আজঃ সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
শিরোনাম

স্যাটেলাইট আটকালে যুদ্ধ বাধিয়ে দেবে উত্তর কোরিয়া

প্রকাশিত:শনিবার ০২ ডিসেম্বর 2০২3 | হালনাগাদ:শনিবার ০২ ডিসেম্বর 2০২3 | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

মাত্র কয়েক দিন আগে প্রথমবারের মতো মহাকাশে গোয়েন্দা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। উৎক্ষেপণের পরপরই এই স্যাটেলাইট দিয়ে মার্কিন হোয়াইট হাউস, সেনা সদর দপ্তর পেন্টাগনসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার ছবি তুলে নিয়ে আসে কিম জং উনের দেশ। এবার তারা জানিয়ে দিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার স্যাটেলাইটে হস্তক্ষেপ করা যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তারা পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না। খবর রয়টার্সের।

উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের দেওয়া এক বিবৃতির বরাতে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি উত্তরের স্যাটেলাইট চলাচলে বাধা দেয় তাহলে মার্কিন গোয়েন্দা স্যাটেলাইটের কার্যকারিতা বিনষ্ট করে পাল্টা জবাব দেবে উত্তর কোরিয়া।

বিবৃতিতে বলা হয়, অবৈধ ও অন্যায়ভাবে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র যদি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বৈধ সীমা লঙ্ঘন করার চেষ্টা করে তাহলে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে উত্তর কোরিয়া। অথবা মার্কিন গোয়েন্দা স্যাটেলাইটের কার্যকারিতা ধ্বংস করে দেবে দেশটি। 

আরও পড়ুন>> যুদ্ধবিরতির পরপরই ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহত ১৮৪

গত ২১ নভেম্বর প্রথমবারের মতো সামরিক গোয়েন্দা স্যাটেলাইট সফলভাবে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে উত্তর কোরিয়া। এরপর কেসিএনএ জানায়, তাদের উৎক্ষেপণ করা স্যাটেলাইট দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলসহ বেশ কয়েকটি শহর ও সেনাঘাঁটির ছবি পাঠিয়েছে। এ ছাড়া স্যাটেলাইট থেকে হোয়াইট হাউসসহ পেন্টাগনের ছবি পাঠানোর দাবি করেছে দেশটি। এসব ছবি পর্যালোচনা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট কিম জং উন।

উত্তরের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পর গত বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) দেশটির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, এ নিষেধাজ্ঞা মূলত সাইবার গ্রুপ কিমসুকির ওপর আরোপ করা হয়েছে। এ গ্রুপটিকে দেশটির কৌশলগত এবং পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করার জন্য গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারের এ নিষেধাজ্ঞা অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে সমন্বয় করে আরোপ করা হয়েছে।


আরও খবর



১১ ইটভাটার আগুনে পুড়ছে এক গ্রামের তিন ওয়ার্ডের মানুষ

প্রকাশিত:বুধবার ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নরসিংদী প্রতিনিধি

Image

গ্রামের নাম সররাবাদ। বেলাব উপজেলার সল্লাবাদ ইউনিয়নের সররাবাদ ও পাশের ইব্রাহীমপুর এই দুই গ্রামের তিন ওয়ার্ডে রয়েছে ১১ ইটভাটা। এসব ভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় বাড়ছে শ্বাসকষ্টসহ নানা রোখ। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ফসলী জমি ও হাছগাছালীর। সররাবাদ গ্রামের পুরাতস ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে পাশাপাশি স্থাপন করা এসব ভাটার অনুমোদ পেল কিভাবে সেটা নিয়ে রয়েছে জনমনে নানা প্রশ্ন। তাছাড়াও বেলাব উপজেলার পাটুলী ইউনিয়ন, আমলাব ইউনিয়ন ও বাজনাব ইউনিয়ন, বেলাব ইউনিয়নেও রয়েছে একাধিক ইটভাটা। এসব ভাটার বেশিরভাগই কাগজপত্রে গড়মিল।

তবে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি তারা পরিবেশ দূষণ ও পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকায় সল্লাবাদ ইউনিয়নের সররাবাদ গ্রামে নির্মিত পিএসবি ব্রিকস ও ন্যাশনাল ব্রিকস নামে দুটি ভাটাকে তিন লক্ষ টাকা করে ছয় লক্ষ টাকা জরিমানা করেছেন। তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে জরিমানা করা ওইসব ভাটায় নিয়মিত ইট পুড়ানো হয়। 

