আজঃ বৃহস্পতিবার ২৪ জুন ২০২১
শিরোনাম

ঋতুস্রাবের সময় অসহ্য ব্যথা নিরসনে যা করা উচিত

প্রকাশিত:বুধবার ০২ জুন 2০২1 | হালনাগাদ:বুধবার ০২ জুন 2০২1 | ১২৬জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

মেয়েদের মাসিক শুরুর পর তাকে কাউন্সিলিংয়ের পাশাপাশি অন্তত ছয় মাস পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের অধ্যাপক শিউলী চৌধুরী বলছেন, জীবনের শুরুতে ভয় বা মাসিক সংক্রান্ত সমস্যা কাটিয়ে ওঠার সঙ্গে মেয়েদের মানিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ অনেক মেয়ের জন্যই খুবই কষ্টদায়ক হয়ে দাঁড়ায়। আবার অনেকে স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেশি সময় ধরে তলপেটে প্রচুর ব্যথা অনুভব করেন।

মেয়ে এবং তার পরিবারের করণীয়: অধ্যাপক শিউলি চৌধুরীর মতে প্রথমত কাউন্সিলিং প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত তাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে এবং তৃতীয়ত বিশ্রাম। এমন পরিস্থিতিতে এসব বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলছেন, প্রচুর রক্তক্ষরণের ফলে রক্তস্বল্পতা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরে জটিল সমস্যা হতে পারে। তাই এই সময় পুষ্টিকর বিশেষ করে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার অধিক পরিমাণ খেতে হবে। মাসিকের সময় মেয়েদের শরীর থেকে ভিটামিন ও খনিজ বের হয়। তাই এই সময় চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের সঙ্গে কথা বলে সুষম খাদ্যের তালিকা করা উচিত।

এ বিষয়ে মায়েদের উচিত মেয়ের সমস্যার শুরু থেকেই খোলামেলা আলাপ করা এবং কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে ৬ মাস পর্যন্ত ক্যালেন্ডার বা গণনার মাধ্যমে মাসিকের সময়কাল পর্যবেক্ষণ করে ডায়েরিতে নোট করা।

এ অধ্যাপকের মতে, মাসিকের সময় মেয়েদের শরীরে হরমোনাল পরিবর্তন হয়ে থাকে। অনেকের নিয়মিত মাসিক হলেও কারও কারও ক্ষেত্রে দেরি করে হয়ে থাকে। আবার অনেকের রক্তক্ষরণ বেশি হয় যা রক্তস্বল্পতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই এই সময় উদ্বিগ্ন না হয়ে পরিচর্যা করা উচিত।

মাসিককে কেন্দ্র করে মেয়েদের শরীরের পরিচর্যার কিছু বিষয়কে বিবেচনায় রাখার জন্য বলছেন এ বিশেষজ্ঞ। বিষয়গুলো হলো-

পুষ্টিকর খাবার বিশেষ করে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ।

হাইজিন সম্পর্কে ধারণা।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম।

খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ভিটামিন নিশ্চিত করা।

প্রয়োজনে কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের সহায়তা নেয়া।

ইউনিসেফের পরামর্শ :

বাবা-মা ও পরিবারের অন্য নারীদের সঙ্গে কথা বলা।

স্যানিটারি ন্যাপকিন বা পরিষ্কার কাপড় ব্যবহার করা এবং অভিজ্ঞদের কাছে ব্যবহার বিধি জেনে নেয়া।

মাসিকের সময় ব্যবহৃত পোশাক নোংরা পানিতে না ধোয়া বরং সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালো করে ধোয়া।

মাসিকের কাপড় অন্ধকার ও স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় না শুকিয়ে বরং পরিষ্কার জায়গায় রোদে শুকানো ও নিরাপদ জায়গায় সংরক্ষণ।

পুষ্টিকর খাবার বিশেষ করে দুধ, মাছ, মাংস, ডিম, শাক সবজি ও ফলমূল খেতে হবে। অন্য সময়ের তুলনায় বেশি খাবার খাওয়া।

