আজঃ রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

বিক্ষোভে উত্তাল আর্জেন্টিনা, ব্যাপক সংঘর্ষ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেস। স্থানীয় সময় বুধবার (১২ জুন) এ সংঘর্ষ হয়।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার মিলেইর প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিবাদে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে উত্তেজনাও বাড়ে। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবিত বিলের ওপর কংগ্রেসে আলোচনা চলছিল। বাইরে হাজারো বিক্ষোভকারী জড়ো হয়েছিলেন। প্রথমত তারা রাস্তার বারবিকিউ, পিকেটিং এবং প্রতিবাদী গান দিয়ে দিনটি শুরু করেন। কিন্তু বিকেলে কংগ্রেস ভবনের অভ্যন্তরে সিনেটরদের মধ্যে বিতর্ক শুরু হলে বাইরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এ সময় বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তারা হেলমেট, লাঠিসোঁটা, ঢাল, অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জনতার দিকে তেড়ে আসে। এতে বিক্ষোভকারীরাও পুলিশকে আক্রমণ করে। তারা অন্তত দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ ও রাস্তার বেরিকেড ভেঙে ফেলে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। পুলিশের বিরুদ্ধে পিপার স্প্রে করারও অভিযোগ উঠেছে।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পিপার স্প্রের কারণে সাতজন বিক্ষোভকারীকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। আরও বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এদিকে ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। তারা অন্তত ১৮ জনকে আটক করেছে। আর্জেন্টিনার নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, অর্থনৈতিক সংস্কারের নামে একটি বিল পাস করাতে চাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার মিলেইর। তার সেই বিলের প্রস্তাবে রয়েছে, এক বছরের জন্য দেশটিতে অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা জারি, রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ সংস্থাসহ কয়েক ডজন সরকারি প্রতিষ্ঠানকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে প্রেসিডেন্ট মিলেইকে ক্ষমতা দেওয়াসহ আরও কিছু বিষয়।

নিউজ ট্যাগ: বুয়েনস এইরেস

আরও খবর
আজ নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মদিন!

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




ঢাবির আরও তিন হল থেকে ছাত্রলীগ নেতাদের বের করে দিলেন শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ঢাবি প্রতিনিধি

Image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বেশ কয়েকটি ছাত্রী হলের পর এবার ছাত্রদের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল এবং জিয়াউর রহমান হল থেকে ছাত্রলীগ নেতাদের মেরে বের করে দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৭ জুলাই) ভোর ৫টার দিকে বঙ্গবন্ধু হল, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বঙ্গবন্ধু হল এবং সোয়া ৮টার দিকে জিয়াউর রহমান হল থেকে ছাত্রলীগ নেতাদের বের করে দেন শিক্ষার্থীরা।

নেতাদের বের করে দিয়ে তাদের রুমের সব জিনিসপত্র ভাঙচুর করতেও দেখা যায়। ছাত্রলীগ নেতাদের বের করে দিয়ে হলে বিজয়োল্লাস করতেও দেখা যায় শিক্ষার্থীদের।

জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. বিল্লাল হোসেনসহ ওই হলের আবাসিক শিক্ষকরা দীর্ঘক্ষণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বললেও শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগকে খুনি আখ্যা দিয়ে তাদের সঙ্গে একই হলে না থাকার দাবিতে অনড় থাকেন। পরে তাদের নিরাপদে বের করে দেওয়ার শর্তে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেন প্রাধ্যক্ষ।

এছাড়াও শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে তাদের ৫টি দাবি সম্বলিত একটি নির্দেশনায় স্বাক্ষর করেন ওই হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আব্দুর রহীম।

এদিকে বিজয় একাত্তর হলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা জড়ো হওয়ার আগেই ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হল থেকে পালিয়ে যান।

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রোকেয়া হলের ছাত্রলীগের নেত্রীদের বের করে দেন কোটা আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। তাদের বের করে দেওয়ার সময় ভুয়া, ভুয়া স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রাধ্যক্ষ ও আবাসিক শিক্ষকদের প্রটোকলে হলে ঢোকার সময় তাদের বের করে দেন বিক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।