জানা গেছে সররাবাদ এলাকার পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের ফসলী জমির উপর পাশাপাশি রয়েছে বেশকিছু ইটভাটা। এর মধ্যে সচল রয়েছে ১১টি ভাটা। সচল থাকা এসব ইটভাটার মধ্যে বেশিরভাগ ইটভাটারই নেই কোন বৈধ কাগজপত্র। এসব ইটভাটার কারনে এ এলাকায় ফসলী জমিতে এখন আর ফসল ফলেনা। কৃষকরা জানান, যে জমিতে তারা চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতো সে জমি এখন ভাটা মালিকদের দখলে।

সররাবাদ এলাকার আবু ছালেহ রনি নামে এক যুবক জানান, এক মাঠে এতগুলো ইটভাটার অনুমোদন কিভাবে দিল। সেটা আমার বুঝে আসেনা। এসব ভাটার বিষাক্ত কারো ধোয়ার কারণে বয়স্ক মানুষ ও বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট রোগ দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে সল্লাবাদ ইউনিয়নের সররাবাদ ও ইব্রাহিমপুরের গ্রামে গিয়ে দেখা যায়,শুধু এই দুই গ্রামের তিনটি ওয়ার্ডেই গড়ে উঠেছে বেশকিছু ইটভাটা। এসব ইটভাটার মধ্যে সিক্সলাইন ব্রিকস, ভরসা ব্রিকস, জেএমবি ব্রিকস, ডিএমপি ব্রিকস, কেএমবি ব্রিকস, ন্যাশনাল ব্রিকস, পিএসবি ব্রিকস, এসআরবি ব্রিকস, আরএসবি ব্রিকস, এশিয়া ব্রিকস, বিবিবি ব্রিক ফিল্ডসহ মোট ১১টি ইট ভাটায় ইট পুড়ানো হচ্ছে নিয়মিত। ভাটাগুলো ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে কয়েকশ একর ফসলী জমির উপর নির্মিত। একেকটা ইটভাটার গা ঘেষে আরেকটি ইটভাটা। এভাবেই ১১টি ভাটার অবস্থান। এসব ইটভাটার মধ্যে বেশিরভাগই পরিবেশ আইন লঙ্গন করে গড়ে উঠা। নদের তীরে ইটভাটা এলাকায় রয়েছে ইব্রাহিমপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইব্রাহীমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে দুটি বিদ্যালয়সহ কয়েকশ বসতি। ভাটার আগুনে এসব ফসল গাছাগাছালীর ক্ষতিরসহ ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টসহ নানা ব্যাধীতে আক্রান্ত হচ্ছে বয়স্ক মানুষ ও শিশুরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জনবসতি ও ফসলি জমিতে ইটভাটা স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সব মহলকে ম্যানেজ করেই গড়ে তোলা হচ্ছে একের পর এক ইটভাটা। অথচ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এ ব্যাপারে নেই কোন মাথাব্যাথা।

আব্দুল ওহাব মিয়া নামে এক কৃষক জানান, ইটভাটাতে আসা ইছারমাতা নামক অবৈধ যানের কারনে গ্রামের চারপাশে ধুলাবালির আস্তরণ পড়ে। এই অবৈধ যান ইছারমাতা দিয়ে ভাটার মালিকরা ইট বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের কাছে পৌছে দেয়। এসব যানের বিকট শব্দ ও আনাড়ি ড্রাইভার কারণে প্রায়ই ঘটে ছোটবড় দূঘর্টনা।

সররাবাদ এলাকার মেসার্স বিবিবি ব্রিক ফিল্ড এর স্বত্তাধিকারী মোঃ শাহ আলম বলেন, আমার ইটভাটার কাগজপত্র সঠিক আছে। আমার ভাটায় গাছ বা কাঠ পুড়িনা। ইছারমাতা ছাড়াতো আর ইট আনা নেওয়া করা যায়না। তাই ইছারমাতা ব্যবহার করি। পরিবেশ দূষনের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন ভাটার কারনে পরিবেশের তেমন ক্ষতি হচ্ছেনা।