তলপেটের ব্যথার সময় বোতলে গরম পানি নিয়ে স্যাক দিলে আরাম পাওয়া যাবে।

অতিরিক্ত ব্যথা বা সংরক্ষণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বিশ্রামে থাকতে হবে, তবে স্কুলে যাওয়া বা ঘরের কাজ করার মতো স্বাভাবিক কাজ করা অব্যাহত রাখা।

মাসিকের সময় চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কিছু ব্যায়াম শরীর ও মনকে ভালো রাখতে পারে।


নিউজ ট্যাগ: ঋতুস্রাব

আরও খবর
বাবার জন্য ভালোবাসা

রবিবার ২০ জুন ২০21




দাম কমেছে পেঁয়াজের, সবজি আগের মতোই চড়া

প্রকাশিত:শুক্রবার ১১ জুন ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১১ জুন ২০২১ | ১০০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ার পর সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। তবে আগের মতোই চড়াদামে বিক্রি হচ্ছে সবধরনের সবজি। সেই সঙ্গে অপরিবর্তিত রয়েছে মুরগির দাম।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, হঠাৎ করেই বাজারে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কমে গিয়েছিল, যে কারণে দাম বেড়ে যায়। ৪০ টাকা থেকে লাফিয়ে দাম বেড়ে কেজি ৬০ টাকা হয়ে যায়। তবে এখন সরবরাহ বাড়ায় দাম কমে এখন খুচরায় ৫০ টাকায় নেমে এসেছে।

রামপুরার ব্যবসায়ী মো. সালাম শেখ বলেন, দাম বৃদ্ধি দেখে অনেকে বাড়তি পেঁয়াজ কিনেছেন। এতে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পেঁয়াজের দাম আরও বেড়ে যায়। তবে এখন চাহিদা কমেছে। আবার দেশি পেঁয়াজের সরবরাহও বেড়েছে। এ কারণে দাম কমেছে।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী গৌতম বলেন, ভারত থেকে আসা বন্ধ থাকায় পেঁয়াজের সরবরাহ কমে যায়। সেই সঙ্গে ফরিদপুরের বাজারেও দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কম ছিল। যে কারণে হুট করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। তবে এখন সরবরাহ অনেকটাই ঠিক হয়ে গেছে। যে কারণে দাম কমেছে।

এদিকে ব্রয়লার, সোনালী ও লাল লেয়ার মুরগি আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি করছেন। লাল লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা। আর সোনালী মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২৩০ টাকা।

মুরগির দামের বিষয়ে খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী জহিরুল বলেন, সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির দামে হেরফের হয়নি। এখন সোনালী মুরগি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের ধারণা আর বেশিদিন এই অবস্থা থাকবে না। কিছুদিনের মধ্যে সোনালী মুরগির দাম বেড়ে যেতে পারে।

এদিকে সবজি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে আগের মতো ফুলকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা।

তবে সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে শসা, বেগুন, পটল, ঢেড়সের দাম। মানভেদে শসার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। পটলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। ঢেড়সের কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

এছাড়া বরবটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, গাঁজর ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পাকা টমেটো ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঝিঙে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

কাঁচকলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। লাউয়ের পিস বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। এক কেজি কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। পেঁপের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। উস্তের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা।

সবজির দামের বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী আয়নাল বলেন, প্রতিবছরই এমন সময় সবজির দাম একটু বেশি থাকে। শীতের সবজি আসার আগে দাম কমার সম্ভাবনা কম বরং সামনে সবজির দাম আরও বাড়তে পারে।


আরও খবর



স্বাস্থ্যখাতে বাজেট ৩ হাজার কোটি টাকা বাড়ছে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৩ জুন ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৩ জুন ২০২১ | ৯৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

