আজঃ শনিবার ১৫ জুন ২০২৪
শিরোনাম

শরণখোলায় নির্বাচনী সহিংসতায় উভয় পক্ষের ১২ জন আহত

প্রকাশিত:বুধবার ০৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ০৫ জুন ২০২৪ | পত্রিকায় প্রকাশিত
বাগেরহাট প্রতিনিধি

Image

বাগেরহাটের শরণখোলায় নির্বাচনী সহিংসতায় প্রতিদ্বন্ধী দুই প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের সংঘর্ষে ১২ জন আহত হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতরা হচ্ছেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আনারস প্রতিকের প্রার্থী রায়হান উদ্দিন আকন শান্ত'র কর্মী টুলু তালুকদার, ইমরান উদ্দিন শুভ, খান মতিয়ার রহমান, আলমগীর শিকদার, ওবায়দুল আকন, ময়নুল ইসলাম এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দোয়াত কলম প্রতিকের প্রার্থী আসাদুজ্জামান মিলনের কর্মী আসাদ কবিরাজ, মাসুম তালুকদার, শাহিন গাজী, মাহাবুব মোল্লা, মেহেদী হাসান, জলিল হাওলাদার। এদের মধ্যে গুরুতর আহত আসাদ কবিরাজ, ওবায়দুল আকন ও খান মতিয়ার রহমানকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

আনারস প্রতিকের প্রার্থী রায়হান উদ্দিন আকন শান্ত বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে তার কর্মী সমর্থকরা শরণখোলা বাজারে একটি পথসভা করছিল। এসময় প্রতিদ্বন্ধী দোয়াত কলমের প্রার্থী নিজে উপস্থিত থেকে তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে নির্বাচনী পথসভায় হামলা চালায়। ওই হামলায় তার ছয়জন কর্মী আহত হয়।

দোয়াত কলম প্রতিকের প্রার্থী আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, পূর্বে হামলার শিকার তার দুই কর্মীকে দেখতে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর শরণখোলা বাজারে যান। সেখানে একটি সভা চলতে দেখে তিনি গিয়ে কিসের সভা চলছে বলে জানতে চান। এসময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি খান মতিয়ার রহমানকে দেখে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায় আনারস প্রতিকের কর্মী সমর্থকরা এসে তাদের উপর হামলা চালায়। হামলায় তার ছয়জন কর্মী সমর্থক আহত হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজিত পরিবেশ সৃষ্টি হলে রাতেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মোরেলগঞ্জ সার্কেল) আসিকুর রহমান শরণখোলায় এসে উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

এ ব্যাপারে শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান বলেন, কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।


আরও খবর



ঈদের পর মন্ত্রিসভায় রদবদলের আভাস, বাড়তে পারে আকারও

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিসভায় রদবদল নিয়ে জোর গুঞ্জন চলছে। একই সঙ্গে জোর গুঞ্জন রয়েছে বর্তমান মন্ত্রিসভার আকার বৃদ্ধির। বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ ঘরানার রাজনীতিতে চলছে আলোচনা।

মন্ত্রিসভার কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সদস্য, আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক নেতা এবং ১৪ দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তারা গণমাধ্যমকে বলেছেন, মন্ত্রিসভার আরেক দফা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে কয়েক দিন ধরেই আলোচনা হচ্ছে। ঈদুল আজহার পর এ প্রক্রিয়া দৃশ্যমান হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কয়েকজন নতুন মুখ সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন। তালিকায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর কয়েক নেতার নামও রয়েছে। এর বাইরে অর্থ, পরিকল্পনাসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে রদবদল হতে পারে। তাতে বর্তমান মন্ত্রিসভার কারও কারও পদোন্নতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। গত ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয় পায় আওয়ামী লীগ।

১১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৩৭ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। এরপর ১ মার্চ সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন সাতজন। এতে প্রধানমন্ত্রীসহ বর্তমান মন্ত্রিসভা দাঁড়ায় ৪৪ জনে। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ মন্ত্রী ও ১৮ প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী আছেন দু’জন।