নরসিংদী জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিডি শেখ মোহাম্মদ নাজমুল হুদা বলেন, আমরা ইতিমধ্যে বেলাব উপজেলার সররাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে পরিবেশ দূষণ ও পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকাসহ বিভিন্ন কারণে দুটি ইটভাটাকে তিনলক্ষ টাকা করে ছয় লক্ষ টাকা জরিমানা করেছি। বাকিগুলোতেও আমরা পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন করে যেগুলোর সমস্যা রয়েছে সেগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নিব।

নিউজ ট্যাগ: নরসিংদী ইটভাটা

আরও খবর



গাজা উপত্যকা এখন ‘ডেথ জোন’: ডব্লিউএইচও

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে অবিরাম হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জার পাশাপাশি হামলা হচ্ছে হাসপাতালেও। এতে করে গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই ভেঙে পড়েছে।

অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডটিতে দেখা দিয়েছে তীব্র মানবিক সংকট। এমন অবস্থায় গাজা উপত্যকার পরিস্থিতিকে অমানবিক বলে উল্লেখ করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস। এমনকি গাজা উপত্যকা এখন ডেথ জোন বলেও জানিয়েছেন তিনি। বার্তাসংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা উপত্যকার মানবিক পরিস্থিতি অমানবিক বলে উল্লেখ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান বুধবার ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে ডেথ জোন বা মৃত্যু অঞ্চল বলে অভিহিত করেছেন।

ডব্লিউএইচও প্রধান এসময় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক সাহায্যের অবাধ প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস বলেন, গাজার স্বাস্থ্য ও মানবিক পরিস্থিতি অমানবিক এবং ক্রমাগত অবনতি হচ্ছে। গাজা একটি মৃত্যু অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। সেখানকার বেশিরভাগ অঞ্চল ধ্বংস হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা কোন ধরনের পৃথিবীতে বাস করি যেখানে মানুষ খাবার এবং পান করার জন্য পানি পায় না, বা যেখানে মানুষ হাঁটতে পর্যন্ত পারে না কিংবা তারা তাদের সেবা-যত্নও পেতে পারে না? আমরা কোন ধরনের বিশ্বে বাস করি যেখানে স্বাস্থ্যকর্মীরা অসহায় মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ করার সময় নিজেরাই বোমা হামলার ঝুঁকিতে থাকে?

ডব্লিউএইচও প্রধান বলেন, আমরা কোন ধরনের বিশ্বে বাস করি যেখানে হাসপাতালগুলো বন্ধ করে দিতে হবে কারণ রোগীদের বাঁচাতে সাহায্য করার জন্য আর কোনও জ্বালানি বা ওষুধ নেই। এবং এসব হাসপাতাল অবকাঠামোতে বারবার হামলা করছে সামরিক বাহিনী।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের আক্রমণের ফলে অন্তত ২৯ হাজার ৩১৩ জন নিহত হয়েছে। যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৭০ হাজার মানুষ। এছাড়া ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস বুধবার বলেন, আমাদের এখন যুদ্ধবিরতি দরকার। বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে। বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে হবে এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ আমাদের দরকার। মানবতা অবশ্যই জয়ী হবে।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গুরুতর অপুষ্টি নাটকীয়ভাবে বেড়েছে, কিছু অঞ্চলে এর হার এক শতাংশের নিচে থেকে ১৫ শতাংশেরও বেশি, যা আরও অনেক বেশি মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

তার ভাষায়, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে এবং সহায়তা সরবরাহ বিঘ্নিত হবে ততই এই সংখ্যা বাড়বে। আমরা আশঙ্কার সঙ্গে লক্ষ্য করছি, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) তাদের সহায়তা নিয়ে উত্তর গাজায় প্রবেশ করতে পারছে না।


আরও খবর



বঙ্গবন্ধু স্বাধীন শক্তিশালী বিচার বিভাগের স্বপ্ন দেখে ছিলেন : আইনমন্ত্রী

প্রকাশিত:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
মশিউর রাহাত (পিরোজপুর)

Image

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন শক্তিশালী বিচার বিভাগের স্বপ্ন দেখে ছিলেন। যেখানে বিচার প্রার্থী জনগণ শুধু ন্যায় বিচার পাবেন। বঙ্গবন্ধু শুধু এই স্বপ্নই দেখেননি বাংলাদেশকে তিনি স্বাধীন করার পর একটি আইনি কাঠামো তৈরি করে দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর সামরিক শাসকদের যাতাকলে বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন আর প্রস্ফুটিত হতে পারেনি।