২০২১-২২ অর্থ বছরে প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তুফা কামাল এ বাজেট উত্থাপন করেন।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, কোভিড ১৯ মোকাবেলায় গৃহীত কার্যক্রমসমূহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনায় নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ খাতে আগামী ২০২১-২০২২ অর্থবছরের জন্য ৩২ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা প্রস্তাব করছি যা গত ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ২৯ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা ছিল।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সুলভ এবং মানসম্পন্ন স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। ইতোমধ্যে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার প্রভুত উন্নতি সাধিত হয়েছে। তবে, এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের ভূমিকা অতিমাত্রায় শহরকেন্দ্রিক। তাই, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবাকে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রাম জেলার বাইরে সহজলভ্য করার লক্ষ্যে আমি এ খাতে কর প্রণোদনার প্রস্তাব করছি। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রাম জেলার বাইরে অন্যান্য জেলায় শিশু ও নবজাতক, নারী ও মাতৃস্বাস্থ্য, অন্য কোলজি, ওয়েল বিং ও প্রিভেন্টিভ মেডিসিন ইউনিট থাকা সাপেক্ষে ন্যূনতম ২৫০ শয্যার সাধারণ হাসপাতাল এবং ন্যূনতম ২০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপিত হলে শর্ত সাপেক্ষে ১০ বছরের জন্য কর অব্যাহতির প্রস্তাব করছি।


আরও খবর



গত ২৪ ঘণ্টায় নোয়াখালীতে শনাক্ত ১০১ জন

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১ | ৫৩জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

নোয়াখালীতে ১০ হাজার ছাড়াল করোনা শনাক্ত। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১০১ জন। ৩৯৩ জনের পরীক্ষায় এ ফলাফল পাওয়া যায়। এতে শনাক্তের হার ২৫ দশমিক ৭০ শতাংশ।

২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গেছেন আরও দুইজন। এরা সদর ও বেগমগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। জেলায় মোট মৃত্যু ১২৯ জনের। মৃত্যুর হার এক দশমিক ২৯ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার।

তিনি বলেন, নতুন ১০১ জনসহ জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ১২ জন। মোট আক্রান্তের হার ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ। ৯৩ হাজার ৫৪৪ জনের পরীক্ষা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে নোয়াখালী সদরে ৬০ জন, বেগমগঞ্জে ১৫ জন, সোনাইমুড়িতে সাতজন, চাটখিলে দুজন, সেনবাগে পাঁচজন, কোম্পানীগঞ্জে আটজন ও কবিরহাটের চারজন শনাক্ত হয়েছে।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে জেলায় এ পর্যন্ত মৃত ১২৯ জনের মধ্যে নোয়াখালী সদরে ২৪ জন, সুবর্ণচরে দুজন, বেগমগঞ্জে ৪৫ জন, সোনাইমুড়িতে আটজন, চাটখিলে ১৩ জন, সেনবাগে ১৭ জন, কোম্পানীগঞ্জে চারজন ও কবিরহাটের ১৬ জন মারা গেছে।

এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দুই হাজার ৭২৪ জন। কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে (শহীদ ভুলু স্টেডিয়াম) ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪৩ জন ও আইসোলেশনে আছেন ১২ জন।


আরও খবর



হেফাজতের তেঁতুল হুজুররা জঙ্গিবাদ লালনকারী: সংসদে ইনু

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৫ জুন ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৫ জুন ২০২১ | ৮৩জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image
বিএনপি তাদের পুরনো স্বভাব না বদলে জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।তারা এখনও জঙ্গি-সন্ত্রাসী তেঁতুল হুজুরদের রক্ষা করার জন্য বক্তব্য বিবৃতি দিয়েই চলেছে

জামায়াত-হেফাজতের তেঁতুল হুজুররা আসলে কোনও আলেম নয়। এরা মুখোশ পরে জঙ্গিবাদ লালন করে, বলেছেন জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, তারা রাজাকারপন্থী ও পাকের অনুচর। এদের খাটো করে দেখার কোনও সুযোগ নেই।

মঙ্গলবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় করোনা, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিকে তিনটি ভাইরাস বলে আখ্যায়িত করেন তিনি।

ইনু বলেন, বিএনপি তাদের পুরনো স্বভাব না বদলে জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।তারা এখনও জঙ্গি-সন্ত্রাসী তেঁতুল হুজুরদের রক্ষা করার জন্য বক্তব্য বিবৃতি দিয়েই চলেছে। এই তিন ভাইরাস পুষে রেখে জীবনও বাঁচবে না। জীবিকাও বাঁচবে না। তাদের কোনও ছাড় না দিয়ে এখনই ধ্বংস করতে হবে। জঙ্গি-দুর্নীতি-করোনা এই তিন ভাইরাসকে ধ্বংস করে সুশাসন ও সমাজতন্ত্রের পথে এগিয়ে যেতে হবে বলে জানান হাসানুল হক ইনু।