আরও খবর
ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




আজ আলোচিত সাদিক অ্যাগ্রোতে উচ্ছেদ অভিযান চালাবে ডিএনসিসি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সাদিক অ্যাগ্রো ফার্মের অবৈধ জায়গা উচ্ছেদে অভিযান চালাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। তারা বলছে, সাদিক অ্যাগ্রো লিমিটেড অবৈধভাবে খাল ও সড়কের জায়গা দখল করে আছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে এই উচ্ছেদ অভিযান চালাতে প্রয়োজনীয় পুলিশ ফোর্স মোতায়েন চেয়ে ডিএনসিসির সম্পত্তি বিভাগ থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ১০টায় তারা রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বেঁড়িবাধসংলগ্ন আশপাশের অবৈধ স্থাপনাসহ খাল ও সড়কের ভূমিতে সাদিক অ্যাগ্রো লিমিটেডের অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা উচ্ছেদ করবে।

ডিএমপিকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, ঢাকা উত্তর সিটির অধীন অঞ্চল-৫-এর অন্তর্ভুক্ত মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধসংলগ্ন আশপাশের অবৈধ স্থাপনাসহ খাল ও সড়কের জায়গায় সাদিক অ্যাগ্রো লিমিটেডের অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা অপসারণ করা হবে। বৃহস্পতিবার সকালে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। এ সময় তিন প্লাটুন পুরুষ পুলিশ ফোর্স ও এক প্লাটুন নারী পুলিশ ফোর্স প্রয়োজন হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটির অঞ্চল-৫-এর একজন কর্মকর্তা বলেন, আমাদের কাছে তথ্য আছে, সাদিক অ্যাগ্রো রামচন্দ্রপুর খালের জায়গা ভরাট করে খামার করেছে।

রাস্তার জায়গায় বেড়া দিয়ে গরুর অবৈধ হাট বসিয়েছিল। এর আগেও তাদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু খামার কর্তৃপক্ষ এসব কোনো বিষয়ে তোয়াক্কা করেনি। তাই এবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে।


আরও খবর



কাস্টমস কমিশনার এনামুল হকের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত:সোমবার ০৮ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ০৮ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আদালত প্রতিবেদক

Image

সিলেটের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ এনামুল হকের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৮ জুলাই) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালত এ আদেশ।

আজ মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক ফারজানা ইয়াসমিন মোহাম্মদ এনামুল হকের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক এ আদেশ দেন। দুদকের পক্ষে মীর আহাম্মদ আলী সালাম এ তথ্য জানান।

গত ৪ জুলাই এনামুল হকের ৮ কোটি ৯৫ লাখ ৪৪ হাজার ৫০০ টাকার জমি ও ফ্ল্যাট ক্রোকের নির্দেশ দেন একই আদালত।

ক্রোক করা সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে গুলশানের জোয়ারসাহারায় ৬১ লাখ টাকার তিন কাঠা জমি, খিলক্ষেতে ৭ লাখ ৮৪ হাজার টাকার ৩৩ শতাংশ জমি। কাকরাইলের আইরিশ নূরজাহানে কমনস্পেসসহ ১ হাজার ১৭০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, যার মূল্য ২৮ লাখ ৩০ হাজার ৫০০ টাকা। একই ভবনে কারপার্কিং স্পেসহ ১ হাজার ৮৩৫ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, যার মূল্য ৫১ লাখ ২ হাজার ৯০০ টাকা।

এছাড়া কাকরাইলে ১ হাজার ৯০০ বর্গফুট ও ৩ হাজার ৮০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটসহ কারপার্কিং রয়েছে, যার মূল্য ২ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। গাজীপুরে ৬২ লাখ ৪০ হাজার টাকার পাঁচ কাঠা জমি। মোহাম্মদপুরে তিনটি বাণিজ্যিক ভবনে চার হাজার বর্গফুটের তিনটি স্পেস, যার প্রতিটির মূল্য ৭১ লাখ ৩৫ হাজার করে। মোহাম্মদপুরে ১০ হাজার ৯৬৫ বর্গফুটের স্পেস রয়েছে, যার মূল্য ২ কোটি ৩৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এছাড়া গুলশানের ৭২ লাখ টাকার ২ হাজার ৪২৮ বর্গফুটের ফ্ল্যাট এবং বাড্ডায় চার কাঠা নাল জমি, যার মূল্য ১৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।