অবশ্য সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় কারা ঠাঁই পাচ্ছেন, তা কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। জানতে চাইলে দায়িত্বশীল নেতাদের প্রায় সবাই একবাক্যে বলেছেন, মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ কিংবা রদবদলের এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। ঈদুল আজহার পর মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীই এটি গঠন করবেন। অবশ্য কেউ কেউ বলেছেন, জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের পরে মন্ত্রিসভায় অদল-বদল হতে পারে।

সূত্র জানায়, অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং পরিকল্পনামন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুস সালামকে অন্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। বর্ষীয়ান এই দুই নেতা ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় সামলাতে দক্ষতার পরিচয় দিলেও, বয়সজনিত কারণে তাদের অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হতে পারে। ওই দুই মন্ত্রণালয় থেকেই দায়িত্বশীলরা অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আসবেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পূর্ণ মন্ত্রী দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের কেউ কেউ সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন। বিশেষ করে দলের সহযোগী সংগঠনের শীর্ষপদে থাকা ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের দু’জনের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান মন্ত্রিসভা থেকে কেউ বাদ পড়ছেন না। তারপরও মন্ত্রিসভার কারও কারও মধ্যে এক ধরনের দুশ্চিন্তা কাজ করছে। আবার প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে কেউ কেউ পেতে পারেন পদোন্নতি। অন্তত একজন প্রতিমন্ত্রী পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে।

ওই সূত্র আরও জানায়, ১৪ দলের শরিকদের মধ্যে জাসদ ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিনিধি সম্ভাব্য সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের নাম শোনা গেলেও, উড়িয়ে দিচ্ছে না নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা। জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশাকে নিয়েও ব্যাপক আলোচনা চলছে। এ ছাড়া নতুন কয়েকজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন।

আওয়ামী লীগ ও সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত নীতিনির্ধারক নেতারা জানিয়েছেন, বর্ধিত মন্ত্রিসভায় ক্লিন ইমেজ ও অভিজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। দলের ত্যাগী ও জ্যেষ্ঠ নেতারা প্রাধান্য পেতে পারেন। তবে প্রবীণ ও তারুণ্যের সমন্বয় রাখা হলেও এগিয়ে থাকবেন একাধিকবার নির্বাচিত এমপিরা।

২০০৮ সালে নবম, ২০১৪ সালে দশম সংসদের মতো ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বার সরকারের মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। দ্বাদশ সংসদের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা টানা চতুর্থ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের রেকর্ড গড়েছেন।


আরও খবর



সোনালি দিনের চিত্রনায়িকা সুনেত্রা আর নেই

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বিনোদন ডেস্ক

Image

আশি-নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা সুনেত্রা আর নেই। এক ফেসবুক পোস্টে সুনেত্রার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন শিল্পী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক চিত্রনায়ক জায়েদ খান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর।

শুক্রবার (১৪ জুন) জায়েদ খান ফেসবুকে লিখেছেন, এক সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা, শৈশবের আমার পছন্দের একজন নায়িকা, চোখের প্রেমে পড়তো যে কেউ, তিনি সুনেত্রা। অনেকদিন বাংলাদেশ ছেড়ে কলকাতায়। আমি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন বেশ কয়েকবার ফোনে কথা বলেছিলাম। আজ হঠাৎ শুনলাম তিনি আর নেই, মৃত্যুবরণ করেছেন। নীরবে নিভৃতে চলে গেলেন। এভাবেই হারিয়ে যায় মানুষ, চলে যায়। আপনি ভালো থাকবেন ওপারে। অনেক চলচ্চিত্র দেখবো আর আপনাকে মিস করবো।

অভিনেত্রী সুনেত্রার মূল নাম রীনা সুনেত্রা কুমার। তবে বাংলা চলচ্চিত্রে তিনি সুনেত্রা নামেই পরিচিত। ঢালিউড ও টালিউড দুই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেই সুনামের সঙ্গে অভিনয় করেছেন সুনেত্রা।