বাজেট প্রসঙ্গে জাসদ সভাপতি বলেন, এবারের বাজেট অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের নীতির নয়। এটি একবছর পেটে ভাতে চলার বাজেট। বাজেটে প্রবৃদ্ধি হবে, কিন্তু পুষ্টিসম্মত অর্থনীতির সূচনা হবে না। এবার বাজেটে গতানুগতিকতার বাইরে যাওয়ার সুযোগ ছিল। সুযোগ ছিল করোনা মোকাবিলার, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের কৌশলগত সুদূর প্রসারী পরিকল্পনার সুস্পষ্ট ছক করার। কিন্তু তা করা হয়নি।

তিনি বলেন, এখন জাতির এক নম্বর অগ্রাধিকার হওয়া উচিত টিকা সংগ্রহ, টিকা নিয়ে সমন্বয়হীনতা ও তুঘলকিকাণ্ড বন্ধ করে দেশে টিকা উৎপাদনের ব্যবস্থা করতে হবে। এক বছরের মধ্যে সবাইকে টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। করোনাভাইরাসকে পরাজিত করতে না পারলে সব অর্থহীন হয়ে যাবে।

সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবি করে ইনু বলেন, প্রতিবছরই বাজেটের আকার বাড়ছে। দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। মানুষ সুফল পাচ্ছে। কিন্তু উন্নয়নের সঙ্গে দুর্নীতিও বাড়ছে। অনেকে দুর্নীতিকে উন্নয়নের অনুষঙ্গ মনে করলেও আমি তা মনে করি না। আমি বিশ্বাস করি দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়ন সম্ভব। এতে উন্নয়নের গতি কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। দেশ শাসনেও সুশাসন দরকার। বাজেটে বাস্তবায়নেও সুশাসন দরকার।

নিউজ ট্যাগ: হাসানুল হক ইনু

আরও খবর



দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় শরীয়তপুরের পাটনীগাঁও

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৫ মে ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৫ মে ২০২১ | ১৭৭জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

জেলা প্রতিনিধি:

শরীয়তপুর সদর উপজেলার পালং ইউনিয়নের পাটনীগাঁও এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। এলাকাবাসীর অভিযোগ বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও এই এলাকার রাস্তাটি হয়নি। রাস্তাঘাটের জন্য চরম দুঃখ কষ্টে দিনযাপন করছে এলাকাবাসীরা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, পাটনীগাঁও এলাকায় প্রায় ছয়শত পরিবারের বসবাস। অধিকাংশ এলাকার মানুষজন অর্ধশিক্ষিত গরীব কৃষক। কিন্তু ছয়শত পরিবারের চলাচলের জন্য বৃক্ষতলা থেকে তেলিবাড়ি পর্যন্ত মাত্র ১.১৭ কিলোমিটার একটি গ্রামীণ রাস্তা। রাস্তাটির নেই কোনো শাখা রাস্তা। গ্রামীণ রাস্তাটি ইটের সোলিং দিয়ে তৈরী হলেও বন্যা, ভারী বর্ষণ ইত্যাদি কারণে বর্তমানে করুণ দশা রাস্তাটির। এ রাস্তা দিয়ে তিনটি গ্রামের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ধামসি পাটনীগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা রাস্তা ভাঙা হওয়ার কারণে পড়ে গিয়ে আহত হয় বলে অধিকাংশ সময় ঝড়ে পড়ে। কষ্ট করে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়লেও গ্রামে কোনো উচ্চ বিদ্যালয় না থাকায় ষষ্ঠ শ্রেণীতে শহরে পড়তে যেতে চায় না ভাঙা রাস্তাটি পায়ে হেটে। যার কারণে পাটুনিগাঁওর শিক্ষার হার ক্রমাগত হ্রাসের দিকে, যা উদ্বেগ জনক। তাছাড়া গ্রামটিতে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও তা অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে বিধায় প্যাগনেন্টসহ ইমার্জেন্সেী রোগীরা হাসপাতালে যেতে পারে না, ফলে ঘটে দুর্ঘটনা।