জ্ঞাত আয় বর্হিভূত ৯ কোটি ৭৬ লাখ ৯৭ হাজার ১০৭ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এনামুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা দায়ের করে।


আরও খবর
কোটা নিয়ে আপিল বিভাগে শুনানি রোববার

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




জিআই স্বীকৃতি পেল গোপালগঞ্জের ব্রোঞ্জের গহনা

প্রকাশিত:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

Image

জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে গোপালগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ব্রোঞ্জের গহনা। এটি জেলার দ্বিতীয় পণ্য হিসেবে জিআই স্বীকৃতি অর্জন করেছে। গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে গোপালগঞ্জের ব্রোঞ্জের গহনা নিবন্ধনের জন্য ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (নিবন্ধন ও সুরক্ষা) আইন, ২০১৩-এর ধারা ১২ অনুসারে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেড মার্কস অধিদপ্তর কর্তৃক জার্নালে প্রকাশ করা হয়।

এই স্বীকৃতির ফলে জেলার মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড়ের ব্রোঞ্জের গহনার ঐতিহ্যকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। এ ছাড়া ব্রোঞ্জের গহনা তৈরির  সঙ্গে সম্পৃক্ত কারিগরদের কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে। ব্রোঞ্জ শিল্পভিত্তিক অর্থনীতি আরো গতিশীল হবে। এলাকার আর্থ-সামজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।

চলতি বছরের ১২ মার্চ জলিরপাড়ের ব্রোঞ্জের গহনার জিআই পণ্যের স্বীকৃতি চেয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোতে আবেদন করা হয়। এর আগে গোপালগঞ্জের রসগোল্লা জেলার প্রথম পণ্য হিসেবে জিআই স্বীকৃতি লাভ করেছিল।

ব্রোঞ্জ গহনা প্রস্তুতকারক জলিরপাড় গ্রামের জগদীশ শীল বলেন, ব্রোঞ্জ গহনা তৈরির তামা, দস্তা ও পিতলের দাম বেড়েছে। সহজ প্রাপ্যতা কমেছে।

ভারতসহ অন্যান্য দেশের ব্রোঞ্জ গহনার রং খুব চকচকে। আমাদের গহনার রং তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। সুদৃশ্য, মনোহর ও শোখিন দামি গহনার বাজার ভারত ও চীনের দখলে চলে গেছে। তাই কানের দুল, হাতের বয়লাসহ যেসব গহনার চাহিদা রয়েছে এমন সব গহনা আমরা তৈরি করি। সরকার এ শিল্পকে আধুনিকায়ন, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও সব ধরনের সহযোগিতা করলে আমরা ব্রোঞ্জ গহনার শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারব।


আরও খবর



কক্সবাজারে পাহাড় ধস, নারী-শিশুসহ চারজনের মৃত্যু

প্রকাশিত:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
মোহাম্মদ ফারুক, কক্সবাজার

Image

কক্সবাজারে শুরু হওয়া ভারি বর্ষণে ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে চারবার পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। পৃথক এ ঘটনাগুলোতে নারী-শিশুসহ চারজনের করুণ মৃত্যু হয়েছে। এদের মাঝে দুজন বৃহস্পতিবার সকালে, একজন দুপুরে এবং অপরজন রাতে পৃথক ঘটনায় মাটিচাপা পড়ে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আতাউল গনি ওসমানী।

সর্বশেষ পাহাড় ধসের ঘটনায় কক্সবাজার শহরের কলাতলী সৈকত পাড়া এলাকা থেকে এক স্কুল ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) রাতে ৮টা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টার উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে একজনের মরদেহ এবং বাকি তিনজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়।

