আজঃ বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২
শিরোনাম

ঈদের ৭ দিনে ডায়রিয়া আক্রান্ত ৩৩৮৯ জন

প্রকাশিত:বুধবার ১১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১১ মে ২০২২ | ৩৫৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দেশে ডায়রিয়া আক্রান্তের হার অনেকটাই কমে এসেছে। তবে, ঈদের দিন থেকে পরবর্তী সাতদিনে রাজধানীসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোয় তিন হাজার ৩৮৯ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত পহেলা মে ৬৩১ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরপর ২ মে ৫৫৯ জন, ৩ মে ৪২৯ জন, ৪ মে ৬৪১ জন, ৫ মে ৫৪৭ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরপর ৬ মে ৪৫৭ জন, ৭ মে ৪৭২ জন, ৮ মে ৪৩৮, ৯ মে ৪০৫ জন, এবং ১০ মে সকাল ৭টা পর্যন্ত ৫৭ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ৩ মে থেকে ৯ মে পর্যন্ত (৭ দিন) হাসপাতালটিতে মোট ৩ হাজার ৩৮৯ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এ বিষয়ে আইসিডিডিআর,বির জনসংযোগ শাখার সিনিয়র ম্যানেজার তারিফুল ইসলাম খান বলেন, দেশে ডায়রিয়া প্রকোপ অনেকটাই কমতে শুরু করেছে। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও অনেকটা কমে এসেছে। ঈদে অন্যান্য সবাই ছুটি কাটালেও আমাদের চিকিৎসক স্বাস্থ্যকর্মীরা ডায়রিয়া প্রকোপ মোকাবিলায় অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করে ডায়রিয়া প্রকোপ বেড়ে গেলে রোগীদের চাপ সামলাতে আমাদের হিমশিম খেতে হয়েছে। তখন হাসপাতালের নির্ধারিত শয্যার বাইরেও খোলা জায়গায় নতুন করে দুইটি তাঁবু স্থাপন করে চিকিৎসা সেবা পরিচালনা করতে হয়েছে। তবে, এখন সংক্রমণ কমে আসায় দুইটি তাঁবুর মধ্যে থেকে একটি খুলে ফেলা হয়েছে।

হাসপাতালটিতে কর্মরত চিকিৎসক, আইসিডিডিআর,বির অ্যাসিস্ট্যান্ট সাইনটিস্ট ডা. শোয়েব বিন ইসলাম বলেন, আমাদের হাসপাতালে এখন দৈনিক ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৫০০ এর নিচে চলে এসেছে। এটিকে আমরা মোটামুটি স্বাভাবিক পরিস্থিতিই বলে থাকি। তবে, এখন তো অনেকেই ঢাকার বাইরে অবস্থান করছেন, তারা ঢাকায় ফিরলেই মূল পরিস্থিতিটা বলা যাবে। তবে, বর্তমান পরিস্থিতিকে আমরা সহনীয় বলতে পারি। পর্যায়ক্রমে আরও কমতে থাকবে।

সংক্রমণ কিছুটা কমে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, এপিডেমিওলজিক্যাল ব্যাপারটাই এরকম। আমরা সাধারণত বলে থাকি, বর্ষা শুরুর আগে এবং পরে এই দুইটা সময় আমাদের ডায়রিয়া বাড়ে। এ সব সময়ে প্রকোপ দেখা দিলে সাধারণত এক মাস থেকে দুই মাসের মতো স্থায়ী হয়। এর বেশি তো আর থাকে না। এবারের প্রকোপটাও প্রায় দুই মাসের মতো থেকেছে।