পাটনীগাঁও গ্রামের জয় মন্ডল নামে এক যুবক বলেন, ভাই দুঃখের কথা কী বলব, ছোটবেলায় মাত্র অষ্টম পর্যন্ত পড়েছি খুব কষ্টে তারপর আর স্কুলে যাওয়া হয়নি রাস্তাটির কারণে। বর্তমানেও সেই একই চিত্র যখন দেখি তখন খুব কষ্ট হয় গ্রামের ছেলেপিলেদের জন্য। কিছুদিন আগে এক বৌদি মধ্যরাতের দিকে প্রসব যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন কিন্তু রাস্তায় গাড়ি চলাচলের অবস্থা না থাকায় তাকে আমি পাজা কোলে করে বৃক্ষতলা পর্যন্ত নেই, গ্রামের মানুষ অর্ধ শিক্ষিত মুরুখ্খ হওয়ায় এই বিষয়টি নিয়েও তাড়া টিটকারি করতে আমাকে ছাড়েনি। এটাকে কেমন সংকট বলে, বলুন দেখি?

উত্তম কুমার নামে একজন বলেন, রাস্তাটির কারণে আমাদের অঞ্চলের বিভিন্ন রকম সমস্যা হচ্ছে। গ্রামের বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারছে না, গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কৃষক হওয়ায় তারা রাস্তাটির কারণে ধানসহ ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছে না, ফরিয়ারা এসে প্রতিমণে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কম দিয়ে ফসল নিয়ে যায়। এলাকায় কোনো অঘটন ঘটলে থানা পুলিশ আসতে পারে না। এলাকাটির অধিকাংশ পরিবার হিন্দু হওয়ায় এখানে প্রতিবছর নাম কীর্তন হয় কিন্তু দূরের কোনো মেহমান আসতে পারে না।

মধুসূদন মন্ডল নামে এক ষাটোর্ধ্ব মুরুব্বি বলেন, আমি বুড়ো হয়ে গেছি, গ্রামের রাস্তাটি এখনও ঠিক হলো না, আধুনিক যুগে কি আমরা অন্ধকারে পড়ে থাকব? রাস্তাটির কারণে আমরা ছেলে-মেয়ে বিয়ে দিতেও বাধা পাচ্ছি। শ্যাখের বেটির কাছে আমার আবেদন তিনি যেন রাস্তাটি করে দিয়ে আমাদের আলোর মুখ দেখান।

রাস্তাটির বিষয়ে পালং ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড মেম্বার শাহিনুর ইসলাম শাহিন বলেন, রাস্তার কাজটি এলজিডিতে আছে, করোনার কারণে টেন্ডার হচ্ছে না।

এবিষয়ে পালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন দেওয়ান বলেন, রাস্তাটি এর আগে রিপেয়ারিং এর টেন্ডার হয়েছিল , তারা কীভাবে কাজ করেছে তা আমি জানি না, আমি কাগজপত্র রেডি করে পাঠালেও কী কারণে যে টেন্ডার হলো না তা বুঝতে পারি নাই, তবে আমি আবার কাগজপত্র রেডি করেছি নতুন করে পাঠানোর জন্য।

রাস্তাটির বিষয়ে শরীয়তপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী কে এম রেজাউল করীম বলেন, ভিলেজ রাস্তা রিপেয়ারিং এর অন্তর্ভূক্ত নয় রাস্তাটি, ভিলেজ রিপেয়ারিং এর অন্তর্ভূন্ত না হওয়ায় রাস্তাটি করা সম্ভব হচ্ছে না আমাদের পক্ষে।

কিন্তু কোন উপায়ে রাস্তাটি মেরামত হবে তা জানে না পাটনীগাঁওবাসী, তারা চায় রাস্তাটি হোক, গ্রামে আলো আসুক।

নিউজ ট্যাগ: শরীয়তপুর

আরও খবর