আজ রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংসদ ভবনের অফিস কক্ষ থেকে আইন মন্ত্রী আনিসুল হক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৮ তলাবিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নতুন ভবন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী মলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিচার বিভাগের সমস্যা দূরকরণে বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। যার মধ্যে অন্যতম পদক্ষেপ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রিসির প্রথম পর্যায়ে ২ হাজার ২শ ৬০ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা ব্যায়ে ৪১টি জেলায় আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নির্মন প্রকল্প। ইতোমধ্যে এর নির্মান কাজ শেষে হয়েছে। এবং আরও ৩৮টি জেলায় নির্মিত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত উদ্বোধন করা হবে।  পিরোজপুরে ৫৬ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা ব্যায়ে নির্মিত ৮তলা ভবন উদ্বোধন করা হলো।

মন্ত্রী আরও বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে সুখী সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মান করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতকি অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে বিরামহীন ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।  তার সুদক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্বেও কারনে পদ্মা সেতু কর্ণফুলী টানেল, মেট্রো রেল, হজরত শাহ জালাল বিমান বন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, এলিভেটেড এক্সেপ্রেস ওয়ে, রূপপূর পারমানবিক প্রকল্পসহ অনেক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশ্বে বাংলাদেশ রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় পিরোজপুরে আরও উন্নয়ন হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গত ১৫ বছরের উন্নয়নের গতি, প্রকৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ করে দেখা যায় তিনি অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌছাতে তিনি সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

এর আগে সংসদ ভবনের অফিস কক্ষ থেকে আইন মন্ত্রী আনিসুল হক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৮তলা বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নতুন ভবন উদ্বোধন করেন। অপর দিকে পিরোজপুর প্রান্তে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আইনমন্ত্রী আনিসুর হক উদ্বোধন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সম্মেলন কক্ষে স্থাপিত (অস্থায়ী) উদ্বোধনী ফলক উন্মেচন করেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শ ম রেজাউল করিম, পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মহারাজ, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রকল্পের প্রধান সম্মনায়ক (যুগ্ম সচিব) বিকাশ কুমার সাহা ও জেলা জজ মোহাম্মদ মোক্তাগীর আলম।

৫৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ ভবনের কাজ বাস্তবায়ন করেছে গণপূর্ত বিভাগ। ৮ তলা এই ভবনে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে এজলাস কক্ষ সংকটের সমাধানের পাশাপাশি বিচারকার্যে গতি বাড়বে বলে মনে করেন আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা।

বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের সুবিধার জন্য এখানে রয়েছে ২২টি এজলাস, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ৫০০ কেবি সাবস্টেশন, অত্যাধুনিক ৩টি লিফট, অত্যাধুনিক লাইব্রেরি, কনফারেন্স রুম, ব্রেষ্ট ফিডিং কর্নার, নামাজের কক্ষ এবং বিচারকদের খাস কামরা। এছাড়াও এখানে রয়েছে নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক হাজতখানাসহ প্রয়োজনীয় অফিস কক্ষ, অপেক্ষমাণ কক্ষ এবং শৌচাগারের ব্যবস্থা।

আইন ও বিচার বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ গোলাম সারওয়ারের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন, পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শ ম রেজাউল করিম, পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মহারাজ, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রকল্পের প্রধান সম্মনায়ক (যুগ্ম সচিব) বিকাশ কুমার সাহা ও জেলা জজ মোহাম্মদ মোক্তাগীর আলম জেলা প্রশাসক জাহেদুর রহমান, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি খান মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, সাদারণ সম্পাদক এম ডি আউয়াল।

উপস্থিত ছিলেন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট কানাই লাল বিশ্বাস প্রমূখ।


আরও খবর



বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে দিল্লি, ঢাকা দ্বিতীয়

প্রকাশিত:বুধবার ৩১ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ৩১ জানুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

বায়ুদূষণের তালিকায় আজ রাজধানী ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়। অন্যদিকে, তালিকার শীর্ষে রয়েছে ভারতের দিল্লি। বুধবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৮টা ১৭ মিনিটে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচক থেকে জানা গেছে এসব তথ্য।