জানা গেছে, মার্চের মাঝামাঝি থেকেই রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। গত ১৬ মার্চ সর্বপ্রথম এক হাজার ৫৭ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তির খবর জানিয়েছিল আইসিডিডিআর,বি। এরপর দিনই (১৭ মার্চ) আরও এক হাজার ১৪১ জন রোগী ভর্তি হন। এরপর রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে থাকে। গত ৪ এপ্রিল রেকর্ডসংখ্যক ১ হাজার ৩৮৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। শুরু থেকেই রোগীর সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও গত ৮ এপ্রিলের পর থেকে হাসপাতালটিতে রোগী ভর্তির সংখ্যা কিছুটা কমতে থাকে। এরপর ১৪ এপ্রিল দীর্ঘ একমাস পর হাসপাতালটিতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা এক হাজারের নিচে নেমে আসে।

নিউজ ট্যাগ: আইসিডিডিআর,বি

আরও খবর



করোনা: বিশ্বে আরও দেড় হাজার মৃত্যু

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১২ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১২ মে ২০২২ | ৩১০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

চলমান করোনা মহামারিতে বিশ্বজুড়ে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। একইসঙ্গে আগের দিনের তুলনায় কমেছে নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ। একই সময়ে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা নেমে এসেছে পৌনে ৬ লাখের নিচে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে জার্মানিতে। অন্যদিকে দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রাণহানির তালিকায় এরপরই রয়েছে ব্রাজিল, ইতালি, রাশিয়া, ফ্রান্স ও জাপান। এতে বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫১ কোটি ৯০ লাখের ঘর। অন্যদিকে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬২ লাখ ৮২ হাজার।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) সকালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ৪৯২ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে দুই শতাধিক। এতে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৬২ লাখ ৮২ হাজার ৬২ জনে।

একই সময়ের মধ্যে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৭১ হাজার ১০২ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ২০ হাজার। এতে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত ভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ কোটি ৯০ লাখ ৪ হাজার ৭০৪ জনে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে জার্মানিতে। এই সময়ের মধ্যে দেশটিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৩ হাজার ১০২ জন এবং মারা গেছেন ২২৭ জন। করোনা মহামারির শুরু থেকে ইউরোপের এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২ কোটি ৫৫ লাখ ৮৩ হাজার ২৫৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৪৯ জন মারা গেছেন।

অন্যদিকে দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৭ হাজার ৪৮৭ জন এবং মারা গেছেন ২২৬ জন। করোনাভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৮ কোটি ৩৯ লাখ ৫৩ হাজার ৩৭১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১০ লাখ ২৫ হাজার ৭৬৪ জন মারা গেছেন।

ফ্রান্সে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৪০ হাজার ২৯৯ জন এবং মারা গেছেন ৯৬ জন। করোনা মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২ কোটি ৯০ লাখ ৬১ হাজার ৫২৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৫ জন মারা গেছেন। একইসময়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ১৭ জন এবং মারা গেছেন ৫০ জন।

রাশিয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৮ জন এবং নতুন করে ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন ৪ হাজার ১০২ জন। এছাড়া মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৮২ লাখ ৪১ হাজার ৩২৯ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ২৪৮ জনের। একইসময়ে থাইল্যান্ডে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৬৫০ জন এবং মারা গেছেন ৫৬ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৩ হাজার ৮৯৯ জন এবং মারা গেছেন ২৯ জন। করোনা মহামারির শুরু থেকে পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৭৬ লাখ ৫৮ হাজার ৭৯৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ২৩ হাজার ৪৯১ জন মারা গেছেন। গত একদিনে অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৯৯১ জন এবং মারা গেছেন ৮ জন।

লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল করোনায় আক্রান্তের দিক থেকে তৃতীয় ও মৃত্যুর সংখ্যায় তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১২১ জন এবং নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ২৩ হাজার ৩৯৮ জন। অপরদিকে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩ কোটি ৬ লাখ ১৭ হাজার ৭৮৬ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৬ লাখ ৬৪ হাজার ৫৬৪ জনের।