নিহত শিক্ষার্থী মিম (১২) সৈকত পাড়ার মুহাম্মদ সেলিমের কন্যা। সে সৈকত বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার দোলন আচার্য বলেন, পাহাড় ধসের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। পাহাড়ের নিচে বিপদজনকভাবে তৈরি করা একটি ঘরের ছোট খুপরিতে মাটিচাপা পড়েন কয়েকজন। সেখানে তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। মিমকে বের করতে প্রায় তিন ঘণ্টা লেগে যায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের বরাতে পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এম এ মনজুর বলেন, পরমাণু শক্তি কমিশন অফিসের নিরাপত্তাকর্মী মোহাম্মদ সেলিমের মালিকানাধীন টিন সেট বাড়ির উপর রাত ৮টার দিকে একটি গাছসহ পাহাড় ধসে পড়ে। এসম সময় বাড়িতে সাত সদস্য অবস্থান করলেও সেলিমের স্ত্রী নূরজাহান, তাদের সন্তান লামিয়া হাবিবা, হুজাইফা, মাওয়া ও মিম মাটির নিচে চাপা পড়ে। তাৎক্ষণিক চেষ্টাও তিনজনকে জীবিত বের করা গেলেও মিমকে উদ্ধারে সময় বেশি লাগায় তার মৃত্যু হয়। প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয়রাও উদ্ধারে অংশ নেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরিপাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে গৃহবধূ লায়লা বেগম (৩৫) নিহত হন। তিনি স্থানীয় বজল আহমদের স্ত্রী। তাদের শিশু সন্তান মোহাম্মদ জুনায়েদকে (২) গুরুতর আহত অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতের মেয়ে ইয়াছমিন আক্তার বলেন, আমার মা ভাইকে নিয়ে দুপুরে ভাত খাচ্ছিলেন। এসময় হঠাৎ পাহাড় ধসে এসে রান্নাঘরে পড়ে। মা এবং ভাই মাটি চাপা পড়লে এলাকাবাসীর সহায়তায় তাদের ভেতর থেকে বের করা হয়। পরে আমার মা মারা গেলেও ভাইকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

একইদিন সকাল ৭টার দিকে পাহাড় ধসের পৃথক ঘটনায় আরো দুইজনের মৃত্যু হয়। শহরের ৬ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ পল্যানিয়া কাটা এলাকায় বসতঘরে পাহাড় ধসে স্থানীয় মোহাম্মদ করিমের স্ত্রী জমিলা বেগম (৩০) নিহত হন৷ কাছাকাছি সময়ে শহরের ৭নং ওয়ার্ডের সিকদার বাজার এলাকায় বাড়ির মাটির দেয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু হয় সাইফুল ইসলামের ছেলে নাজমুল হাছান (১০)।

নিহত জমিলার স্বামী করিম জানান, সকাল ৬টার দিকে ঘুম থেকে উঠেই নাস্তা খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সপরিবার। এসময় আচমকা পাহাড়ের কাদামাটি বসত ঘরে পড়লে চাপা পড়েন গৃহবধূ জমিলা। তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শিশু হাসানের পরিবার জানায়, পাহাড় ধসে ঘরের মাটির দেয়ালে পড়লে মাটির দেয়ালসহ আসবাবপত্রে চাপা পড়ে শিশু হাসান। ঘটনাস্থল থেকে তাকে মৃত উদ্ধার করে স্থানীয়রা।

কক্সবাজার পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম তারিকুল আলম বলেন, পাহাড়ে ঝুঁকিতে থাকারা নিরাপদে সরে আসতে কক্সবাজার পৌরসভা ১৩টি আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছে। সেখানে রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শহরের পাহাড়ে বসবাসরতদের মাইকিং করে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। কিন্তু মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে চায় না। এ কারণেই বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে গেলো।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আতাউল গনি ওসমানী বলেন, যুগ যুগ ধরেই কক্সবাজারের পাহাড় ও পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি গেড়েছে অধিবাসীরা। মৃত্যুর হাতছানি দেখেও তাদের সরানো যায় না। এরপরও মাইকিং অব্যাহত রাখা হয়েছে। পাহাড় ধসে মৃত্যুরোধে প্রয়োজনে আইনী পদক্ষেপে তাদের সরানোর উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে বলেও উল্লেখ করেন এডিএম।


আরও খবর