বাংলাদেশে তার উল্লেখযোগ্য ছবি: পালকি, ভাইবন্ধু, বোনের মতো বোন, যোগাযোগ, ভুল বিচার, সাজানো বাগান, রাজা মিস্ত্রী, ঘর ভাঙ্গা ঘর, কুঁচবরণ কন্যা মেঘবরণ কেশ, শুকতারা, সুখের স্বপ্ন, রাজা জনি, বাদশা ভাই, ছোবল, ভাই আমার ভাই, দুঃখিনী মা, বন্ধু আমার, বিধান, নাচে নাগিন, সর্পরাণী, বিক্রম, উসিলা, লায়লা আমার লায়লা, শিমুল পারুল, ভাবীর সংসার, আমার সংসার, ধনরত্ন, নির্দয়, উচিত শিক্ষা, ঘরের সুখ, সাধনা, আলাল দুলাল।


আরও খবর



রাবিতে এক রাতে হলের চার কক্ষে ছাত্রলীগের লঙ্কাকাণ্ড

প্রকাশিত:রবিবার ২৬ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৬ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আসিক আদনান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

Image

হলের সিট নিয়ে নেতিবাচক শিরোনামে সারাবছরই আলোচনায় থাকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। রুম ওয়ার্ক ও জয় বাংলা ব্লাড সার্ভিসের মত নানা নামে হলের শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করে রাজনৈতিক ভাবে দুর্বল ও মাস্টার্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সিট ছেড়ে চলে যেতে চাপ দেওয়া হয়। কাউকে বের করে দেওয়া হয় জোরপূর্বক।

গতকাল রাতে (২৫ মে) শনিবার মাদার বক্স হলের ৪টি কক্ষে ঘটে লঙ্কাকাণ্ড। প্রথম ব্লকের ৪১৭ নম্বর রুমে এক শিক্ষার্থীকে নামিয়ে নিজকর্মীকে তুলে দেওয়া, ২য় ব্লগের ৩১৯ নম্বর কক্ষে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী, একই ব্লকের ৩২৫ নম্বর ও ৩য় ব্লকের ৩৪৯ নম্বর কক্ষে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত মার্কেটিং বিভাগের দুই আবাসিক শিক্ষার্থীকে ডাবলিং করে থাকার হুমকি দেওয়া হয়। এসব ঘটনা ঘটে হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মিশকাত হাসানের নেতৃত্বে। তিনি সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ-হিল-গালিবের অনুসারী।

প্রায় ৭ বছর পর ছাত্রলীগের এই শাখাটির কমিটি ঘোষণা পর ক্যাম্পাসে প্রথম প্রবেশ করে সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ-হিল-গালিব সিট বাণিজ্য বন্ধ করার ঘোষণা দেন।

এসময় রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছিলেন, এই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি সমস্যার নাম সিট বাণিজ্য। আজকে আমি রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা দিচ্ছি যদি আমাদের কোনো নেতাকর্মী সিট বাণিজ্যের সাথে নিজেকে যুক্ত করে, তাহলে হয় সে ছাত্রলীগ করবে, নয়তো আমি ছাত্রলীগ করব। আজ থেকে সিট বাণিজ্যের কবর রচনা ঘোষণা করলাম।

কিন্তু নতুন কমিটির সেই বক্তব্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে সাময়িক স্বস্তি দিয়েছিল তবে বর্তমানে তার কার্যকারিতা হারিয়েছে শিক্ষার্থীদের মাঝে। প্রতিনিয়ত হলের সিট দখল, শিক্ষার্থীদের নামিয়ে দেওয়া ও এক সিটে ডাবলিং করে থাকার হুমকি-ভয় দেখানোর অভিযোগ নৈমিত্তিক ঘটনা।