দূষণ তালিকায় শীর্ষে থাকা দিল্লির স্কোর ২৮৮ অর্থাৎ সেখানকার বায়ুর মান খুবই অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। এই শহরের স্কোর ২৭১ অর্থাৎ এখানকার বায়ুর মানও খুবই অস্বাস্থ্যকর।

তালিকায় ৩ নম্বরে রয়েছে ঘানার আক্রা এবং এই শহরের স্কোর ২১৯ অর্থাৎ সেখানকার বাতাসও খুবই অস্বাস্থ্যকর। এরপরে রয়েছে নেপালের কাঠমান্ডু ও ভারতের কলকাতা ।

আইকিউএয়ার অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয় ধরা হয় বায়ুর মান। সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।


আরও খবর
খারাপ হয়েছে ঢাকার বায়ু

শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪




চিৎকার করে ওঠায় গৃহবধূর চোখে-মুখে আঠা লাগায় চোর: পুলিশ

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জেলা প্রতিনিধি

Image

চুরি করতে দেখে চিৎকার করে ওঠায় খুলনার পাইকগাছার গৃহবধূকে (৪৫) নির্যাতন এবং চোখে ও মুখে আঠা লাগিয়ে দিয়েছিল চোর ইমামুল ওরফে এনামুল। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এনামুল এই তথ্য জানিয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে খুলনা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার। তিনি দাবি করেন, ইমামুল সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সদস্য ও গৃহবধূকে নির্যাতনের ঘটনার মূল হোতা।

গত সোমবার খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলি গ্রাম থেকে চোখ-মুখে আঠা লাগানো এবং অচেতন অবস্থায় এক গৃহবধুকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা। ঘরের মালামাল লুট ও ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে চিকিৎসকদের জানিয়েছিলেন ওই নারীর স্বামী। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর ওই গৃহবধূর স্বামী বাদি হয়ে পাইকগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি, সবাই অজ্ঞাত আসামি।

এ মামলায় পুলিশ এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন- ইমামুল জোয়াদ্দার ওরফে এনামুল, আবদুস সামাদ, সুমন হালদার ও রাশিদা বেগম।

পুলিশের দাবি, এনামুল ধর্ষণ ও লুটের সঙ্গে জড়িত। তার মা রাশিদা বেগম লুট করা স্বর্ণ বিক্রি করেছিলেন। সুমন হালদার লুট করা স্বর্ণের ক্রেতা। এই তিন জনকে বৃহস্পতিবার রাতে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া গত বুধবার ভোর রাতে আবদুস সামাদকে সন্দেহজনক ব্যক্তি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার এনামুল জদ্দারের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে বলেন, গত রোববার সন্ধ্যায় ওই গৃহবধূর বাড়ির পাশের বাগানে এনামুল নেশা করতে গিয়েছিলেন। বাড়িতে গৃহবধূকে একা দেখে এনামুল ঘরের সানসেট বেয়ে ছাদের উঠে সিড়ি দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। পরে খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে দিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে রাত ২ টার দিকে একইভাবে পুনরায় ঘরে প্রবেশ করে মূল্যবান জিনিসপত্র খোঁজাখুজি শুরু করে। তখন গৃহবধুর ঘুম ভেঙ্গে গেলে তাঁর পকেটে থাকা সুপারগ্লু বের করে গৃহবধুর চোখে এবং মুখে লাগিয়ে দেয়। এ সময় ওই গৃহবধূর সঙ্গে ইমামুলের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে  গৃহবধুর গোঙরানিতে পাশের বাড়ি থেকে সাড়া দেওয়ায় এনামুল কানের দুল ও মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়।

 অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, পরবর্তীতে লুট করা কানের দুলটি ইমামুলের মা রাশিদা বেগমের মাধ্যমে চুকনগর স্বর্ণপট্টিতে মা জুয়েলার্স নামক দোকানে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। যে কারণে এনামুলের মা ও দোকান মালিক সুমন হালদারকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

তিনি জানান, এনামুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় এ পর্যন্ত ৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে তাকে পাইকগাছা পূর্বকাশিমনগর থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও এক রাউন্ড তাজা গুলিসহ আটক করা হয়ে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ধর্ষণের ঘটনার কথা স্বীকার করেননি।

সুশান্ত সরকার বলেন, চূড়ান্ত মেডিকেল রিপোর্টে বোঝা যাবে ওই গৃহবধূ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কিনা। ধর্ষণ ও লুটের ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি-না সে বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। 


আরও খবর