করোনায় আক্রান্তের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। তবে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যার তালিকায় দেশটির অবস্থান তৃতীয়। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ২ হাজার ২৭৫ জন। মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৪ কোটি ৩১ লাখ ১২ হাজার ৮৬১ জন এবং মারা গেছেন ৫ লাখ ২৪ হাজার ১৫৭ জন।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় অস্ট্রেলিয়ায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৭ হাজার ৮৮ জন এবং মারা গেছেন ৫১ জন। একই সময়ে কানাডায় নতুন করে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৯৬ জন এবং মারা গেছেন ৫২ জন। গ্রিসে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৭৬১ জন এবং মারা গেছেন ২৭ জন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ২০২০ সালের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাকে বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে সংস্থাটি।

নিউজ ট্যাগ: করোনাভাইরাস

আরও খবর



যাত্রীসেবায় শ্রমিকদের আরও মনযোগ দিতে হবে : নৌ-প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত:বুধবার ২৭ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ২৭ এপ্রিল ২০২২ | ৪০০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, যাত্রীসেবা ও পণ্য পরিবহনে শ্রমিকদের আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা মানুষকে সেবা দিতে চাই। বাংলার মানুষ যেন মনে করে আমরা তাদের পাশে আছি। মানুষ একটু সহযোগিতা পেলেই খুশি থাকে। যাত্রী সেবায় শ্রমিকদের আরও মনযোগ দিতে হবে। একসাথে সবাইকে নিয়ে ঈদের আনন্দ পেতে চাই। কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যেন ঈদের আনন্দকে মলিন করে না দেয় সেদিকে সচেষ্ট থাকতে হবে।

বুধবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর সদরঘাট টার্মিনালে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নৌযান শ্রমিক ও গরিবদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক, পরিচালক (বন্দর) ওয়াকিল নেওয়াজ, ঢাকা নদী বন্দরের কর্মকর্তা (যুগ্ম পরিচালক) আলমগীর কবির উপস্থিত ছিলেন।

দেশের ২০টি নদী বন্দরে ৬ হাজার ৫০০ প্যাকেট খাদ্য বিতরণ করা হয়। প্রতি প্যাকেটে এক কেজি পোলাও চাল, এক কেজি লাচ্ছা সেমাই, এক কেজি চিনি, হাফ লিটার তেল ও এক কেজি লবণ রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাপনায় সেবা দিয়ে যাচ্ছে। দেশের অর্থনীতি, জীবন-জীবিকা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সাথে জড়িত শ্রমিকদেরও সেবা দিয়ে থাকে। করোনার সময়ে বিআইডব্লিউটিএ শ্রমিকদের পাশে ছিল। করোনা মহামারির সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখতে এবং মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকিমুক্ত রাখতে কাজ করেছেন।


আরও খবর



দূষণের কবলে হালদা নদী, ঝুঁকিতে মৎস্য প্রজনন

প্রকাশিত:শনিবার ১৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ১৪ মে ২০২২ | ৩১০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

চরমভাবে দূষণের শিকার হচ্ছে এশিয়ার একমাত্র মিঠা পানির প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী। প্রতিবছর কার্প জাতীয় রুই, কাতল, মৃগেল, কালি বাউশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মা মাছ ডিম ছাড়ে এ নদীতে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছে, দূষণ অব্যাহত থাকলে শিগগিরই প্রাণ হারাবে হালদা নদী, হ্রাস পাবে মৎস্য প্রজনন।

২০২০ সালে রুই জাতীয় মাছের মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে খ্যাত এ নদীকে বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। ফলে হালদার জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় ও মানিকছড়ি উপজেলা, চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি, রাউজান, হাটহাজারী উপজেলা এবং পাঁচলাইশ থানার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হালদা নদী এবং নদী তীরবর্তী ৯৩ হাজার ৬১২টি দাগের ২৩ হাজার ৪২২ একর সীমানার হেরিটেজ এলাকায় ১২টি শর্ত আরোপ করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন সচেতনতা ও বিভিন্ন সময় অভিযান চালালেও অনেক জায়গায় মানা হচ্ছে না এসব শর্ত। নদীর পাড়ে অবস্থিত বিভিন্ন বাজার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তদারকির অভাবে দূষিত হচ্ছে এই প্রাকৃতিক সম্পদ।