ভুক্তভোগী ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও মার্কেটিং বিভাগের আবাসিক শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করে। এক পর্যায়ে নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, আমরা এখনো হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। আমাদের মাস্টার্সের থিসিস এখনো বাকি আছে। অনেকের নিয়মিত ক্লাস হয়। একাডেমিকভাবে খুব চাপে আছি। এমন অবস্থায় আমাদের ডাবলিং করে থাকতে বলা হয়েছিল। আমরা সাধারণ সম্পাদক গালিব ভাইয়ের সাথে কথা বলে একটা সমাধানে এসেছি। আপাতত আমাদের কক্ষে হয়তো ডাবলিং করে থাকতে হবে না৷ কিন্তু ভয় বা একটা আতঙ্ক-শঙ্কা তো থেকেই যায়। 

এ বিষয়ে হল ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মিশকাত হাসান বলেন, আমি ভেবেছিলাম তাদের মাস্টার্স শেষ। তারা শীঘ্রই হল থেকে চলে যাবে। তাই তাদের রুমে কিছু জুনিয়ারদের থাকতে বলেছিলাম। সবার সাথে কথা বলে আমি বুঝতে পেরেছি তারা এখনই হল ছেড়ে যাচ্ছেন না। তাই এখন আর কেউ তাদের রুমে যাবে না।

হলের ১ম ব্লকের ৪১৭ কক্ষের সোহেল আল মাহমুদ নামে এক শিক্ষার্থীকে নামিয়ে আরেক জনকে তুলে দেওয়া হয়। ছাত্রলীগ নেতার অভিযোগ সে অনাবাসিক। তার হল কার্ড নেই।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, তিনি ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর থেকে হলের সিটে থাকছেন। অসংখ্যবার প্রাধ্যক্ষ বরাবর অনুরোধ ও আবেদন জমা দিয়েছেন হলের কার্ড করার জন্য। তখন প্রাধ্যক্ষ তাকে কার্ডের বিষয়ে আশ্বস্ত করেন এবং হলে থাকার মৌখিক অনুমতি দেন। কয়েকদিন আগে ছাত্রলীগ নেতা মিশকাত হাসান তার রুমে এসে দেখেছে কার্ড আছে কিনা এবং বলেছিল দ্রুত করে নিতে। প্রাধ্যক্ষ গত রবিবারে পুনরায় দেখা করতে বললেও শনিবার রাতে তার সিটে আরেকজনকে তুলে দেন হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছাত্রলীগের এই নেতা। তবে নতুন যাকে সিটে তুলে দেওয়া হয়েছে সেও কাউকে তার হল কার্ড দেখাতে পারেনি।

হল প্রশাসনের দায়িত্ব পালন করার অধিকার তার আছে কিনা জানতে চাইলে ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত এই নেতা বলেন, এই বিষয়ে হল প্রভোস্ট আছে। আমার সভাপতি-সেক্রেটারি আছে তাদের জিজ্ঞেস করেন। 

শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ-হিল-গালিবের কাছে একাধিকবার ফোন ও সরাসরি যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে মাদার বক্স হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. রোকনুজ্জামান বলেন, এরকম কোন দায়িত্ব কাউকে দেওয়া হয়নি। হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের দায় হল প্রশাসন নিবে তবে অনাবাসিক শিক্ষার্থীর দায় হল প্রশাসন নিবে না।

সার্বিক বিষয়ে এই হল প্রাধ্যক্ষ আরও বলেন, হলের কোন আবাসিক শিক্ষার্থী আমার কাছে কোন অভিযোগ করেনি। কেউ অভিযোগ না করলে তো আমরা কোন ব্যবস্থা নিতে পারি না। অভিযোগ আসলে আমরা খুব দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করব।


আরও খবর



মহাসড়ক স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক বিভাগের নির্দেশনা

