইফুল মুন্সী  বলেন, আমি বাড়তি ছুটি পাইনি, তাই ফিরতে হলো। পরিবারের সঙ্গে আরেকটু সময় কাটাতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু কিছু তো করার নেই, চাকরি যেহেতু ফিরতে তো হবেই।


আরও খবর



কোটা সংস্কার না করে ঘরে ফিরবে না শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

Image

সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় আপাতত বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) আপিল বিভাগে শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি।

এদিকে, ২০১৮ সালে দেয়া প্রজ্ঞাপন পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন সংলগ্ন প্যারিস রোডে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমবেত হতে দেখা যায় তাদের। তারপর বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, ৫৬ শতাংশ কোটা থাকলে মেধাবীদের রিকশা চালানো ছাড়া উপায় থাকবে না। সরকার তাহলে আমাদের রিকশা কিনে দিক, নয়তো কোটা সংস্কার করুক। কোটা সংস্কার না করে আমরা ঘরে ফিরব না। এ সময় মুক্তিযুদ্ধের মূলকথা, সুযোগের সমতা, সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে, আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার, জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে, কোটা না মেধা, মেধা মেধা, মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাই নাই ইত্যাদি স্লোগান দেন তারা।

আন্দোলনরত এই শিক্ষার্থীরা চারটি দাবি নিয়ে আন্দোলন করছেন। দাবিগুলো হলো ২০১৮ সালের পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে সরকারি চাকরিতে কোটাপদ্ধতি সংস্কার করতে হবে, কোটায় প্রার্থী না পাওয়া গেলে মেধাকোটায় শূন্যপদ পূরণ করতে হবে, ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় সব ধরনের সরকারি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় একবার কোটা ব্যবহার করতে পারবে। 

কোটা সংস্কার আন্দোলনে যোগ দেয়া ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুশফিক মঈন বলেন, কোটার মতো একটি চরম বৈষম্য আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এ বৈষম্য আমাদের পূর্বপুরুষরাও মানেননি, আমরাও মানব না। স্বাধীন দেশে বৈষম্যের শিকার হওয়া কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। বৈষম্যের শিকারই যদি হব, তাহলে যারা আজ বৈষম্য তৈরি করছে তাদের পিতারাই কেন বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন? ৫৬ শতাংশ কোটা থাকলে মেধাবীদের রিকশা চালানো ছাড়া উপায় থাকবে না। সরকার তাহলে আমাদের রিকশা কিনে দিক, নয়তো কোটা সংস্কার করুক। কোটা সংস্কার না করে আমরা ঘরে ফিরব না।

বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী নাজনিন ফাতেমা বলেন, আমরা এখানে এসেছি যাতে এই মুক্তিযোদ্ধা কোটা উঠে যায়। আমরা চাই না কোটায় কেউ একটা যোগ্যতাসম্পন্ন জায়গায় যাক। এই জায়গায় যাওয়ার অধিকার শুধু মেধাবীদের। আমরা চাই মেধার যথাযথ ব্যবহার হোক। তবে পিছিয়ে পড়া জনগণ অর্থাৎ প্রতিবন্ধীদের ব্যাপার আলাদা। তারা কোটার যোগ্য। তবে মুক্তিযোদ্ধারা তো আর পিছিয়ে পড়া জনগণ নন। তাই আমরা চাই এই কোটা ব্যবস্থা পুরোপুরি উঠে যাক।

আন্দোলরত শিক্ষার্থী আমানুল্লাহ আমান বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ তৎপর ছিল, আছে এবং থাকবে। একটি দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সরকারি চাকরিতে মেধাবীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের সমান সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই। বৈষম্যমূলক কোটাপদ্ধতির সংস্কারের লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সর্বদা সোচ্চার রয়েছে।


আরও খবর