সরেজমিন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি নারায়ণহাটে নদীর পাড়ে দেখা মেলে ময়লার ভাগাড়ের। বাজারের ময়লা আবর্জনার স্তূপ করে রাখার ফলে বৃষ্টি হলে তা পানির সঙ্গে গড়িয়ে মিশে যাচ্ছে নদীতে। এর ফলে প্রতিনিয়ত দূষণের কবলে পড়ছে এই মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রটি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল নবী বলেন, স্থানীয় বাজারের মানুষ, মুরগির দোকানের উৎকৃষ্টসহ ময়লাগুলো ফেলে থাকে। আমার দোকান এই ময়লার স্তুপের পাশে হওয়াতে দোকানে অবস্থান করা অসহনীয় হয়ে পড়েছে। অনেকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও কেউ মানছে না তা। গিয়াস উদ্দিন নামে এক পথচারী জানান, প্রতিদিন সকালে বাজার পরিষ্কার করার পর বর্জ্যগুলো এখানে এনে ফেলে যায়। বাজারের বিষাক্ত বর্জ্য পানির সাথে মিশে আশে-পাশের পরিবেশ ও পানি দূষিত হয়ে উৎকট দুর্গন্ধ সৃষ্টি হচ্ছে। উৎকট দুর্গন্ধের কারণে এ সময় শীতলক্ষ্যার তীরে দাঁড়িয়ে থাকাই দুরূহ হয়ে পড়েছে। নাকে রুমাল চেপে ধরে খেয়া পারাপার হতে হচ্ছে।

নারাণহাট বাজার ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির সভাপতি মাস্টার আবু তাহের চৌধুরীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমরা এ বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম তারা কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আমাদের কিছু করার নেই। নারায়ণহাট বাজারের ইজারাদার মাস্টার মাহবুবুল আলাম বলেন, আমরা চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেছি এটার জন্য আলাদা জায়গা ব্যবস্থা করছি সেখানে থেকে সরিয়ে অন্যত্রায় ফেলার ব্যবস্থা করব।

নারায়নহাট ইউপি চেয়ারম্যান আবু জাফর মাহমুদ চৌধুরী জানান, আমি উপজেলার সমন্বয় সভায় প্রথম মিটিংয়ে এটি উপস্থাপন করেছি এবং ইউএনও সাহেবকে জানিয়েছি আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করছি আশা করছি দ্রুত সময়ে আলাদা একটি ময়লার ডাম্পিং এর ব্যবস্থা করবো।

এ বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহিনুল হাসান বলেন, আমরা বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দিয়েছি। উনি আমাদের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত সময়ে এটি পরিষ্কার করে ময়লা ফেলার একটি ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করবে।

নিউজ ট্যাগ: হালদা নদী

আরও খবর



জুম ভূমিতে অগ্নিসংযোগ

বান্দরবানে ভয়াবহ খাদ্য সংকটে তিন পাড়ার মানুষ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | ৪০০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বান্দরবানে জমি ইজারা নেয়া হয়েছে এমন দাবিতে ৪০০ একর পাহাড়ি ভূমি পুড়িয়ে দিয়েছে লামা রাবার কোম্পানি নামে একটি প্রতিষ্ঠান। যেখানে জুম চাষ করে জীবন ধারণ করত তিনটি পাড়ার শতাধিক মানুষ। জুমের জমির সঙ্গে আগুনে পুড়েছে স্থানীয় অধিবাসীদের ফলদ বাগান, বনজ গাছ, বাঁশবাগান। শুকিয়ে গেছে লাংকমপাড়ার ঝিরির পানি। ফলে ভয়াবহ খাদ্য ও পানীয় সংকটে পড়েছে স্থানীয়রা। অন্যদিকে রাবার কোম্পানির হুমকির কারণে পাড়া থেকে বেরিয়ে কাজের সন্ধানে যেতে পারছে না পুরুষরা। এ অবস্থায় কোনোমতে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে ডলুছড়ি মৌজার লাংকমপাড়া, রেংয়ানপাড়া ও জয়চন্দ্র ত্রিপুরা পাড়ার মানুষ। কোনো ত্রাণসহায়তা পায়নি বলেও জানিয়েছে তারা।

বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের ডলুছড়ি মৌজার জমিতে মূলত ম্রো ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর সদস্যরা জুম চাষ করে। জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালে ডলুছড়ি মৌজার প্রায় ৪০০ একর জমি ইজারা নেয়া হয়েছে বলে দাবি জানায় লামা রাবার কোম্পানি। সে সময় কোম্পানির প্রকল্প পরিচালক (পিডি) পরিচয় দেয়া কামাল উদ্দিন ও তার লোকজন স্থানীয়দের নানা ভয়ভীতি দেখায় ও মিথ্যা মামলা দেয়। সর্বশেষ গত ২৬ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে ১৫-২০ জন লোক লামা রাবার কোম্পানির পরিচয়ে প্রায় ৪০০ একর ভূমি আগুনে পুড়িয়ে দেয়। আগুন ধরাতে কোরোসিন, রাবার ও চপ্পল ব্যবহার করা হয়। আগুনে তিন পাড়াবাসীর কবরস্থানসহ জুম ভূমিতে চাষ করা ফলের বাগান, বিভিন্ন গাছ, বাঁশবাগান পুরোপুরি পুড়ে গেছে। এছাড়া বুনো মুরগি, সাপ, কাঁকড়া, নানা প্রজাতির পাখির ছানা, মুরগি ও পাখির ডিম, ছোট-বড় নানা প্রজাতির অগণিত বন্যপ্রাণীরও মৃত্যু হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে সেদিন দুপুরেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা সহকারী কমিশনারসহ (ভূমি) আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। জুম ভূমিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একটি মামলাও হয়েছে। লাংকমপাড়ার কারবারি লাংকম ম্রো বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে এ মামলা করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, তিনটি পাড়াঘেঁষে বিশাল এলাকাজুড়ে পাহাড়ি ভূমি ছাইয়ে ঢাকা। প্রাণপ্রকৃতির কোনো চিহ্ন সেখানে নেই। ইজারার দাবিতে এসব পাহাড় পুড়িয়ে দেয়া হলেও লিজের শর্তানুযায়ী জমির সীমানা চিহ্ন হিসেবে পাহাড়ি ভূমির কোথাও চার ফুট উঁচু মাটির ঢিবি ও ঢিবির ওপর ছয় ফুট উঁচু কংক্রিটের খুঁটি দেখা যায়নি। আবার ইজারা নেয়া জমি আগুনে পুড়িয়ে দেয়া যাবে এমন কোনো শর্তও চুক্তিতে নেই।

রেংয়ানপাড়ার কারবারি (পাড়াপ্রধান) রেংয়ান ম্রো বলেন, লামা রাবার কোম্পানি জুম ভূমি পুড়িয়ে দেয়ার পর থেকে ১১টি পরিবার দিনে একবেলা খেয়ে কোনোভাবে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে পরিবারগুলো বিপাকে পড়েছে। পাড়ার সবাই সম্মিলিতভাবে খুঁজে যে জংলি আলু পাচ্ছে, তা-ই ভাগ করে খাওয়া হচ্ছে। কোনো রকমে শাকপাতা সেদ্ধ করে খেয়ে দিন কাটছে। এ কষ্টকে সীমাহীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন কষ্টে আগে কখনো পড়তে হয়নি।