প্রকাশিত:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

ঈদযাত্রা স্বাভাবিক এবং দুর্ভোগহীন রাখতে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। মোটরসাইকেল চলাচলে কড়াকড়ির পাশাপাশি রাস্তা থেকে দূরপাল্লার বাসে যাত্রী তোলার বিষয়েও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। বুধবার (১২ জুন) ঈদুল আজহা উপলক্ষে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. মুনিবুর রহমান এসব নির্দেশনার কথা জানান।

তিনি বলেন, গরু বহন করা প্রতিটি গাড়ির সামনে ব্যানার লাগাতে হবে। যেখানে গাড়িটি কোন হাটে যাবে তা লেখা থাকতে হবে। শুধু তাই নয়, বাজারের বাইরে কেউ গরু নিয়ে দাড়াতে পারবে না।

মোটরসাইকেল চলাচলে কড়া নজরদারি রাখার কথা জানিয়ে মুনিবুর রহমান বলেন, মহাসড়কে মোটরসাইকেল চালকরা বেপরোয়াভাবে চলাচল করে। এতে যেমন দুর্ঘটনা ঘটে, তেমনি হতাহত হয়। বিশেষ করে ঈদের সময় দুর্ঘটনার হার অনেক বাড়ে। তাই মোটরসাইকেল চালকদের এবার নজরদারিতে রাখা হবে। বেপরোয়া চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা মহানগরী থেকে ছেড়ে যাওয়া কোনো দূরপাল্লার বাস রাস্তা থেকে যাত্রী তুলতে পারবে না। সিটির ভেতরে সার্ভিস দেয়া কোনো বাস দূরপাল্লার সড়কে চলাচল করতে পারবে না। বাড়তি ভাড়ার বিষয়টি তদারকির জন্য প্রতিটি টার্মিনালে ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে বলেও জানান ডিএমপি ট্রাফিকের অতিরিক্ত কমিশনার।

এছাড়া, শেষ মূহুর্তে গার্মেন্টস শ্রমিকদের চাপ কমাতে আলাদা আলাদা সময়ে ছুটে দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এই সকল নিয়মকানুন তদারকির জন্য প্রতিটি প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।


আরও খবর



প্রাথমিক শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ল ৪ হাজার ৯৭ কোটি টাকা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৬ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

Image

প্রাথমিক শিক্ষার মান বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগের জন্য গত বছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪ হাজার ৯৭ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নতুন অর্থবছরের বাজেটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩৮ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। গত অর্থবছরে এ মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩৪ হাজার ৭২২ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার (৬ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। তার আগে মন্ত্রিসভায় বাজেট প্রস্তাব অনুমোদন হয় এবং পরে ওই প্রস্তাবে সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তব্যে বলেন, আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় ৩৮ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি, যা চলমান ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ৩৪ হাজার ৭২২ কোটি টাকা। সে হিসেবে আসন্ন অর্থবছরে ৪ হাজার ৯৭ কোটি টাকা বেড়েছে।

অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, শিক্ষার মান নিশ্চিতকরণে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ২ লাখ ৩৮ হাজার ৫৭৯ জন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে এবং সহকারী শিক্ষকের ২৬ হাজার ৩৬৬টি নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। শিক্ষার প্রধান উপকরণ বই যাতে শিক্ষার্থীরা বছরের শুরুতেই পায় সে লক্ষ্যে ২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর প্রাথমিক স্তরের শিশুদের ১ জানুয়ারি বই উৎসব এর মাধ্যমে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক দেওয়া হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার স্তরে শিশুদের ঝরে পড়া রোধ করতে শতভাগ শিক্ষার্থীকে ইএফটির মাধ্যমে উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। সরকারের সুচিন্তিত নীতির ফলে প্রাথমিক শিক্ষায় নিট ভর্তির হার ২০০৯ সালের ৯০.৮ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২২ সালে ৯৭.৫৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

স্কুলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য হুইল চেয়ার, ক্রাচ, শ্রবণযন্ত্র ইত্যাদি ক্রয় ও বিতরণ করা হচ্ছে এবং তাদের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশের সুবিধার্থে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে র‍্যাম্প নির্মাণ করা হচ্ছে।


আরও খবর