পাড়াগুলো ঘুরে দেখার সময় বেশির ভাগ বাড়ি থেকে শিশুদের কান্নার শব্দ ভেসে আসতে শোনা যায়। কারণ জানতে চাইলে লাংকমপাড়ার রেংচ্যং ম্রো জানালেন, শিশুরা ক্ষুধায় কাতর। কোনো কোনো বাড়িতে শিশু অসুস্থ হলেও অর্থাভাবে চিকিৎসা করানো যাচ্ছে না। ইংচং ম্রো বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পর লামা রাবার কোম্পানির লোকজন নানা হুমকি দিচ্ছে। এমনকি হত্যার হুমকিও দেয়া হচ্ছে। পাড়া থেকে ক্যজু বাজার সড়কের জনশূন্য এলাকায় লামা রাবার কোম্পানির লোকজন দলবদ্ধ হয়ে পাহারা দিচ্ছে। এজন্য প্রাণভয়ে কেউ পাড়ার বাইরে বের হয়ে কাজ করতে যাওয়ার সাহস করছেন।

পাড়াগুলোর কারবারি ও অধিবাসীদের অভিযোগ, লামা রাবার কোম্পানির লোকজন লাঠি, দাসহ নানা ধরনের দেশী অস্ত্র নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে এলাকার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ায়। এজন্য পাড়াবাসী পাড়ার বাইরে যেতে সাহস পাচ্ছে না। লামা রাবার কোম্পানির নানা হুমকির ভয়ে গত দুই বছরের নানা সময়ে রেংয়ানপাড়ার লাঙান ম্রো, প্রচ্যং ম্রো, রেংয়ুং ম্রো, রেংনত ম্রো, সিংচং ম্রো, লাংকমপাড়ার পারিং ম্রো, মেনরুম ম্রো ও জয়চন্দ্র পাড়ার যোগেশ ত্রিপুরা, দুনিজন ত্রিপুরা, যোগেন ত্রিপুরা, পিতর ত্রিপুরা পরিবার নিয়ে পাড়া ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।

ডলুছড়ি মৌজার হেডম্যান যোহন ত্রিপুরা বলেন, অনেক বছর ধরে তিন পাড়াবাসী জুমচাষসহ নানা আবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। ১৯৮৮-৮৯ সালে রাবার বাগান সৃজনের জন্য ডলুছড়ি মৌজায় ২৫ একর করে ৬২ জনের নামে মোট ১ হাজার ২০০ একর জমি ইজারা দিয়েছিল জেলা প্রশাসন। কিন্তু লামা রাবার কোম্পানির নামে সরকারি তৌজিতে কোনো নথিপত্র নেই।

তবে আগুনে পোড়ানোসহ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লামা রাবার কোম্পানির পিডি কামাল উদ্দিন। ইজারার দাবির পক্ষে তিনি বলেন, এত বড় জায়গায় চার ফুট উঁচু মাটির ঢিবি ও ঢিবির ওপর ছয় ফুট উঁচু কংক্রিটের খুঁটি দেয়া অনেক টাকার ব্যাপার। সে কারণেই দেয়া হয়নি।

তিন পাড়ার খাদ্য সংকট বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিংয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তীবরীজি। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। অনুমোদন হয়ে এলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া ওই জমি লামা রাবার কোম্পানির নামে ইজারা দেয়া আছে কিনা তা খতিয়ে দেখে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজ ট্যাগ: বান্দরবান

আরও খবর



দেশে মাথাপিছু আয় এখন ২ হাজার ৮২৪ ডলার

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | ৩৪০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বাংলাদেশে এ বছর মাথাপিছু আয় ২৩৩ ডলার বেড়ে ২ হাজার ৮২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত বছর যা ছিল ২ হাজার ৫৯১ ডলার। মঙ্গলবার (১০ মে) পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান একনেক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, ২০২১-২২ অর্থবছরের সাময়িক হিসাবে মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৭০ টাকা বা ২ হাজার ৮১৪ মার্কিন ডলার।’

মন্ত্রী আরও জানান, ২০২০-২১ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ২ লাখ ১৯ হাজার ৭৩৮ টাকা বা ২ হাজার ৫৯১ মার্কিন ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে শতকরা ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ।’

অন্যদিকে, ২০২০-২১ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ।


আরও খবর
ফের বাড়লো স্বর্ণের দাম

মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২